ঢাকা ০৯:০৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

ইউক্রেনে দখলকৃত এলাকায় ‘জালিয়াতির’ গণভোটে রাশিয়ার বিজয় দাবি

  • আপডেট সময় : ১১:১৭:৪৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২২
  • / 137
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বিডিসংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ

ইউক্রেনে রাশিয়ার দখল করা অঞ্চলগুলোতে যে তথাকথিত গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে সেটির মাধ্যমে ওইসব জায়গাকে রাশিয়া তাদের অংশ করে নিতে ব্যবহার করতে পারে।

দখলকৃত অঞ্চলে মস্কো যেসব কর্মকর্তাদের বসিয়েছে, তারা দাবি করছে এই গণভোটে অংশ নেয়া ব্যক্তিদের মধ্যে প্রায় সবাই রাশিয়ার অংশে যাবার জন্য মত দিয়েছে।

এই গণভোটকে ‘জালিয়াতি’ আখ্যা দিয়ে প্রত্যাখ্যান করেছে ইউক্রেন ও তার মিত্র দেশগুলো। গণভোট আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি না পাওয়ার কারণে এর প্রক্রিয়া স্বাধীনভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়নি।

ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চল দোনেৎস্ক, লুহানস্ক ও দক্ষিণাঞ্চলে জাপোরিশা অঞ্চলে এই গণভোট আয়োজন করা হয়।

গণভোট থেকে প্রাপ্ত আংশিক ফলাফলে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে যে বিপুল সংখ্যক মানুষ রাশিয়ায় যোগ দেয়ার পক্ষে মত দিয়েছে।

যুদ্ধ-বিধ্বস্ত এসব অঞ্চলে প্রায় ৪০ লাখ মানুষকে ভোট দেয়ার আহ্বান জানানো হয়েছিল। এ চারটি অঞ্চল ইউক্রেনের মোট ভূমির প্রায় ১৫ শতাংশ।

দোনেৎস্ক ও লুহানস্ক অঞ্চলে রুশপন্থী বিভিন্ন সংবাদ সংস্থা খবর দিচ্ছে যে ৯৯ দশমিক ২৩ শতাংশ মানুষ রাশিয়ায় যোগ দেয়ার পক্ষে ভোট দিয়েছে। যা গণভোটের ক্ষেত্রে এ ধরণের ফলাফল বেশ অস্বাভাবিক।

ধারণা করা হচ্ছে, প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন শুক্রবার রাশিয়ার পার্লামেন্টের এক যৌথ অধিবেশনে এ চারটি অঞ্চলকে রাশিয়ার অংশ করে নেয়ার ঘোষণা দেবেন।

২০১৪ সালের মার্চ মাসে একই ধরনের একটি গণভোটের আয়োজন মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট পুতিন ক্রাইমিয়াকে রাশিয়ার অংশ করে নেয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। সে গণভোটও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত হয়নি।

যুদ্ধ ভিন্ন মাত্রায় পৌঁছানোর ঝুঁকি

রাশিয়া যদি এই চারটি অঞ্চলে নিজেদের অংশ করে নেয়, তখন যুদ্ধ আরেকটি ভিন্ন ও বিপজ্জনক মাত্রায় পৌঁছে যাবে।

কারণ এসব অঞ্চল ফিরে পাওয়ার জন্য ইউক্রেন যখন যুদ্ধ করবে তখন সেটিকে রাশিয়া তাদের সার্বভৌম ভূমিতে হামলা হিসেবে বিবেচনা করবে।

জোর করে চারটি অঞ্চল রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে নেয়ার চেষ্টাকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলোনস্কি জাতিসঙ্ঘ সনদের চরম লঙ্ঘন হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, দখল করা এলাকাগুলোতে এ ধরনের প্রহসনকে গণভোটের নকলও বলা যায় না।

নতুন নিষেধাজ্ঞা

ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী দিমিত্রো কুলেবা ইউরোপীয় ইউনিয়নকে আহ্বান জানিয়েছে যাতে রাশিয়ার উপর আরো কঠোর নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়।

এই গণভোট বাস্তবায়নের সাথে যেসব কর্মকর্তা জড়িত তাদের উপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে ব্রিটেন।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিনকেন আবারো বলেন, ইউক্রেনের এসব অঞ্চলকে রাশিয়ার অংশ করে নিলে সেটিকে পশ্চিমারা কখনোই স্বীকৃতি দিবে না।

গণভোট নিয়ে একজন সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ওয়াং ওয়েনবিন বলেন, সবদেশের সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতাকে অবশ্যই সম্মান করতে হবে।

এই গণভোটকে সমর্থন জানিয়ে প্রেসিডেন্ট পুতিন বলেছেন, এসব অঞ্চলে বসবাসরত জাতিগত রাশিয়ান এবং রাশিয়ান ভাষাভাষী জনগণের উপর দমন-পীড়ন বন্ধ করার জন্য এই আয়োজন করা হয়েছে।

যদিও কোনো ধরনের দমন-পীড়নের অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করেছে ইউক্রেন।

কিয়েভ থেকে বিবিসির সংবাদদাতা জেমস ওয়াটার হাউস-এর বিশ্লেষণ হচ্ছে, চারটি অঞ্চলে গণভোটের যে ফলাফল আসবে সেটিতে অবাক হওয়ার মতো তেমন কিছুই থাকবে না।

জেমস ওয়াটারহাউসের মতে, এ গণভোটের মাধ্যমে রাশিয়া ইউক্রেনে তাদের অবস্থানের বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করছে।

এসব অঞ্চলকে রাশিয়ার অংশ করে নেয়ার মাধ্যমে এখানে বসবাসরত ইউক্রেনীয়দের ‘স্বাধীনতা’ দেয়ার জন্য রাশিয়ার যে চেষ্টা করছে সেটির ধারাবাহিকতা হচ্ছে এই গণভোট।

সূত্র : বিবিসি

বিডিসংবাদ/এএইচএস

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

ইউক্রেনে দখলকৃত এলাকায় ‘জালিয়াতির’ গণভোটে রাশিয়ার বিজয় দাবি

আপডেট সময় : ১১:১৭:৪৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২২

বিডিসংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ

ইউক্রেনে রাশিয়ার দখল করা অঞ্চলগুলোতে যে তথাকথিত গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে সেটির মাধ্যমে ওইসব জায়গাকে রাশিয়া তাদের অংশ করে নিতে ব্যবহার করতে পারে।

দখলকৃত অঞ্চলে মস্কো যেসব কর্মকর্তাদের বসিয়েছে, তারা দাবি করছে এই গণভোটে অংশ নেয়া ব্যক্তিদের মধ্যে প্রায় সবাই রাশিয়ার অংশে যাবার জন্য মত দিয়েছে।

এই গণভোটকে ‘জালিয়াতি’ আখ্যা দিয়ে প্রত্যাখ্যান করেছে ইউক্রেন ও তার মিত্র দেশগুলো। গণভোট আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি না পাওয়ার কারণে এর প্রক্রিয়া স্বাধীনভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়নি।

ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চল দোনেৎস্ক, লুহানস্ক ও দক্ষিণাঞ্চলে জাপোরিশা অঞ্চলে এই গণভোট আয়োজন করা হয়।

গণভোট থেকে প্রাপ্ত আংশিক ফলাফলে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে যে বিপুল সংখ্যক মানুষ রাশিয়ায় যোগ দেয়ার পক্ষে মত দিয়েছে।

যুদ্ধ-বিধ্বস্ত এসব অঞ্চলে প্রায় ৪০ লাখ মানুষকে ভোট দেয়ার আহ্বান জানানো হয়েছিল। এ চারটি অঞ্চল ইউক্রেনের মোট ভূমির প্রায় ১৫ শতাংশ।

দোনেৎস্ক ও লুহানস্ক অঞ্চলে রুশপন্থী বিভিন্ন সংবাদ সংস্থা খবর দিচ্ছে যে ৯৯ দশমিক ২৩ শতাংশ মানুষ রাশিয়ায় যোগ দেয়ার পক্ষে ভোট দিয়েছে। যা গণভোটের ক্ষেত্রে এ ধরণের ফলাফল বেশ অস্বাভাবিক।

ধারণা করা হচ্ছে, প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন শুক্রবার রাশিয়ার পার্লামেন্টের এক যৌথ অধিবেশনে এ চারটি অঞ্চলকে রাশিয়ার অংশ করে নেয়ার ঘোষণা দেবেন।

২০১৪ সালের মার্চ মাসে একই ধরনের একটি গণভোটের আয়োজন মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট পুতিন ক্রাইমিয়াকে রাশিয়ার অংশ করে নেয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। সে গণভোটও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত হয়নি।

যুদ্ধ ভিন্ন মাত্রায় পৌঁছানোর ঝুঁকি

রাশিয়া যদি এই চারটি অঞ্চলে নিজেদের অংশ করে নেয়, তখন যুদ্ধ আরেকটি ভিন্ন ও বিপজ্জনক মাত্রায় পৌঁছে যাবে।

কারণ এসব অঞ্চল ফিরে পাওয়ার জন্য ইউক্রেন যখন যুদ্ধ করবে তখন সেটিকে রাশিয়া তাদের সার্বভৌম ভূমিতে হামলা হিসেবে বিবেচনা করবে।

জোর করে চারটি অঞ্চল রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে নেয়ার চেষ্টাকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলোনস্কি জাতিসঙ্ঘ সনদের চরম লঙ্ঘন হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, দখল করা এলাকাগুলোতে এ ধরনের প্রহসনকে গণভোটের নকলও বলা যায় না।

নতুন নিষেধাজ্ঞা

ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী দিমিত্রো কুলেবা ইউরোপীয় ইউনিয়নকে আহ্বান জানিয়েছে যাতে রাশিয়ার উপর আরো কঠোর নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়।

এই গণভোট বাস্তবায়নের সাথে যেসব কর্মকর্তা জড়িত তাদের উপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে ব্রিটেন।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিনকেন আবারো বলেন, ইউক্রেনের এসব অঞ্চলকে রাশিয়ার অংশ করে নিলে সেটিকে পশ্চিমারা কখনোই স্বীকৃতি দিবে না।

গণভোট নিয়ে একজন সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ওয়াং ওয়েনবিন বলেন, সবদেশের সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতাকে অবশ্যই সম্মান করতে হবে।

এই গণভোটকে সমর্থন জানিয়ে প্রেসিডেন্ট পুতিন বলেছেন, এসব অঞ্চলে বসবাসরত জাতিগত রাশিয়ান এবং রাশিয়ান ভাষাভাষী জনগণের উপর দমন-পীড়ন বন্ধ করার জন্য এই আয়োজন করা হয়েছে।

যদিও কোনো ধরনের দমন-পীড়নের অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করেছে ইউক্রেন।

কিয়েভ থেকে বিবিসির সংবাদদাতা জেমস ওয়াটার হাউস-এর বিশ্লেষণ হচ্ছে, চারটি অঞ্চলে গণভোটের যে ফলাফল আসবে সেটিতে অবাক হওয়ার মতো তেমন কিছুই থাকবে না।

জেমস ওয়াটারহাউসের মতে, এ গণভোটের মাধ্যমে রাশিয়া ইউক্রেনে তাদের অবস্থানের বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করছে।

এসব অঞ্চলকে রাশিয়ার অংশ করে নেয়ার মাধ্যমে এখানে বসবাসরত ইউক্রেনীয়দের ‘স্বাধীনতা’ দেয়ার জন্য রাশিয়ার যে চেষ্টা করছে সেটির ধারাবাহিকতা হচ্ছে এই গণভোট।

সূত্র : বিবিসি

বিডিসংবাদ/এএইচএস