ফেনীতে প্রবাসীর কলোনীর ভাড়া তুলে নেওয়ার ঘটনায় তদন্তে পুলিশ
- আপডেট সময় : ১১:১৩:৪২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬
- / 0
ফেনী প্রতিনিধি :
ফেনী পৌরসভার ১১ নং ওয়ার্ডের মহিপালে চাঁদা না পেয়ে এক প্রবাসীর কলোনীর ভাড়াটিয়াদের কাছ থেকে জোরপূর্বক ভাড়ার টাকা তুলে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে কথিত যুবদল নেতা জাফর আহমদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী প্রবাসীর স্ত্রীর লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও তদন্ত শুরু করেছে ফেনী মডেল থানা পুলিশ।
গতকাল সোমবার সকালে পৌরসভার ১১ নং ওয়ার্ডের চৌধুরী বাড়ি সংলগ্ন চাড়িপুর এলাকায় সরেজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন ফেনী মডেল থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) সাইফুল ইসলাম। এর আগে এ বিষয়ে প্রবাসী রবিউল হকের স্ত্রী মনোয়ারা বেগম বাদী হয়ে ফেনী মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ফেনী পৌরসভার ১১ নং ওয়ার্ডের চাড়িপুর মৌজার মহিপাল চৌধুরী বাড়ি সংলগ্ন এলাকায় স্ত্রী মনোয়ারা বেগমের নামে ৬ দশমিক ২৫ শতক জায়গা ক্রয় করেন প্রবাসী রবিউল হক। প্রবাস জীবনের সারা জীবনের অর্জিত আয় এবং দেশে থাকা সহায়-সম্বল বিক্রি করে তিনি ২০২৩ সালে মহিপাল চৌধুরী বাড়ির কামাল পাশা প্রকাশ শাহেদ চৌধুরীর স্ত্রী ফরিদা আক্তার নিপার কাছ থেকে ১২টি সেমিপাকা রুমসহ একটি কলোনী ক্রয় করেন। ক্রয়ের পর থেকে তিনি শান্তিপূর্ণভাবে জায়গাটি ভোগদখল করে আসছিলেন এবং ভাড়া থেকে সংসার পরিচালনায় সহায়তা পাচ্ছিলেন তার স্ত্রী।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, গত কয়েকমাস মাস ধরে স্থানীয় মো. ইলিয়াসের ছেলে মো. জাফর নিজেকে নির্যাতিত যুবদল নেতা পরিচয় দিয়ে দলবল নিয়ে প্রবাসীর স্ত্রী মনোয়ারা বেগমকে নানাভাবে হয়রানি করে আসছেন। প্রথমে তিনি ওই জায়গাটি তার কাছে বিক্রি করে দেওয়ার জন্য চাপ দেন। এতে রাজি না হওয়ায় পরবর্তীতে বিভিন্ন অজুহাতে মোটা অংকের চাঁদা দাবি করতে থাকেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, দাবিকৃত চাঁদা না পেয়ে গত কয়েকদিন আগে জাফর তার সহযোগী একদল সন্ত্রাসী নিয়ে কলোনীতে প্রবেশ করেন। এ সময় ভাড়াটিয়াদের প্রাণনাশের হুমকি ও মারধরের ভয় দেখিয়ে ৯ জন ভাড়াটিয়ার কাছ থেকে আনুমানিক ২৭ হাজার টাকা ভাড়া হিসেবে জোরপূর্বক আদায় করে নিয়ে যান।
এ বিষয়ে কলোনীর ভাড়াটিয়া মো. জাফর ইকবাল বাবু বলেন, “জাফর প্রতিদিন এসে দরজা ভেঙে ফেলার চেষ্টা করে, অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও ভয় দেখায়। আমরা নিরীহ মানুষ, ভয়ে ভাড়া দিতে বাধ্য হয়েছি। আমাদের তো দোষ নেই, আমরা মনোয়ারা বেগমের কাছ থেকেই ঘর ভাড়া নিয়েছি।”
আরেক ভাড়াটিয়া জাহাঙ্গীর আলম জানান, “আমি মনোয়ারা বেগমের কাছ থেকে রুম ভাড়া নিয়েছি। কিন্তু জাফর জোরপূর্বক হুমকি ধমকি দিয়ে আমার কাছ থেকে ভাড়ার টাকা নিয়ে যায়। এখন আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, জাফরের এমন কর্মকাণ্ডে পুরো এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। বিশেষ করে প্রবাসীদের সম্পত্তি টার্গেট করে একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজি করে আসছে। রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করার প্রবণতা বেড়েছে।
এদিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শনকালে এএসআই সাইফুল ইসলাম ভাড়াটিয়াদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদেরকে মূল মালিক মনোয়ারা বেগমকেই ভাড়া পরিশোধ করার নির্দেশনা দেন। তিনি বলেন, অভিযোগ পেয়েছি, তদন্ত চলছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি, ভাড়াটিয়াদের বক্তব্য শুনেছি। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নিতে পারবে না।
এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত মো. জাফরের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
























