ঢাকা ১১:৪৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বেতন বকেয়া রেখেই খুলনায় ৩০ কর্মীকে অব্যাহতি খুলনায় বকেয়া নিয়ে বিরোধে তাঁতী দল নেতাকে হামলা ও মৃত্যু শাহজালাল বিমানবন্দরে হট্টগোলের মামলায় জামিন পেলেন অবসরপ্রাপ্ত মেজর আখতারুজ্জামান ছেলের এইচএসসি পাসের পর পদ হারালেন চুয়াডাঙ্গা ছাত্রদল সভাপতি নড়াইলের লোহাগড়ায় জাতীয় যুব দিবস পালিত: ঋণের চেক ও চারা বিতরণ ট্রাম্পের হুমকির জবাবে কঠোর পাল্টা আঘাতের নির্দেশ খামেনির নিয়োগের নামে ভুয়া গুগল ফরম, দেশবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান বিমানের ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে নেতানিয়াহুর চেয়ে এগিয়ে আইজেনকোট লালমোহনে দৈনিক বাংলাদেশ বাণীর দ্বিতীয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত তাহসিফ সাউরি মামলা: জেরিকা দিশার চার দিনের রিমান্ড

বেতন বকেয়া রেখেই খুলনায় ৩০ কর্মীকে অব্যাহতি

  • আপডেট সময় : ১১:৪২:৪২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
  • / 0
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

খুলনার কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত ৩০ জন আউটসোর্সিং কর্মীকে একযোগে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘ ১৫ মাস ধরে তাদের বেতন-ভাতা বকেয়া রাখা হয়েছে। বেতন পরিশোধের দাবি জানানো সত্ত্বেও কোনো সুরাহা মেলেনি, উল্টো তাদের অব্যাহতি দেওয়ায় জনমনে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।

অব্যাহতিপ্রাপ্ত কর্মীদের দাবি, গত ১৫ মাস ধরে তারা বেতন থেকে বঞ্চিত। এই দীর্ঘ সময়ে পরিবার নিয়ে তারা চরম আর্থিক অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন। কর্মীদের অভিযোগ, এরই মধ্যে এক বছরের বকেয়া বেতনের অর্থ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের হিসাবে জমা হয়ে গেছে, কেবল ছাড় পাওয়ার অপেক্ষায় ছিল। কিন্তু এমন পরিস্থিতিতে তাদের চাকরিচ্যুত করা অত্যন্ত অমানবিক। তাঁদের এক বছরের বেতন – ভাতার অর্থ ইতিমধ্যে আইবাসে (iBAS) এসেছে।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স তাকদির এন্টারপ্রাইজের মালিক ইখতিয়ার উদ্দিন দাবি করেন, চুক্তির শর্ত অনুযায়ী নতুন দরপত্র না হওয়া পর্যন্ত পুরোনো কর্মীদের দায়িত্ব পালনের কথা ছিল। বর্তমান সিভিল সার্জন সেই চুক্তি উপেক্ষা করেছেন। তিনি সরাসরি অভিযোগ করেছেন যে, ঘুষ পাওয়ার উদ্দেশ্যেই সিভিল সার্জন ডা. মো. মনিরুজ্জামান এই কর্মীদের ছাঁটাইয়ের নির্দেশনা দিয়েছেন। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সিভিল সার্জন ডা। মনিরুজ্জামান বলেন, ঠিকাদারের সঙ্গে আমার এখনো কথা হয়নি।

তবে সিভিল সার্জন ডা. মো. মনিরুজ্জামান এই অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ঘুষ চাওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। গত ২৬ অক্টোবর তার স্বাক্ষরিত একটি চিঠির মাধ্যমে জেলার বিভিন্ন স্বাস্থ্যপ্রতিষ্ঠানের আউটসোর্সিং কর্মীদের অব্যাহতি দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। চিঠিতে উল্লেখ ছিল, নিয়মিত বেতন পরিশোধের শর্ত পালনে ব্যর্থতায় এবং রাজস্ব খাতের কর্মীদের দিয়ে সেবা কার্যক্রম চালানোর উদ্দেশ্যে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, দ্রুতই তাদের পুনর্বহালের প্রক্রিয়া শুরু হবে।

হাসপাতালের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রেজাউল করিম জানিয়েছেন, সিভিল সার্জনের নির্দেশ মেনেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তিনি স্বীকার করেছেন যে, একসঙ্গে ৩০ জন কর্মীকে ছাঁটাই করায় হাসপাতালের নিয়মিত সেবাকার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ওয়ার্ড ও বারান্দায় ময়লা-আবর্জনা জমে পরিবেশ অস্বাস্থ্যকর হয়ে পড়েছে এবং রোগীরা দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। পরিবেশ এতটাই অস্বাস্থ্যকর হয়ে উঠেছে যে রোগীদের কেউ কেউ কাপড় দিয়ে নাক ঢেকে রাখতে বাধ্য হচ্ছেন।

এরই মধ্যে বকেয়া বেতন পরিশোধ ও চাকরিতে পুনর্বহালের দাবিতে গত রোববার (১ নভেম্বর) উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান ফটকের সামনে কর্মীরা অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। কর্মসূচিতে মো. মাহাবুবুর রহমান, মো. মাসুদুর রহমান, মো. আফজাল হোসেন, আবদুর রউফ, মো. আহম্মেদ মোস্তজা, আনিসুজ্জামান টুটুল, আবদুল কাদের ও মো. আশিকুর রহমানসহ ক্ষতিগ্রস্ত কর্মীরা অংশগ্রহণ করেন।

কর্মীরা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, বেতন না পাওয়ার দায়ভার কোনোভাবেই তাদের নয়। দীর্ঘ সময় ধরে হাসপাতালের বিভিন্ন দায়িত্ব সততার সঙ্গে পালন করার পরও পরিবার নিয়ে তাদের যে বিপর্যয়ে ফেলা হয়েছে, তার দ্রুত নিরসন প্রয়োজন। তারা অবিলম্বে পুনর্বহাল এবং পাওনা বকেয়া বেতন পরিশোধের জোর দাবি জানিয়েছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

বেতন বকেয়া রেখেই খুলনায় ৩০ কর্মীকে অব্যাহতি

আপডেট সময় : ১১:৪২:৪২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬

খুলনার কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত ৩০ জন আউটসোর্সিং কর্মীকে একযোগে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘ ১৫ মাস ধরে তাদের বেতন-ভাতা বকেয়া রাখা হয়েছে। বেতন পরিশোধের দাবি জানানো সত্ত্বেও কোনো সুরাহা মেলেনি, উল্টো তাদের অব্যাহতি দেওয়ায় জনমনে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।

অব্যাহতিপ্রাপ্ত কর্মীদের দাবি, গত ১৫ মাস ধরে তারা বেতন থেকে বঞ্চিত। এই দীর্ঘ সময়ে পরিবার নিয়ে তারা চরম আর্থিক অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন। কর্মীদের অভিযোগ, এরই মধ্যে এক বছরের বকেয়া বেতনের অর্থ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের হিসাবে জমা হয়ে গেছে, কেবল ছাড় পাওয়ার অপেক্ষায় ছিল। কিন্তু এমন পরিস্থিতিতে তাদের চাকরিচ্যুত করা অত্যন্ত অমানবিক। তাঁদের এক বছরের বেতন – ভাতার অর্থ ইতিমধ্যে আইবাসে (iBAS) এসেছে।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স তাকদির এন্টারপ্রাইজের মালিক ইখতিয়ার উদ্দিন দাবি করেন, চুক্তির শর্ত অনুযায়ী নতুন দরপত্র না হওয়া পর্যন্ত পুরোনো কর্মীদের দায়িত্ব পালনের কথা ছিল। বর্তমান সিভিল সার্জন সেই চুক্তি উপেক্ষা করেছেন। তিনি সরাসরি অভিযোগ করেছেন যে, ঘুষ পাওয়ার উদ্দেশ্যেই সিভিল সার্জন ডা. মো. মনিরুজ্জামান এই কর্মীদের ছাঁটাইয়ের নির্দেশনা দিয়েছেন। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সিভিল সার্জন ডা। মনিরুজ্জামান বলেন, ঠিকাদারের সঙ্গে আমার এখনো কথা হয়নি।

তবে সিভিল সার্জন ডা. মো. মনিরুজ্জামান এই অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ঘুষ চাওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। গত ২৬ অক্টোবর তার স্বাক্ষরিত একটি চিঠির মাধ্যমে জেলার বিভিন্ন স্বাস্থ্যপ্রতিষ্ঠানের আউটসোর্সিং কর্মীদের অব্যাহতি দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। চিঠিতে উল্লেখ ছিল, নিয়মিত বেতন পরিশোধের শর্ত পালনে ব্যর্থতায় এবং রাজস্ব খাতের কর্মীদের দিয়ে সেবা কার্যক্রম চালানোর উদ্দেশ্যে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, দ্রুতই তাদের পুনর্বহালের প্রক্রিয়া শুরু হবে।

হাসপাতালের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রেজাউল করিম জানিয়েছেন, সিভিল সার্জনের নির্দেশ মেনেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তিনি স্বীকার করেছেন যে, একসঙ্গে ৩০ জন কর্মীকে ছাঁটাই করায় হাসপাতালের নিয়মিত সেবাকার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ওয়ার্ড ও বারান্দায় ময়লা-আবর্জনা জমে পরিবেশ অস্বাস্থ্যকর হয়ে পড়েছে এবং রোগীরা দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। পরিবেশ এতটাই অস্বাস্থ্যকর হয়ে উঠেছে যে রোগীদের কেউ কেউ কাপড় দিয়ে নাক ঢেকে রাখতে বাধ্য হচ্ছেন।

এরই মধ্যে বকেয়া বেতন পরিশোধ ও চাকরিতে পুনর্বহালের দাবিতে গত রোববার (১ নভেম্বর) উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান ফটকের সামনে কর্মীরা অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। কর্মসূচিতে মো. মাহাবুবুর রহমান, মো. মাসুদুর রহমান, মো. আফজাল হোসেন, আবদুর রউফ, মো. আহম্মেদ মোস্তজা, আনিসুজ্জামান টুটুল, আবদুল কাদের ও মো. আশিকুর রহমানসহ ক্ষতিগ্রস্ত কর্মীরা অংশগ্রহণ করেন।

কর্মীরা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, বেতন না পাওয়ার দায়ভার কোনোভাবেই তাদের নয়। দীর্ঘ সময় ধরে হাসপাতালের বিভিন্ন দায়িত্ব সততার সঙ্গে পালন করার পরও পরিবার নিয়ে তাদের যে বিপর্যয়ে ফেলা হয়েছে, তার দ্রুত নিরসন প্রয়োজন। তারা অবিলম্বে পুনর্বহাল এবং পাওনা বকেয়া বেতন পরিশোধের জোর দাবি জানিয়েছেন।