জুলাই সনদ অনুযায়ীই সংবিধান সংশোধন ও বাস্তবায়ন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
- আপডেট সময় : ০৫:৫১:০৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 4
জুলাই জাতীয় সনদে স্বাক্ষরিত প্রতিশ্রুতিগুলো অক্ষুণ্ণ রেখেই তা দ্রুত বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া চলছে। সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, সনদে যে ঐকমত্য তৈরি হয়েছে, ঠিক সেই কাঠামো অনুসরণ করেই পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদ ভবনের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি কমিটির দ্বিতীয় বৈঠকের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন।
কমিটির কার্যক্রম গতিশীল করতে প্রতি সপ্তাহে অন্তত একটি বৈঠক আয়োজনের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে বলে তিনি জানান। সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, জুলাই জাতীয় সনদে স্বাক্ষরকারী ২৬টি রাজনৈতিক দলকে মতবিনিময়ের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। এর মধ্যে ১৫টি দল সরাসরি প্রতিনিধি পাঠিয়ে অংশ নিয়েছে। এছাড়া একটি দল লিখিত প্রস্তাব দিয়েছে এবং অন্য একটি দলের প্রতিনিধিরা ব্যক্তিগত অসুস্থতার কারণে শেষ মুহূর্তে উপস্থিত হতে পারেননি। সব মিলিয়ে প্রায় ১৭টি রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট করেন যে, প্রক্রিয়াটি কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠী বা দলকে বাদ দিয়ে পরিচালনার উদ্দেশ্য কমিটির নেই। যারা এখনো আলোচনায় অংশ নেননি, তাদের জন্য কমিটির দরজা খোলা থাকবে। কোনো নিবন্ধিত বা অনিবন্ধিত রাজনৈতিক দল যদি লিখিত প্রস্তাব জমা দেয়, তবে তাও বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে। কমিটির লক্ষ্য হলো ডিসেম্বরের মধ্যে সব অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা সমাপ্ত করে জাতীয় সংসদে প্রতিবেদন উপস্থাপন করা।
তিনি জানান, ইতোমধ্যে প্রতিবেদন তৈরির প্রাথমিক কাজ শুরু হয়েছে। সব পক্ষের মতামত গ্রহণের পর সনদের বাইরেও জাতীয় স্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ কোনো পরিপূরক প্রস্তাব থাকলে তা সুপারিশে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এরপর জাতীয় সংসদে বিস্তারিত আলোচনা ও বিতর্কের মাধ্যমেই চূড়ান্ত বিলটি গ্রহণের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, সংবিধান সংশোধনের মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে যতটা সম্ভব ব্যাপক রাজনৈতিক সমঝোতা তৈরি করেই এগোতে চায় সরকার।
নির্বাচনী ইশতেহারে থাকা সাংবিধানিক প্রস্তাবগুলোও এই বিশেষ কমিটি পর্যালোচনার আওতায় আনবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উদাহরণ হিসেবে অর্থবছর পরিবর্তনের বিষয়টি উল্লেখ করেন। বর্তমান অর্থবছর ১ জুলাই থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত হওয়ায় বর্ষাকালে উন্নয়ন প্রকল্পের কাজে বিঘ্ন ঘটে। বাংলাদেশের ঋতুচক্রের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে অর্থবছর পরিবর্তনের প্রস্তাবটি বিবেচনা করা হচ্ছে। এর ফলে সংবিধানের সংশ্লিষ্ট ধারায় সংশোধনের প্রয়োজন হতে পারে বলে তিনি জানান।
উচ্চকক্ষ গঠনের বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর ভিন্নমত রয়েছে বলেও সালাহউদ্দিন আহমদ স্বীকার করেন। তিনি বলেন, উচ্চকক্ষ ১০০ সদস্যের হবে এ বিষয়ে ঐকমত্য থাকলেও, সদস্য নির্বাচনের পদ্ধতি নিয়ে এখনো বিতর্ক রয়েছে। এছাড়া রাষ্ট্রের সাংবিধানিক নাম পরিবর্তনের একটি প্রস্তাবও আলোচনায় এসেছে। তিনি জানান, ‘পিপলস রিপাবলিক অব বাংলাদেশ’-এর বাংলা অনুবাদ নিয়ে কিছু রাজনৈতিক দল তাদের অবস্থান জানিয়েছে।
বিএনপিকে নিয়ে চলমান বিভিন্ন বিভ্রান্তিকর প্রচারণার বিষয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, জুলাই জাতীয় সনদ অনুযায়ীই বাস্তবায়নের বিষয়ে বিএনপি অঙ্গীকারবদ্ধ। তিনি উল্লেখ করেন, সংবিধান একটি চলমান দলিল এবং জনগণের ম্যান্ডেট থাকলে ভবিষ্যতে সরকার পরিবর্তন হলেও নতুন সরকার নীতিগত অবস্থান পরিবর্তনের সুযোগ পাবে। তবে বাংলাদেশের বিদ্যমান সংবিধান অক্ষুণ্ণ রেখেই প্রয়োজনীয় সংস্কার সম্পন্ন করার কথা তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন।
সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, সংসদীয় প্রক্রিয়ার বাইরে নতুন করে কোনো সংবিধান প্রণয়নের প্রয়োজন নেই। সংস্কার কমিশনগুলোর পুরোনো সুপারিশ নতুন করে আলোচনায় আনলে প্রক্রিয়াটি জটিল হয়ে পড়তে পারে। তবে কোনো দল যদি নতুন ও গুরুত্বপূর্ণ কোনো প্রস্তাব লিখিতভাবে পেশ করে, তবে কমিটি তা অবশ্যই যাচাই করবে। ১৩ জুলাই ২০২৬ তারিখে ১২ সদস্যের এই বিশেষ কমিটি গঠিত হয়েছিল, যার সদস্য হিসেবে জয়নুল আবেদীন এবং মো. আসাদুজ্জামানসহ অন্যদের নাম রয়েছে।
তিনি নিশ্চিত করেন যে, বর্তমান সরকার যেসব বিষয়ে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ দিয়েছে, তা ভবিষ্যতে পরিবর্তিত হতে পারে যদি জনগণের ম্যান্ডেট তেমনটি চায়। সংবিধান সংশোধনের যেকোনো পদক্ষেপ সংসদীয় বিলের মাধ্যমেই সম্পন্ন হবে, যা পরে আইন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সংসদে উত্থাপিত হবে। এভাবেই স্বচ্ছ ও গণতান্ত্রিক উপায়ে জুলাই জাতীয় সনদের বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছে কমিটি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এ জন্য সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দল, সংবিধান বিশেষজ্ঞ, সাবেক বিচারক ও বিচারপতি, আইনজীবী, শিক্ষক, সাংবাদিক, জুলাই যোদ্ধা, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রতিনিধি, শহীদ পরিবারের সদস্যসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মতামত নেওয়া হবে।’। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কয়েকটি দল থেকে দু’জনের বেশি প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পাশাপাশি বিভিন্ন আইন, অধ্যাদেশ, বিধি ও নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে বাস্তবায়নযোগ্য বিষয়ও সনদে আলাদা করে উল্লেখ রয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এতে প্রকল্প বাস্তবায়নে সমস্যা এবং সরকারি অর্থের অপচয়ের আশঙ্কা থাকে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কেউ সংসদে পাওয়া আসনের অনুপাতে উচ্চকক্ষ গঠনের কথা বলেছেন, আবার কেউ ভোটের আনুপাতিক হারের ভিত্তিতে গঠনের কথা বলেছেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তাই ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সবকিছু স্থায়ীভাবে নির্ধারণ করে দেওয়া সম্ভব নয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সংবিধান সংশোধন সংসদের মাধ্যমে হলে ভবিষ্যতে আদালতে তা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে কি না-এমন প্রশ্নের জবাবে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সংসদীয় প্রক্রিয়ায় গৃহীত সংবিধান সংশোধনী এবং নতুন সংবিধান প্রণয়নের বিষয় এক নয়।
























