ঢাকা ০৮:৫৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ফ্যাসিবাদী অপশক্তিকে আর রাজনীতির সুযোগ নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ৩ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করল জেনিথ পিপিএম-সেবা পদকে ভূষিত নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমান জাসদ কার্যালয়ে অভিযান, আওয়ামী লীগের অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী আটক পরমাণু শক্তি খাতে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বাংলাদেশের নতুন সমঝোতা বাংলাদেশ ব্যবসার জন্য উন্মুক্ত: নিউইয়র্কে বিনিয়োগকারীদের বললেন প্রধানমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনায় আর আস্থা নেই ইরানের: প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান মুসলিম দেশগুলোর আকাশসীমা ব্যবহার করে হামলা হচ্ছে: ইরানের প্রেসিডেন্ট ভোলার চরফ্যাশনে মাদরাসা ছাত্রকে অপহরণের চেষ্টার ঘটনায় তদন্তে পুলিশ ককটেল বিস্ফোরণ নিয়ে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে জিজ্ঞাসাবাদের দাবি ডিএমপির

পরমাণু শক্তি খাতে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বাংলাদেশের নতুন সমঝোতা

  • আপডেট সময় : ০৬:২২:৫০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 1
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

পরমাণু শক্তির শান্তিপূর্ণ ও বেসামরিক ব্যবহারের ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও বৃদ্ধির লক্ষ্যে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। স্থানীয় সময় ২৫ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ফাঁকে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় আলোচনার পর এই চুক্তি সম্পন্ন হয়। বাংলাদেশের পক্ষে প্রধানমন্ত্রীর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসাদ এবং যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে দেশটির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, জ্বালানি ও পরিবেশবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি জেকব হেলবার্গ এই চুক্তিতে সই করেন। বিএনপি মিডিয়া সেলের পক্ষ থেকে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এই সমঝোতা স্মারকটি মূলত ১৯৮১ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময় পরমাণু শক্তি নিয়ে নেওয়া সহযোগিতামূলক উদ্যোগেরই একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া।

এর আগে ২৪ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক ডেপুটি অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি বেথানি পৌলোস মরিসন এক ব্রিফিংয়ে দুই দেশের সম্পর্ক ও সাম্প্রতিক অগ্রগতির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তিনি জানান, বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের এই যুক্তরাষ্ট্র সফরের মাধ্যমে উভয় দেশের মধ্যে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে যোগাযোগ ও পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্র আরও শক্তিশালী হয়েছে। সে সময় বোয়িংয়ের সঙ্গে বাংলাদেশের বড় বাণিজ্যিক চুক্তির বিষয়টিও আলোচনায় আসে।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরমাণু শক্তির বেসামরিক ব্যবহার নিয়ে চুক্তির আবহে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য ইউরেনিয়াম জ্বালানি আসার ক্ষেত্রে সাময়িক অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব শেখ মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম জানান, গত বৃহস্পতিবার নতুন এই চালানটি ঢাকায় পৌঁছানোর কথা থাকলেও প্রয়োজনীয় আকাশপথের ছাড়পত্র না পাওয়ায় তা আনা সম্ভব হয়নি। যদিও শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এই চালান গ্রহণের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন ছিল। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু সংস্থা রসাটম জানিয়েছে, আকাশপথের জটিলতার কারণে ফ্লাইটটি বাতিল করা হয়েছে এবং পরবর্তী সময়সূচি পরে ঘোষণা করা হবে।

পাবনার ঈশ্বরদীর পাকশীতে পদ্মা নদীর তীরে নির্মাণাধীন রূপপুর দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। রাশিয়ার প্রযুক্তিগত সহায়তায় এই প্রকল্পের দুই ইউনিটের মাধ্যমে মোট ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর আগে প্রথম ইউনিটের জ্বালানি ২০২৩ সালের অক্টোবরে বিশেষ কার্গো বিমানে করে বাংলাদেশে আনা হয়েছিল, যা আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার নজরদারিতে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে প্রকল্পে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমান নতুন সমঝোতা এবং রূপপুর প্রকল্পের চলমান অগ্রগতি দেশের বেসামরিক পারমাণবিক সক্ষমতা ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

পরমাণু শক্তি খাতে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বাংলাদেশের নতুন সমঝোতা

আপডেট সময় : ০৬:২২:৫০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পরমাণু শক্তির শান্তিপূর্ণ ও বেসামরিক ব্যবহারের ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও বৃদ্ধির লক্ষ্যে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। স্থানীয় সময় ২৫ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ফাঁকে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় আলোচনার পর এই চুক্তি সম্পন্ন হয়। বাংলাদেশের পক্ষে প্রধানমন্ত্রীর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসাদ এবং যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে দেশটির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, জ্বালানি ও পরিবেশবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি জেকব হেলবার্গ এই চুক্তিতে সই করেন। বিএনপি মিডিয়া সেলের পক্ষ থেকে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এই সমঝোতা স্মারকটি মূলত ১৯৮১ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময় পরমাণু শক্তি নিয়ে নেওয়া সহযোগিতামূলক উদ্যোগেরই একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া।

এর আগে ২৪ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক ডেপুটি অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি বেথানি পৌলোস মরিসন এক ব্রিফিংয়ে দুই দেশের সম্পর্ক ও সাম্প্রতিক অগ্রগতির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তিনি জানান, বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের এই যুক্তরাষ্ট্র সফরের মাধ্যমে উভয় দেশের মধ্যে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে যোগাযোগ ও পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্র আরও শক্তিশালী হয়েছে। সে সময় বোয়িংয়ের সঙ্গে বাংলাদেশের বড় বাণিজ্যিক চুক্তির বিষয়টিও আলোচনায় আসে।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরমাণু শক্তির বেসামরিক ব্যবহার নিয়ে চুক্তির আবহে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য ইউরেনিয়াম জ্বালানি আসার ক্ষেত্রে সাময়িক অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব শেখ মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম জানান, গত বৃহস্পতিবার নতুন এই চালানটি ঢাকায় পৌঁছানোর কথা থাকলেও প্রয়োজনীয় আকাশপথের ছাড়পত্র না পাওয়ায় তা আনা সম্ভব হয়নি। যদিও শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এই চালান গ্রহণের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন ছিল। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু সংস্থা রসাটম জানিয়েছে, আকাশপথের জটিলতার কারণে ফ্লাইটটি বাতিল করা হয়েছে এবং পরবর্তী সময়সূচি পরে ঘোষণা করা হবে।

পাবনার ঈশ্বরদীর পাকশীতে পদ্মা নদীর তীরে নির্মাণাধীন রূপপুর দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। রাশিয়ার প্রযুক্তিগত সহায়তায় এই প্রকল্পের দুই ইউনিটের মাধ্যমে মোট ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর আগে প্রথম ইউনিটের জ্বালানি ২০২৩ সালের অক্টোবরে বিশেষ কার্গো বিমানে করে বাংলাদেশে আনা হয়েছিল, যা আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার নজরদারিতে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে প্রকল্পে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমান নতুন সমঝোতা এবং রূপপুর প্রকল্পের চলমান অগ্রগতি দেশের বেসামরিক পারমাণবিক সক্ষমতা ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।