রোমে আলোচনা চলাকালে দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি হামলা, ২ সেনা নিহত
- আপডেট সময় : ১১:৪৩:০১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬
- / 0
বিডিসংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ
সংঘাত নিরসনের লক্ষ্যে রোমে যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত আলোচনা চলমান থাকা সত্ত্বেও লেবাননে নতুন করে হামলা চালিয়েছে ইসরাইল। বৃহস্পতিবার এক মাসেরও বেশি সময়ের মধ্যে দক্ষিণ লেবাননে তাদের প্রথম সামরিক হতাহতের খবর জানিয়েছে দেশটি।
ইসরাইলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, বুধবার যুদ্ধে নিহত দুই রিজার্ভ সেনা হলেন ৫৫তম ব্রিগেডের ২৮৫৫তম ব্যাটালিয়নের ৩৪ বছর বয়সী মেজর হারেল বিরেনস্টক এবং ৩৩ বছর বয়সী সার্জেন্ট মেজর তামির ভাকনিন।
জেরুজালেম থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।
দক্ষিণ লেবাননে গত ২৮ জুনের পর এই প্রথম ইসরাইলি সেনা নিহত হওয়ার ঘটনা প্রকাশ্যে এলো।
কয়েক সপ্তাহের মধ্যে প্রথমবারের মতো বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ার সতর্কবার্তা জারি করে দক্ষিণ লেবাননে নতুন করে হামলা চালায় ইসরাইল। একই সময়ে রোমে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরাইল ও লেবাননের মধ্যে আলোচনা চলছিল।
দক্ষিণ লেবানন থেকে ধাপে ধাপে ইসরাইলি বাহিনী প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে বৈরুত।
ইসরাইলি সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে জানায়, হিজবুল্লাহ সংগঠনের যুদ্ধবিরতির স্পষ্ট লঙ্ঘনের জবাবে দক্ষিণ লেবাননে নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে হামলা শুরু করেছে ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)।
এর কিছুক্ষণ আগেই দক্ষিণাঞ্চলের মানসুরি শহরের বাসিন্দাদের এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
লেবাননের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, পৃথক একটি হামলায় একজন নিহত এবং ১১ জন আহত হয়েছেন।
আলোচনায় অংশ নেওয়া একটি সূত্র এএফপিকে জানায়, রোমে লেবাননের সঙ্গে দিনের আলোচনা নির্ধারিত সময়ের তিন ঘণ্টা আগেই শেষ করার অনুরোধ জানায় ইসরাইল।
ইসরাইলি প্রতিনিধিদলের প্রধান ও যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত ইয়েখিয়েল লেইটার লেবাননের পক্ষ থেকে ‘বিভ্রান্তিকর তথ্য ফাঁসের’ অভিযোগ তোলেন।
তবে বৃহস্পতিবার তৃতীয় ও শেষ দিনের মতো আলোচনা আবারও শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
এর আগে জুনে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় অনুষ্ঠিত আলোচনায় ইসরাইল ও লেবানন একটি কাঠামোগত সমঝোতায় পৌঁছায়। এতে হিজবুল্লাহর নিরস্ত্রীকরণ, দক্ষিণ লেবানন থেকে ধাপে ধাপে ইসরাইলি বাহিনী প্রত্যাহার এবং পরীক্ষামূলক এলাকা বা ‘পাইলট জোন’ থেকে শুরু করে সেখানে লেবাননের সেনাবাহিনী মোতায়েনের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত ছিল।
মার্চে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহ ইসরাইলের দিকে রকেট নিক্ষেপ করে লেবাননকে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে জড়িয়ে ফেলার পর থেকে এটি দুই পক্ষের মধ্যে সপ্তম দফার আলোচনা।
হিজবুল্লাহর ওই রকেট নিক্ষেপের জবাবে ইসরাইল ব্যাপক বিমান হামলা ও স্থল অভিযান চালায়। লেবাননের দাবি, এতে চার হাজার ৩০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।
জুনের পর প্রথমবারের মতো বুধবার ইসরাইলি সেনাবাহিনী মানসুরির বাসিন্দাদের উদ্দেশে সতর্কবার্তায় বলে, ‘ হিজবুল্লাহ যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করায় ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী তাদের বিরুদ্ধে শক্তি প্রয়োগে বাধ্য হচ্ছে।’
আইডিএফের আরবি ভাষার মুখপাত্র এলা ওয়াওয়েয়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লেখেন, ‘নিজেদের নিরাপত্তার জন্য অবিলম্বে ঘরবাড়ি ছেড়ে উত্তর দিকে চলে যান।’
জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা সংস্থা জানায়, সহিংসতা কিছুটা কমে আসায় আগের সংঘাতে বাস্তুচ্যুত আট লক্ষাধিক মানুষ লেবাননে নিজ নিজ বাড়িতে ফিরতে শুরু করেছেন। তবে এখনো তিন লাখ ৬০ হাজারের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত রয়েছেন।
‘লজ্জা ও অপমান’-
টাইর শহর থেকে প্রায় নয় কিলোমিটার দক্ষিণে এবং ইসরাইল সীমান্ত থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত মানসুরি শহর ও আশপাশের এলাকায় সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে একাধিকবার ইসরাইলি বিমান হামলা ও গোলাবর্ষণ হয়েছে। জুনে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও এসব হামলা অব্যাহত ছিল।
২২ জুন মানসুরি পৌর কর্তৃপক্ষ বাসিন্দাদের বাড়ি ফিরতে অনুমতি দেয়। তবে শহরের যে অংশটি দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলের ঘোষিত ‘নিরাপত্তা অঞ্চলের’ মধ্যে পড়েছে, সেখানে না যাওয়ার অনুরোধ জানায়।
‘নিরাপত্তা অঞ্চল’ বলতে ইসরাইল সীমান্তসংলগ্ন দক্ষিণ লেবাননের ভেতরে প্রায় ১০ কিলোমিটারের একটি এলাকা বোঝানো হয়, যেখানে এখনো ইসরাইলি বাহিনী অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের এক কর্মকর্তা এএফপিকে বলেন, এ সপ্তাহের আলোচনায় ‘পাইলট জোন’ সম্প্রসারণ, সীমান্ত-সংক্রান্ত সব অমীমাংসিত বিষয় নিষ্পত্তি এবং একটি পূর্ণাঙ্গ শান্তি ও নিরাপত্তা চুক্তির বিষয়ে কাজ করা হবে।
রোমে আলোচনা চলাকালে ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানি হিজবুল্লাহর প্রধান সমর্থক ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেন। তিনি তেহরানকে হিজবুল্লাহর তৎপরতা বন্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।
ইসরাইলি হামলার কিছুক্ষণ আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তাজানি আশা প্রকাশ করেন, আলোচনায় ‘বাস্তব ফল’ পাওয়া যাবে।
হিজবুল্লাহ নেতা নাঈম কাসেম মঙ্গলবার বলেন, সরাসরি আলোচনা লেবাননের জন্য ‘লজ্জা, অপমান’ এবং একের পর এক ছাড় দেওয়া ছাড়া আর কিছুই বয়ে আনবে না।
জবুল্লাহ বারবার সরাসরি আলোচনা প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা অস্ত্র সমর্পণেও অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
ইসরাইল-লেবানন সমঝোতা এবং জুনে মধ্যপ্রাচ্য ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রাথমিক চুক্তি স্বাক্ষরের পর লেবাননে সহিংসতা কমেছে।
তবে এরপরও দেশটি দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন গ্রামে ইসরাইলের বিচ্ছিন্ন বিমান হামলা, গোলাবর্ষণ, বিস্ফোরণ ও স্থাপনা ধ্বংসের ঘটনা ঘটার অভিযোগ জানিয়ে আসছে।
মার্চের শুরুতে ইসরাইল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত ইসরাইলের ৩৮ জন সেনা এবং একজন বেসামরিক ঠিকাদার নিহত হয়েছেন।
বিডিসংবাদ/এএইচএস



















