“কোটা আন্দোলন কতটা যৌক্তিক “
- আপডেট সময় : ০৭:৫০:৪০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩১ জুলাই ২০২৪
- / 826
হাসিনা মরিয়ম
এই দেশে সবকিছুই রক্তের বিনিময়ে অর্জন করতে হয়, ১৯৫২ সালে রক্ত দিয়েছিল ভাষার জন্য, ১৯৭১ সালে রক্ত দিয়েছিল স্বাধিনতার জন্য, ২০২৪ সালে রক্ত দিতে হচ্ছে অধিকার আদায়ের জন্য, একটা দেশে দুই নিয়ম চলতে পারে না,প্রত্যেক নাগরিকের সমান অধিকার, সুষম বন্টন করতে হবে প্রতিটি নাগরিকের জন্য, তবে কেন বৈষম্য, স্বাধীনতার এতো বছর পর ও কেন এই বৈষম্যতা, মুক্তিযোদ্ধারা কি ভাতা খাওয়ার জন্য নাকি নিজেদের ছেলে মেয়ে নাতি পুতিদের কোটা সুবিধার জন্য দেশ স্বাধীন করেছে? ওরা দেশ মাতৃকাকে ভালোবেসে অকাতরে নিজের জীবন দিয়ে দেশ স্বাধীন করেছে,সুবিধাভোগীদের জন্য দেশ স্বাধীন করে নাই, মুক্তিযোদ্ধাদের এই মহৎ উদেশ্য আজ বিতর্কিত করছে কিছু সুবিধাভোগী লোভী শ্রেনী, এই দেশের আপামর জনতা সবাই এক কাতারে, সবার সমান অধিকার, কেউ আলাদা নয়, আজ দেশটাকে নিজেদের স্বার্থে দুই ভাগে ভাগ করেছে সুবিধাভোগী দালাল শ্রেণি,মুক্তিযোদ্ধাদের মহান অবদানকে উপেক্ষা করে তাদের এই অর্জনকে বিতর্কিত করে তুলেছে, কোন মুক্তিযোদ্ধারই এটা প্রত্যাশা নয় যে শুধু তার বংশধর রাষ্ট্রের সব সুবিধা পাবে আর গোটা দেশ বঞ্চিত হবে সুবিধা থেকে, এটা মুক্তিযোদ্ধারা কখনও চায়নি, এখনো যে কজন মুক্তিযোদ্ধা বেঁচে আছেন তারা এই বৈষম্যের তীব্র প্রতিবাদ করছেন,
তবে কেন তাদের নাম ভাঙ্গিয়ে এই অনাচার?
কোটা কাদের জন্য.. যারা এই দেশের অনগ্রসর সুবিধা বঞ্চিত তাদের জন্য, যারা রাষ্ট্রের প্রায় সব সুবিধা থেকে বঞ্চিত তাদের জন্য, না যাদের সক্ষমতা আছে সন্তানদের শিক্ষিত করার তাদের জন্য, সাধারণ অনগ্রসর শিক্ষার্থী যারা কৃষক, রিকশাচালক,খেটে খাওয়া মানুষের সন্তান, তাদের বাবা মা দু’বেলা খাবার খাওয়াতে পারেনা, তাদের জন্য কোটা,কারণ তাদের ও অধিকার আছে সন্তানদের উচ্চশিক্ষিত করার, তাদের ও স্বপ্ন দেখার অধিকার আছে, আজ আমাদের দেশ রক্তে রঞ্জিত, পুরো পৃথিবী দেখছে আমাদের ছাত্ররা সুষম বণ্টনের জন্য লড়ছে, বুক পেতে গুলি খাচ্ছে, অকাতরে নিজের জীবন বিলিয়ে দিচ্ছে অধিকার আদায়ের জন্য, এই লজ্জা আমাদের সবার, আমরা আমাদের সন্তানদের গুলি করে মারছি,ওরা কি চেয়েছে?… সবার জন্য সুষম বণ্টন চেয়েছে, রাজনীতির চেয়ে সন্তান বড়, দেশ বড় এটা আমাদের মনে রাখতে হবে, আগেও প্রশাসন নিরব ছিল সাধারনের জন্য, এখন ও তাই, ওরা শুধু পারে সাধারনের রক্ত ঝরাতে,আসলে ওরা কেউ বাবা মা না, ওদের কারো সন্তান নেই, যদি থাকত তাহলে অন্যের সন্তানকে গুলি করার আগে নিজের সন্তানদের চেহারা চোখের সামনে ভেসে উঠতো,তাহলে ঐ হাতে আর কোনো মায়ের বুক খালি করতে পারত না, এই দিন দেখার জন্য স্বাধীনতা ছিনিয়ে আনেনি মুক্তিযোদ্ধারা, সবাই যেন এক কাতারে
মিলে মিশে থাকতে পারে,ওরা দেশ স্বাধীন করেছে
বৈষম্যতা দূর করার জন্য, আজ খুব কষ্ট হচ্ছে আমার সন্তানদের আত্মত্যাগ দেখে, আমরা কিছুই করতে পারছি না, কোথায় আমরা স্বাধীন? কথা বলতে পারিনা, নিজের অধিকার চাইতে পারিনা, কোথায় স্বাধীনতা..এখনও আমরা পরাধীন কিছু স্বার্থান্বেষী মহলের কাছে, গুটিকয়েক মানুষ এই দেশের স্বাধীনতাকে গলা টিপে ধরে রেখেছে, তাই এখন সময় এসেছে দেশ সংস্কারের,কোটা নয় গোটা দেশটাই সংস্কারের প্রয়োজন, সমস্ত অপরাজনীতি দূর করে দুর্নীতিমুক্ত করতে হবে এই দেশ,শিক্ষাঙ্গন কে রাজনীতি মুক্ত রাখতে হবে,কোনো লীগ, দল,শিবির কিছুই থাকবে না কোনো বিদ্যাপীঠ এ, ছাত্ররা পড়াশোনা শেষ করে দেশ গঠন করবে, দেশকে উন্নতির শিখরে নিয়ে যেয়ে ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য একটা সুন্দর নিরাপদ বাসস্থান করে যাবে, এই দেশ আমাদের, আমরা কাঁধে কাধ মিলিয়ে এই দেশকে বিনির্মান করব,এখানে দালালদের কোন স্থান নেই, এটা আমাদের দেশ,বীরদের দেশ,আমাদের সন্তানদের দেশ,আমাদের সন্তানেরা অকাতরে বুকের রক্ত দিয়ে দেশমাতৃকাকে শুদ্ধ করছে, এখানে দালালদের কোনো জায়গা নেই,
“বল বীর চির উন্নত মম শির”
বিনম্র সালাম সকল শহীদদের প্রতি……




















