ঢাকা ০৮:২৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
শাহজালাল তৃতীয় টার্মিনাল পরিচালনায় জাপানি কনসোর্টিয়ামের বড় অংশীদারত্ব খুলনায় প্রধানমন্ত্রীর সফরের মধ্যে বিএনপি নেতার ছেলেকে মৃত্যুর ঘটনায় বিনা জামানতে ঋণ দেওয়ার নামে প্রতারণা, সতর্ক করল বাংলাদেশ ব্যাংক সাতক্ষীরায় সড়ক দুর্ঘটনায় ভারসাম্যহীন নারীর মৃত্যু আদালত চত্বরে বিশৃঙ্খলা, আত্মসমর্পণ করে জামিন পেলেন পরীমনি ইয়েমেনে সংঘাত বন্ধে ৫১ বিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ চায় হুথিরা গ্যাস-বিদ্যুতের দাম ও দ্রব্যমূল্য নিয়ে বাড্ডায় জামায়াতের বিক্ষোভ আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর নিলেন পর্তুগিজ তারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো মার্কিন নির্বাচনে ট্রাম্পের হার উদযাপন করছে তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনের পর চাঙ্গা বিশ্ববাজার, দর কমল ডলারের

শাহজালাল তৃতীয় টার্মিনাল পরিচালনায় জাপানি কনসোর্টিয়ামের বড় অংশীদারত্ব

  • আপডেট সময় : ০৮:২৫:১২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
  • / 0
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল পরিচালনার দায়িত্ব জাপানি একটি কনসোর্টিয়ামের হাতে ন্যস্ত হওয়ার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই অত্যাধুনিক টার্মিনালটি আগামী ১৬ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে চালুর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে পরিচালনার দায়িত্ব পাওয়ার দৌড়ে থাকা এই চুক্তির বিভিন্ন শর্ত নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। প্রকল্পটিতে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা) প্রায় ২১ হাজার ১৩৯ কোটি টাকা ঋণ প্রদান করেছে।

প্রস্তাবিত চুক্তির একটি বড় অংশজুড়ে রয়েছে রাজস্ব বিভাজনের হিসাব। এই পরিকল্পনা অনুযায়ী, টার্মিনাল পরিচালনার মোট আয়ের ৭৩ শতাংশ জাপানি কনসোর্টিয়াম পাবে, আর বাংলাদেশের ভাগে আসবে ২৭ শতাংশ। টার্মিনালটি আংশিকভাবে চালু হওয়ার প্রাথমিক পর্যায়ে সরকারের প্রাপ্তির পরিমাণ আরও কমে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে বিমানবন্দরটির কাস্টমস, ইমিগ্রেশন, নিরাপত্তা, ওভারফ্লাইং চার্জ এবং উড়োজাহাজ অবতরণ ফিসহ সার্বভৌম কার্যক্রমগুলো বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের অধীনেই থাকবে। রাজস্ব ভাগাভাগির ক্ষেত্রেও বড় বিষয় সামনে এসেছে।

চুক্তির সবচেয়ে আলোচিত দিকগুলোর একটি হলো আগামী ১৫ বছর শাহজালাল বিমানবন্দরের ১০০ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে অন্য কোনো বিমানবন্দর থেকে বাণিজ্যিক ফ্লাইট পরিচালনায় নিষেধাজ্ঞা। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, রাজধানীর ঘনবসতিপূর্ণ অবস্থার কারণে দ্বিতীয় রানওয়ে নির্মাণের সুযোগ সীমিত থাকায়, এই শর্ত ভবিষ্যতে বিকল্প কোনো বিমানবন্দর গড়ে তোলার ক্ষেত্রে বড় প্রতিবন্ধক হয়ে উঠতে পারে। যদিও অবকাঠামোগত নির্মাণকাজ প্রায় দুই বছর আগেই শেষ হয়েছিল, কিন্তু পরিচালনার দায়িত্ব চূড়ান্ত না হওয়ায় টার্মিনালটি এতকাল চালু করা সম্ভব হয়নি। এই নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ ১৫ বছর। সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, শাহজালাল বিমানবন্দরে বর্তমানে একটি রানওয়ে রয়েছে।

এদিকে তৃতীয় টার্মিনালে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সেবার ক্ষেত্রে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের দীর্ঘদিনের একচেটিয়া অবস্থান পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে সুইজারল্যান্ডের সুইসপোর্ট, তুরস্কের চেলেবি এভিয়েশন, সংযুক্ত আরব আমিরাতের ডানাটা এবং যুক্তরাজ্যের মেনজিস এভিয়েশন—এই চারটি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের মধ্য থেকে একটিকে লাইসেন্স দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে কার্গো হ্যান্ডলিংয়ের দায়িত্ব বিমানের হাতেই থাকছে। টার্মিনালটি চালু হলে যাত্রীসেবা ও ফ্লাইট পরিচালনার দক্ষতা বৃদ্ধির প্রত্যাশা করা হলেও, দীর্ঘমেয়াদী বাণিজ্যিক ও কৌশলগত শর্তগুলো দেশের স্বার্থ কতটা রক্ষা করবে, তা নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে। এ জন্য চারটি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানকে বিবেচনায় রাখা হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

শাহজালাল তৃতীয় টার্মিনাল পরিচালনায় জাপানি কনসোর্টিয়ামের বড় অংশীদারত্ব

আপডেট সময় : ০৮:২৫:১২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল পরিচালনার দায়িত্ব জাপানি একটি কনসোর্টিয়ামের হাতে ন্যস্ত হওয়ার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই অত্যাধুনিক টার্মিনালটি আগামী ১৬ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে চালুর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে পরিচালনার দায়িত্ব পাওয়ার দৌড়ে থাকা এই চুক্তির বিভিন্ন শর্ত নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। প্রকল্পটিতে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা) প্রায় ২১ হাজার ১৩৯ কোটি টাকা ঋণ প্রদান করেছে।

প্রস্তাবিত চুক্তির একটি বড় অংশজুড়ে রয়েছে রাজস্ব বিভাজনের হিসাব। এই পরিকল্পনা অনুযায়ী, টার্মিনাল পরিচালনার মোট আয়ের ৭৩ শতাংশ জাপানি কনসোর্টিয়াম পাবে, আর বাংলাদেশের ভাগে আসবে ২৭ শতাংশ। টার্মিনালটি আংশিকভাবে চালু হওয়ার প্রাথমিক পর্যায়ে সরকারের প্রাপ্তির পরিমাণ আরও কমে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে বিমানবন্দরটির কাস্টমস, ইমিগ্রেশন, নিরাপত্তা, ওভারফ্লাইং চার্জ এবং উড়োজাহাজ অবতরণ ফিসহ সার্বভৌম কার্যক্রমগুলো বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের অধীনেই থাকবে। রাজস্ব ভাগাভাগির ক্ষেত্রেও বড় বিষয় সামনে এসেছে।

চুক্তির সবচেয়ে আলোচিত দিকগুলোর একটি হলো আগামী ১৫ বছর শাহজালাল বিমানবন্দরের ১০০ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে অন্য কোনো বিমানবন্দর থেকে বাণিজ্যিক ফ্লাইট পরিচালনায় নিষেধাজ্ঞা। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, রাজধানীর ঘনবসতিপূর্ণ অবস্থার কারণে দ্বিতীয় রানওয়ে নির্মাণের সুযোগ সীমিত থাকায়, এই শর্ত ভবিষ্যতে বিকল্প কোনো বিমানবন্দর গড়ে তোলার ক্ষেত্রে বড় প্রতিবন্ধক হয়ে উঠতে পারে। যদিও অবকাঠামোগত নির্মাণকাজ প্রায় দুই বছর আগেই শেষ হয়েছিল, কিন্তু পরিচালনার দায়িত্ব চূড়ান্ত না হওয়ায় টার্মিনালটি এতকাল চালু করা সম্ভব হয়নি। এই নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ ১৫ বছর। সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, শাহজালাল বিমানবন্দরে বর্তমানে একটি রানওয়ে রয়েছে।

এদিকে তৃতীয় টার্মিনালে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সেবার ক্ষেত্রে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের দীর্ঘদিনের একচেটিয়া অবস্থান পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে সুইজারল্যান্ডের সুইসপোর্ট, তুরস্কের চেলেবি এভিয়েশন, সংযুক্ত আরব আমিরাতের ডানাটা এবং যুক্তরাজ্যের মেনজিস এভিয়েশন—এই চারটি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের মধ্য থেকে একটিকে লাইসেন্স দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে কার্গো হ্যান্ডলিংয়ের দায়িত্ব বিমানের হাতেই থাকছে। টার্মিনালটি চালু হলে যাত্রীসেবা ও ফ্লাইট পরিচালনার দক্ষতা বৃদ্ধির প্রত্যাশা করা হলেও, দীর্ঘমেয়াদী বাণিজ্যিক ও কৌশলগত শর্তগুলো দেশের স্বার্থ কতটা রক্ষা করবে, তা নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে। এ জন্য চারটি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানকে বিবেচনায় রাখা হয়েছে।