ঢাকা ০১:৫৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

নওগাঁর মান্দা ও মহাদেবপুরে বেহাল রাস্তা, দুর্ভোগে এলাকাবাসী

  • আপডেট সময় : ০৭:৪৯:০৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 13
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

নওগাঁর মান্দা ও মহাদেবপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দারা দীর্ঘ সময় ধরে চরম যাতায়াত দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। এলাকাগুলোর সড়ক যোগাযোগব্যবস্থার এমন নাজুক পরিস্থিতি যে, বর্ষায় কাদা আর শুষ্ক মৌসুমে ধুলার কারণে স্বাভাবিক চলাচলও অসম্ভব হয়ে পড়ে। স্থানীয়রা জানান, বছরের পর বছর ধরে এসব রাস্তার স্থায়ী কোনো উন্নয়ন হয়নি। বিশেষ করে এইচবিবি (এইচবিবি) পদ্ধতির সড়কগুলোর ইট উঠে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে এবং অনেক স্থানে মাটির অংশ বেরিয়ে পড়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, মান্দার গণেশপুর ইউনিয়নের সতীহাট বাজারের উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে সরকারের ব্রয়লার মোড় হয়ে বিমল মেম্বারের বাড়ি পর্যন্ত এইচবিবি সড়কটির বিভিন্ন জায়গায় ইটের অস্তিত্ব নেই। কোথাও কোথাও ইঁদুরের গর্তে সড়কের কাঠামো দুর্বল হয়ে যাওয়ায় তা চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বাসিন্দাদের দাবি, নির্মাণ কাজে নিম্নমানের ইট ব্যবহারের কারণেই রাস্তাগুলো দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একইভাবে, মৈনম ইউনিয়নের কদমতলী মোড়ের পশ্চিম দিক থেকে গণেশপুর হয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা আলিম হাজীর বাড়ি এবং বাঁশার পুকুরের মোড় পর্যন্ত বিস্তৃত বড় একটি অংশ এখনো কাঁচা রয়ে গেছে। বর্ষাকালে এই কাঁচা পথ কাদায় একাকার হয়ে যাওয়ায় যানবাহন তো দূরের কথা, পায়ে হাঁটাও দায় হয়ে পড়ে। স্থানীয়দের দাবি, নিম্নমানের ইট ব্যবহারের কারণেও নির্মাণের অল্প সময়ের মধ্যেই সড়কটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি অনেক সময় পায়ে হেঁটেও চলাচল কঠিন হয়ে পড়ে।

স্থানীয় বাসিন্দা ওমর ফারুক, রবিউল ইসলাম, বয়েজ উদ্দিন মোল্লা ও স্বপনসহ অনেকে জানান, প্রতিদিন শিক্ষার্থী, কৃষক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করেন। অসুস্থ রোগী পরিবহন বা কৃষিপণ্য বাজারে নেওয়ার ক্ষেত্রেও তাদের চরম বিড়ম্বনার শিকার হতে হয়। অভিযোগ রয়েছে, নির্বাচনের সময় রাস্তা সংস্কার ও পাকাকরণের বড় বড় প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও ভোট শেষে তা বাস্তবায়নের আর কোনো উদ্যোগ দেখা যায় না। বাসিন্দারা দ্রুত এসব রাস্তা সংস্কার ও পাকাকরণের দাবি জানিয়েছেন। কৃষিপণ্য হাট-বাজারে নেওয়া, শিক্ষার্থীদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াত এবং অসুস্থ রোগীদের চিকিৎসার জন্য নেওয়ার ক্ষেত্রে তাদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়।

এ বিষয়ে মান্দা উপজেলা এলজিইডি কর্মকর্তা আব্দুল কাদের জানিয়েছেন, জনগণের দুর্ভোগ লাঘবে ইতোমধ্যে স্থানীয় সংসদ সদস্যের সুপারিশ অনুযায়ী ইউনিব্লক রাস্তার জন্য একটি তালিকা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলেই দ্রুত টেন্ডার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কাজ শুরু করা হবে। এদিকে, মান্দা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও গণেশপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম চৌধুরী (বাবুল) বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তিনি বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছেন এবং আগামীতেও এ ধারা অব্যাহত থাকবে। এলাকাটি দীর্ঘদিন অবহেলিত থাকায় তিনি দ্রুত সড়ক সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।

৪৯ (নওগাঁ)-৪ মান্দা আসনের সংসদ সদস্য ডাঃ ইকরামুল বারী টিপু জানান, জনস্বার্থ রক্ষায় ওই এলাকার রাস্তাগুলোর তালিকা ইতোমধ্যে পাঠানো হয়েছে। তিনি আশ্বস্ত করেন যে, প্রকল্পটির অনুমোদন পাওয়ার পরপরই সংস্কার কাজ শুরু হবে এবং পর্যায়ক্রমে অন্যান্য রাস্তাগুলোও পাকাকরণের আওতায় আনা হবে। স্থানীয়রা এখন কেবল প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন এবং দ্রুত একটি কার্যকর সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা দেখার অপেক্ষায় আছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

নওগাঁর মান্দা ও মহাদেবপুরে বেহাল রাস্তা, দুর্ভোগে এলাকাবাসী

আপডেট সময় : ০৭:৪৯:০৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নওগাঁর মান্দা ও মহাদেবপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দারা দীর্ঘ সময় ধরে চরম যাতায়াত দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। এলাকাগুলোর সড়ক যোগাযোগব্যবস্থার এমন নাজুক পরিস্থিতি যে, বর্ষায় কাদা আর শুষ্ক মৌসুমে ধুলার কারণে স্বাভাবিক চলাচলও অসম্ভব হয়ে পড়ে। স্থানীয়রা জানান, বছরের পর বছর ধরে এসব রাস্তার স্থায়ী কোনো উন্নয়ন হয়নি। বিশেষ করে এইচবিবি (এইচবিবি) পদ্ধতির সড়কগুলোর ইট উঠে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে এবং অনেক স্থানে মাটির অংশ বেরিয়ে পড়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, মান্দার গণেশপুর ইউনিয়নের সতীহাট বাজারের উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে সরকারের ব্রয়লার মোড় হয়ে বিমল মেম্বারের বাড়ি পর্যন্ত এইচবিবি সড়কটির বিভিন্ন জায়গায় ইটের অস্তিত্ব নেই। কোথাও কোথাও ইঁদুরের গর্তে সড়কের কাঠামো দুর্বল হয়ে যাওয়ায় তা চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বাসিন্দাদের দাবি, নির্মাণ কাজে নিম্নমানের ইট ব্যবহারের কারণেই রাস্তাগুলো দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একইভাবে, মৈনম ইউনিয়নের কদমতলী মোড়ের পশ্চিম দিক থেকে গণেশপুর হয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা আলিম হাজীর বাড়ি এবং বাঁশার পুকুরের মোড় পর্যন্ত বিস্তৃত বড় একটি অংশ এখনো কাঁচা রয়ে গেছে। বর্ষাকালে এই কাঁচা পথ কাদায় একাকার হয়ে যাওয়ায় যানবাহন তো দূরের কথা, পায়ে হাঁটাও দায় হয়ে পড়ে। স্থানীয়দের দাবি, নিম্নমানের ইট ব্যবহারের কারণেও নির্মাণের অল্প সময়ের মধ্যেই সড়কটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি অনেক সময় পায়ে হেঁটেও চলাচল কঠিন হয়ে পড়ে।

স্থানীয় বাসিন্দা ওমর ফারুক, রবিউল ইসলাম, বয়েজ উদ্দিন মোল্লা ও স্বপনসহ অনেকে জানান, প্রতিদিন শিক্ষার্থী, কৃষক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করেন। অসুস্থ রোগী পরিবহন বা কৃষিপণ্য বাজারে নেওয়ার ক্ষেত্রেও তাদের চরম বিড়ম্বনার শিকার হতে হয়। অভিযোগ রয়েছে, নির্বাচনের সময় রাস্তা সংস্কার ও পাকাকরণের বড় বড় প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও ভোট শেষে তা বাস্তবায়নের আর কোনো উদ্যোগ দেখা যায় না। বাসিন্দারা দ্রুত এসব রাস্তা সংস্কার ও পাকাকরণের দাবি জানিয়েছেন। কৃষিপণ্য হাট-বাজারে নেওয়া, শিক্ষার্থীদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াত এবং অসুস্থ রোগীদের চিকিৎসার জন্য নেওয়ার ক্ষেত্রে তাদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়।

এ বিষয়ে মান্দা উপজেলা এলজিইডি কর্মকর্তা আব্দুল কাদের জানিয়েছেন, জনগণের দুর্ভোগ লাঘবে ইতোমধ্যে স্থানীয় সংসদ সদস্যের সুপারিশ অনুযায়ী ইউনিব্লক রাস্তার জন্য একটি তালিকা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলেই দ্রুত টেন্ডার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কাজ শুরু করা হবে। এদিকে, মান্দা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও গণেশপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম চৌধুরী (বাবুল) বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তিনি বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছেন এবং আগামীতেও এ ধারা অব্যাহত থাকবে। এলাকাটি দীর্ঘদিন অবহেলিত থাকায় তিনি দ্রুত সড়ক সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।

৪৯ (নওগাঁ)-৪ মান্দা আসনের সংসদ সদস্য ডাঃ ইকরামুল বারী টিপু জানান, জনস্বার্থ রক্ষায় ওই এলাকার রাস্তাগুলোর তালিকা ইতোমধ্যে পাঠানো হয়েছে। তিনি আশ্বস্ত করেন যে, প্রকল্পটির অনুমোদন পাওয়ার পরপরই সংস্কার কাজ শুরু হবে এবং পর্যায়ক্রমে অন্যান্য রাস্তাগুলোও পাকাকরণের আওতায় আনা হবে। স্থানীয়রা এখন কেবল প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন এবং দ্রুত একটি কার্যকর সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা দেখার অপেক্ষায় আছেন।