হকিস্টিক না স্ট্যাম্প দিয়ে পিটিয়েছি: ঢাবি ছাত্রলীগ নেতা
- আপডেট সময় : ০৯:৫৬:২৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০১৭
- / 269
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মোতাহার হোসেন প্রিন্সের হকিস্টিকের পিটুনিতে চার ছাত্রলীগ কর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন। বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হলে তিনি এ কাণ্ড ঘটান।
দুই গ্রুপের সংঘর্ষ থামানোর নামে বিপরীত গ্রুপের কর্মীদের ওপর পরিকল্পিতভাবে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক এ হামলা চালিয়েছেন বলে অভিযোগ ছাত্রলীগের একটি অংশের।
আহতরা হলেন- বিশ্ব ধর্ম ও সংস্কৃতি বিভাগের রুহুল আমিন, ফার্সি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের সাগর আহমেদ, তথ্যবিজ্ঞান ও গ্রন্থাগার ব্যবস্থাপনা বিভাগের সাগর প্রধান ও মনোবিজ্ঞান বিভাগের মনিরুল ইসলাম। তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষের ছাত্র।

এছাড়া সমাজকল্যাণ বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের রতন আলী সরকার ও রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের আলী হোসাইন, দর্শন বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ইমতিয়াজ, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের মার্স্টাসের ফরহাদ উদ্দিনকেও হকিস্টিক দিয়ে আঘাত করা হয়।
হল সূত্র জানায়, গভীর রাতে হলে গান গাওয়া নিয়ে ঘটনার সূত্রপাত। হলের ১০৯নং কক্ষে শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ইউসুফ উদ্দীন খান এবং ১১০ ও ১১১ নং রুমে সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মাসুদ লিমনের অনুসারীরা অবস্থান করত।
সভাপতি ইউসুফ কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এসএম জাকির হোসাইনের অনুসারী এবং সাধারণ সম্পাদক লিমন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের অনুসারী।
সভাপতি গ্রুপের দাবি, সাধারণ সম্পাদকের অনুসারীরা প্রায় দিনই রাত আড়াইটা-তিনটার দিকে উচ্চস্বরে গান গাইতো। বিষয়টি নিয়ে সভাপতি গ্রুপের নেতাকর্মীরা আপত্তি জানালে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
এরই জের ধরে বুধবার সকালে বাথরুম থেকে ফেরার পথে লিমনের অনুসারীরা রুহুল আমিনের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এতে পুনরায় উভয় গ্রুপে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
এসময় ঢাবি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মোতাহার হোসেন প্রিন্স এসে ১০৯নং কক্ষে প্রবেশ করে এবং হকিস্টিক দিয়ে কক্ষটিতে অবস্থানরতদের এলোপাতাড়ি পেটাতে থাকে।
হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ইউসুফ উদ্দীন খান বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় সাধারণ সম্পাদকের নিকট থেকে এমন আচরণ সত্যিই অপ্রত্যাশিত ও লজ্জাজনক। তিনি এমন একটি পদে থেকে হলের প্রথম বর্ষের ছাত্রদের কিভাবে হকিস্টিক দিয়ে পেটালেন তা আমি বুঝে উঠতে পারছি না।’
হল ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মাসুদ লিমন যুগান্তরকে বলেন, ‘হলে কোনো মারামারির ঘটনা ঘটেনি। জুনিয়রদের মধ্যে একটু ধাক্কাধাক্কি হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক গিয়ে উভয়পক্ষকে মিলিয়ে দেন।’
জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মোতাহার হোসেন প্রিন্স বলেন, ‘হকিস্টিক দিয়ে পিটাইনি। স্ট্যাম্প দিয়ে পিটিয়েছি। স্ট্যাম্প ওদের হাত থেকেই নিয়েছি।’
তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর কর্মসূচিকে সামনে রেখে একটি অংশ হলে ঝামেলা পাকানোর চেষ্টা করছিল, তাই পিটিয়েছি।’
নিজ গ্রুপের কাউকে শাসন করেননি কেন- এমন প্রশ্নের জবাবে প্রিন্স বলেন, ‘আমার গ্রুপের ওরা আগেই পালিয়েছে। অন্য গ্রুপের ওরা দাঁড়িয়েছিল। তাই ওদেরকে পিটিয়েছি।’




















