ঢাকা ০৫:০২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মক্কায় আকস্মিক বিমান হামলার সতর্কতা: যা জানা গেল

  • আপডেট সময় : ১২:৪১:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 1
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সৌদি আরবের পবিত্র নগরী মক্কা, জেদ্দা এবং তায়েফসহ দেশটির পশ্চিমাঞ্চলীয় কয়েকটি এলাকায় সম্প্রতি আকাশপথে সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় জরুরি নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করা হয়। তবে এই সতর্কবার্তা বেশি সময় স্থায়ী হয়নি এবং দ্রুতই তা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের পক্ষ থেকে ধারাবাহিকভাবে চালানো হামলার প্রতিক্রিয়ায় এই সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। সৌদি সিভিল ডিফেন্স সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে মক্কা শহর নিরাপদ বলে নিশ্চিত করেছে এবং নাগরিকদের সিভিল ডিফেন্সের নির্দেশনা মেনে চলার পাশাপাশি ভিড় এড়িয়ে চলতে ও অপ্রয়োজনীয় ভিডিও ধারণ না করার পরামর্শ দিয়েছে। এর আগে দেশটির ছয়টি অঞ্চলে স্বল্প সময়ের জন্য এই সতর্কতা বহাল ছিল। ইসরায়েলি পত্রিকা হায়োমের তথ্যমতে, পরিস্থিতির কারণে মদিনার প্রিন্স মোহাম্মদ বিন আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমান চলাচল সাময়িকভাবে বিঘ্নিত হয়েছিল।

এই সতর্কতার ঠিক একদিন আগেই ইয়েমেন থেকে ছোড়া ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় সৌদি আরবে ১৩ জন আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছিল। এদিকে, মক্কাকে লক্ষ্য করে ছোড়া একটি ড্রোন ধ্বংস করার দাবি করেছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। তবে হুথিদের রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য হাজেম আল-আসাদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই দাবি নাকচ করে মক্কাকে লক্ষ্যবস্তু করার অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, ইয়েমেনে সৌদি আগ্রাসন বন্ধ না হলে তাদের পক্ষ থেকে আরও জোরালো জবাব দেওয়া হবে।

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে সৌদি আরবের সঙ্গে হুথিদের সংঘাত চরমে পৌঁছেছে। বিদ্রোহী গোষ্ঠীটি চলতি সপ্তাহে সৌদি ভূখণ্ডে কয়েক বছরের মধ্যে বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার দাবি করেছে। তাদের ভাষ্যমতে, দক্ষিণ সৌদি আরবের খামিস মুশাইতে অবস্থিত কিং খালিদ বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে ডজনখানেক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। এসব হামলায় তেল স্থাপনায় আগুন লাগা এবং হতাহতের খবর পাওয়া গেছে। একই সময় ইয়েমেনে সরকারি বাহিনীর সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ তীব্র আকার ধারণ করেছে।

আঞ্চলিক অস্থিরতার পাশাপাশি বাব আল-মান্দেব প্রণালির নিরাপত্তা নিয়েও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে কাতার। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা ইব্রাহিম আল-হাশমি সতর্কবার্তা দিয়ে বলেছেন, গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্রপথ বন্ধ হয়ে গেলে তা বিশ্ব বাণিজ্য ও নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে পারে। সামগ্রিকভাবে মক্কার নিরাপত্তা সতর্কতা, লোহিত সাগরের নৌপথ নিয়ে উদ্বেগ এবং ইয়েমেন সীমান্তে সামরিক সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক পরিস্থিতিকে অধিকতর অস্থিতিশীল করে তুলেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এর আগে সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেনি বাহিনী ও সৌদি সেনারা ইয়েমেনের তাইজ শহরের আশপাশে হুথিদের অবস্থান লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছিল।

নিউজটি শেয়ার করুন

মক্কায় আকস্মিক বিমান হামলার সতর্কতা: যা জানা গেল

আপডেট সময় : ১২:৪১:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সৌদি আরবের পবিত্র নগরী মক্কা, জেদ্দা এবং তায়েফসহ দেশটির পশ্চিমাঞ্চলীয় কয়েকটি এলাকায় সম্প্রতি আকাশপথে সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় জরুরি নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করা হয়। তবে এই সতর্কবার্তা বেশি সময় স্থায়ী হয়নি এবং দ্রুতই তা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের পক্ষ থেকে ধারাবাহিকভাবে চালানো হামলার প্রতিক্রিয়ায় এই সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। সৌদি সিভিল ডিফেন্স সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে মক্কা শহর নিরাপদ বলে নিশ্চিত করেছে এবং নাগরিকদের সিভিল ডিফেন্সের নির্দেশনা মেনে চলার পাশাপাশি ভিড় এড়িয়ে চলতে ও অপ্রয়োজনীয় ভিডিও ধারণ না করার পরামর্শ দিয়েছে। এর আগে দেশটির ছয়টি অঞ্চলে স্বল্প সময়ের জন্য এই সতর্কতা বহাল ছিল। ইসরায়েলি পত্রিকা হায়োমের তথ্যমতে, পরিস্থিতির কারণে মদিনার প্রিন্স মোহাম্মদ বিন আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমান চলাচল সাময়িকভাবে বিঘ্নিত হয়েছিল।

এই সতর্কতার ঠিক একদিন আগেই ইয়েমেন থেকে ছোড়া ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় সৌদি আরবে ১৩ জন আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছিল। এদিকে, মক্কাকে লক্ষ্য করে ছোড়া একটি ড্রোন ধ্বংস করার দাবি করেছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। তবে হুথিদের রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য হাজেম আল-আসাদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই দাবি নাকচ করে মক্কাকে লক্ষ্যবস্তু করার অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, ইয়েমেনে সৌদি আগ্রাসন বন্ধ না হলে তাদের পক্ষ থেকে আরও জোরালো জবাব দেওয়া হবে।

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে সৌদি আরবের সঙ্গে হুথিদের সংঘাত চরমে পৌঁছেছে। বিদ্রোহী গোষ্ঠীটি চলতি সপ্তাহে সৌদি ভূখণ্ডে কয়েক বছরের মধ্যে বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার দাবি করেছে। তাদের ভাষ্যমতে, দক্ষিণ সৌদি আরবের খামিস মুশাইতে অবস্থিত কিং খালিদ বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে ডজনখানেক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। এসব হামলায় তেল স্থাপনায় আগুন লাগা এবং হতাহতের খবর পাওয়া গেছে। একই সময় ইয়েমেনে সরকারি বাহিনীর সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ তীব্র আকার ধারণ করেছে।

আঞ্চলিক অস্থিরতার পাশাপাশি বাব আল-মান্দেব প্রণালির নিরাপত্তা নিয়েও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে কাতার। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা ইব্রাহিম আল-হাশমি সতর্কবার্তা দিয়ে বলেছেন, গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্রপথ বন্ধ হয়ে গেলে তা বিশ্ব বাণিজ্য ও নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে পারে। সামগ্রিকভাবে মক্কার নিরাপত্তা সতর্কতা, লোহিত সাগরের নৌপথ নিয়ে উদ্বেগ এবং ইয়েমেন সীমান্তে সামরিক সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক পরিস্থিতিকে অধিকতর অস্থিতিশীল করে তুলেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এর আগে সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেনি বাহিনী ও সৌদি সেনারা ইয়েমেনের তাইজ শহরের আশপাশে হুথিদের অবস্থান লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছিল।