ঢাকা ০৭:৫১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস আজ: সচেতনতা বাড়ানোর আহ্বান, মানসিক সুস্থতায় প্রয়োজন সহমর্মিতা ও কার্যকর উদ্যোগ দিল্লিতে বিক্ষোভ ঘিরে গণগ্রেফতার হামের প্রকোপ: ২৪ ঘণ্টায় ৮ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত সহস্রাধিক ফ্লাইদুবাইয়ের ককপিটে হামলার তদন্তে আত্মঘাতী পরিকল্পনার তথ্য আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় হিফজ বিভাগে প্রথম বাংলাদেশের হিরা আহত শ্রমিকদের সন্তানদের শিক্ষার খরচ বহন করবে সরকার: শ্রমমন্ত্রী এসএসসিতে অকৃতকার্যদের ৩ মাসের মধ্যে ফের পরীক্ষার সুযোগ ভাবছে দিল্লিতে বিক্ষোভের সময় মমতা, কেজরিওয়ালসহ একাধিক নেতা আটক জামায়াত নেতার ৭০০ অটোরিকশা: প্রমাণ চাইলেন জুবায়ের ভিসা জটিলতায় ওমান যাত্রা পিছিয়ে গেল বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলের

ফ্লাইদুবাইয়ের ককপিটে হামলার তদন্তে আত্মঘাতী পরিকল্পনার তথ্য

  • আপডেট সময় : ০৬:১৯:৫৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
  • / 0
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি যাত্রীবাহী উড়োজাহাজের ককপিটে হামলার ঘটনায় তদন্তের ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। দেশটির ফেডারেল অ্যাটর্নি জেনারেল হামাদ সাইফ আল শামসির বরাত দিয়ে রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ডব্লিউএএম শনিবার (১০ অক্টোবর) জানায়, ফ্লাইদুবাইয়ের ওই ফ্লাইটের সহ-পাইলট ইচ্ছাকৃতভাবে বিমানটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ইসরায়েলের একটি বিমানবন্দরে বিধ্বস্ত করার পরিকল্পনা করেছিলেন। ২৯ বছর বয়সী ওমানি নাগরিক হাম্মাম আল-হাম্মামির বিরুদ্ধে ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের আদলে আত্মঘাতী হামলার পরিকল্পনা করার অভিযোগ আনা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি এই পরিকল্পনার দায় স্বীকার করেছেন এবং একাই কাজ করেছেন বলে দাবি করেছেন। তবে এর পেছনে অন্য কোনো যোগসূত্র আছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ৩০ সেপ্টেম্বর দুবাই থেকে তেল আবিবগামী এফজেড১০৭৩ ফ্লাইটে এই ঘটনা ঘটে। উড়োজাহাজটিতে ১৭৪ জন যাত্রী ছিলেন, যাদের বড় একটি অংশ ইসরায়েলি নাগরিক। উড্ডয়নকালে সহ-পাইলট জরুরি কুঠার ব্যবহার করে ক্যাপ্টেনকে গুরুতর আহত করেন। সে সময় অপর পাইলট, কেবিন ক্রু এবং উপস্থিত যাত্রীরা সম্মিলিতভাবে ওই হামলাকারীকে প্রতিহত করেন। তাদের বিচক্ষণতায় বড় ধরনের বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয় এবং উড়োজাহাজটি সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে নিরাপদে জরুরি অবতরণ করে। অভিযোগ অনুযায়ী, উড্ডয়নের সময় সহ-পাইলট একটি জরুরি কুঠার দিয়ে ক্যাপ্টেনের ওপর হামলা চালান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অপর পাইলট, কেবিন ক্রু এবং কয়েকজন যাত্রী একসঙ্গে সন্দেহভাজনকে কাবু করেন।

হামলার আগে সন্দেহভাজন দুইবার ইসরায়েল ভ্রমণ করেছিলেন, যাতে তিনি উড্ডয়নপথ ও বেন গুরিয়ন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সম্পর্কে ধারণা নিতে পারেন। ২০১৭ সালে অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে পড়াশোনাকালে তিনি চরমপন্থী মতাদর্শে উদ্বুদ্ধ হন বলে তদন্তে উঠে এসেছে। তবে ফ্লাইদুবাইয়ের নিজস্ব নিয়োগ বা নিরাপত্তা যাচাই প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের অনিয়ম পাওয়া যায়নি। ২০১৭ সালে অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে পড়াশোনার সময় তিনি চরমপন্থী মতাদর্শের সংস্পর্শে এসেছিলেন বলেও তদন্তে উঠে এসেছে।

ঘটনার পর ফ্লাইদুবাই কর্তৃপক্ষ ইসরায়েলে তাদের সব ধরনের ফ্লাইট পরিচালনা অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত ঘোষণা করেছে। একই সঙ্গে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দেশটিতে চলাচলকারী বিদেশি এয়ারলাইনসগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুনরায় কঠোরভাবে পর্যালোচনার নির্দেশ দিয়েছেন। এই ঘটনা উড়োজাহাজের ককপিট নিরাপত্তা এবং আকাশপথে যাত্রীদের সুরক্ষা নিয়ে নতুন করে আন্তর্জাতিক উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। মামলার পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া এখনো চলমান রয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ফ্লাইদুবাইয়ের ককপিটে হামলার তদন্তে আত্মঘাতী পরিকল্পনার তথ্য

আপডেট সময় : ০৬:১৯:৫৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬

সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি যাত্রীবাহী উড়োজাহাজের ককপিটে হামলার ঘটনায় তদন্তের ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। দেশটির ফেডারেল অ্যাটর্নি জেনারেল হামাদ সাইফ আল শামসির বরাত দিয়ে রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ডব্লিউএএম শনিবার (১০ অক্টোবর) জানায়, ফ্লাইদুবাইয়ের ওই ফ্লাইটের সহ-পাইলট ইচ্ছাকৃতভাবে বিমানটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ইসরায়েলের একটি বিমানবন্দরে বিধ্বস্ত করার পরিকল্পনা করেছিলেন। ২৯ বছর বয়সী ওমানি নাগরিক হাম্মাম আল-হাম্মামির বিরুদ্ধে ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের আদলে আত্মঘাতী হামলার পরিকল্পনা করার অভিযোগ আনা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি এই পরিকল্পনার দায় স্বীকার করেছেন এবং একাই কাজ করেছেন বলে দাবি করেছেন। তবে এর পেছনে অন্য কোনো যোগসূত্র আছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ৩০ সেপ্টেম্বর দুবাই থেকে তেল আবিবগামী এফজেড১০৭৩ ফ্লাইটে এই ঘটনা ঘটে। উড়োজাহাজটিতে ১৭৪ জন যাত্রী ছিলেন, যাদের বড় একটি অংশ ইসরায়েলি নাগরিক। উড্ডয়নকালে সহ-পাইলট জরুরি কুঠার ব্যবহার করে ক্যাপ্টেনকে গুরুতর আহত করেন। সে সময় অপর পাইলট, কেবিন ক্রু এবং উপস্থিত যাত্রীরা সম্মিলিতভাবে ওই হামলাকারীকে প্রতিহত করেন। তাদের বিচক্ষণতায় বড় ধরনের বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয় এবং উড়োজাহাজটি সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে নিরাপদে জরুরি অবতরণ করে। অভিযোগ অনুযায়ী, উড্ডয়নের সময় সহ-পাইলট একটি জরুরি কুঠার দিয়ে ক্যাপ্টেনের ওপর হামলা চালান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অপর পাইলট, কেবিন ক্রু এবং কয়েকজন যাত্রী একসঙ্গে সন্দেহভাজনকে কাবু করেন।

হামলার আগে সন্দেহভাজন দুইবার ইসরায়েল ভ্রমণ করেছিলেন, যাতে তিনি উড্ডয়নপথ ও বেন গুরিয়ন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সম্পর্কে ধারণা নিতে পারেন। ২০১৭ সালে অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে পড়াশোনাকালে তিনি চরমপন্থী মতাদর্শে উদ্বুদ্ধ হন বলে তদন্তে উঠে এসেছে। তবে ফ্লাইদুবাইয়ের নিজস্ব নিয়োগ বা নিরাপত্তা যাচাই প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের অনিয়ম পাওয়া যায়নি। ২০১৭ সালে অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে পড়াশোনার সময় তিনি চরমপন্থী মতাদর্শের সংস্পর্শে এসেছিলেন বলেও তদন্তে উঠে এসেছে।

ঘটনার পর ফ্লাইদুবাই কর্তৃপক্ষ ইসরায়েলে তাদের সব ধরনের ফ্লাইট পরিচালনা অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত ঘোষণা করেছে। একই সঙ্গে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দেশটিতে চলাচলকারী বিদেশি এয়ারলাইনসগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুনরায় কঠোরভাবে পর্যালোচনার নির্দেশ দিয়েছেন। এই ঘটনা উড়োজাহাজের ককপিট নিরাপত্তা এবং আকাশপথে যাত্রীদের সুরক্ষা নিয়ে নতুন করে আন্তর্জাতিক উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। মামলার পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া এখনো চলমান রয়েছে।