মক্কায় প্রথমবারের মতো বিমান হামলার সতর্কতা জারি
- আপডেট সময় : ১২:৪১:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 18
পবিত্র নগরী মক্কাসহ সৌদি আরবের পশ্চিমাঞ্চলীয় কয়েকটি শহরে হঠাৎ করেই বিমান হামলার সতর্কতা জারি করা হয়েছিল। মঙ্গলবার মক্কা, জেদ্দা এবং তায়েফ এলাকার আকাশসীমায় সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় এই সতর্কবার্তা দেওয়া হয়, যা পরে অল্প সময়ের মধ্যেই প্রত্যাহার করে নেয় কর্তৃপক্ষ। ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের সাম্প্রতিক ধারাবাহিক আক্রমণাত্মক কর্মকাণ্ডের প্রেক্ষিতেই মূলত এমন নিরাপত্তা সতর্কতা নেওয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছে সৌদি প্রশাসন।
সৌদি সিভিল ডিফেন্স সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানায়, মক্কা শহরে বর্তমানে বিপদের আশঙ্কা নেই। তবে নাগরিকদের নিরাপত্তার স্বার্থে সব ধরণের সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে অপ্রয়োজনীয় ভিড় এড়িয়ে চলতে এবং এ বিষয়ে যেকোনো ভিডিও চিত্র ধারণ না করার জন্য কঠোর আহ্বান জানানো হয়েছে। এর আগে দেশটির ছয়টি অঞ্চলে স্বল্প সময়ের জন্য এই সতর্কতা বহাল ছিল। ইসরায়েলি গণমাধ্যম হায়োমের তথ্যমতে, মদিনার প্রিন্স মোহাম্মদ বিন আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের দিকে বিমান চলাচল সাময়িকভাবে স্থগিত রাখতে হয়েছিল এই সতর্কতার কারণে।
সোমবার ইয়েমেন থেকে ছোড়া ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে সৌদি আরবে ১৩ জন আহত হওয়ার পরদিন এমন নিরাপত্তা কড়াকড়ি আরোপ করা হলো। চলতি সপ্তাহে হুথিরা সৌদি ভূখণ্ডে বড় ধরনের হামলার দাবি করেছে। তাদের দাবি অনুযায়ী, দক্ষিণ সৌদি আরবের খামিস মুশাইতে অবস্থিত কিং খালিদ বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে ডজনখানেক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। এসব ঘটনায় তেল স্থাপনায় অগ্নিকাণ্ডের পাশাপাশি বহু মানুষ আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এর পাল্টা হিসেবে সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেনি বাহিনী ও সৌদি সেনারা ইয়েমেনের তাইজ শহরের উপকণ্ঠে হুথিদের অবস্থানে পাল্টা হামলা চালিয়েছে।
মক্কার দিকে ধেয়ে আসা হুথিদের একটি ড্রোন ধ্বংস করার যে দাবি সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট করেছে, তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে হুথি গোষ্ঠী। রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য হাজেম আল-আসাদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে মক্কাকে লক্ষ্যবস্তু করার অভিযোগটিকে ভিত্তিহীন বলে অভিহিত করেছেন। সেই সঙ্গে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, সৌদি আরব ইয়েমেনে তাদের আগ্রাসন অব্যাহত রাখলে হুথিরা আরও জোরালো প্রতিক্রিয়া দেখাবে।
একই সময়ে বাব আল-মান্দেব প্রণালির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে কাতার। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা ইব্রাহিম আল-হাশমি সতর্কবার্তা দিয়ে বলেছেন, গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্রপথ বন্ধ হয়ে গেলে বৈশ্বিক বাণিজ্য ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি ভয়াবহ ঝুঁকির মুখে পড়বে। লোহিত সাগরের এই নৌপথ ঘিরে অনিশ্চয়তা এবং হুথিদের ক্রমবর্ধমান হামলা মধ্যপ্রাচ্যের সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।






















