নিয়োগে বিলম্ব: ভারত-বাংলাদেশ কূটনৈতিক সম্পর্কে নতুন টানাপড়েন
- আপডেট সময় : ১০:৪৪:৩৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 3
নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশের পরবর্তী হাইকমিশনার হিসেবে পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়ামের নিয়োগ ইস্যু ঘিরে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যকার কূটনৈতিক সম্পর্কে নতুন করে অস্বস্তি ও টানাপড়েন তৈরি হয়েছে। ঢাকা তার এই অভিজ্ঞ কূটনীতিককে ভারতীয় রাজধানীতে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করলেও, এক মাসেরও বেশি সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরেও নয়াদিল্লি থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ‘অ্যাগ্রিমো’ বা নিয়োগ সংক্রান্ত সম্মতি পাওয়া যায়নি। ভিয়েনা কনভেনশন অনুযায়ী, কোনো রাষ্ট্রদূতের নিয়োগের আগে স্বাগতিক দেশের অনুমোদন নেওয়া বাধ্যতামূলক এবং অনুমোদন না দেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করতে ওই দেশ বাধ্য নয়। ফলে এই নীরবতাকে কেন্দ্র করে দুই দেশের সম্পর্কের বর্তমান স্থবিরতা নিয়ে কূটনৈতিক মহলে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময় গত বছর পররাষ্ট্র সচিবের দায়িত্ব গ্রহণ করেন আসাদ আলম সিয়াম। এর আগে ওয়াশিংটনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবেও তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমান হাইকমিশনার এম. রিয়াজ হামিদুল্লাহর মেয়াদ শেষ পর্যায়ে রয়েছে এবং অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ে জেনেভায় জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে তার যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে। ফলে এই শূন্যপদ পূরণের বিষয়টি এখন ঢাকার জন্য অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। তবে ভারতের নীরবতা ও এই দীর্ঘসূত্রতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে এই সংকট নতুন নয়। ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতির পর থেকেই বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের বড় ধরনের অবনতি ঘটে। এরপর বাংলাদেশ চীন ও পাকিস্তানের দিকে বেশি ঝুঁকে পড়ায় নয়াদিল্লি বিষয়টি নেতিবাচকভাবেই নিয়েছে। পরবর্তী সময়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দায়িত্ব গ্রহণের পর সম্পর্কের মোড় ঘোরার একটি আশা জেগেছিল, তবে সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ সেই আশাবাদকে ম্লান করে দিয়েছে। আগস্ট মাসে তারেক রহমানের দিল্লি সফর বাতিল হওয়া এবং ব্রিকস নেতাদের সম্মেলনে আমন্ত্রণ পাওয়ার পরেও তাতে যোগ না দেওয়া দুই দেশের দূরত্বকে আরও স্পষ্ট করেছে। এছাড়া ভারতে আশ্রয় নেওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ঘিরে তৈরি হওয়া নতুন উত্তেজনাও এই সম্পর্কের সংকটের একটি বড় কারণ।
তবে শীর্ষ পর্যায়ের রাজনৈতিক টানাপড়েন থাকলেও মাঠ পর্যায়ে দুই দেশের প্রাতিষ্ঠানিক যোগাযোগ পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। গত সপ্তাহে ঢাকায় অনুষ্ঠিত দুই দিনব্যাপী বৈঠকে সীমান্তপারের ট্রেন চলাচল ও রেল যোগাযোগের বিভিন্ন কারিগরি দিক নিয়ে কর্মকর্তারা বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। গত সাত মাস ধরে বিভিন্ন কারিগরি ওয়ার্কিং গ্রুপগুলো তাদের কার্যক্রম সচল রেখেছে, যা ইঙ্গিত দেয় যে সরকারগুলো নিয়মিত প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা বজায় রাখতে আগ্রহী। এছাড়া চলতি বছরের মাঝামাঝি সময়ে দীনেশ ত্রিবেদীকে ঢাকায় ভারতের হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগ এবং তার পদমর্যাদা মন্ত্রিসভার সমপর্যায়ে উন্নীত করা নয়াদিল্লির পক্ষ থেকে বাংলাদেশের সাথে সম্পর্ককে গুরুত্ব দেওয়ার একটি ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হয়েছিল।
সম্প্রতি ভারত তারেক রহমানকে রাষ্ট্রীয় সফর এবং ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দেওয়ার জন্য দুটি আলাদা আমন্ত্রণ পাঠিয়েছিল, যার কোনটিই শেষ পর্যন্ত আলোর মুখ দেখেনি। সব মিলিয়ে, পররাষ্ট্র সচিব সিয়ামের নিয়োগে ভারতের বিলম্ব এবং নিয়মিত দ্বিপক্ষীয় আলোচনার পরও বিদ্যমান উত্তেজনার বিষয়টি দুই দেশের সম্পর্কের বর্তমান অস্থিরতাকে সামনে নিয়ে এসেছে। কোনো দেশই কূটনৈতিক জটিলতা প্রকাশ্যে আনতে চায় না বলে এই নীরবতা বজায় রাখছে, তবে এই পরিস্থিতির দীর্ঘস্থায়ী সমাধানই এখন দুই দেশের সম্পর্কের স্বাভাবিকীকরণের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। চাকরির আরও তথ্য: কূটনৈতিক সম্পর্কবিষয়ক ভিয়েনা কনভেনশন অনুযায়ী, কোনো দেশ নিজের পছন্দের রাষ্ট্রদূত বা হাইকমিশনারকে অন্য দেশে সরাসরি নিয়োগ দিতে পারে না। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এমনকি কোনো দেশ চাইলে এ বিষয়ে নীরবও থাকতে পারে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বেশির ভাগ দেশই পুরো প্রক্রিয়াটি নীরবে সম্পন্ন করে। চাকরির আরও তথ্য: সুতরাং কারও নিয়োগের অনুমোদন না দেয়া মানেই আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাখ্যান করা নয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কিন্তু সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে সেই আশাবাদ দ্রুতই ম্লান হয়ে গেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এ ছাড়া বঙ্গোপসাগরকেন্দ্রিক আঞ্চলিক জোট বিমসটেকের চেয়ারম্যান হিসেবে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস নেতাদের সম্মেলনে যোগ দেয়ার জন্যও তাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল ভারত। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তার পরিবর্তে বাংলাদেশ থেকেও কাউকে পাঠানো হয়নি।
























