ঢাকা ০৬:৩১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
পদ্মার পানি কিছুটা কমলেও চরাঞ্চলে দুর্ভোগ ও ফসলের ক্ষতি নতুন তথ্য: বেক্সিমকো ফার্মার পর্ষদ ছাড়ছেন সালমান এফ রহমান ইউএস-বাংলা বিমান দুর্ঘটনায় শোকাহত বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন: বিএনপির মনোনয়ন কিনলেন মির্জা ফখরুলের ভাই চ্যানেল ওয়ানের অ্যাক্রেডিটেশন বাতিলের ঘটনায় জামায়াতের উদ্বেগ ব্যক্তিগত পরিচয়ে হবে স্থানীয় সরকার নির্বাচন: জাহেদ উর রহমান কাদেরসহ সাত নেতার মৃত্যুদণ্ডের রায়, সুপ্রিম কোর্টে ককটেল বিস্ফোরণ প্রথমবার রাষ্ট্রপতি হিসেবে সিলেটে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নতুন তথ্য: ১ অক্টোবর থেকে নিজস্ব কার্গো ফ্লাইট চালু এমি অ্যাওয়ার্ডসে অনন্য রেকর্ড গড়লেন অভিনেতা ম্যাথিউ রিস

পদ্মার পানি কিছুটা কমলেও চরাঞ্চলে দুর্ভোগ ও ফসলের ক্ষতি

  • আপডেট সময় : ০৬:১৫:১১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 0
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

পাবনার ঈশ্বরদীতে কয়েকদিন ধরে বাড়তে থাকা পদ্মার পানি কিছুটা কমতে শুরু করেছে। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকালে পাকশী হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পানির উচ্চতা ১২ দশমিক ৯৮ সেন্টিমিটার রেকর্ড করা হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের রিডার সেতু আক্তার জানান, সোমবার সকাল ৯টায় পানির উচ্চতা ১৩ দশমিক ০৩ সেন্টিমিটার থাকলেও একদিনের ব্যবধানে তা কিছুটা কমেছে। বর্তমানে বিপৎসীমা ১৩ দশমিক ৮০ সেন্টিমিটারের চেয়ে ৮২ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে নদীর পানি প্রবাহিত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পাবনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী ইলিয়াস হোসেন।

পানির উচ্চতা কিছুটা কমলেও পদ্মা তীরবর্তী ও চরাঞ্চলের বাসিন্দাদের দুর্ভোগ ও উদ্বেগ এখনও কাটেনি। নদীর পানির চাপে সাঁড়া, পাকশী ও লক্ষ্মীকুণ্ডা ইউনিয়নের বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলে পানি ঢুকে পড়েছে। এসব এলাকায় ফসলের মাঠ তলিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি নদী ভাঙনের আশঙ্কায় দিন কাটছে স্থানীয়দের। সাঁড়া ঘাট এলাকার বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম আক্ষেপ করে বলেন, এলাকায় কোনো নদী রক্ষা বাঁধ না থাকায় পানি বাড়লে সব সময় আতঙ্কিত থাকতে হয়।

ক্ষতিগ্রস্ত চরাঞ্চলের চাষি আনিসুর রহমান জানান, দাদাপুর গ্রামের বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলে আবাদ করা কলা, গাজর, মুলা ও করলাসহ বিভিন্ন ফসল পানিতে তলিয়ে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে। এছাড়া চরাঞ্চলে গবাদিপশুর খাদ্য সংকট দেখা দেওয়ায় গরু-মহিষ বাথান থেকে সরিয়ে উঁচু ও নিরাপদ স্থানে নিতে বাধ্য হচ্ছেন খামারিরা। এছাড়া লক্ষ্মীকুণ্ডা ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি ইটভাটায় পানি ঢুকে পড়ায় বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

পদ্মার পানি বৃদ্ধির ফলে হার্ডিঞ্জ ব্রিজের নিচে গড়ে ওঠা অস্থায়ী দোকানপাটের ব্যবসা ও জনসমাগম উভয়ই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফুচকা ও খেলনাসহ বিভিন্ন সামগ্রীর দোকানগুলোতে পানি উঠে যাওয়ায় ব্যবসায়ীরা মালামাল সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছেন। স্থানীয় ব্যবসায়ী মনোয়ারা খাতুন জানান, দোকানের স্থান পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় ব্যবসা গুটিয়ে নিতে হয়েছে এবং পানি বাড়ার কারণে দর্শনার্থীদের উপস্থিতিও কমে গেছে।

হার্ডিঞ্জ ব্রিজের নিচে ঘুরতে আসা নাজমুল হোসেন বলেন, পানি বৃদ্ধির কথা শুনে এলাকাটি দেখতে এসেছিলাম, কিন্তু এসেই দেখলাম অনেক দোকানের ব্যবসায়ীরা পানির কারণে মালামাল নিরাপদ স্থানে সরাচ্ছেন। গত কয়েকদিনের এই বন্যা পরিস্থিতির কারণে নদী তীরবর্তী জনপদে দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে এবং কৃষিনির্ভর মানুষেরা তাদের আয়ের উৎস নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টায় হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পানির উচ্চতা ছিল ১৩ দশমিক ০৩ সেন্টিমিটার। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: নদীর পানি বাড়ায় আশপাশের ফসলি জমিতেও পানি উঠেছে।’। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পানি বাড়ার কারণে আগের মতো মানুষও এখানে ঘুরতে আসতে পারছেন না।’।

নিউজটি শেয়ার করুন

পদ্মার পানি কিছুটা কমলেও চরাঞ্চলে দুর্ভোগ ও ফসলের ক্ষতি

আপডেট সময় : ০৬:১৫:১১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পাবনার ঈশ্বরদীতে কয়েকদিন ধরে বাড়তে থাকা পদ্মার পানি কিছুটা কমতে শুরু করেছে। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকালে পাকশী হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পানির উচ্চতা ১২ দশমিক ৯৮ সেন্টিমিটার রেকর্ড করা হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের রিডার সেতু আক্তার জানান, সোমবার সকাল ৯টায় পানির উচ্চতা ১৩ দশমিক ০৩ সেন্টিমিটার থাকলেও একদিনের ব্যবধানে তা কিছুটা কমেছে। বর্তমানে বিপৎসীমা ১৩ দশমিক ৮০ সেন্টিমিটারের চেয়ে ৮২ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে নদীর পানি প্রবাহিত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পাবনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী ইলিয়াস হোসেন।

পানির উচ্চতা কিছুটা কমলেও পদ্মা তীরবর্তী ও চরাঞ্চলের বাসিন্দাদের দুর্ভোগ ও উদ্বেগ এখনও কাটেনি। নদীর পানির চাপে সাঁড়া, পাকশী ও লক্ষ্মীকুণ্ডা ইউনিয়নের বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলে পানি ঢুকে পড়েছে। এসব এলাকায় ফসলের মাঠ তলিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি নদী ভাঙনের আশঙ্কায় দিন কাটছে স্থানীয়দের। সাঁড়া ঘাট এলাকার বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম আক্ষেপ করে বলেন, এলাকায় কোনো নদী রক্ষা বাঁধ না থাকায় পানি বাড়লে সব সময় আতঙ্কিত থাকতে হয়।

ক্ষতিগ্রস্ত চরাঞ্চলের চাষি আনিসুর রহমান জানান, দাদাপুর গ্রামের বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলে আবাদ করা কলা, গাজর, মুলা ও করলাসহ বিভিন্ন ফসল পানিতে তলিয়ে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে। এছাড়া চরাঞ্চলে গবাদিপশুর খাদ্য সংকট দেখা দেওয়ায় গরু-মহিষ বাথান থেকে সরিয়ে উঁচু ও নিরাপদ স্থানে নিতে বাধ্য হচ্ছেন খামারিরা। এছাড়া লক্ষ্মীকুণ্ডা ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি ইটভাটায় পানি ঢুকে পড়ায় বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

পদ্মার পানি বৃদ্ধির ফলে হার্ডিঞ্জ ব্রিজের নিচে গড়ে ওঠা অস্থায়ী দোকানপাটের ব্যবসা ও জনসমাগম উভয়ই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফুচকা ও খেলনাসহ বিভিন্ন সামগ্রীর দোকানগুলোতে পানি উঠে যাওয়ায় ব্যবসায়ীরা মালামাল সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছেন। স্থানীয় ব্যবসায়ী মনোয়ারা খাতুন জানান, দোকানের স্থান পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় ব্যবসা গুটিয়ে নিতে হয়েছে এবং পানি বাড়ার কারণে দর্শনার্থীদের উপস্থিতিও কমে গেছে।

হার্ডিঞ্জ ব্রিজের নিচে ঘুরতে আসা নাজমুল হোসেন বলেন, পানি বৃদ্ধির কথা শুনে এলাকাটি দেখতে এসেছিলাম, কিন্তু এসেই দেখলাম অনেক দোকানের ব্যবসায়ীরা পানির কারণে মালামাল নিরাপদ স্থানে সরাচ্ছেন। গত কয়েকদিনের এই বন্যা পরিস্থিতির কারণে নদী তীরবর্তী জনপদে দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে এবং কৃষিনির্ভর মানুষেরা তাদের আয়ের উৎস নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টায় হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পানির উচ্চতা ছিল ১৩ দশমিক ০৩ সেন্টিমিটার। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: নদীর পানি বাড়ায় আশপাশের ফসলি জমিতেও পানি উঠেছে।’। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পানি বাড়ার কারণে আগের মতো মানুষও এখানে ঘুরতে আসতে পারছেন না।’।