ঢাকা ০১:২২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬, ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
জাপানে ভারী বৃষ্টিতে ৫ জনের মৃত্যু পরমাণু অস্ত্র ঠেকানো নয়, তেলের দাম কম রাখাই এখন প্রধান লক্ষ্য : জেডি ভ্যান্স ১০ কোটি ভিউ পার করলো ইমরান-পড়শীর ‘জনম জনম’ যুক্তরাষ্ট্র-দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক মহড়ার আগে নতুন প্রতিরোধ হুঁশিয়ারি উত্তর কোরিয়ার নিউজিল্যান্ডের গোয়েন্দা সংস্থার গোয়েন্দাগিরির অভিযোগ ‘ভিত্তিহীন’ : চীন ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নয়, যুদ্ধে তেলের দাম কমানোই এখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান লক্ষ্য প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে সেঞ্চুরি তানজিদের বেগম খালেদা জিয়া : গৃহবধূ থেকে আপসহীন নেত্রী মুরাদনগরে দুই দিনব্যাপী ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পের উদ্বোধন দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বাড়াতে বাংলাদেশ ও কসোভোর মধ্যে এফটিএ নিয়ে আলোচনা

ভোলায় ঘূর্ণিঝড় ও বৃষ্টিতে ১০৫০ হেক্টর জমির আলু ক্ষতিগ্রস্ত

  • আপডেট সময় : ০৩:৩২:৩৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ মার্চ ২০১৭
  • / 307
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ভোলা প্রতিনিধি॥

ভোলায় টানা চারদিন বৃষ্টিতে ভোলা সদর ও চরফ্যাশন উপজেলায় প্রায় ১ হাজার ৫০ হেক্টর জমির আলু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ভোলা সদরে ৩০ হেক্টর এবং চরফ্যাশনে ১ হাজার হেক্টর রয়েছে। এতে লোকসানের মুখে পড়েছেন চাষিরা।
ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর মধ্যে জেলা সদরের রাজাপুর ও ইলিশা ইউনিয়নে ৩০ হেক্টর জমির অন্তত ৫শ’ টন আলু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অন্যদিকে চরফ্যাশন উপজেলার রসুলপুর, এওয়াজপুর,নীলকমল, নুরাবাদ, আবু বকরপুর, ওসমানগঞ্জ, আমিনাবাদ, আলসলামপুর, কলমী, নজরুল নগর ও মুজিবনগরে ১ হাজার ২০ হেক্টর।

চাষিরা জানান, মৌসুমের প্রথম বৃষ্টিতে ১৩টি  ইউনিয়নের চাষিদের স্বপ্ন ভঙ্গ হয়ে গেছে। কৃষি বিভাগ কৃষকদের দ্রুত আলু উত্তোলনের পরামর্শ দিয়েছে।

চরফ্যাশন উপজেলা কৃষি অফিস সূত্র জানায়, এ বছর উপজেলায় ৩ হাজার ৮২৫ হেক্টর জমিতে আলু আবাদ হয়েছিল। এর মধ্যে কয়েকদিনে ৮শ’ হেক্টর জমির আলু উত্তোলন করা হয়েছে। বাকি আলু উত্তোলন করার আগেই বৃষ্টি শুরু হয়। এতে এক হাজার হেক্টর জমির আলু নষ্ট হতে পারে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মনোতোষ সিকদার জানান, চাষিদের দ্রুত আলু উত্তোলনের জন্য পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আলু তোলার পর রোদে শুকিয়ে ছত্রাকনাশক দিতে বলা হয়েছে।

ভোলা জেলা সদর কৃষি অফিস জানায়, এ বছর সদর উপজেলার ১২শ’ হেক্টর জমিতে আলুর আবাদ হয়েছে। কয়েকদিনে প্রায় এক হাজার হেক্টর জমির আলু তোলা হয়ে গেছে। বাকী ২শ’ হেক্টরের আলু বৃষ্টিতে ভিজে গেছে।  এতে ক্ষত্রিগ্রস্ত হয়েছে ২৫/৩০ হেক্টরের আলু।

জেলায় উপযোগী আবহাওয়ায় প্রতি হেক্টর জমিতে ২৫ টন আলু উৎপাদন হয়। সে হিসেবে টাকার অংকে প্রায় ৪/৫ লাখ টাকার আলু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে কৃষি অফিস সূত্র জানায়।ইলিশা ইউনিয়নের আলু চাষি নুরে আলম জানান, এ বছর তিনি ১০ একর জমিতে আলু চাষ করেছেন। এর মধ্যে ভাইরাসে ৫ একর জমির আলু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ৩ একর জমির আলু বিক্রি করলেও বাকী ২ একরের আলু এখনও উত্তেলন করা হয়নি। চার দিনের টানা বৃষ্টিতে এক একর আলু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যা টাকার অংকে প্রায় ২ লাখ টাকা।

চর আনন্দ গ্রামের চাষি সিরাজ ও রহিম বলেন, এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে আলু আবাদ করেছি, কিছু জমির আলু বাজারে বিক্রি করলেও বৃষ্টিতে খেতের অনেক আলু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

আলু চাষিরা জানান, দাম ওঠা নামার কথা বিবেচনা করেই আলু উত্তোলন করা হয়। অনেকেই বাজারদাম ভালো পাওয়ার আশায়  খেত থেকে আলু তোলেননি। কিন্তু তিনদিনের বৃষ্টিতে আলু নষ্ট হয়ে গেছে।
এ মৌসুমে পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি আলু বিক্রি হচ্ছে ১০ টাকা দরে এবং খুচরা বাজারে ১২ থেকে ১৫ টাকা। প্রতি বছরই জেলার উৎপাদিত আলু বিভিন্ন জেলায় বিক্রি হয়ে আসছে।

ভোলা সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. রিয়াজ উদ্দিন বলেন, সদরের বেশিরভাগ আলু খেত থেকে তোলা হয়েছে।কয়েকদিনের  বৃষ্টিতে ২শ’ হেক্টর আলু আক্রান্ত হলেও তার মধ্যে ২০ হেক্টরের আলু বেশি ক্ষতি হতে পারে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

ভোলায় ঘূর্ণিঝড় ও বৃষ্টিতে ১০৫০ হেক্টর জমির আলু ক্ষতিগ্রস্ত

আপডেট সময় : ০৩:৩২:৩৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ মার্চ ২০১৭

ভোলা প্রতিনিধি॥

ভোলায় টানা চারদিন বৃষ্টিতে ভোলা সদর ও চরফ্যাশন উপজেলায় প্রায় ১ হাজার ৫০ হেক্টর জমির আলু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ভোলা সদরে ৩০ হেক্টর এবং চরফ্যাশনে ১ হাজার হেক্টর রয়েছে। এতে লোকসানের মুখে পড়েছেন চাষিরা।
ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর মধ্যে জেলা সদরের রাজাপুর ও ইলিশা ইউনিয়নে ৩০ হেক্টর জমির অন্তত ৫শ’ টন আলু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অন্যদিকে চরফ্যাশন উপজেলার রসুলপুর, এওয়াজপুর,নীলকমল, নুরাবাদ, আবু বকরপুর, ওসমানগঞ্জ, আমিনাবাদ, আলসলামপুর, কলমী, নজরুল নগর ও মুজিবনগরে ১ হাজার ২০ হেক্টর।

চাষিরা জানান, মৌসুমের প্রথম বৃষ্টিতে ১৩টি  ইউনিয়নের চাষিদের স্বপ্ন ভঙ্গ হয়ে গেছে। কৃষি বিভাগ কৃষকদের দ্রুত আলু উত্তোলনের পরামর্শ দিয়েছে।

চরফ্যাশন উপজেলা কৃষি অফিস সূত্র জানায়, এ বছর উপজেলায় ৩ হাজার ৮২৫ হেক্টর জমিতে আলু আবাদ হয়েছিল। এর মধ্যে কয়েকদিনে ৮শ’ হেক্টর জমির আলু উত্তোলন করা হয়েছে। বাকি আলু উত্তোলন করার আগেই বৃষ্টি শুরু হয়। এতে এক হাজার হেক্টর জমির আলু নষ্ট হতে পারে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মনোতোষ সিকদার জানান, চাষিদের দ্রুত আলু উত্তোলনের জন্য পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আলু তোলার পর রোদে শুকিয়ে ছত্রাকনাশক দিতে বলা হয়েছে।

ভোলা জেলা সদর কৃষি অফিস জানায়, এ বছর সদর উপজেলার ১২শ’ হেক্টর জমিতে আলুর আবাদ হয়েছে। কয়েকদিনে প্রায় এক হাজার হেক্টর জমির আলু তোলা হয়ে গেছে। বাকী ২শ’ হেক্টরের আলু বৃষ্টিতে ভিজে গেছে।  এতে ক্ষত্রিগ্রস্ত হয়েছে ২৫/৩০ হেক্টরের আলু।

জেলায় উপযোগী আবহাওয়ায় প্রতি হেক্টর জমিতে ২৫ টন আলু উৎপাদন হয়। সে হিসেবে টাকার অংকে প্রায় ৪/৫ লাখ টাকার আলু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে কৃষি অফিস সূত্র জানায়।ইলিশা ইউনিয়নের আলু চাষি নুরে আলম জানান, এ বছর তিনি ১০ একর জমিতে আলু চাষ করেছেন। এর মধ্যে ভাইরাসে ৫ একর জমির আলু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ৩ একর জমির আলু বিক্রি করলেও বাকী ২ একরের আলু এখনও উত্তেলন করা হয়নি। চার দিনের টানা বৃষ্টিতে এক একর আলু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যা টাকার অংকে প্রায় ২ লাখ টাকা।

চর আনন্দ গ্রামের চাষি সিরাজ ও রহিম বলেন, এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে আলু আবাদ করেছি, কিছু জমির আলু বাজারে বিক্রি করলেও বৃষ্টিতে খেতের অনেক আলু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

আলু চাষিরা জানান, দাম ওঠা নামার কথা বিবেচনা করেই আলু উত্তোলন করা হয়। অনেকেই বাজারদাম ভালো পাওয়ার আশায়  খেত থেকে আলু তোলেননি। কিন্তু তিনদিনের বৃষ্টিতে আলু নষ্ট হয়ে গেছে।
এ মৌসুমে পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি আলু বিক্রি হচ্ছে ১০ টাকা দরে এবং খুচরা বাজারে ১২ থেকে ১৫ টাকা। প্রতি বছরই জেলার উৎপাদিত আলু বিভিন্ন জেলায় বিক্রি হয়ে আসছে।

ভোলা সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. রিয়াজ উদ্দিন বলেন, সদরের বেশিরভাগ আলু খেত থেকে তোলা হয়েছে।কয়েকদিনের  বৃষ্টিতে ২শ’ হেক্টর আলু আক্রান্ত হলেও তার মধ্যে ২০ হেক্টরের আলু বেশি ক্ষতি হতে পারে।