ঢাকা ০৭:১৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
শাহজালাল বিমানবন্দরেই দায়িত্ব পালন করছেন ম্যাজিস্ট্রেট নওশাদ খান সিরাজগঞ্জে মাদক মামলায় দুই যুবকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড তিন সিটির উন্নয়নসহ ১৬ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন লটারি বাতিল করে স্কুলে ভর্তি পরীক্ষা চালুর সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ রসায়নে নোবেল পেলেন জাপান ও ফ্রান্সের দুই বিজ্ঞানী দেশের চারটি অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দরে কমছে যাত্রী সংখ্যা জেট ফুয়েলের দাম বাড়ল, লিটারে বৃদ্ধি ১৭ টাকা বড়াইগ্রামের সানাউল্লাহ বাবু নিহতের ১৬ বছর: বিচারের অপেক্ষায় পরিবার দিল্লিতে ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর উচ্চপর্যায়ের সিরিজ বৈঠক রাজাপুরে যুবদল নেতাসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

রাজশাহী বিমানবন্দরে ১০৭ কোটি টাকার প্রকল্পের কাজ চার বছরেও

  • আপডেট সময় : ১১:০৯:৫৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 23
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রাজশাহীর শাহ মখদুম বিমানবন্দরের আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণের জন্য বরাদ্দ প্রায় ১০৭ কোটি টাকার প্রকল্পটির কাজ নির্ধারিত সময়ের প্রায় চার বছর পার হলেও এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি। ২০২২ সালের জুনের মধ্যে প্রকল্পটির কাজ সম্পন্ন হওয়ার কথা ছিল। দীর্ঘসূত্রতার কারণে যাত্রীরা প্রত্যাশিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, যা বিমানবন্দরটির সামগ্রিক কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

বর্তমানে রাজশাহী থেকে ঢাকা রুটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ও ইউএস-বাংলা ফ্লাইট পরিচালনা করলেও, গত বছরের মে মাস থেকে নভোএয়ারের ফ্লাইট বন্ধ হওয়ায় প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ কমে গেছে। এতে টিকিটের সংকট তৈরি হওয়ার পাশাপাশি শেষ মুহূর্তে ভাড়া প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যাচ্ছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, আগে ৪ থেকে সাড়ে ৪ হাজার টাকায় টিকিট মিললেও বর্তমানে জরুরি প্রয়োজনে তা চড়া দামে কিনতে হচ্ছে। এই বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা হলে বাণিজ্য, শিক্ষা ও পর্যটন খাতে বড় সম্ভাবনা তৈরি হতো। বিশেষ করে আম, রেশম ও কৃষিপণ্য পরিবহনে কার্গো সেবার সুযোগ কাজে লাগানো যেত। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কেবল রানওয়ে সম্প্রসারণই যথেষ্ট নয়, এর জন্য আন্তর্জাতিক টার্মিনাল, আধুনিক ইমিগ্রেশন, কাস্টমস ও উন্নত গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি।

বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। পরিদর্শন প্রতিবেদনে দেখা গেছে, উচ্চ ভোল্টেজ প্যানেল, ট্রান্সফরমার ও জরুরি ফিডার প্যানেলের মতো গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জামগুলো ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। বৈদ্যুতিক ব্যবস্থায় সরাসরি ডিসচার্জ শনাক্ত হয়েছে, যা থেকে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি রয়েছে। এছাড়া ট্রান্সফরমার কক্ষে সিলিকা জেলের অভাব ও দুর্বল নিরাপত্তাব্যবস্থা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাচ্ছে। রানওয়ের এজিএল ব্যবস্থার অতিরিক্ত যন্ত্রাংশ না থাকায় তা বিকল হলে বিমান চলাচলে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা রয়েছে।

প্রকল্পটির আওতায় টার্মিনাল আধুনিকায়ন, পার্কিং সুবিধা বৃদ্ধি এবং একাধিক উড়োজাহাজ ও কার্গো উড়োজাহাজ পরিচালনার পরিকল্পনা থাকলেও তার অধিকাংশই অধরা রয়ে গেছে। এদিকে, রানওয়ের সক্ষমতা বাড়াতে যশোর, সৈয়দপুর ও শাহ মখদুম বিমানবন্দরে অ্যাসফল্ট কংক্রিটের নতুন স্তর বসানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২০২৫-২৬ থেকে ২০২৭-২৮ অর্থবছরের মধ্যে এই নতুন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

রাজশাহী বিমানবন্দরে ১০৭ কোটি টাকার প্রকল্পের কাজ চার বছরেও

আপডেট সময় : ১১:০৯:৫৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রাজশাহীর শাহ মখদুম বিমানবন্দরের আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণের জন্য বরাদ্দ প্রায় ১০৭ কোটি টাকার প্রকল্পটির কাজ নির্ধারিত সময়ের প্রায় চার বছর পার হলেও এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি। ২০২২ সালের জুনের মধ্যে প্রকল্পটির কাজ সম্পন্ন হওয়ার কথা ছিল। দীর্ঘসূত্রতার কারণে যাত্রীরা প্রত্যাশিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, যা বিমানবন্দরটির সামগ্রিক কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

বর্তমানে রাজশাহী থেকে ঢাকা রুটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ও ইউএস-বাংলা ফ্লাইট পরিচালনা করলেও, গত বছরের মে মাস থেকে নভোএয়ারের ফ্লাইট বন্ধ হওয়ায় প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ কমে গেছে। এতে টিকিটের সংকট তৈরি হওয়ার পাশাপাশি শেষ মুহূর্তে ভাড়া প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যাচ্ছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, আগে ৪ থেকে সাড়ে ৪ হাজার টাকায় টিকিট মিললেও বর্তমানে জরুরি প্রয়োজনে তা চড়া দামে কিনতে হচ্ছে। এই বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা হলে বাণিজ্য, শিক্ষা ও পর্যটন খাতে বড় সম্ভাবনা তৈরি হতো। বিশেষ করে আম, রেশম ও কৃষিপণ্য পরিবহনে কার্গো সেবার সুযোগ কাজে লাগানো যেত। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কেবল রানওয়ে সম্প্রসারণই যথেষ্ট নয়, এর জন্য আন্তর্জাতিক টার্মিনাল, আধুনিক ইমিগ্রেশন, কাস্টমস ও উন্নত গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি।

বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। পরিদর্শন প্রতিবেদনে দেখা গেছে, উচ্চ ভোল্টেজ প্যানেল, ট্রান্সফরমার ও জরুরি ফিডার প্যানেলের মতো গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জামগুলো ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। বৈদ্যুতিক ব্যবস্থায় সরাসরি ডিসচার্জ শনাক্ত হয়েছে, যা থেকে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি রয়েছে। এছাড়া ট্রান্সফরমার কক্ষে সিলিকা জেলের অভাব ও দুর্বল নিরাপত্তাব্যবস্থা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাচ্ছে। রানওয়ের এজিএল ব্যবস্থার অতিরিক্ত যন্ত্রাংশ না থাকায় তা বিকল হলে বিমান চলাচলে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা রয়েছে।

প্রকল্পটির আওতায় টার্মিনাল আধুনিকায়ন, পার্কিং সুবিধা বৃদ্ধি এবং একাধিক উড়োজাহাজ ও কার্গো উড়োজাহাজ পরিচালনার পরিকল্পনা থাকলেও তার অধিকাংশই অধরা রয়ে গেছে। এদিকে, রানওয়ের সক্ষমতা বাড়াতে যশোর, সৈয়দপুর ও শাহ মখদুম বিমানবন্দরে অ্যাসফল্ট কংক্রিটের নতুন স্তর বসানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২০২৫-২৬ থেকে ২০২৭-২৮ অর্থবছরের মধ্যে এই নতুন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।