ঢাকা ১১:৪৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বিমানবন্দরে বিশৃঙ্খলার মামলা: জামিন পাননি সাবেক এমপি আখতারুজ্জামান বিমানবন্দরে বিশৃঙ্খলা: জামায়াত নেতা আখতারুজ্জামান একদিনের রিমান্ডে দেশের প্রতিটি জেলায় মাস্টারপ্ল্যান করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী কুষ্টিয়ায় হামলার শিকার এনসিপি সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় কোনো গাফিলতি বরদাশত নয়: সুলতান সালাউদ্দিন টুকু শেরপুরে ১৭১ মণ্ডপে দুর্গাপূজা: নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিশেষ উদ্যোগ রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানে সুইডেনের সহায়তা চাইলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তৃণমূল ছেড়ে বিজেপির প্রার্থী হলেন অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিক এসআরবির অভিযানে চাঁদাবাজ পিচ্চি আল-আমিনসহ গ্রেপ্তার ৫ পুলিশের শীর্ষ পর্যায়ে বড় রদবদল

দেশের প্রতিটি জেলায় মাস্টারপ্ল্যান করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

  • আপডেট সময় : ০৯:০৯:৪৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬
  • / 1
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

পরিকল্পিত নগরায়ন ও টেকসই উন্নয়নের মাধ্যমে একটি নিরাপদ ও বাসযোগ্য নগর গড়ে তোলার লক্ষ্যে সরকার দেশের প্রতিটি সিটি করপোরেশন ও জেলায় মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন করছে। আগামীকাল ৫ অক্টোবর ‘বিশ্ব বসতি দিবস ২০২৬’ উপলক্ষ্যে আজ ৪ অক্টোবর দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ তথ্য জানান। তিনি উল্লেখ করেন, টেকসই নগরায়নের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর জীবন নিশ্চিত করাই বর্তমান সময়ের বড় দাবি। বিশ্ব বসতি দিবস আমাদের সেই দায়িত্বের কথাই স্মরণ করিয়ে দেয়।

১৯৮৬ সাল থেকে প্রতি বছর অক্টোবরের প্রথম সোমবার বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিশ্ব বসতি দিবস পালিত হয়ে আসছে। ‘সর্বজনীন বাসস্থান, টেকসই নগরায়ন’ স্লোগানকে সামনে রেখে এবারও দিবসটি উদযাপন করছে বাংলাদেশ। প্রধানমন্ত্রী তার বাণীতে বলেন, জনসংখ্যা বৃদ্ধি, দ্রুত নগরায়ন এবং আবাসন চাহিদার এই যুগে জাতিসংঘ ঘোষিত এবারের প্রতিপাদ্য ‘সবার জন্য পর্যাপ্ত আবাসন’ অত্যন্ত সময়োপযোগী। তিনি বলেন, সব নাগরিকের জন্য সাশ্রয়ী, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ বাসস্থান নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম অঙ্গীকার। নগর ও গ্রাম নির্বিশেষে প্রত্যেক মানুষ যেন প্রয়োজনীয় সেবা ও সুস্থ পরিবেশ পায়, এমন একটি বাংলাদেশ গড়াই সরকারের লক্ষ্য। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের অন্যান্য শহর ও নগর দ্রুত সম্প্রসারিত হলেও অপরিকল্পিত নগরায়ন, যানজট, দূষণ, অপর্যাপ্ত নাগরিক সেবা, আবাসন সংকট এবং জলবায়ুজনিত অভিবাসন নগরজীবনে নানা চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করছে।

প্রধানমন্ত্রী তার বাণীতে আরও বলেন, বর্তমান সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারে সুষম আঞ্চলিক উন্নয়ন এবং পরিকল্পিত নগরায়নের সুস্পষ্ট প্রতিশ্রুতি রয়েছে। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের পরিবার ও বস্তিবাসীদের জন্য সাশ্রয়ী আবাসন নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের মালিকানা অর্জনের সুযোগ তৈরিতে সরকার কাজ করছে। এছাড়া বস্তিবাসী মানুষের জন্য সমন্বিত পানি ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে। তার মতে, ‘সবার জন্য বাসস্থান’ কেবল একটি ছাদের নিশ্চয়তা নয়, বরং এর সঙ্গে নিরাপদ পানি, স্যানিটেশন ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশের অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক রয়েছে। এক্ষেত্রে বেসরকারি বিনিয়োগকারী, স্থানীয় জনগোষ্ঠী, এনজিও, সামাজিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সমন্বিত অংশগ্রহণ প্রয়োজন।

পরিকল্পিত ও সুষম নগর উন্নয়নের প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি শক্তিশালী করতে সিলেট, ময়মনসিংহ, বরিশাল, কুমিল্লা, রংপুর ও নারায়ণগঞ্জে উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠন করা হয়েছে বলে প্রধানমন্ত্রী জানান। তিনি বলেন, আবাসন, নাগরিক সেবা, পরিবেশ সুরক্ষা ও জলবায়ু সহনশীলতাকে সমন্বয় করে নগর উন্নয়নের এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই পদক্ষেপগুলো টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বা এসডিজি-১১ অর্জনে সহায়ক হবে। তবে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, কেবল সরকারের পক্ষে টেকসই নগরায়ন নিশ্চিত করা সম্ভব নয়; এর জন্য সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। এসব উদ্যোগ নিরাপদ, অন্তর্ভুক্তিমূলক, জলবায়ু-সহনশীল ও টেকসই নগর গড়ে তুলতে এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা-১১ অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

পরিশেষে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মানবিক, বাসযোগ্য ও টেকসই বাংলাদেশ গড়ে তোলার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন এবং বিশ্ব বসতি দিবস-২০২৬-এর সর্বাঙ্গীন সাফল্য কামনা করেন। বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) বরাতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

দেশের প্রতিটি জেলায় মাস্টারপ্ল্যান করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

আপডেট সময় : ০৯:০৯:৪৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬

পরিকল্পিত নগরায়ন ও টেকসই উন্নয়নের মাধ্যমে একটি নিরাপদ ও বাসযোগ্য নগর গড়ে তোলার লক্ষ্যে সরকার দেশের প্রতিটি সিটি করপোরেশন ও জেলায় মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন করছে। আগামীকাল ৫ অক্টোবর ‘বিশ্ব বসতি দিবস ২০২৬’ উপলক্ষ্যে আজ ৪ অক্টোবর দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ তথ্য জানান। তিনি উল্লেখ করেন, টেকসই নগরায়নের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর জীবন নিশ্চিত করাই বর্তমান সময়ের বড় দাবি। বিশ্ব বসতি দিবস আমাদের সেই দায়িত্বের কথাই স্মরণ করিয়ে দেয়।

১৯৮৬ সাল থেকে প্রতি বছর অক্টোবরের প্রথম সোমবার বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিশ্ব বসতি দিবস পালিত হয়ে আসছে। ‘সর্বজনীন বাসস্থান, টেকসই নগরায়ন’ স্লোগানকে সামনে রেখে এবারও দিবসটি উদযাপন করছে বাংলাদেশ। প্রধানমন্ত্রী তার বাণীতে বলেন, জনসংখ্যা বৃদ্ধি, দ্রুত নগরায়ন এবং আবাসন চাহিদার এই যুগে জাতিসংঘ ঘোষিত এবারের প্রতিপাদ্য ‘সবার জন্য পর্যাপ্ত আবাসন’ অত্যন্ত সময়োপযোগী। তিনি বলেন, সব নাগরিকের জন্য সাশ্রয়ী, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ বাসস্থান নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম অঙ্গীকার। নগর ও গ্রাম নির্বিশেষে প্রত্যেক মানুষ যেন প্রয়োজনীয় সেবা ও সুস্থ পরিবেশ পায়, এমন একটি বাংলাদেশ গড়াই সরকারের লক্ষ্য। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের অন্যান্য শহর ও নগর দ্রুত সম্প্রসারিত হলেও অপরিকল্পিত নগরায়ন, যানজট, দূষণ, অপর্যাপ্ত নাগরিক সেবা, আবাসন সংকট এবং জলবায়ুজনিত অভিবাসন নগরজীবনে নানা চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করছে।

প্রধানমন্ত্রী তার বাণীতে আরও বলেন, বর্তমান সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারে সুষম আঞ্চলিক উন্নয়ন এবং পরিকল্পিত নগরায়নের সুস্পষ্ট প্রতিশ্রুতি রয়েছে। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের পরিবার ও বস্তিবাসীদের জন্য সাশ্রয়ী আবাসন নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের মালিকানা অর্জনের সুযোগ তৈরিতে সরকার কাজ করছে। এছাড়া বস্তিবাসী মানুষের জন্য সমন্বিত পানি ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে। তার মতে, ‘সবার জন্য বাসস্থান’ কেবল একটি ছাদের নিশ্চয়তা নয়, বরং এর সঙ্গে নিরাপদ পানি, স্যানিটেশন ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশের অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক রয়েছে। এক্ষেত্রে বেসরকারি বিনিয়োগকারী, স্থানীয় জনগোষ্ঠী, এনজিও, সামাজিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সমন্বিত অংশগ্রহণ প্রয়োজন।

পরিকল্পিত ও সুষম নগর উন্নয়নের প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি শক্তিশালী করতে সিলেট, ময়মনসিংহ, বরিশাল, কুমিল্লা, রংপুর ও নারায়ণগঞ্জে উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠন করা হয়েছে বলে প্রধানমন্ত্রী জানান। তিনি বলেন, আবাসন, নাগরিক সেবা, পরিবেশ সুরক্ষা ও জলবায়ু সহনশীলতাকে সমন্বয় করে নগর উন্নয়নের এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই পদক্ষেপগুলো টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বা এসডিজি-১১ অর্জনে সহায়ক হবে। তবে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, কেবল সরকারের পক্ষে টেকসই নগরায়ন নিশ্চিত করা সম্ভব নয়; এর জন্য সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। এসব উদ্যোগ নিরাপদ, অন্তর্ভুক্তিমূলক, জলবায়ু-সহনশীল ও টেকসই নগর গড়ে তুলতে এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা-১১ অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

পরিশেষে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মানবিক, বাসযোগ্য ও টেকসই বাংলাদেশ গড়ে তোলার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন এবং বিশ্ব বসতি দিবস-২০২৬-এর সর্বাঙ্গীন সাফল্য কামনা করেন। বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) বরাতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।