নগরাঞ্চলের দুর্যোগ সহনশীলতা প্রকল্পের আওতায় ২০০ জন নগর সেচ্ছাসেবী ভূমিকম্প মোকাবেলায় প্রস্তুত

মোহাম্মদ আশরাফ উদ্দিন মুকুলঃ সম্প্রতি বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এর মিরপুর ১০ ট্রেনিং কমপ্লেক্স এ ২০০ জন সেচ্ছাসেবী কে ভূমিকম্প মোকাবেলায় প্রশিক্ষন প্রদান করা হয়েছে । ভূমিকম্পসহ নগরাঞ্চলের অন্যান্য দুর্যোগ যথা  ভূমিকম্প অগ্নিকান্ড, জলাবদ্ধতা ইত্যাদির দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস, প্রতিষ্ঠান ও জনগোষ্ঠীর সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং কার্যকর সমন্বয়ের মাধ্যমে সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি কমাতে  পপুলেশন সার্ভিসেস এন্ড ট্রেনিং সেন্টার (পিএসটিসি), প্লান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ’র সহযোগিতায় ঢাকা দক্ষিন সিটি কর্পোরেশনের আওতাভূক্ত ৩৩, ৩৮ ৪৭ এবং ৪৯ ওয়ার্ডে ‘‘নগরাঞ্চলের দুর্যোগ সহনশীলতা বৃদ্ধি’’ প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে। প্রকল্প বাস্তবায়নে আর্থিক সহায়তা করছে ‘ইউরোপিয়ান কমিশস হিউমেনিটারিয়ান এইড এন্ড সিভিল প্রটেকশন’ বিভাগ। মূলত ঢাকা শহর কেন্দ্রিক ভূমিকম্প এবং ভূমিকম্প পরবর্তি দুর্যোগ মোকাবেলায় নগরবাসীকে প্রস্তুত করার জন্য এই প্রকল্পটি তার কার্যক্রম পরিচালিত করছে।

ইতোমধ্যে এই প্রকল্পের আওতায় ৪ টি ওয়ার্ডে ওয়ার্ড দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন করা হয়েছে যারা যেকোন দুর্যোগ পরিস্থিতিতে ওয়ার্ড পর্যায়ে মূল ভূমিকা পালন করবে। যেকোন দুর্যোগ এর জন্য হাসপাতালকে প্রস্তুত করাও এই প্রকল্পের অন্যতম লক্ষ্য। স্থানীয় পর্যায়ে বড় ধরনের হতাহত ব্যবস্থাপনা করার অভিজ্ঞতা অনেক হাসপাতালের নেই। প্রাথমিকভাবে প্রকল্প এলাকায় মুগদা জেনারেল কলেজ ও হাসপাতাল এবং মনোয়ারা অর্থপেডিক ও জেনারেল হাসপাতালকে ভূমিকম্প মোকাবেলার জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে।  বড় ধরনের ভূমিকম্পে শিশুরা বেশী ক্ষতিগ্রস্থ হবে। শিশুদেরকে ভূমিকম্প ঝুকিঁ সর্ম্পকে অবহিতকরণ এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাপনা গ্রহনকল্পে এই প্রকল্পের মাধ্যমে ৪টি স্কুল নির্বাচিত করা হয়েছে। এই ৪টি স্কুলের সাথে সর্ম্পকিত সকল পক্ষ ভূমিকম্প সর্ম্পকে অবগত হবে এবং কিভাবে তা মোকাবেলা করা যায় তা শিখবে।

প্রায় ২ কোটি  জনগণের আবাসস্থল এই ঢাকা শহর। যেকোন দূর্যোগ মোকাবেলা দরকার অভিজ্ঞ সেচ্ছাসেবী। প্রকল্পের অর্থায়নে ৪টি ওয়ার্ড থেকে ওয়ার্ড দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি সহায়তায় ৫০ জন করে মোট ২০০ জনকে নগর সেচ্ছাসেবী হিসাবে নির্বাচিত করা হয়েছে। ফায়ার সার্ভিস এ- সিভিল ডিফেন্স এই ২০০ জন নগর সেচ্ছাসেবকদের ৩দিনের মৌলিক প্রশিক্ষন দিয়েছে।

প্রকল্প চলাকালীন সকল ধরনের সহায়তা করার জন্য পপুলেশন সার্ভিসেস এ- ট্রেনিং এবং সিভিল সার্ভিস এ- সিভিল ডিফেন্স এর মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক সাক্ষরিত হয়েছে। নগর সেচ্ছাসেবীদের প্রশিক্ষন দেওয়া ছাড়াও হাসপাতালে গণহতাহত ব্যবস্থাপনা প্রশিক্ষন, মহড়া স্কুলে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় প্রয়োজনীয় মহড়া, এবং ওয়ার্ড ঝুকিঁ নিরূপনে ফায়ার সার্ভিস সহযোগিতা করবে। ফায়ার সার্ভিস সর্ম্পকে প্রকল্প সমন্বয়কারী মোঃ ইকবাল হাসান জানান “সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সাথে কাজ করার সুযোগ হয়েছে। কিন্তু সকল সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান থেকে ফায়ার সার্ভিস সত্যিকার অর্থেই একটি ভিন্নধর্মী প্রতিষ্ঠান। মানবসেবার ব্রত নিয়ে তারা যা করছে তা সত্যিই অতুলনীয়।

সেচ্ছাসেবী গঠণে সমাজের সকল স্তরের মানুষের এগিয়ে আসতে হবে। ৫০ জন সেচ্ছাসেবী তৈরী করতে ৩লক্ষ ৫০ হাজার টাকার প্রয়োজন হয়ে থাকে। সরকারী সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে ফায়ার সার্ভিস এর এই বাজেট বরাদ্দ নাও থাকতে পারে। সমাজে অনেক বিত্তবান আছেন যারা বিভিন্ন সমাজ সেবার কাজে নিজস্ব অর্থ দান করে থাকেন, অনেকে আছেন যারা যাকাত দিয়ে থাকেন, অনেক প্রতিষ্ঠান আছেন যারা সিএসআর এর আওতায় সামাজিক দায়িত্ব পালন করে থাকেন। এই সকল ব্যাক্তিবর্গ এবং প্রতিষ্ঠান যদি ফায়ার সার্ভিসকে নতুন নতুন সেচ্ছাসেবীদের প্রশিক্ষন প্রদানে সহায়তা করতে পারে তাহলে আমরা সত্যিকার অর্থে ঢাকা শহরের দুর্যোগ মোকাবেলায় আরো শক্তিশালী হব”।

বিডিসংবাদ/এএইচএস