মক্কা-মদিনায় হুমকি এলে বাংলাদেশ বসে থাকবে না: শামা ওবায়েদ
- আপডেট সময় : ০৬:৩৬:৩৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬
- / 0
সৌদি আরবের পবিত্র নগরী মক্কা ও মদিনার সুরক্ষায় কোনো হুমকি তৈরি হলে বাংলাদেশ নিশ্চেষ্ট থাকবে না বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। সোমবার বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) প্রাঙ্গণে আয়োজিত একটি সেমিনারে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, বিশ্বের মুসলমানদের কাছে মক্কা ও মদিনা ঐক্যের প্রতীক। এটি কেবল কূটনীতির বিষয় নয়, বরং আমাদের আবেগের সঙ্গে জড়িত। তাই এই স্থানগুলোর সুরক্ষায় মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ হিসেবে বাংলাদেশ অবশ্যই সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেবে।
এর আগে ‘বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি: পরিবর্তনশীল বিশ্বে পথপরিক্রমা’ শীর্ষক ওই সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে সরকারের ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে বিআইআইএসএস-এর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আ স ম রিদওয়ানুর রহমান উপস্থিত ছিলেন। সেমিনারের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে শামা ওবায়েদ জানান, বাংলাদেশ এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে মক্কা জোটে যোগ দেয়নি। ফলে আপাতত সেনা পাঠানোর কোনো বিষয় নেই। তিনি স্পষ্ট করেন, সৌদি আরবের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশটির ক্রাউন প্রিন্সকে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন এবং বাংলাদেশ এ বিষয়ে সৌদি সরকারের পাশে রয়েছে। তাকে হুতি-সৌদি সংঘাত, মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক বাংলাদেশের জ্বালানি নির্ভরতা, প্রবাসী বাংলাদেশসহ চলমান নানা বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়। আলোচিত মক্কা চুক্তি নিয়ে এক সাংবাদিক জানতে চান, মক্কা প্যাক্টে যোগ দিতে সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ। আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে যদি জোটে যোগ দেই তাহলে সৈন্য পাঠানোর প্রশ্ন আসবে। তবে সৌদি আরবের যেখানে ঘটনাটি ঘটেছে তাতে আমরা তাদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছি।
সৌদিতে হুতি বিদ্রোহীদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় দুই বাংলাদেশি নিহতের ঘটনায় প্রতিমন্ত্রী গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন। তিনি জানান, ওই হামলায় ২৪ জনেরও বেশি বাংলাদেশি আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন, যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তারা নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে (আইসিইউ) আছেন। তিনি অবিলম্বে এই অমানবিক পরিস্থিতি ও সংঘাতের অবসান কামনা করেন। আমরা চাই অবিলম্বে এমন হামলা বন্ধ হোক। সৌদির মূল মূল তেল শোধনাগার লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে হুতি বিদ্রোহীরা। এতে তেল সরবরাহের স্বাভাবিকতা ব্যাহত হচ্ছে।
তেল শোধনাগারে হুতি হামলার কারণে জ্বালানি সরবরাহে কোনো সংকট তৈরি হবে কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, এই মুহূর্তে বড় কোনো অসুবিধা দেখছেন না। তিনি বলেন, জ্বালানি মন্ত্রণালয় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর প্রস্তুতি নিয়েছে। বর্তমানে জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী সৌদি আরবে অবস্থান করছেন এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। শামা ওবায়েদ উল্লেখ করেন, যুদ্ধের প্রভাব কেবল এক দেশে নয়, বরং পুরো বিশ্ব অর্থনীতিতেই পড়তে পারে। তবে সার্বিকভাবে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ পরিস্থিতি মোকাবিলায় কাজ করে যাচ্ছে।
























