ঢাকা ০৭:০৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
শাহজালাল বিমানবন্দরেই দায়িত্ব পালন করছেন ম্যাজিস্ট্রেট নওশাদ খান সিরাজগঞ্জে মাদক মামলায় দুই যুবকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড তিন সিটির উন্নয়নসহ ১৬ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন লটারি বাতিল করে স্কুলে ভর্তি পরীক্ষা চালুর সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ রসায়নে নোবেল পেলেন জাপান ও ফ্রান্সের দুই বিজ্ঞানী দেশের চারটি অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দরে কমছে যাত্রী সংখ্যা জেট ফুয়েলের দাম বাড়ল, লিটারে বৃদ্ধি ১৭ টাকা বড়াইগ্রামের সানাউল্লাহ বাবু নিহতের ১৬ বছর: বিচারের অপেক্ষায় পরিবার দিল্লিতে ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর উচ্চপর্যায়ের সিরিজ বৈঠক রাজাপুরে যুবদল নেতাসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

শাহজালাল বিমানবন্দরে ট্রলি সংকট: দীর্ঘদিনের ভোগান্তিতে যাত্রীরা

  • আপডেট সময় : ০১:০১:৩৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬
  • / 3
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ট্রলি সংকট বর্তমানে এক তীব্র আকার ধারণ করেছে। ইমিগ্রেশন পার হয়ে লাগেজ সংগ্রহ করতে আসা যাত্রীরা ট্রলি না পেয়ে প্রায়ই চরম বিড়ম্বনায় পড়ছেন। বিশেষ করে যখন একসঙ্গে দুই-তিনটি ফ্লাইট অবতরণ করে, তখন পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটে। ট্রলি পেতে যাত্রীদের মধ্যে প্রতিযোগিতা ও দীর্ঘ সময় অপেক্ষার ফলে অনেককে দুই থেকে তিন ঘণ্টা পর্যন্ত বিমানবন্দরে আটকে থাকতে হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও যাত্রীদের এ নিয়ে ব্যাপক ক্ষোভ দেখা যাচ্ছে।

গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই সতর্ক করা হচ্ছিল। বিশেষ করে গত হজ মৌসুমের আগে বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয় এবং বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষকে (বেবিচক) লিখিতভাবে জানানো হয় যে, পর্যাপ্ত ট্রলি না থাকলে যাত্রীদের ভোগান্তি এবং বিমানবন্দরে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনা করে মন্ত্রণালয় বেবিচককে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেয়। বেবিচকের সংশ্লিষ্ট দফতর থেকে ৫০০টি নতুন ট্রলি কেনার প্রস্তাব সদর দফতরে পাঠানো হলেও তা শেষ পর্যন্ত অনুমোদন পায়নি। ফলে ফিরতি হজ মৌসুমে চরম সংকট দেখা দেয়, যা অনেক ক্ষেত্রে হাতাহাতি ও ভাঙচুরের মতো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টি করে।

ট্রলি কেনার প্রস্তাব বাতিল হওয়ার পেছনে তৃতীয় টার্মিনাল চালুর পরিকল্পনার প্রভাব রয়েছে। কর্তৃপক্ষ আশা করেছিল, নতুন টার্মিনাল চালু হলে জাপানি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পর্যাপ্ত ট্রলি সরবরাহ করা সম্ভব হবে। তবে টার্মিনাল চালু হওয়ার বিলম্বের কারণে পুরোনো ট্রলির ওপরই নির্ভর করতে হচ্ছে। সংকট সামাল দিতে চট্টগ্রাম ও সিলেট বিমানবন্দর থেকে ২৫০টি ট্রলি এনে ব্যবহার করা হলেও তা যথেষ্ট ছিল না। বেবিচক অনুদান হিসেবেও ট্রলি সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছিল এবং একটি কোম্পানি ট্রলি দিতে রাজি হলেও এখনো তা বিমানবন্দরে এসে পৌঁছায়নি।

এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগিব সামাদ জানিয়েছেন, বর্তমানে বিমানবন্দরে ৪ হাজার ১৯০টি ট্রলি মজুদ রয়েছে। তার মতে, অনেকগুলো ফ্লাইট একসাথে ল্যান্ড করলে যাত্রীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় সাময়িকভাবে ট্রলির ঘাটতি দেখা দেয়। তিনি আরও জানান, আরও ৫০০টি ট্রলি সংগ্রহের প্রক্রিয়া চলছে এবং এগুলো যুক্ত হলে যাত্রী সেবায় চলমান এই সংকট কেটে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

শাহজালাল বিমানবন্দরে ট্রলি সংকট: দীর্ঘদিনের ভোগান্তিতে যাত্রীরা

আপডেট সময় : ০১:০১:৩৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ট্রলি সংকট বর্তমানে এক তীব্র আকার ধারণ করেছে। ইমিগ্রেশন পার হয়ে লাগেজ সংগ্রহ করতে আসা যাত্রীরা ট্রলি না পেয়ে প্রায়ই চরম বিড়ম্বনায় পড়ছেন। বিশেষ করে যখন একসঙ্গে দুই-তিনটি ফ্লাইট অবতরণ করে, তখন পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটে। ট্রলি পেতে যাত্রীদের মধ্যে প্রতিযোগিতা ও দীর্ঘ সময় অপেক্ষার ফলে অনেককে দুই থেকে তিন ঘণ্টা পর্যন্ত বিমানবন্দরে আটকে থাকতে হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও যাত্রীদের এ নিয়ে ব্যাপক ক্ষোভ দেখা যাচ্ছে।

গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই সতর্ক করা হচ্ছিল। বিশেষ করে গত হজ মৌসুমের আগে বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয় এবং বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষকে (বেবিচক) লিখিতভাবে জানানো হয় যে, পর্যাপ্ত ট্রলি না থাকলে যাত্রীদের ভোগান্তি এবং বিমানবন্দরে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনা করে মন্ত্রণালয় বেবিচককে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেয়। বেবিচকের সংশ্লিষ্ট দফতর থেকে ৫০০টি নতুন ট্রলি কেনার প্রস্তাব সদর দফতরে পাঠানো হলেও তা শেষ পর্যন্ত অনুমোদন পায়নি। ফলে ফিরতি হজ মৌসুমে চরম সংকট দেখা দেয়, যা অনেক ক্ষেত্রে হাতাহাতি ও ভাঙচুরের মতো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টি করে।

ট্রলি কেনার প্রস্তাব বাতিল হওয়ার পেছনে তৃতীয় টার্মিনাল চালুর পরিকল্পনার প্রভাব রয়েছে। কর্তৃপক্ষ আশা করেছিল, নতুন টার্মিনাল চালু হলে জাপানি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পর্যাপ্ত ট্রলি সরবরাহ করা সম্ভব হবে। তবে টার্মিনাল চালু হওয়ার বিলম্বের কারণে পুরোনো ট্রলির ওপরই নির্ভর করতে হচ্ছে। সংকট সামাল দিতে চট্টগ্রাম ও সিলেট বিমানবন্দর থেকে ২৫০টি ট্রলি এনে ব্যবহার করা হলেও তা যথেষ্ট ছিল না। বেবিচক অনুদান হিসেবেও ট্রলি সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছিল এবং একটি কোম্পানি ট্রলি দিতে রাজি হলেও এখনো তা বিমানবন্দরে এসে পৌঁছায়নি।

এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগিব সামাদ জানিয়েছেন, বর্তমানে বিমানবন্দরে ৪ হাজার ১৯০টি ট্রলি মজুদ রয়েছে। তার মতে, অনেকগুলো ফ্লাইট একসাথে ল্যান্ড করলে যাত্রীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় সাময়িকভাবে ট্রলির ঘাটতি দেখা দেয়। তিনি আরও জানান, আরও ৫০০টি ট্রলি সংগ্রহের প্রক্রিয়া চলছে এবং এগুলো যুক্ত হলে যাত্রী সেবায় চলমান এই সংকট কেটে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।