ঢাকা ০৫:২৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
শাহজালাল বিমানবন্দরেই দায়িত্ব পালন করছেন ম্যাজিস্ট্রেট নওশাদ খান সিরাজগঞ্জে মাদক মামলায় দুই যুবকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড তিন সিটির উন্নয়নসহ ১৬ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন লটারি বাতিল করে স্কুলে ভর্তি পরীক্ষা চালুর সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ রসায়নে নোবেল পেলেন জাপান ও ফ্রান্সের দুই বিজ্ঞানী দেশের চারটি অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দরে কমছে যাত্রী সংখ্যা জেট ফুয়েলের দাম বাড়ল, লিটারে বৃদ্ধি ১৭ টাকা বড়াইগ্রামের সানাউল্লাহ বাবু নিহতের ১৬ বছর: বিচারের অপেক্ষায় পরিবার দিল্লিতে ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর উচ্চপর্যায়ের সিরিজ বৈঠক রাজাপুরে যুবদল নেতাসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

নতুন রাডারে আকাশসীমায় নজরদারি ও রাজস্বে বড় সাফল্য

  • আপডেট সময় : ০১:৩৭:৩৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬
  • / 2
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নতুন রাডার ও অত্যাধুনিক এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল (এটিসি) ব্যবস্থা স্থাপনের ফলে বাংলাদেশের আকাশসীমা ব্যবস্থাপনায় নতুন দিগন্তের সূচনা হয়েছে। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে বিদেশি উড়োজাহাজ শনাক্তকরণ ও নজরদারি আগের চেয়ে অনেক বেশি কার্যকর ও নির্ভুল হয়েছে। বিশেষ করে বঙ্গোপসাগর সংলগ্ন বিশাল আকাশসীমায় এখন নিরবচ্ছিন্ন পর্যবেক্ষণ নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে, যা আগে প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতার কারণে বেশ চ্যালেঞ্জিং ছিল। পুরোনো ও সীমিত সক্ষমতার রাডার ব্যবস্থায় বিদেশি উড়োজাহাজের চলাচল যথাযথভাবে পর্যবেক্ষণ করা কঠিন ছিল।

নতুন এই আধুনিক এয়ার ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট এবং কমিউনিকেশন, নেভিগেশন অ্যান্ড সার্ভেইল্যান্স ব্যবস্থার প্রভাবে সরকারের রাজস্ব আয়ে বড় ধরনের উল্লম্ফন দেখা দিয়েছে। সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, চলতি বছরের এপ্রিল মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরুর পর থেকে ওভারফ্লাই ফি বাবদ আয় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। গত ছয় মাসে ফ্লাইওভার চার্জ থেকে রাজস্ব এসেছে প্রায় ৪১৬ কোটি টাকা। সংশ্লিষ্টদের ভাষ্যমতে, বর্তমানে এই প্রযুক্তি পুরোপুরি কার্যকর হওয়ায় প্রতি মাসে গড়ে ৭০ থেকে ৮০ কোটি টাকা রাজস্ব জমা হচ্ছে। একই সঙ্গে ওভারফ্লাই ফি আদায়ের ক্ষেত্রেও এসেছে উল্লেখযোগ্য সাফল্য।

২০২৫-২৬ অর্থবছরের পরিসংখ্যান পর্যালোচনা করলে নতুন রাডারের সুফল স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে। পুরো অর্থবছরে আকাশসীমা ব্যবহারের ফি বা ওভারফ্লাই চার্জ থেকে সরকারের মোট আয় দাঁড়িয়েছে ৮০৫ কোটি টাকারও বেশি। এর মধ্যে অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে (জুলাই থেকে ডিসেম্বর) আয় ছিল ৩৩৮ কোটি টাকা। পরবর্তী ছয় মাসে প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত হওয়ার পর আয় বেড়ে দাঁড়ায় ৪১৬ কোটি টাকা।

প্রায় ৯৪২ কোটি টাকা ব্যয়ে ফ্রান্সের থেলস (Thales) কোম্পানির সাথে সরকারি পর্যায়ে বাস্তবায়িত এই প্রকল্পটির অর্থায়ন করেছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ নিজস্ব তহবিল থেকে। দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে এই আধুনিক ব্যবস্থা চালুর ফলে এখন আন্তর্জাতিক রুটে চলাচলকারী উড়োজাহাজগুলোর ওপর নজরদারি সহজ হয়েছে। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশের আকাশপথ বিশ্বজুড়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, আর নতুন রাডার ব্যবস্থা সেই গুরুত্ব ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে আরও জোরালো করে তুলেছে। এর ফলে আকাশপথের নিরাপত্তা সুসংহত হওয়ার পাশাপাশি সরকারের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের পথও সুগম হয়েছে। নতুন রাডার ব্যবস্থা সেই সম্ভাবনাকে আরও শক্তিশালী করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

নিউজটি শেয়ার করুন

নতুন রাডারে আকাশসীমায় নজরদারি ও রাজস্বে বড় সাফল্য

আপডেট সময় : ০১:৩৭:৩৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নতুন রাডার ও অত্যাধুনিক এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল (এটিসি) ব্যবস্থা স্থাপনের ফলে বাংলাদেশের আকাশসীমা ব্যবস্থাপনায় নতুন দিগন্তের সূচনা হয়েছে। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে বিদেশি উড়োজাহাজ শনাক্তকরণ ও নজরদারি আগের চেয়ে অনেক বেশি কার্যকর ও নির্ভুল হয়েছে। বিশেষ করে বঙ্গোপসাগর সংলগ্ন বিশাল আকাশসীমায় এখন নিরবচ্ছিন্ন পর্যবেক্ষণ নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে, যা আগে প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতার কারণে বেশ চ্যালেঞ্জিং ছিল। পুরোনো ও সীমিত সক্ষমতার রাডার ব্যবস্থায় বিদেশি উড়োজাহাজের চলাচল যথাযথভাবে পর্যবেক্ষণ করা কঠিন ছিল।

নতুন এই আধুনিক এয়ার ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট এবং কমিউনিকেশন, নেভিগেশন অ্যান্ড সার্ভেইল্যান্স ব্যবস্থার প্রভাবে সরকারের রাজস্ব আয়ে বড় ধরনের উল্লম্ফন দেখা দিয়েছে। সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, চলতি বছরের এপ্রিল মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরুর পর থেকে ওভারফ্লাই ফি বাবদ আয় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। গত ছয় মাসে ফ্লাইওভার চার্জ থেকে রাজস্ব এসেছে প্রায় ৪১৬ কোটি টাকা। সংশ্লিষ্টদের ভাষ্যমতে, বর্তমানে এই প্রযুক্তি পুরোপুরি কার্যকর হওয়ায় প্রতি মাসে গড়ে ৭০ থেকে ৮০ কোটি টাকা রাজস্ব জমা হচ্ছে। একই সঙ্গে ওভারফ্লাই ফি আদায়ের ক্ষেত্রেও এসেছে উল্লেখযোগ্য সাফল্য।

২০২৫-২৬ অর্থবছরের পরিসংখ্যান পর্যালোচনা করলে নতুন রাডারের সুফল স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে। পুরো অর্থবছরে আকাশসীমা ব্যবহারের ফি বা ওভারফ্লাই চার্জ থেকে সরকারের মোট আয় দাঁড়িয়েছে ৮০৫ কোটি টাকারও বেশি। এর মধ্যে অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে (জুলাই থেকে ডিসেম্বর) আয় ছিল ৩৩৮ কোটি টাকা। পরবর্তী ছয় মাসে প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত হওয়ার পর আয় বেড়ে দাঁড়ায় ৪১৬ কোটি টাকা।

প্রায় ৯৪২ কোটি টাকা ব্যয়ে ফ্রান্সের থেলস (Thales) কোম্পানির সাথে সরকারি পর্যায়ে বাস্তবায়িত এই প্রকল্পটির অর্থায়ন করেছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ নিজস্ব তহবিল থেকে। দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে এই আধুনিক ব্যবস্থা চালুর ফলে এখন আন্তর্জাতিক রুটে চলাচলকারী উড়োজাহাজগুলোর ওপর নজরদারি সহজ হয়েছে। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশের আকাশপথ বিশ্বজুড়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, আর নতুন রাডার ব্যবস্থা সেই গুরুত্ব ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে আরও জোরালো করে তুলেছে। এর ফলে আকাশপথের নিরাপত্তা সুসংহত হওয়ার পাশাপাশি সরকারের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের পথও সুগম হয়েছে। নতুন রাডার ব্যবস্থা সেই সম্ভাবনাকে আরও শক্তিশালী করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।