ঢাকা ০৮:৫২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সিরাজগঞ্জে বালুর স্তূপে চাপা পড়েছে কৃষকের আবাদি জমি

  • আপডেট সময় : ০৩:১৮:৫৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 3
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার ঝাটিবেলাই মৌজায় ফুলজোড় নদীর নাব্যতা ফেরাতে পানি উন্নয়ন বোর্ড নদী খনন প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছিল। এই খনন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে তোলা বালু নদী তীরবর্তী কৃষিজমির ওপর স্তূপ করে রাখা হয়। পরে সেই বালু স্থানীয় ইজারাদার সরকারের কাছ থেকে কিনে নিলেও আইনি জটিলতার কারণে তা অপসারণের কাজ বন্ধ রয়েছে। এতে প্রায় দুই বছর ধরে ১০ জন কৃষকের ১৫ থেকে ২০ বিঘা আবাদি জমি বালুর নিচে চাপা পড়ে আছে।

স্থানীয় কৃষকরা জানিয়েছেন, আগে এই জমিতে পেয়ারা, ভুট্টা ও বেগুনের বাম্পার ফলন হতো। তাদের ভাষ্যমতে, এই জমিগুলো থেকে বছরে প্রায় ২৫০-৩০০ মণ পেয়ারা, ৭০-১০০ মণ ভুট্টা এবং ৫০-৭০ মণ বেগুনসহ অন্যান্য ফসল উৎপাদিত হতো। কিন্তু বালুর স্তূপের কারণে জমি চাষের অযোগ্য হয়ে পড়ায় কৃষকরা তাদের আয়ের উৎস হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

জমি মালিক রফিকুল ইসলাম ও সাইফুল ইসলাম জানান, দীর্ঘদিন বালু পড়ে থাকায় তারা চাষাবাদ করতে পারছেন না। বালুগুলো দ্রুত সরিয়ে নেওয়া হলে তারা জমিগুলো পুনরায় চাষযোগ্য করে তুলতে পারবেন। তবে বালু সরানোর প্রক্রিয়াটি বর্তমানে আইনি জটিলতায় আটকে আছে বলে জানা গেছে।

ইজারাদার মো. আতিকুর রহমান সোহাগ দাবি করেন, তারাও সাধারণ মানুষের ক্ষতি করতে চান না। তিনি জানান, কৃষিজমি থেকে বালু সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে তারা আগ্রহী, তবে বর্তমানে আইনি জটিলতার কারণে কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না। তিনি আশ্বস্ত করেছেন যে, বালু সরিয়ে নেওয়া হলে কৃষকরা আবার তাদের জমিতে ফসল ফলাতে পারবেন।

ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. ফরিদ হোসাইন জানান, স্থানীয় কৃষকরা সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এই বিষয়ে উপজেলা প্রশাসন ইতিমধ্যেই ইজারাদারের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।

কামারখন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ড. বিপাশা হোসাইন জানান, বালু সরানোর লক্ষ্যে প্রশাসন থেকে একাধিকবার অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। ইজারাদারদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্তের জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। গভীর রাতে গোপনে বালু সরানোর অপচেষ্টা রোধেও প্রশাসন তৎপর রয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বছর খানেক আগেও নদীর পাড়ের আবাদি জমিতে চোখ জুড়িয়ে যেত ভুট্টা, বেগুনসহ নানান ধরণের ফসলের চাষ হতো। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: জীবিকা সন্ধানে জমিগুলোতে ব্যস্ত সময় পার করতো কৃষকেরা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: জমিতে ফসল ফলিয়ে ঘুরতো তাদের জীবিকার চাকা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কিন্তু সেই জমিতে এখন কৃষকের ব্যস্ততা নেই, গজিয়েছে আগাছা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তাদের ভাষ্যমতে নদী খননের বালুতে জমি নয়, যেন চাপা পড়েছে তাদের স্বপ্ন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: নদী থেকে উত্তোলিত বালু স্তুপ করে রাখা হয় নদী পারের ব্যক্তি মালিকানা আবাদি জমির উপর। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ফলে বছরে লক্ষ লক্ষ টাকা ক্ষতির মুখে পড়েছেন এই চরের কৃষকরা।

নিউজটি শেয়ার করুন

সিরাজগঞ্জে বালুর স্তূপে চাপা পড়েছে কৃষকের আবাদি জমি

আপডেট সময় : ০৩:১৮:৫৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার ঝাটিবেলাই মৌজায় ফুলজোড় নদীর নাব্যতা ফেরাতে পানি উন্নয়ন বোর্ড নদী খনন প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছিল। এই খনন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে তোলা বালু নদী তীরবর্তী কৃষিজমির ওপর স্তূপ করে রাখা হয়। পরে সেই বালু স্থানীয় ইজারাদার সরকারের কাছ থেকে কিনে নিলেও আইনি জটিলতার কারণে তা অপসারণের কাজ বন্ধ রয়েছে। এতে প্রায় দুই বছর ধরে ১০ জন কৃষকের ১৫ থেকে ২০ বিঘা আবাদি জমি বালুর নিচে চাপা পড়ে আছে।

স্থানীয় কৃষকরা জানিয়েছেন, আগে এই জমিতে পেয়ারা, ভুট্টা ও বেগুনের বাম্পার ফলন হতো। তাদের ভাষ্যমতে, এই জমিগুলো থেকে বছরে প্রায় ২৫০-৩০০ মণ পেয়ারা, ৭০-১০০ মণ ভুট্টা এবং ৫০-৭০ মণ বেগুনসহ অন্যান্য ফসল উৎপাদিত হতো। কিন্তু বালুর স্তূপের কারণে জমি চাষের অযোগ্য হয়ে পড়ায় কৃষকরা তাদের আয়ের উৎস হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

জমি মালিক রফিকুল ইসলাম ও সাইফুল ইসলাম জানান, দীর্ঘদিন বালু পড়ে থাকায় তারা চাষাবাদ করতে পারছেন না। বালুগুলো দ্রুত সরিয়ে নেওয়া হলে তারা জমিগুলো পুনরায় চাষযোগ্য করে তুলতে পারবেন। তবে বালু সরানোর প্রক্রিয়াটি বর্তমানে আইনি জটিলতায় আটকে আছে বলে জানা গেছে।

ইজারাদার মো. আতিকুর রহমান সোহাগ দাবি করেন, তারাও সাধারণ মানুষের ক্ষতি করতে চান না। তিনি জানান, কৃষিজমি থেকে বালু সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে তারা আগ্রহী, তবে বর্তমানে আইনি জটিলতার কারণে কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না। তিনি আশ্বস্ত করেছেন যে, বালু সরিয়ে নেওয়া হলে কৃষকরা আবার তাদের জমিতে ফসল ফলাতে পারবেন।

ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. ফরিদ হোসাইন জানান, স্থানীয় কৃষকরা সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এই বিষয়ে উপজেলা প্রশাসন ইতিমধ্যেই ইজারাদারের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।

কামারখন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ড. বিপাশা হোসাইন জানান, বালু সরানোর লক্ষ্যে প্রশাসন থেকে একাধিকবার অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। ইজারাদারদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্তের জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। গভীর রাতে গোপনে বালু সরানোর অপচেষ্টা রোধেও প্রশাসন তৎপর রয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বছর খানেক আগেও নদীর পাড়ের আবাদি জমিতে চোখ জুড়িয়ে যেত ভুট্টা, বেগুনসহ নানান ধরণের ফসলের চাষ হতো। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: জীবিকা সন্ধানে জমিগুলোতে ব্যস্ত সময় পার করতো কৃষকেরা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: জমিতে ফসল ফলিয়ে ঘুরতো তাদের জীবিকার চাকা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কিন্তু সেই জমিতে এখন কৃষকের ব্যস্ততা নেই, গজিয়েছে আগাছা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তাদের ভাষ্যমতে নদী খননের বালুতে জমি নয়, যেন চাপা পড়েছে তাদের স্বপ্ন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: নদী থেকে উত্তোলিত বালু স্তুপ করে রাখা হয় নদী পারের ব্যক্তি মালিকানা আবাদি জমির উপর। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ফলে বছরে লক্ষ লক্ষ টাকা ক্ষতির মুখে পড়েছেন এই চরের কৃষকরা।