বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী সিলিকন ভ্যালির শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান
- আপডেট সময় : ০৮:০১:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬
- / 1
বাংলাদেশের প্রযুক্তি খাতের আধুনিকায়ন এবং উদ্ভাবনী সক্ষমতা বৃদ্ধিতে যুক্তরাষ্ট্রের সিলিকন ভ্যালির শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেছে। গত ৮ অক্টোবর বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম এ তথ্য জানান। তিনি উল্লেখ করেন যে, সম্প্রতি সিলিকন ভ্যালি সফরকালে গুগল, মেটা, সিসকো, এনভিডিয়া এবং অ্যাপলের মতো জায়ান্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিদের সাথে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। এই ধারাবাহিকতায় একটি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সাথে সমঝোতার ভিত্তিতে বাংলাদেশে অফিস স্থাপনের প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।
প্রযুক্তি খাতে এই সহযোগিতার মূল ক্ষেত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-নির্ভর ডেটা সেন্টার স্থাপন। প্রতিমন্ত্রী জানান, একাধিক প্রতিষ্ঠানের সাথে এ বিষয়ে আলোচনা চলমান রয়েছে, যা বাংলাদেশের ডিজিটাল অবকাঠামোকে শক্তিশালী করবে। এছাড়া, শিক্ষাক্ষেত্রে প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ওপর ভিত্তি করে আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও এই প্রতিষ্ঠানগুলো সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে। সরকারি লক্ষ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশকে একটি ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তরের জন্য আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি সহযোগিতার কোনো বিকল্প নেই বলে তিনি মনে করেন।
প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের পাশাপাশি দেশে বড় প্রযুক্তি অবকাঠামো নির্মাণে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। তবে যেকোনো প্রকল্প গ্রহণের ক্ষেত্রে অবকাঠামো, পরিবেশগত প্রভাব, জলবায়ু পরিবর্তন এবং জনস্বার্থের মতো বিষয়গুলোকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খ গবেষণা ও যাচাই-বাছাই করা হবে। কেবল প্রযুক্তিগত উন্নয়নই নয়, বরং দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করাই সরকারের মূল লক্ষ্য।
বর্তমানে বিশ্বজুড়ে চলমান জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকটের প্রভাব বাংলাদেশেও পড়েছে বলে স্বীকার করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, জ্বালানি সংকট মোকাবেলার পাশাপাশি দেশের শিল্পায়ন, বাণিজ্য ও প্রযুক্তি খাতের কর্মপ্রবাহ সচল রাখতে সরকার সমন্বিতভাবে কাজ করছে। বিভিন্ন উৎস থেকে জ্বালানি সরবরাহ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে জনগণের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি উন্নয়ন কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই বাধাগ্রস্ত না হয়। এ ধরনের সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা অর্জন সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।























