বিচারক হওয়ার স্বপ্ন পূরণে অদম্য পথচলা জয়পুরহাটের বিউটির
- আপডেট সময় : ০২:১৬:৫২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬
- / 0
জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার আলমপুর ইউনিয়নের শিবপুর গ্রামের বাসিন্দা বিউটি খাতুন। দরিদ্র কৃষক বাবা বায়েজিদ হোসেন ও মা রহিমা খাতুনের দুই সন্তানের মধ্যে তিনি ছোট। পরিবারের বড় ছেলে বগুড়ার সরকারি আজিজুল হক কলেজ থেকে হিসাববিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর করেছেন। বিউটির জন্মের পর দুটি হাত না থাকায় তার ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছিলেন বাবা-মা। পড়াশোনা কিংবা দৈনন্দিন কাজ তিনি কীভাবে সামলাবেন—সেই অনিশ্চয়তা তাদের ঘিরে ধরেছিল। তবে বিউটি ছোটবেলা থেকেই পা দিয়ে লেখার অভ্যাস গড়ে তোলেন এবং নিজের সীমাবদ্ধতাকে জয় করে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার পথ বেছে নেন। একসময় পা-ই হয়ে ওঠে তার লেখাপড়ার প্রধান অবলম্বন।
প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে শিক্ষাজীবনের প্রতিটি ধাপ সফলভাবে পার করেছেন বিউটি খাতুন। প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী ও জেএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়ার পাশাপাশি বৃত্তি লাভ করেন তিনি। এরপর ২০১৭ সালে আখলাশ শিবপুর শ্যামপুর উচ্চবিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জন করেন। ২০১৯ সালে বগুড়ার দুপচাঁচিয়া মহিলা ডিগ্রি কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগেই এইচএসসি পাস করেন তিনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের গণ্ডি পেরিয়ে ২০২৬ সালের অক্টোবরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। তার এই অর্জনের পেছনে রয়েছে অদম্য অধ্যবসায় আর প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের দীর্ঘ গল্প।
নিজের শিক্ষাজীবনের অভিজ্ঞতা নিয়ে বিউটি খাতুন জানান, শৈশব থেকেই তাকে নানা প্রতিবন্ধকতার পাশাপাশি সমাজের অনেকের কটু কথা শুনতে হয়েছে। তবে এসব কথায় ভেঙে না পড়ে তিনি নিজের লক্ষ্যে স্থির ছিলেন। অন্যের দয়া বা করুণার ওপর নির্ভর না করে নিজের মেধা ও যোগ্যতায় প্রতিষ্ঠিত হতে চান তিনি। বর্তমান লক্ষ্য হলো বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিসের (বিজেএস) পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া। আইন বিষয়ে অর্জিত জ্ঞান কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যতে বিচারকের আসনে বসে মানুষের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে চান এই অদম্য তরুণী।
বিউটির বাবা বায়েজিদ হোসেন তার মেয়ের সাফল্যে গর্বিত। তিনি বলেন, মেয়ে যখন হাত ছাড়াই জন্ম নিয়েছিল, তখন সে পড়াশোনা করতে পারবে এমনটা ভাবতেও পারেননি। তার একমাত্র উদ্বেগ ছিল বিউটি নিজে একা প্রয়োজনীয় কাজ সামলাতে পারবে কি না। আজ মেয়ের সাফল্যে সেই সব দুশ্চিন্তা দূর হয়েছে। এই অর্জনে বিউটি তার পরিবার এবং সমাজের জন্য এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন বলে মনে করেন স্থানীয়রা।
আখলাশ শিবপুর শ্যামপুর উচ্চবিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক একরামুল ইসলাম উজ্জ্বল বলেন, বিউটির অর্জন শুধু তার পরিবারের নয়, পুরো সমাজের জন্য বড় অনুপ্রেরণা। তার শারীরিক সীমাবদ্ধতা সাফল্যের পথে যে বাধা হতে পারে না, বিউটি তা প্রমাণ করেছেন। শিক্ষাজীবনের নানা পর্যায়ে পরিবার, সমাজের বিত্তবান ও শিক্ষানুরাগীদের কাছ থেকেও তিনি সহযোগিতা পেয়েছেন। বর্তমানে বিজেএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া তার জীবনের নতুন চ্যালেঞ্জ এবং নিজের জীবনের প্রতিকূলতা জয় করে তিনি অন্যের জন্য ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।





















