নির্বাচনে ভরাডুবির পর ট্রাম্পকে কর্মকৌশল পরিবর্তনের আহ্বান রিপাবলিকানদের
- আপডেট সময় : ১০:০৩:৩৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
- / 5
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বড় ধরনের পরাজয়ের মুখোমুখি হওয়ার পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে তার নীতি ও প্রশাসনিক কর্মকৌশলে ব্যাপক পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়েছেন রিপাবলিকান দলীয় নেতারা। নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেওয়ার পাশাপাশি ট্রাম্পের সমর্থনপুষ্ট বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ প্রার্থীকে পরাজিত করেছেন। দলীয় কৌশলবিদ ও জ্যেষ্ঠ নেতারা হোয়াইট হাউসের বর্তমান কার্যক্রমে রদবদল, প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং ইরান যুদ্ধ ও বিতর্কিত শুল্কনীতির মতো বিষয়গুলো থেকে সরে আসার পরামর্শ দিয়েছেন। তাদের মতে, এসব বিতর্কিত সিদ্ধান্ত সাধারণ ভোটারদের মধ্যে জনপ্রিয়তা কমিয়ে দিয়েছে।
নির্বাচনের এই ফলকে নিজের ওপর কোনো ধাক্কা বা ব্যক্তিগত আঘাত হিসেবে দেখতে নারাজ ট্রাম্প। ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, তিনি এই পরাজয়কে স্বাভাবিকভাবেই দেখছেন। এদিকে, নির্বাচনে জয়লাভ করায় ডেমোক্র্যাটরা এখন ট্রাম্প প্রশাসনের আইন প্রণয়ন ও নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বাধা দেওয়ার ক্ষমতা পেয়েছে। এছাড়া ট্রাম্পের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড নিয়ে তদন্ত করার সুযোগও তৈরি হয়েছে তাদের। এই পরিস্থিতিতে কংগ্রেসের প্রবল বাধার মুখে ডোনাল্ড ট্রাম্প তার নির্বাহী ক্ষমতার ওপর আরও বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
দলটির অভ্যন্তরীণ বিভাজনের একটি চিত্র সামনে এসেছে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের বক্তব্যে। তিনি ইরান যুদ্ধের বিষয়টিকে নির্বাচনে পরাজয়ের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন, যা ট্রাম্পের অবস্থানের সাথে সাংঘর্ষিক। ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে বিবেচিত ভ্যান্সের এই ভিন্নমত দলটির ভেতরে অস্বস্তির জন্ম দিয়েছে। এছাড়া হোয়াইট হাউসের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা কর্মী ছাঁটাই ও মন্ত্রিসভায় পরিবর্তনের সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বিগ্ন। জানা গেছে, নির্বাচনের কয়েক সপ্তাহ আগেই অভ্যন্তরীণ জরিপে দুই কক্ষেই রিপাবলিকানদের পরাজয়ের জোরালো আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, কিন্তু ট্রাম্প সেই সতর্কবার্তা উপেক্ষা করেছিলেন।
ওয়াশিংটনের সংস্কার কাজ ও হোয়াইট হাউসে বলরুম নির্মাণের মতো প্রজেক্টে ট্রাম্পের অতিরিক্ত আগ্রহ ও মনোযোগ নিয়েও ভোটারদের মধ্যে অসন্তোষ ছিল। তবে নির্বাচনের পরও তিনি এই প্রকল্পগুলোর পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন; তার মতে, এই বলরুম নির্মাণের কাজ তাকে মানসিক প্রশান্তি দিচ্ছে। বিপর্যয় সত্ত্বেও ট্রাম্পের হাতে এখনো উল্লেখযোগ্য নির্বাহী ক্ষমতা অবশিষ্ট রয়েছে। অভিবাসন, সরকারি ব্যয় ও শুল্ক সংক্রান্ত বিভিন্ন সিদ্ধান্তের মাধ্যমে তিনি নিজস্ব নীতি বাস্তবায়নের চেষ্টা চালিয়ে যেতে পারবেন, যদিও কংগ্রেসের তদন্ত ও জবাবদিহির চাপে টিকে থাকা তার জন্য বেশ চ্যালেঞ্জিং হবে।

























