ঢাকা ১১:০৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬, ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বাঁ-হাতি বোলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ উইকেটের রেকর্ড স্টার্কের এশিয়ান গেমস ক্রিকেটে পদক লড়াইয়ে মুখোমুখি হতে পারে ভারত-পাকিস্তান কোকোর নামে বগুড়ায় জাতীয় প্যারা স্পোর্টস কমপ্লেক্স নির্মাণের ঘোষণা ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর কারাবন্দি ও পলাতক আসামিদের জন্য সাধারণ ক্ষমা আইন পাস করল লেবানন মার্কিন রণতরী আব্রাহাম লিংকনের পরিস্থিতি নিয়ে তদন্ত দাবি সিনেটরদের জাপানের দাবিকৃত কুরিল দ্বীপপুঞ্জ সফর পুতিনের সুদানের রাজধানী খার্তুমে টানা দ্বিতীয় দিন আধাসামরিক বাহিনীর ড্রোন হামলা সকলের মতামত নিয়েই সংবিধান সংশোধন করা হবে: চিফ হুইপ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দু’জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র দাখিল, ১৬ আগস্ট যাচাই-বাছাই: ইসি সচিব রাষ্ট্রপতি পদে দলের প্রার্থী হিসেবে মির্জা ফখরুলকে বেছে নিলেন প্রধানমন্ত্রী

রাজনৈতিক লক্ষ্য পূরণে সৌদি আরবের আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ!

  • আপডেট সময় : ০৯:২৪:০৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অক্টোবর ২০২২
  • / 309
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বিডিসংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ

অ্যামাজন, গুগল, মাইক্রোসফট, উবার, পেপ্যালসহ বিশ্বের নামকরা অনেক প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ করেছে সৌদি আরব৷ তারা কি ভবিষ্যতে এই বিনিয়োগ রাজনৈতিক লক্ষ্য পূরণে ব্যবহার করবে?

২০১৫ সালে এমবিএস নামে পরিচিত মোহাম্মদ বিন সালমান সৌদি আরবের ক্ষমতার কেন্দ্রে আসার পর বিভিন্ন ক্ষেত্রে পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে৷ ১৯৭১ সালে চালু হওয়া দেশটির ‘পাবলিক ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড’ পিআইএফ ব্যবহার করে দেশকে আধুনিকতর করা এবং আয়ের উৎস বাড়ানোর পরিকল্পনা করেন এমবিএস৷ তারই অংশ হিসেবে ২০১৬ সালে উবার-এ সাড়ে তিন বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়ে বিশ্বে প্রথম আলোড়ন তুলেছিলেন এমবিএস৷

২০৩০ সালের মধ্যে পিআইএফকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ও ‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ’ সভরেন ওয়েলথ ফান্ড বা ‘সার্বভৌম সম্পদ তহবিল’ হতে চায়৷ বিশ্বের অনেক দেশেরই এমন তহবিল আছে৷ এসব তহবিল রাষ্ট্রীয় সমর্থনপুষ্ট হয়ে থাকে৷ বর্তমানে নরওয়ের তহবিল সবচেয়ে বড়, যার পরিমাণ ১.৪ ট্রিলিয়ন ডলার৷

২০৩০ সালের মধ্যে পিআইএফ-এর সম্পদের পরিমাণ দুই ট্রিলিয়ন ডলারে নিয়ে যেতে চান মোহাম্মেদ বিন সালমান৷ বর্তমানে এর সম্পদের পরিমাণ ৬০৮ বিলিয়ন ডলার, যা ২০১৫ সালের তুলনায় প্রায় চার গুণ বেশি৷

ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর তেল রফতানি করে সৌদি আরবের আয় বাড়ছে৷ ফলে পিআইএফ-এর আকার আরো বড় হবে বলেই মনে হচ্ছে৷

কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার অন গ্লোবাল এনার্জি পলিসির সিনিয়র গবেষক কারেন ইয়ং বলছেন, বর্তমানে শুধু লাভের আশায় কাজ করছে পিআইএফ৷ অভ্যন্তরীণ প্রবৃদ্ধি, নতুন চাকরির সুযোগ তৈরির জন্য এই তহবিল কাজে লাগানো হচ্ছে৷ তবে ভবিষ্যতে পিআইএফ আরো বেশি রাজনৈতিক হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করেন তিনি৷

জার্মান ইনস্টিটিউট ফর ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড সিকিউরিটি অ্যাফেয়ার্স বা এসডাব্লিউপির মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকা বিভাগের প্রধান স্টেফান রোল জানান, মিসরের বিভিন্ন কোম্পানি কিনছে বা সেগুলোতে বিনিয়োগ করছে পিআইএফ৷ যদিও এ ব্যাপারে অস্বচ্ছতা আছে৷ তাই মিসরের সুশীল সমাজ উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বলে জানিয়েছেন রোল৷

তবে কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ইয়ংয়ের মতো এসডাব্লিউপির স্টেফান রোলও মনে করছেন, এই মুহূর্তে সৌদিরা রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার নিয়ে কম চিন্তিত৷ তাদের মূল লক্ষ্য লাভ করা৷

ইয়ং জানান, অতীতে ইউরোপ ও জার্মানিতে পিআইএফকে বিনিয়োগ করতে দেখা যায়নি৷ তবে বর্তমানে তারা গ্রিস ও জার্মানিতে বিনিয়োগের চিন্তা করছে৷ ইতিমধ্যে তারা ব্রিটেনে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের দল নিউকাসেল ইউনাইটেড কিনেছে৷ এসডাব্লিউপি ২০১৯ সালে তাদের এক প্রতিবেদনে বলেছিল, পিআইএফ যদি ইউরোপে বিনিয়োগ করতে চায় তখন তার রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে মূল্যায়ন জরুরি হয়ে পড়বে৷
সূত্র : ডয়চে ভেলে

বিডিসংবাদ/এএইচএস

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

রাজনৈতিক লক্ষ্য পূরণে সৌদি আরবের আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ!

আপডেট সময় : ০৯:২৪:০৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অক্টোবর ২০২২

বিডিসংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ

অ্যামাজন, গুগল, মাইক্রোসফট, উবার, পেপ্যালসহ বিশ্বের নামকরা অনেক প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ করেছে সৌদি আরব৷ তারা কি ভবিষ্যতে এই বিনিয়োগ রাজনৈতিক লক্ষ্য পূরণে ব্যবহার করবে?

২০১৫ সালে এমবিএস নামে পরিচিত মোহাম্মদ বিন সালমান সৌদি আরবের ক্ষমতার কেন্দ্রে আসার পর বিভিন্ন ক্ষেত্রে পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে৷ ১৯৭১ সালে চালু হওয়া দেশটির ‘পাবলিক ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড’ পিআইএফ ব্যবহার করে দেশকে আধুনিকতর করা এবং আয়ের উৎস বাড়ানোর পরিকল্পনা করেন এমবিএস৷ তারই অংশ হিসেবে ২০১৬ সালে উবার-এ সাড়ে তিন বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়ে বিশ্বে প্রথম আলোড়ন তুলেছিলেন এমবিএস৷

২০৩০ সালের মধ্যে পিআইএফকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ও ‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ’ সভরেন ওয়েলথ ফান্ড বা ‘সার্বভৌম সম্পদ তহবিল’ হতে চায়৷ বিশ্বের অনেক দেশেরই এমন তহবিল আছে৷ এসব তহবিল রাষ্ট্রীয় সমর্থনপুষ্ট হয়ে থাকে৷ বর্তমানে নরওয়ের তহবিল সবচেয়ে বড়, যার পরিমাণ ১.৪ ট্রিলিয়ন ডলার৷

২০৩০ সালের মধ্যে পিআইএফ-এর সম্পদের পরিমাণ দুই ট্রিলিয়ন ডলারে নিয়ে যেতে চান মোহাম্মেদ বিন সালমান৷ বর্তমানে এর সম্পদের পরিমাণ ৬০৮ বিলিয়ন ডলার, যা ২০১৫ সালের তুলনায় প্রায় চার গুণ বেশি৷

ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর তেল রফতানি করে সৌদি আরবের আয় বাড়ছে৷ ফলে পিআইএফ-এর আকার আরো বড় হবে বলেই মনে হচ্ছে৷

কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার অন গ্লোবাল এনার্জি পলিসির সিনিয়র গবেষক কারেন ইয়ং বলছেন, বর্তমানে শুধু লাভের আশায় কাজ করছে পিআইএফ৷ অভ্যন্তরীণ প্রবৃদ্ধি, নতুন চাকরির সুযোগ তৈরির জন্য এই তহবিল কাজে লাগানো হচ্ছে৷ তবে ভবিষ্যতে পিআইএফ আরো বেশি রাজনৈতিক হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করেন তিনি৷

জার্মান ইনস্টিটিউট ফর ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড সিকিউরিটি অ্যাফেয়ার্স বা এসডাব্লিউপির মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকা বিভাগের প্রধান স্টেফান রোল জানান, মিসরের বিভিন্ন কোম্পানি কিনছে বা সেগুলোতে বিনিয়োগ করছে পিআইএফ৷ যদিও এ ব্যাপারে অস্বচ্ছতা আছে৷ তাই মিসরের সুশীল সমাজ উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বলে জানিয়েছেন রোল৷

তবে কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ইয়ংয়ের মতো এসডাব্লিউপির স্টেফান রোলও মনে করছেন, এই মুহূর্তে সৌদিরা রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার নিয়ে কম চিন্তিত৷ তাদের মূল লক্ষ্য লাভ করা৷

ইয়ং জানান, অতীতে ইউরোপ ও জার্মানিতে পিআইএফকে বিনিয়োগ করতে দেখা যায়নি৷ তবে বর্তমানে তারা গ্রিস ও জার্মানিতে বিনিয়োগের চিন্তা করছে৷ ইতিমধ্যে তারা ব্রিটেনে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের দল নিউকাসেল ইউনাইটেড কিনেছে৷ এসডাব্লিউপি ২০১৯ সালে তাদের এক প্রতিবেদনে বলেছিল, পিআইএফ যদি ইউরোপে বিনিয়োগ করতে চায় তখন তার রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে মূল্যায়ন জরুরি হয়ে পড়বে৷
সূত্র : ডয়চে ভেলে

বিডিসংবাদ/এএইচএস