ঢাকা ১২:৪২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বোমা-ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে কাউকে দমন করা সম্ভব নয়: পেজেশকিয়ান নিরাপত্তা ঝুঁকিতে শাহ আমানত বিমানবন্দর: রানওয়েতে দফায় দফায় চুরি নুরের বক্তৃতায় মগবাজার-বাংলামোটর তোলপাড়: মন্তব্য রাশেদ খাঁনের প্রকাশ্যে সমালোচনা করে জরিমানা গুনলেন লিসান্দ্রো মার্টিনেজ ইয়েমেনের প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে হুতিদের হামলা: নিহত ৫ গাজীপুরে ইয়াবাসহ আটক অভিযোগে জড়িত ব্যক্তি ছিনিয়ে নিতে রেলওয়ে কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ ও বিজ্ঞানীদের সুযোগ বাড়ানোর নির্দেশ রাষ্ট্রপতির বিমানবন্দরের নিরাপত্তা জোরদারে আট সদস্যের বিশেষ কমিটি গঠন বিদ্যুৎ খাতের উন্নয়নে চায়না এক্সিম ব্যাংকের অর্থায়ন চাইলেন জ্বালানিমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রে বিশেষ নিরাপত্তায় ড. মুহাম্মদ ইউনূস

নিরাপত্তা ঝুঁকিতে শাহ আমানত বিমানবন্দর: রানওয়েতে দফায় দফায় চুরি

  • আপডেট সময় : ১১:৪১:৫০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬
  • / 3
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর শঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিমানবন্দরের স্পর্শকাতর এলাকা থেকে বারবার রানওয়ের লাইট, ভূগর্ভস্থ বৈদ্যুতিক ক্যাবল ও নেভিগেশন সংক্রান্ত মূল্যবান সরঞ্জাম চুরির ঘটনা ঘটছে। সংশ্লিষ্টদের তথ্যমতে, গত এক মাসে অন্তত নয়বার চুরির শিকার হয়েছে এই বিমানবন্দর। এতে খোয়া যাওয়া সরঞ্জামের বাজারমূল্য প্রায় অর্ধকোটি টাকা বলে ধারণা করা হচ্ছে।

উড্ডয়ন ও অবতরণের ক্ষেত্রে রানওয়ের অ্যাপ্রোচ লাইট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যা পাইলটদের দিকনির্দেশনা দেয়। চুরি হওয়া সরঞ্জামের তালিকায় রয়েছে এই অ্যাপ্রোচ লাইট, ট্রান্সফরমারের সেকেন্ডারি কিট, তামার তার ও বিভিন্ন ধরনের ভূগর্ভস্থ ক্যাবল। গত ৬ অক্টোবর রাতে রানওয়ের ২৩ থেকে ০৫ নম্বর অ্যাপ্রোচ লাইট বন্ধ থাকার বিষয়টি বিমানবন্দরের বৈদ্যুতিক বিভাগের নজরে আসে। তদন্তে ওই রাতে ২০টি ট্রান্সফরমারের সেকেন্ডারি কিটসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম চুরির তথ্য পাওয়া যায়।

চুরির ঘটনাগুলো ধারাবাহিকভাবে ঘটেই চলেছে। গত ৯ অক্টোবর রানওয়ের ২৩ নম্বর অ্যাপ্রোচ এলাকায় মাটির পাঁচ ফুট নিচ থেকে ক্যাবল কেটে তামার তার চুরির অভিযোগ রয়েছে। এর আগে ২৪ সেপ্টেম্বর ০৫ নম্বর অ্যাপ্রোচ এলাকায় নিরাপত্তা বাতির ক্যাবল চুরির ফলে টানা দুই দিন বাতি বন্ধ ছিল। এছাড়া বিমানবন্দরের ভিওআর এলাকায়ও বারবার ক্যাবল চুরির ঘটনা ঘটেছে। ভূগর্ভস্থ ক্যাবল চুরির পর ওপর দিয়ে বিকল্প লাইন টানা হলেও সেটিও চোরদের হাত থেকে রেহাই পায়নি। ক্যাবল চুরির কারণে কয়েকটি বিমান ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণে বাধ্য হয়েছিল বলেও দাবি করা হয়েছে।

বিমানবন্দরের নিরাপত্তার দায়িত্বে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ, বিমানবাহিনী, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন এবং আনসার সদস্যরা নিয়োজিত থাকা সত্ত্বেও এমন ঘটনা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় ও নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। এমনকি চুরি করা মালামালসহ একজনকে আটক করা হলেও তাকে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে। যদিও এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ কোনো যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

সামনে ২৬ অক্টোবর থেকে ৬ নভেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার (আইকাও) নিরাপত্তা অডিট হওয়ার কথা রয়েছে। এমন সময়ে বিমানবন্দরের এই ভঙ্গুর নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বেবিচকের মেম্বার সেক্রেটারি এয়ার কমোডর মো. আসিফ ইকবাল চুরির কথা স্বীকার করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন। প্রতিদিন প্রায় সাড়ে চার হাজার যাত্রী পরিবহনকারী এই বিমানবন্দরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত নজরদারি বাড়ানো এবং চুরি প্রতিরোধের জোরালো দাবি উঠেছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

নিরাপত্তা ঝুঁকিতে শাহ আমানত বিমানবন্দর: রানওয়েতে দফায় দফায় চুরি

আপডেট সময় : ১১:৪১:৫০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬

চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর শঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিমানবন্দরের স্পর্শকাতর এলাকা থেকে বারবার রানওয়ের লাইট, ভূগর্ভস্থ বৈদ্যুতিক ক্যাবল ও নেভিগেশন সংক্রান্ত মূল্যবান সরঞ্জাম চুরির ঘটনা ঘটছে। সংশ্লিষ্টদের তথ্যমতে, গত এক মাসে অন্তত নয়বার চুরির শিকার হয়েছে এই বিমানবন্দর। এতে খোয়া যাওয়া সরঞ্জামের বাজারমূল্য প্রায় অর্ধকোটি টাকা বলে ধারণা করা হচ্ছে।

উড্ডয়ন ও অবতরণের ক্ষেত্রে রানওয়ের অ্যাপ্রোচ লাইট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যা পাইলটদের দিকনির্দেশনা দেয়। চুরি হওয়া সরঞ্জামের তালিকায় রয়েছে এই অ্যাপ্রোচ লাইট, ট্রান্সফরমারের সেকেন্ডারি কিট, তামার তার ও বিভিন্ন ধরনের ভূগর্ভস্থ ক্যাবল। গত ৬ অক্টোবর রাতে রানওয়ের ২৩ থেকে ০৫ নম্বর অ্যাপ্রোচ লাইট বন্ধ থাকার বিষয়টি বিমানবন্দরের বৈদ্যুতিক বিভাগের নজরে আসে। তদন্তে ওই রাতে ২০টি ট্রান্সফরমারের সেকেন্ডারি কিটসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম চুরির তথ্য পাওয়া যায়।

চুরির ঘটনাগুলো ধারাবাহিকভাবে ঘটেই চলেছে। গত ৯ অক্টোবর রানওয়ের ২৩ নম্বর অ্যাপ্রোচ এলাকায় মাটির পাঁচ ফুট নিচ থেকে ক্যাবল কেটে তামার তার চুরির অভিযোগ রয়েছে। এর আগে ২৪ সেপ্টেম্বর ০৫ নম্বর অ্যাপ্রোচ এলাকায় নিরাপত্তা বাতির ক্যাবল চুরির ফলে টানা দুই দিন বাতি বন্ধ ছিল। এছাড়া বিমানবন্দরের ভিওআর এলাকায়ও বারবার ক্যাবল চুরির ঘটনা ঘটেছে। ভূগর্ভস্থ ক্যাবল চুরির পর ওপর দিয়ে বিকল্প লাইন টানা হলেও সেটিও চোরদের হাত থেকে রেহাই পায়নি। ক্যাবল চুরির কারণে কয়েকটি বিমান ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণে বাধ্য হয়েছিল বলেও দাবি করা হয়েছে।

বিমানবন্দরের নিরাপত্তার দায়িত্বে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ, বিমানবাহিনী, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন এবং আনসার সদস্যরা নিয়োজিত থাকা সত্ত্বেও এমন ঘটনা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় ও নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। এমনকি চুরি করা মালামালসহ একজনকে আটক করা হলেও তাকে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে। যদিও এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ কোনো যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

সামনে ২৬ অক্টোবর থেকে ৬ নভেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার (আইকাও) নিরাপত্তা অডিট হওয়ার কথা রয়েছে। এমন সময়ে বিমানবন্দরের এই ভঙ্গুর নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বেবিচকের মেম্বার সেক্রেটারি এয়ার কমোডর মো. আসিফ ইকবাল চুরির কথা স্বীকার করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন। প্রতিদিন প্রায় সাড়ে চার হাজার যাত্রী পরিবহনকারী এই বিমানবন্দরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত নজরদারি বাড়ানো এবং চুরি প্রতিরোধের জোরালো দাবি উঠেছে।