প্রকৃতির প্রতি অবিচার/ব্যভিচার-আজব ও গজব এরই দৃষ্টান্ত
- আপডেট সময় : ০৬:০৮:০৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ অক্টোবর ২০১৮
- / 842
লেখক -মোহাম্মদ আশরাফ উদ্দিন মুকুল
“হাল জ্বা-যা-উল ইহছানি ইল্লাল ইহছান, ফাবি আইয়্যে আলা-ই রাব্বিকুমা তুকাজ্জিবান, হে জ্বীন ও মানব সম্প্রদায়-তোমরা তোমার স্বীয় রবের কোন নেয়ামত অস্বীকার করবে, কল্যাণের বিনিময় কল্যাণ ছাড়া আর কি হতে পারে।”
উপরোক্ত কথার ভাবার্থ হচ্ছে- “আল্লাহর নির্দেশ, আদেশ ও নিষেধ মেনে নেওয়ার মধ্যে সমস্ত কল্যাণ নিহিত আছে। যারা এর ব্যত্যায় ঘটাবে তাদের জন্য কঠিন শাস্তি অপেক্ষমান।”
দুনিয়া হচ্ছে জ্বীন মানবের জন্য পরীক্ষার হল স্বরূপ। স্তর বেদে পরীক্ষার ফল নিরূপন করা হবে। প্রত্যেকটি ছাত্র-ছাত্রী যেমন পিএসসি, জেএসসি ও এসএসসি এমনি করে সর্বোচ্চ ডিগ্রি পর্যন্ত অর্জন করে। যারা কঠিন ত্যাগ ও পরিশ্রম করে পড়া লেখা করে তারা অবশ্যই ভালো রেজাল্ট করে। আর যারা এর ব্যতিক্রম ঘটাবে ফলাফল খারাপ হবে এটাই স্বাভাবিক। আমরা একটু ভেবে দেখলে বোঝ যায়, মাত্র এসএসসি পাশ করার জন্য কতগুলো বিষয়ে কতটি পুস্তক আমাদের মুখস্ত করতে হয়।
বর্তমানের প্রেক্ষাপটে এসএসসি পাশ একজন ব্যক্তির কোন প্রতিষ্ঠানে কোন চাকুরী তো দূরের কথা আশা করাটাও ভুল। ডিগ্রি পাশ বা সমমান যোগ্য ব্যক্তিরা পিয়ন পদে চাকুরী পেতেও অনেক চড়াই/উতরাই পেরিয়ে কেউ পায় আবার কেউ পায় না। দৃষ্টান্তগুলো উপস্থাপন এজন্য করা, আমাদের যে মহান দাতা ও দয়ালু দুনিয়াতে পাঠিয়েছেন কত রিজিক কতো ধরনের বিচিত্র সম্ভারে সৃষ্টির সেরা নেয়ামত দিয়েছেন। এর মধ্যে এক আল্লাহ এক মানুষজাতি, এক জ্বীন জাতি, এবং এক দুনিয়া এবং এক জীবন চলার সর্বোৎকৃষ্ট নেয়ামত পবিত্রগ্রন্থ আল কোরআন। একটি মাত্র মহাগ্রন্থ আল কোরআন ৩০টি পারা দ্বারা মানব ও জ্বীনের জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত এবং মৃত্যুর পরে আখিরাতের অনন্তকালের বর্ণনা অত্যন্ত সুন্দরতম ভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। যাহা পৃথিবীর কোন জ্ঞানী বা মহাজ্ঞানী একটি মাত্র লাইনের ধারে কাছে যেতে পারবে না। ত্রিশ পারার একটি মাত্র মহাগ্রন্থ আল কোরআনকে আমরা জেনে বুঝে সহী, শুদ্ধ ও গবেষনালব্দ জ্ঞান দ্বারা পড়ার চেষ্টা করি না। শুধু ধরে নিই ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’। এই সম্পূর্ন লাইনটুকুও বাদ দিলাম, শুধু মাত্র ‘বিসমিল্লাহ’-এর কথা বলি । (বা, ইসম, ইল্লাহ) কেহই এটির কোটি কোটি ভাগের একভাগ পর্যন্তও পৌছাতে পারবেনা। ‘বা’ বর্ণ সংযোজন করা, সংগঠিত করা, শুরু করা। ‘ইসম’-এর অর্থ হচ্ছে কারামত বা মজেজা। ইসম মহান আল্লাহতালার পূর্ণ একটি অতি গুণবাচক নাম,যার সমতুল্য অন্য কোন নাম নেই। ইল্লাহ বা ইলাহ-এর অর্থ হচ্ছে প্রতিপালক।
শুরু করিলাম কারামতের অধিপতি প্রতিপালক মহান দাতা দয়ালু আল্লাহর নামে। অদৃশ্য যত প্রাণ বা প্রাণী, জীব কিংবা জিবনের অস্তৃত্ব নিয়ে অনেকেই সন্দেহ পোষণ করে, কিন্তু দৃশ্যমান প্রকৃতির চলমান জন্ম,মৃত্যু ও একটি নির্দিষ্ট সময়ের পরিধিতে টিকে থাকার লড়াই এটিতো বিশ্বাস যোগ্য। যাক অদৃশ্য প্রাণ বা প্রাণী, জীব কিংবা জিবনের কথাই বাদ দিলাম। সারা বিশ্ব ও বিশ্ব ভূ-মন্ডলের পরিধিতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা দৃশ্যমান যত সৃষ্টি আছে সবই এক অফুরন্ত নেয়ামত, একমাত্র মানব ও জ্বীনের কল্যাণে তৈরী করা হয়েছে ! এটিতো অস্বীকার করার কোন উপায় নেই। যদি বিজ্ঞানের কথা বলি- মহাকাশের গ্রহ,নক্ষত্র, তরকারাজি যার যার নিজ কক্ষপথে অতিক্রম করে নির্দিষ্ট সময় ও নিয়ম মেনে। বিন্দুমাত্র হের/ফের ঘটলে কক্ষচ্যুত হয়ে ধ্বংস হয়ে যায়। এটিতো বিজ্ঞানের ব্যাখ্যা সমসাময়িক সময়ের!
কিন্তু ১৪শত হিজরী পূর্বে পবিত্র কোরআনের সুরা আর-রাহমান,ওয়াকেহা,মূলকসহ অনেক গুলো সুরায় কক্ষপথ বিচ্যুতির জন্য ধ্বংসের ঈঙ্গিত দেওয়া আছে।
তারপরও কেন আমরা ইবলিশ শয়তানের দ্বারা প্ররোচিত হয়ে মহান দাতা ও দয়ালু প্রতিপালকের অফুরন্ত নেয়ামত অস্বীকার করি। দৃষ্টান্তের জন্য একটি যুক্তি-বৈজ্ঞানিক ভাবে বিশুদ্ধকরণ প্রক্রিয়ায় পানিকে বিশুদ্ধ করার পরও শতভাগ বিশুদ্ধতার নিশ্চয়তা দিতে পারে না। বাংলাদেশের কয়েকটি নদ-নদীর পানিকে বিষাক্ত ও ব্যবহার অনুপযোগী বলে নির্ধারন করা হয়েছে,এর মধ্যে বুড়িগঙ্গা অন্যতম। আমরা কি একবার ভেবে দেখেছি-বুড়িগঙ্গার এমন আবর্জনা,বর্জ্য,কেমিক্যালযুক্ত, দূর্গন্ধযুক্ত পানি কিভাবে মহান কারামতের অধিকারী দাতা দয়ালুর অশেষ মেহেরবানিতে শতভাগ বিশুদ্ধ পানিতে রূপ নেয়। আপনি ভালোভাবে লক্ষ করুণ পানির উপরিস্তরে। উপরিস্তর থেকে যখন জলীয় বাষ্পতে রূপ নেয়,তখন স্তর ও বাষ্প উভয়ের মাঝামাঝি যে বিশুদ্ধতার যে সম্মিলণ সেটি কোন মানুষ বা জ্বীন করেছে না কোন বিজ্ঞান করেছে। অবশ্যই ইসম বা কারামতের অধিপতি দাতা দয়ালুই করেছেন। জলীয় বাষ্প ভাসমান মেঘ ও বৃষ্টিতে এবং কিছু সংখ্যক রূপ নেয় বরপের পাহাড়ে। যদি বিজ্ঞান বলে কোন পাত্রের বিষাক্ত পানিকে উষ্ণ করে জলীয় বাষ্পে রূপান্তরিত করলে তা বিশুদ্ধ হয়। বিষাক্ত চোলামদ বা বাংলামদ তৈরি প্রণালী হচ্ছে-পচা ভাতকে পাত্রে উষ্ণ করে জলীয় বাষ্পকে অন্য পাত্রে জমিয়ে রেখে মদ তৈরি করে। তাহলে এই পানিগুলো বিশুদ্ধ হয়না কেন ? শুধু একটি দৃষ্টান্ত এখানে তুলে ধরেছি, এমন অনেক দৃশ্যত দৃষ্টান্ত আছে। এমন একটি দৃষ্টান্তই যথেষ্ট যাহা বিবেক ও মনুষত্বেও অধিকারির জন্য,বিবেকহীন এবং অমানুষের জন্য হাজার দৃষ্টান্তও শূন্যফল। এতো লিখা বা দৃষ্টান্তের একটি উদ্দেশ্য,দাতা ও দয়ালু আল্লাহই একমাত্র সর্বময় ক্ষমতার মালিক।
আমরা সৃষ্টিকর্তার দয়ায় জন্মেছি আবার তার ডাকে আমাদেরকে অবশ্যই আবার প্রত্যাবাসন করতে হবে। জন্ম ও মৃত্যুর মাঝামাঝি সময়ে আল্লাহর নির্দেশিত- আদেশ,নিষেধ ও করণীয় বিষয়ে জানানোর জন্য একজন মহা মানব রাসুল পাঠিয়েছেন। রাসুলুল্লাহর মাধ্যমে একটি মাত্র মহাগ্রন্থ পবিত্র কোরআন পাঠিয়েছেন দুনিয়া ও আখিরাতের বর্ণনা দিয়ে উক্ত সময়ে আমাদের করণীয় কি? আমরা কি প্রকৃতপক্ষে আল্লাহ কতৃক প্রদত্ত সংবিধান মহাগ্রন্থ পবিত্র কুরআনের আইন মোতাবেক চলি, না প্ররোচিত শয়তানের পথের মানব রচিত সংবিধান মতে চলি? দুনিয়াতে আল্লাহর সংবিধানের সাথে সাংঘর্ষিক যেসব সংবিধান রচনা করা হয়েছে, সেসব সংবিধান যারা রচনা করেছে ও তা মানতে বাধ্য করার চেষ্টা করেছে তাদের পরিনতি কি হয়েছে ? কি হবে তা আল-কুরআনে বার বার উল্লেখ করা হয়েছে- নমরূদ ও ফেরাউনকে কিভাবে পাকড়াও করেছিল এবং আবাবিল পাখি দ্বারা কিভাবে হস্তি বাহিনী কাফের দলকে ধ্বংস করেছিল তাও বর্ণিত আছে পবিত্র এ মহাগ্রন্থে।
আমরা কি কুরআন নাযিল সমাপ্তির পরও বিশ্বের ক্ষমতাধর জালেম শাসকদের করুণ পরিনতির কলংকিত ইতিহাস সমন্ধে অবগত নই ? অবশ্যই অবগত ! তাহলে, কি আমরা সর্তক ? আল্লাহর নিষেদ আমরা কি মেনে চলি ? অভিচার ও ব্যভিচার সমন্ধে কঠোর নিষেদাজ্ঞা। জাহেলিয়াতের যুগে কুকুরকে কেন হত্যার আদেশ দেওয়া দিয়েছিল ? সমকামিতা ছিল জাহেলিয়াতের যুগে বৈধ ! সে সময়ের জাহেলিয়াতের যুগের চেয়ে বর্তমানের জাহেলিয়াতের যুগ আরো ভয়ংকর রূপ ধারন করেছে।
বিশ্বের কিছু সংখ্যক দেশে সমকামীতাকে বৈধতা দিয়েছে। প্রকাশ্যে বা গোপনে প্রায় অনেক দেশে এমন জঘন্য অপরাধ/পাপে লিপ্ত হচ্ছে,যা প্রকৃতির প্রতি ব্যভিচার। জাহেলিয়াতের যুগে জালেম শাসকরা এমন পাপের বৈধতা দিয়েছে। বর্তমান সময়ে মহাপাপ কার্য আরো বেশি জঘন্য রূপ ধারন করছে। নগ্নতা ও বেহায়াপনা ফ্যাশন এবং আধুনিকতার ছোঁয়া বলে চালিয়ে দিচ্ছে। ইচ্ছাতে অনিচ্ছাতে বা কোন বিনিময়ে যৌন অভিচার হয়ে উঠেছে অপ্রতিরোধ্য। যে কোন নারী বা পুরুষের বড় সম্পদ হচ্ছে তার উজ্জত ও আব্রু। ইজ্জত ও আব্রু সমন্ধে কোরআনের পরিভাষায় বলা হয়, আকর্ষনীয় অংশ এবং নফসের হেফাজত করা। যারা এটিকে সুরক্ষা ও সংরক্ষণ করে তাদের জন্য বৈধ সময়,স্থান ও অবস্থায় ব্যবহুত করবে, তারা হবে অবশ্যই সফলকাম। যারা যত্রতত্র বা যেমন তেমনভাবে প্রদর্শন ও অভিচারে লিপ্ত থাকবে তারা অবশ্যই নরক/জাহান্নামীদের অর্ন্তভূক্ত হবে।
জাহান্নামরে কথা বাদ দিলেও দৃশ্যমান অবস্থার কথা ধরে নিই। আমাদের আশ-পাশে যা কিছু ঘটছে, এসব ঘটনার দূর্ঘটনা গুলোর দিকে নজর দিলে বোঝা যাবে আসলে মন্ধ কাজের খেসারত কি? বয়/গার্লফ্রেন্ডস নিয়ে অবৈধ অসামাজিক কাজ করতে গিয়ে কোথাও না কোথায় সামাজিক হেনস্তা হতে হয়। কখনো নির্মম হত্যার স্বীকার হতে হয়। পরকিয়া স্ব-ঘোষিত সামাজিক ব্যাধিতে রূপ নিচ্ছে, যার দরুণ স্বামীর হাতে স্ত্রী, স্ত্রীর হাতে স্বামী খুন,মায়ের কাছে প্রিয় সন্তান অনিরাপধ এবং নীজ হাতে নির্দয়ভাবে সন্তান খুন। যৌন লিপ্সা এখন আর মানবে আর মানবে সীমাবদ্ধ নয়! জিব-জন্তুর সাথেও চলছে এমন নিকৃষ্টতম যৌন অভিচার কাজ। গরু, ঘোড়া, গাধা, খচ্চর,সাপ,বানর ও কুকুরের সাথে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে দৃশ্যমান। এর মধ্যে কুকুরকে সহজে বশে এনে নিজ বেড রুমে রেখে রাত্রী যাপন করে অনেক যৌন পিপাসীনি।এমন সব মারাত্নক অপরাধ কেউ নিচ্ছে-ফ্যাশন হিসেবে, কেউ তার যৌন উত্তেজনার দাপট কত বেশি তা প্রকাশ করছে, কেউ নিচ্ছে তার কত আবেদনময়ী চাহিদা,কেউ ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক, কেউ নিচ্ছে প্রতিযোগিতার মাধ্যমে কত বেশি করা যায় এমন নিলর্জ্জ পাপ কার্য।
প্রকাশ্য ও গোপনে চলা এমন ব্যভিচার সমন্ধে সবার কম-বেশি জানা। জেনে-শুনে এমন ব্যভিচারী কাজকে কেউ কেউ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে। কেউবা এসব জঘন্য অপরাধকে ঘৃণাভরে দেখে, প্রতিবাদ করে ও সমালোচনা করে। কিছু সংখ্যক লোক জেনে, দেখে ও শুনে প্রতিকারে এগিয়ে না এসে উল্টো এমন কথা বলে-এসব পাপের কথা মুখে আনাও পাপ! তাহলে প্রশ্ন,মুখে আনা যাবে না, বলা যাবে না, লিখা যাবে না, প্রতিকারের উপায় কি ??? নিকৃষ্টতম ও জঘন্যতম যৌন অভিচার আমাদের মানব/জ্বীন জাতির জন্য কেমন ভয়াবহ,কঠোর শাস্তি এবং ধ্বংস অপেক্ষা করছে, তা কিছুটা বিবেকবানদের কাছে অনুমেয়।
আমরা আজ কক্ষপথ থেকে বিচ্যুত গ্রহের মত অবস্থানে আছি,যে কোন সময় আমাদের জন্য মহা ধ্বংসযজ্ঞ অপেক্ষামান। ছোট ও মাঝারি ধরণের প্রাকৃতিক বিপর্যয় দিয়ে মহান আল্লাহতায়ালা আমাদেরকে সতর্ক হওয়ার সুযোগ দেন। আমরা যদি বিবেককে কাজে লাগিয়ে, মহান দাতা দয়ালু সৃষ্টিকর্তার দেওয়া সুযোগ কাজে না লাগিয়ে ইবলিশ শয়তানের দ্বারা প্ররোচিত সুযোগ কাজে লাগাই অবশ্যই আমরা নি:সন্দেহে মহাধ্বংসযজ্ঞে পতিত হবো এবং আমাদের জন্য জাহান্নাম অবধারিত।
দুনিয়ার আজব/গজব আমাদের জঘন্যতম পাপ কার্য্যের নিকৃষ্টতম ফল। এমন বিপর্যয় থেকে পরিত্রানের একমাত্র উৎকৃষ্ট পন্থা হচ্ছে মহাগ্রন্থ আল-কুরআন ও সুন্নাহর পথ অনুসরণ করা।
যে পথে দুনিয়া ও আখিরাতের শান্তি আর নেয়ামতপূর্ণ অনন্ত সুখময় জীবন।
বিডিসংবাদ/এএইচএস


























