ঢাকা ১০:৪২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
নেতানিয়াহুর চেয়ে জনপ্রিয় জোহরান মামদানি, বলছে জিবিএওর জরিপ ইরানের ওপর নতুন সামরিক পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ভুটানকে হারিয়ে জয় দিয়ে সাফ মিশন শুরু বাংলাদেশের সাঁথিয়ায় ভাগ্নিকে নিরাপত্তা ঘটনায়: মামা আটক ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’-এর দ্বিতীয় আসর উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী রিয়াদ বিমানবন্দরে হুতি হামলায় আহত আরও এক ভারতীয়র প্রয়াণ ষড়যন্ত্রের ফণা তুলেছে স্বৈরাচারী শক্তি: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান খুলনায় ২৫ মাসে ২২৫ মৃত্যুর ঘটনা: অপরাধের স্বর্গরাজ্যে আতঙ্কিত জনজীবন শাহজালাল তৃতীয় টার্মিনাল পরিচালনায় জাপানি কনসোর্টিয়ামের বড় অংশীদারত্ব খুলনায় প্রধানমন্ত্রীর সফরের মধ্যে বিএনপি নেতার ছেলেকে মৃত্যুর ঘটনায়

বিমানবন্দর ও দেশের সামগ্রিক প্রশাসনিক ব্যবস্থার আমূল সংস্কার প্রয়োজন

  • আপডেট সময় : ১২:৪৪:২৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
  • / 15
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে লাগেজ পেতে দীর্ঘসূত্রতা, ট্রলির সংকট এবং যাত্রীসেবা নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ নতুন নয়। এই অব্যবস্থাপনা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে জোরালো প্রতিবাদ ও সমালোচনা চলছে। তবে সমালোচকদের একাংশ মনে করেন, বিমানবন্দরের দুর্বলতা নিয়ে সরব হলেও দেশের অন্যান্য সরকারি প্রতিষ্ঠানের অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতিকে উপেক্ষা করা যুক্তিসংগত নয়। বিমানবন্দরকে সাধারণত দেশের দর্পণ বলা হয়, কারণ বিদেশি পর্যটকদের কাছে এটিই দেশের প্রথম পরিচিতি তুলে ধরে। কিন্তু এই দর্পণকে ঝকঝকে করতে হলে দেশের সামগ্রিক প্রশাসনিক কাঠামো ও সেবার মানোন্নয়ন অনিবার্য।

ঢাকার যানজটপূর্ণ সড়ক, গণপরিবহনের বিশৃঙ্খলা এবং যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামার দৃশ্য আমাদের নগর ব্যবস্থাপনার দৈন্যদশা তুলে ধরে। এছাড়া সরকারি হাসপাতালে দীর্ঘ প্রতীক্ষা, চিকিৎসায় অবহেলা, ভূমি অফিস বা আদালতের জটিল প্রক্রিয়ায় সাধারণ মানুষের হয়রানি নিত্যদিনের ঘটনা। এসব ক্ষেত্রে জবাবদিহি ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা সমান গুরুত্বপূর্ণ। দেশের সামগ্রিক ব্যবস্থার উন্নতি না করে কেবল বিমানবন্দরকে আদর্শ প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের প্রত্যাশা বাস্তবসম্মত নয়।

বিমানবন্দরের কাজের ক্ষেত্রগুলো বিভাজিত। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ বিমানবন্দরের অবকাঠামো ও নিরাপত্তা তদারকি করে, অন্যদিকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস নিজস্ব ফ্লাইটের পাশাপাশি অন্যান্য সংস্থার জন্য গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সেবা দেয়। তাই লাগেজ ব্যবস্থাপনা বা সেবার অবনতির ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের দায়বদ্ধতা যাচাই করা জরুরি। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া লাগেজ চুরির ভিডিও নিয়ে সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন। কিছু ক্ষেত্রে ভিডিও সম্পাদিত বা বিভ্রান্তিকর হতে পারে, তাই নিরপেক্ষ তদন্ত ছাড়া কাউকে দোষী সাব্যস্ত করা অনুচিত।

যাত্রীসেবা বাড়াতে শুধু ট্রলি বাড়ানো বা দু-একজন কর্মীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া সাময়িক সমাধান হতে পারে। প্রকৃত পরিবর্তনের জন্য চাই দক্ষ ব্যবস্থাপনা, স্বচ্ছতা ও ধারাবাহিক তদারকি। রাজনৈতিক নেতাদেরও উচিত সমালোচনার ক্ষেত্রে শালীনতা বজায় রাখা। বিমানবন্দরের কার্যকর উন্নয়নে দেশের অন্যান্য খাতের মতো এখানেও স্বচ্ছ জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। কারণ বিমানবন্দর কেবল একটি প্রতিচ্ছবি মাত্র, আর বাস্তবতার পরিবর্তন ঘটাতে হলে পুরো প্রশাসনিক ব্যবস্থা সংস্কারের কোনো বিকল্প নেই।

নিউজটি শেয়ার করুন

বিমানবন্দর ও দেশের সামগ্রিক প্রশাসনিক ব্যবস্থার আমূল সংস্কার প্রয়োজন

আপডেট সময় : ১২:৪৪:২৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে লাগেজ পেতে দীর্ঘসূত্রতা, ট্রলির সংকট এবং যাত্রীসেবা নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ নতুন নয়। এই অব্যবস্থাপনা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে জোরালো প্রতিবাদ ও সমালোচনা চলছে। তবে সমালোচকদের একাংশ মনে করেন, বিমানবন্দরের দুর্বলতা নিয়ে সরব হলেও দেশের অন্যান্য সরকারি প্রতিষ্ঠানের অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতিকে উপেক্ষা করা যুক্তিসংগত নয়। বিমানবন্দরকে সাধারণত দেশের দর্পণ বলা হয়, কারণ বিদেশি পর্যটকদের কাছে এটিই দেশের প্রথম পরিচিতি তুলে ধরে। কিন্তু এই দর্পণকে ঝকঝকে করতে হলে দেশের সামগ্রিক প্রশাসনিক কাঠামো ও সেবার মানোন্নয়ন অনিবার্য।

ঢাকার যানজটপূর্ণ সড়ক, গণপরিবহনের বিশৃঙ্খলা এবং যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামার দৃশ্য আমাদের নগর ব্যবস্থাপনার দৈন্যদশা তুলে ধরে। এছাড়া সরকারি হাসপাতালে দীর্ঘ প্রতীক্ষা, চিকিৎসায় অবহেলা, ভূমি অফিস বা আদালতের জটিল প্রক্রিয়ায় সাধারণ মানুষের হয়রানি নিত্যদিনের ঘটনা। এসব ক্ষেত্রে জবাবদিহি ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা সমান গুরুত্বপূর্ণ। দেশের সামগ্রিক ব্যবস্থার উন্নতি না করে কেবল বিমানবন্দরকে আদর্শ প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের প্রত্যাশা বাস্তবসম্মত নয়।

বিমানবন্দরের কাজের ক্ষেত্রগুলো বিভাজিত। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ বিমানবন্দরের অবকাঠামো ও নিরাপত্তা তদারকি করে, অন্যদিকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস নিজস্ব ফ্লাইটের পাশাপাশি অন্যান্য সংস্থার জন্য গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সেবা দেয়। তাই লাগেজ ব্যবস্থাপনা বা সেবার অবনতির ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের দায়বদ্ধতা যাচাই করা জরুরি। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া লাগেজ চুরির ভিডিও নিয়ে সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন। কিছু ক্ষেত্রে ভিডিও সম্পাদিত বা বিভ্রান্তিকর হতে পারে, তাই নিরপেক্ষ তদন্ত ছাড়া কাউকে দোষী সাব্যস্ত করা অনুচিত।

যাত্রীসেবা বাড়াতে শুধু ট্রলি বাড়ানো বা দু-একজন কর্মীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া সাময়িক সমাধান হতে পারে। প্রকৃত পরিবর্তনের জন্য চাই দক্ষ ব্যবস্থাপনা, স্বচ্ছতা ও ধারাবাহিক তদারকি। রাজনৈতিক নেতাদেরও উচিত সমালোচনার ক্ষেত্রে শালীনতা বজায় রাখা। বিমানবন্দরের কার্যকর উন্নয়নে দেশের অন্যান্য খাতের মতো এখানেও স্বচ্ছ জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। কারণ বিমানবন্দর কেবল একটি প্রতিচ্ছবি মাত্র, আর বাস্তবতার পরিবর্তন ঘটাতে হলে পুরো প্রশাসনিক ব্যবস্থা সংস্কারের কোনো বিকল্প নেই।