তৃতীয় ভাষা হিসেবে ইতালীয় শেখানোর পরিকল্পনা সরকারের
- আপডেট সময় : ০৩:৫৮:৪৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬
- / 0
বিদেশে দক্ষ ও যোগ্য জনশক্তি পাঠানোর প্রক্রিয়াকে আরও গতিশীল করতে বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি তৃতীয় ভাষা হিসেবে ইতালীয় ভাষা শেখানোর বিশেষ পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে বর্তমান সরকার। এই উদ্যোগের আওতায় ইতালি সরকারের প্রশিক্ষণ মডেলকে দেশের কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোতে (টিটিসি) পর্যায়ক্রমে সম্প্রসারণ করা হবে। মঙ্গলবার রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে ‘ল্যাঙ্গুয়েজ, সিভিক অ্যান্ড প্রফেশনাল ট্রেনিং ফর স্কিলড মাইগ্রেশন টু ইতালি’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে এসব কথা জানান প্রধানমন্ত্রীর শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) রাজধানীর একটি হোটেলে ‘ল্যাঙ্গুয়েজ, সিভিক অ্যান্ড প্রফেশনাল ট্রেনিং ফর স্কিলড মাইগ্রেশন টু ইতালি’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রীর শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থ।
ভাষাগত দক্ষতা ও ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি
অনুষ্ঠানে মাহদী আমিন ইতালি দূতাবাসের কাছে প্রয়োজনীয় কারিগরি ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা কামনা করেন। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে বাংলা ও ইংরেজির বাইরেও তৃতীয় কোনো আন্তর্জাতিক ভাষা শেখার বিষয়টি বিশেষ অগ্রাধিকার তালিকায় রয়েছে। সরকার এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচিকে বিচ্ছিন্ন কোনো উদ্যোগ হিসেবে দেখছে না; বরং এটি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহযোগিতায় ভবিষ্যতে বৃহত্তর কর্মসংস্থান সৃষ্টির একটি সফল মডেল। ইতালির অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী কর্মীদের দক্ষ করে গড়ে তোলাই এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য।
প্রশিক্ষণ ও দক্ষতানির্ভর অভিবাসন
প্রশিক্ষণার্থীদের উদ্দেশ্যে মাহদী আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার বিদেশে কর্মসংস্থানের সন্ধানে থাকা কর্মীদের পাশে থেকে সব ধরনের আইনি ও লজিস্টিক সহায়তা দিতে বদ্ধপরিকর। এ ক্ষেত্রে সরকার সব ধরনের সহযোগিতা করবে।
বর্তমানে প্রশিক্ষণার্থীরা কেবল ইতালীয় ভাষা শিখছেন না, বরং তাদের পেশাগত দক্ষতা, শিষ্টাচার এবং নৈতিক মূল্যবোধের ওপরও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
পাঁচ থেকে ছয় মাস মেয়াদী এই প্রশিক্ষণ গ্রহণকারীদের জন্য আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই ধাপে ধাপে বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। এই কর্মীরা বিদেশে গিয়ে যাতে নিজেদের যোগ্য প্রমাণ করতে পারেন, সেই পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে। এতে তাদের সামনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলবে।
প্রশিক্ষণ মডেল সম্প্রসারণ ও প্রবাসী কার্ড
- দেশের টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার (টিটিসি) ও কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষাব্যবস্থায় (টিভিইটি) ইতালির এই সফল প্রশিক্ষণ মডেলটি পর্যায়ক্রমে ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার।
- প্রবাসীদের জন্য সরকার ইতিমধ্যে ফ্যামিলি কার্ড ও ফার্মার্স কার্ড চালু করেছে এবং এখন প্রবাসী কার্ড চালুর প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
- প্রবাসী কার্ডের মাধ্যমে রেমিট্যান্স পাঠানো, পরিবারের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা এবং রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা প্রাপ্তি সহজতর হবে।
- দক্ষ অভিবাসন নিশ্চিত করতে মন্ত্রণালয় এবং সরকারের সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থা প্রশিক্ষণার্থীদের প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান অব্যাহত রাখবে।
পরিশেষে মাহদী আমিন জানান, এই প্রশিক্ষণার্থীরা শুধু নিজেদের কর্মজীবনই গঠন করছেন না, বরং তারা ভবিষ্যতের দক্ষ কর্মীদের জন্য একটি রোল মডেল হিসেবে কাজ করছেন। তাদের অভিজ্ঞতা অনুসরণ করে আগামী দিনে দেশের তরুণ প্রজন্মকে বিশ্ব শ্রমবাজারের উপযোগী করে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। অনুষ্ঠানে প্রশিক্ষণার্থীদের আগামীর সুন্দর কর্মজীবনের জন্য শুভকামনা জানিয়ে তিনি তাদের আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।





















