‘অবস্থান’ ও ‘আদর্শ’ থেকে বিচ্ছুত হবো না: মাহমুদুর রহমান
- আপডেট সময় : ১০:৫৫:৩৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০১৭
- / 336
নিজের ‘অবস্থান’ ও ‘আদর্শ’ থেকে সরে আসবেন না বলে জানিয়েছেন আমার দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমান। তিনি অভিযোগ করেছেন, তার ওপর ‘রিমান্ডের’ নামে যে নির্যাতন হয়েছে, এমন নির্যাতন আর কারও ওপর হয়নি। আজ সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে মাহমুদুর রহমান এ কথা বলেন।
গত ২৩ নভেম্বর কাশিমপুর কারাগার থেকে মুক্তি লাভের পর এই প্রথম মিডিয়ার মুখোমুখি হন মাহমুদুর রহমান। প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি জানান, দীর্ঘ চার বছর তিনি কারাগারে নির্যাতনের শিকার হয়েছে। তার শারিরীক অবস্থাও ভাল না। ঢাকা মেডিকেলের ৩ সদস্যের একটি বোর্ড তাকে বিদেশে চিকিৎসা নেওয়ার জন্য সুপারিশ করেছেন। এর প্রেক্ষিতে আপিল বিভাগ তাকে যুক্তরাজ্যে চিকিৎসা করানোর জন্য অনুমতি দিয়েছে। তবে আপিল বিভাগ চারটি শর্ত দিয়েছে। সেগুলো হচ্ছে- যুক্তরাজ্যে তিনি ৩০ দিনের বেশি অবস্থান করতে পারবেন না, সেখানে গিয়ে রাজনৈতিক কর্মকান্ড পরিচালনা করতে পারবেন না, চিকিৎসা শেষে ২৪ ঘন্টার মধ্যে পাসপোর্ট আদালতে জমা দিতে হবে এবং তার বিরুদ্ধে মামলার নিস্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পাসপোর্ট জমা রাখতে হবে।
এসব শর্তের প্রেক্ষিতে তার নাগরিক অধিকার ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে অভিযোগ করে মাহমুদুর রহমান বলেন, আমার চিকিৎসার অধিকার, বাক স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়া হয়েছে। সংবিধান অনুযায়ী আমার রাজনীতি করার অধিকার রয়েছে। আমার ওপরে যে নির্যাতন হয়েছে তার আর কারও ক্ষেত্রে হয়নি। তারপরও আমি আমার আদর্শ থেকে বিচ্যুত হবো না। ইসলামের পক্ষে মৃত্যু পর্যন্ত অবিচল থাকবো।
যুক্তরাজ্যে চিকিৎসার জন্য ভিসা না পাওয়ায় দুঃখ প্রকাশ করে মাহমুদুর রহমান বলেন, তিনি এ ঘটনায় দুঃখিত হলেও অবাক হননি। নিজের শারিরীক অবস্থার বর্ণনা দিয়ে আমার দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক বলেন, তার কোনো কর্মক্ষেত্র নেই। জেলখানায় বসেও তিনি লিখতেন। বর্তমানে ডান হাত তুলতে পারেন না। ঠিকভাবে লিখতেও পারেন না।
প্রেস ব্রিফিংয়ের মঞ্চে ফরহাদ মাজহার, শওকত মাহমুদ, রুহুল আমিন গাজী, সৈয়দ আবদাল আহমেদ, ইলিয়াস খানসহ সাংবাদিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
২০১৩ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জামায়াতে ইসলামীর নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর রায় নিয়ে বিচারপতির কথোপকথন-সংক্রান্ত স্কাইপ কেলেঙ্কারির ঘটনা পত্রিকায় প্রকাশ করায় মাহমুদুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। একই বছর ১১ এপ্রিল দৈনিক আমার দেশ কার্যালয় থেকে তাঁকে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে মোট ৯৩টি মামলা রয়েছে। সব মামলায় জামিন শেষে তিনি মুক্তি পান।




















