ঢাকা ১১:২৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সৌদিতে সামরিক হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত, নিহত দুই ক্রু আগামী ২০ অক্টোবর রাজশাহী সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কুড়িগ্রামে ডিবি পরিচয়ে প্রতারণা, ভুয়া পুলিশ সদস্য আটক টানা ছয় ম্যাচ জয়হীন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড হাজং ভাষার সুরক্ষায় বই প্রকাশ করলেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার শেরেবাংলা নগরে সরছে সচিবালয়, মন্ত্রিসভায় চূড়ান্ত অনুমোদন কক্সবাজার বিমানবন্দরে বোর্ডিং ব্রিজের প্রথম ব্যবহার ইউএস-বাংলার বিএনপির সঙ্গে থাকলেও জামায়াতের মনে আওয়ামী লীগ: রিজভী নারায়ণগঞ্জে ভোরে ছিনতাইয়ের কবলে সাংবাদিক ও তার মেয়ে মক্কায় দুই বাংলাদেশির দণ্ডাদেশ: সৌদি রাষ্ট্রদূতকে তলব করল সরকার

বিএসএফের বিরুদ্ধে ভারতীয় নারী ও শিশুদের ওপরে লাঠিচার্জের অভিযোগ

  • আপডেট সময় : ০১:০১:৪৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৩
  • / 113
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বিডিসংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের একটি সীমান্তবর্তী গ্রামে নারী ও শিশুদের ওপরে বিএসএফ সদস্যদের বিরুদ্ধে লাঠিচার্জের অডিভযোগ উঠেছে। শনিবার অভিযোগের সরেজমিন তদন্তে এপিডিআর নামের একটি মানবাধিকার সংগঠন সেখানে গিয়েছিল।

এপিডিআর বলছে মলুয়াপাড়া নামের ওই গ্রামটির মানুষ বেশ কিছুদিন ধরেই নতুন করে সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেয়ার বিরোধিতা করছিলেন। গত ৮ ফেব্রুয়ারি বিএসএফ যন্ত্রপাতি নিয়ে এসে বেড়ার কাজ শুরু করলে বিক্ষোভ দেখান ২০০ নারী ও শিশু।

গ্রামবাসীদের অভিযোগ, ওই বিক্ষোভের ওপরেই লাঠিচার্জ করে বিএসএফের পুরুষ সদস্যরা। এতে ওই গ্রামের ১১ নারী আহত হয়েছেন।

এদিকে বিএসএফ তাদের বিরুদ্ধে গ্রামবাসীর সব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তারা বলছে, ওই দিন কোনো লাঠিচার্জই হয়নি। গ্রামবাসীরা সরকারি যন্ত্রপাতি ভাঙতে উদ্যত হলে তারা লাঠি উচিয়ে তাদের সরিয়ে দিয়েছেন।

কী হয়েছিল ওই গ্রামে?
মলুয়াপাড়ার বাসিন্দা জরিনা বিশ্বাস টেলিফোনে বলেন, ‘গত ৮ তারিখ ছিল হাটবার। তাই পুরুষরা কেউ বাড়িতে ছিলেন না। সেই সুযোগে বিকেল ৩টার দিকে রাস্তার রোলারসহ যন্ত্রপাতি নিয়ে এসে তারকাটার বেড়া দেয়ার কাজ শুরু করে বিএসএফ। আমরা যখন বাধা দিতে যাই, আমাকেই প্রথমে লাঠি দিয়ে মারে তারা। বিএসএফের কোনো নারী কনস্টেবল ছিল না, সবাই পুরুষ মানুষ’।

জরিনা বিশ্বাস বলেন, ‘আমার পিঠে লাঠি দিয়ে মারে আর সাথে হিন্দিতে অশ্রাব্য গালিগালাজ করছিল ওরা। একজন বিএসএফ আমার হাত ধরে রেখেছিল আর গালিগালাজ করে মারছিল। আবার পাথরও ছুঁড়ছিল। এমনকি বাচ্চা ছেলে মেয়েরা, যারা মোবাইলে ভিডিও করছিল, তাদের তাড়া করে মোবাইল কেড়ে নিয়েছে।’

‘কেন নিজের দেশেই যাতায়াত নিয়ন্ত্রণ করবে বিএসএফ?’
ওই গ্রামের বাসিন্দারা বেশকিছু দিন ধরেই আন্দোলন করছেন কাঁটাতারের বেড়া দেয়ার বিরুদ্ধে। তারা বলছেন, যেখানে বেড়া দেয়ার কথা হচ্ছে, তাতে গ্রামের একটা বড় অংশই বেড়ার বাইরে চলে যাবে। তার ফলে মূল ভূখণ্ডে আসার জন্য তাদের বেড়ার মাঝে মাঝে থাকা গেট ব্যবহার করতে হবে। ওই গেটগুলো বিএসএফ সময় অনুযায়ী খোলে আর বন্ধ করে।

গ্রামের বাসিন্দা আনোয়ার বিশ্বাস বলেন, ‘তারকাঁটার বেড়া দেয়ার যে নিয়ম, তা হলো সীমান্ত থেকে ১৫০ গজ দূরে। তাতে আমাদের কোনো আপত্তি নেই। বিএসএফ বলেছিল তারা রাস্তা তৈরি করে দেবে, তাতেও আমরা রাজি ছিলাম। কিন্তু আমাদের গ্রামে কোথাও হাজার গজ, কোথাও ১৮০০ গজ ভেতরেও বেড়া দেয়া হচ্ছে। এর ফলে ২৩০টি ঘর বেড়ার বাইরে চলে যাবে।’

তার প্রশ্ন, ভারতীয় হয়েও তারা কেন বেড়ার বাইরে থাকতে বাধ্য হবেন, আর কেনই বা নিজের দেশেই তাদের যাতায়াত নিয়ন্ত্রণ করবে বিএসএফ!

সরেজমিন তদন্তে যা দেখলেন মানবাধিকার কর্মীরা
শনিবার বিশ্বাসদের গ্রামে সরেজমিনে তদন্তে গিয়েছিল মানবাধিকার সংগঠন এপিডিআরের একটি দল। ওই দলটির নেত্রী ও সংগঠনটির কৃষ্ণনগর ইউনিটের সম্পাদক মৌটুলি নাগ সরকার বলেন, ‘গ্রামে যেদিন থেকে মাটি কাটার সরঞ্জাম নিয়ে গেছে বিএসএফ, সেদিন থেকেই গ্রামবাসীরা বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন। তারা এ নিয়ে মহকুমা শাসকের কাছে একটা ডেপুটেশনও দিয়েছেন। ৮ তারিখ প্রায় শ’ দুয়েক নারী বিক্ষোভ করেন। তখনই বিএসএফ লাঠি চার্জ শুরু করে। প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ মিটার পর্যন্ত লাঠি চার্জ করে এগিয়ে গিয়েছিল বিএসএফ।

মানবাধিকার কর্মী মিজ নাগ সরকার জানান, ‘একজন নারী আমাদের জানিয়েছেন যে তার কোলে শিশু সন্তান ছিল। বিক্ষোভের মধ্যে শিশুটি পড়ে যায়, তাকে সরিয়ে দিয়ে ওই নারীকে মেরেছে বিএসএফ। নারীরা আমাদের তাদের চোট আঘাতও দেখিয়েছেন। কারো পায়ে, কারো কোমরে, কারো পিঠে আঘাত লেগেছে। কারো হাত-পা ভাঙেনি, কিন্তু একজনের মাথা ফেটেছে।’

গ্রামবাসীদের কাছে ওই দিনের লাঠি চার্জের ঘটনার ভিডিও তারা দেখেছেন বলে জানান এপিডিআর নেত্রী।

অভিযোগ নিয়ে যা বলছে বিএসএফ?
গ্রামবাসীদের অভিযোগ আর এপিডিআরের সরেজমিন তদন্তের প্রসঙ্গে বিবিসি বাংলা যোগাযোগ করেছিল বিএসএফের দক্ষিণবঙ্গ সীমান্ত অঞ্চলের সদর দফতরে।

বাহিনীর মুখপাত্র ও ডিআইজি এ কে আরিয়া জানিয়েছেন, ‘সেদিন ওখানে লাঠিচার্জের কোনো ঘটনা হয়নি। স্থানীয় পুলিশকেও আমরা খবর দিয়েছিলাম। গ্রামের মানুষ বিএসএফ প্রহরীদের দিকে পাথর ছুঁড়ছিলেন আর জেসিবি প্রভৃতি যেসব মাটি কাটার সরঞ্জাম সেখানে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, সেগুলির ক্ষতি করার চেষ্টা করছিলেন। বাহিনী গ্রামবাসীদের ওই প্রচেষ্টায় বাধা দিয়েছে মাত্র।

ডিআইজি আরিয়া জানায়, ‘নারী কনস্টেবল ছিলেন না বলে যে অভিযোগ আপনার কাছে করেছেন গ্রামবাসীরা, সেই প্রসঙ্গে বলি, সব জায়গায় তো নারী কনস্টেবল থাকেন না। তাদের খবর দিলে আসতে কিছুটা সময় তো লাগেই।’

কাঁটাতারের বেড়া দেয়া নিয়ে গ্রামবাসীরা যে অভিযোগ তুলেছেন, সেই ব্যাপারে বিএসএফ কর্মকর্তা বলেন যে ওখানে নতুন করে বেড়া দেয়া হচ্ছে না। নব্বইয়ের দশকের শেষ দিকে যে বেড়া ওখানে দেয়া হয়েছিল, সেখানেই নতুন করে কাঁটাতার লাগানো হচ্ছে।

ডিআইজি বলেন, ‘পুরেনো কাঁটাতারের বেড়া অনেক জায়গাতেই আবহাওয়া আর চোরাকারবারীরা কেটে দেয়ার ফলে নষ্ট হয়ে গেছে। সীমান্তের জিরো পয়েন্ট থেকে কোথাও ১৫০ মিটার কোথাও ১৮০ মিটার দূরে বেড়া দেয়া হচ্ছে। ওই জমি বিএসএফ অনেক আগেই অধিগ্রহণ করে রেখেছে।’

তিনি আরো অভিযোগ করেন যে নতুন করে যে বেড়া দেয়া হচ্ছে, সেই কাঁটাতার এমনভাবেই তৈরি যে ওগুলো পাচারকারীরা কাটতেও পারবে না আবার ওতে জং-ও ধরবে না।

তার কথায়, ‘এরকম বেড়া বসানো হলে পাচারকারীরা আর আন্তঃসীমান্ত অপরাধীরাই সমস্যায় পড়বে। তাই গ্রামবাসীদের তারাই পেছন থেকে মদদ দিয়ে এইসব প্রতিবাদ, বিক্ষোভ করাচ্ছে। গ্রামের অনেকেও সরাসরি বা পরোক্ষভাবে চোরাকারবারে জড়িত। তারা তো চাইবেই না যে এরকম আধুনিক বেড়া বসানো হোক।’

বিএসএফ প্রসঙ্গে অমিত শাহকে চ্যালেঞ্জ শীর্ষ তৃণমূল কংগ্রেস নেতার
এদিকে উত্তরবঙ্গ সীমান্ত অঞ্চলে ডিসেম্বর মাসে বিএসএফের গুলিতে এক ভারতীয় গ্রামবাসীর নিহত হওয়া নিয়ে শনিবার সরব হয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেস দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জী।

কোচবিহার জেলার মাথাভাঙ্গায় একটি রাজনৈতিক সভায় ব্যানার্জী বলেন, ‘প্রেমকুমার বর্মন, বয়স ২৩-২৪। বেঙ্গালুরুতে কাজ করত। চার বছর পর বাড়ি ফিরেছিল। গত ২৪ ডিসেম্বর সকালে মাঠে গিয়েছিল। সেখানে দু’হাত দূর থেকে বিএসএফ জওয়ানরা তাকে গুলি করে মেরেছে’।

অভিষেক ব্যানার্জী বলেন, ‘বিএসএফের উপদ্রবের কথা সকলেই জানেন। এটা বলছি কারণ, এই রাজবংশী, তরতাজা যুবককে যে ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যা করা হলো, তা নিয়ে রাজবংশীদের প্রতি দরদ দেখানো ভারতের প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং তার ডেপুটি, এখানকার বিজেপি সাংসদকে প্রশ্ন করতে চাই, প্রেমকুমার কি উগ্রবাদী ছিল?’

বিএসএফের গুলিতে নিহত বর্মনের ময়নাতদন্তের রিপোর্ট জনসভায় দেখান ব্যানার্জী। সেই রিপোর্ট উদ্ধৃত করে তিনি বলেন যে ১৮০টা গুলির টুকরো পাওয়া গেছে ওই যুবকের দেহে। যে ছররা বন্দুক ভারতশাসিত কাশ্মীরে চালানো হয়, সেই গুলি চালানো হয়েছিল প্রেমকুমার বর্মনের পায়ে।

সূত্র : বিবিসি

বিডিসংবাদ/এএইচএস

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

বিএসএফের বিরুদ্ধে ভারতীয় নারী ও শিশুদের ওপরে লাঠিচার্জের অভিযোগ

আপডেট সময় : ০১:০১:৪৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৩

বিডিসংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের একটি সীমান্তবর্তী গ্রামে নারী ও শিশুদের ওপরে বিএসএফ সদস্যদের বিরুদ্ধে লাঠিচার্জের অডিভযোগ উঠেছে। শনিবার অভিযোগের সরেজমিন তদন্তে এপিডিআর নামের একটি মানবাধিকার সংগঠন সেখানে গিয়েছিল।

এপিডিআর বলছে মলুয়াপাড়া নামের ওই গ্রামটির মানুষ বেশ কিছুদিন ধরেই নতুন করে সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেয়ার বিরোধিতা করছিলেন। গত ৮ ফেব্রুয়ারি বিএসএফ যন্ত্রপাতি নিয়ে এসে বেড়ার কাজ শুরু করলে বিক্ষোভ দেখান ২০০ নারী ও শিশু।

গ্রামবাসীদের অভিযোগ, ওই বিক্ষোভের ওপরেই লাঠিচার্জ করে বিএসএফের পুরুষ সদস্যরা। এতে ওই গ্রামের ১১ নারী আহত হয়েছেন।

এদিকে বিএসএফ তাদের বিরুদ্ধে গ্রামবাসীর সব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তারা বলছে, ওই দিন কোনো লাঠিচার্জই হয়নি। গ্রামবাসীরা সরকারি যন্ত্রপাতি ভাঙতে উদ্যত হলে তারা লাঠি উচিয়ে তাদের সরিয়ে দিয়েছেন।

কী হয়েছিল ওই গ্রামে?
মলুয়াপাড়ার বাসিন্দা জরিনা বিশ্বাস টেলিফোনে বলেন, ‘গত ৮ তারিখ ছিল হাটবার। তাই পুরুষরা কেউ বাড়িতে ছিলেন না। সেই সুযোগে বিকেল ৩টার দিকে রাস্তার রোলারসহ যন্ত্রপাতি নিয়ে এসে তারকাটার বেড়া দেয়ার কাজ শুরু করে বিএসএফ। আমরা যখন বাধা দিতে যাই, আমাকেই প্রথমে লাঠি দিয়ে মারে তারা। বিএসএফের কোনো নারী কনস্টেবল ছিল না, সবাই পুরুষ মানুষ’।

জরিনা বিশ্বাস বলেন, ‘আমার পিঠে লাঠি দিয়ে মারে আর সাথে হিন্দিতে অশ্রাব্য গালিগালাজ করছিল ওরা। একজন বিএসএফ আমার হাত ধরে রেখেছিল আর গালিগালাজ করে মারছিল। আবার পাথরও ছুঁড়ছিল। এমনকি বাচ্চা ছেলে মেয়েরা, যারা মোবাইলে ভিডিও করছিল, তাদের তাড়া করে মোবাইল কেড়ে নিয়েছে।’

‘কেন নিজের দেশেই যাতায়াত নিয়ন্ত্রণ করবে বিএসএফ?’
ওই গ্রামের বাসিন্দারা বেশকিছু দিন ধরেই আন্দোলন করছেন কাঁটাতারের বেড়া দেয়ার বিরুদ্ধে। তারা বলছেন, যেখানে বেড়া দেয়ার কথা হচ্ছে, তাতে গ্রামের একটা বড় অংশই বেড়ার বাইরে চলে যাবে। তার ফলে মূল ভূখণ্ডে আসার জন্য তাদের বেড়ার মাঝে মাঝে থাকা গেট ব্যবহার করতে হবে। ওই গেটগুলো বিএসএফ সময় অনুযায়ী খোলে আর বন্ধ করে।

গ্রামের বাসিন্দা আনোয়ার বিশ্বাস বলেন, ‘তারকাঁটার বেড়া দেয়ার যে নিয়ম, তা হলো সীমান্ত থেকে ১৫০ গজ দূরে। তাতে আমাদের কোনো আপত্তি নেই। বিএসএফ বলেছিল তারা রাস্তা তৈরি করে দেবে, তাতেও আমরা রাজি ছিলাম। কিন্তু আমাদের গ্রামে কোথাও হাজার গজ, কোথাও ১৮০০ গজ ভেতরেও বেড়া দেয়া হচ্ছে। এর ফলে ২৩০টি ঘর বেড়ার বাইরে চলে যাবে।’

তার প্রশ্ন, ভারতীয় হয়েও তারা কেন বেড়ার বাইরে থাকতে বাধ্য হবেন, আর কেনই বা নিজের দেশেই তাদের যাতায়াত নিয়ন্ত্রণ করবে বিএসএফ!

সরেজমিন তদন্তে যা দেখলেন মানবাধিকার কর্মীরা
শনিবার বিশ্বাসদের গ্রামে সরেজমিনে তদন্তে গিয়েছিল মানবাধিকার সংগঠন এপিডিআরের একটি দল। ওই দলটির নেত্রী ও সংগঠনটির কৃষ্ণনগর ইউনিটের সম্পাদক মৌটুলি নাগ সরকার বলেন, ‘গ্রামে যেদিন থেকে মাটি কাটার সরঞ্জাম নিয়ে গেছে বিএসএফ, সেদিন থেকেই গ্রামবাসীরা বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন। তারা এ নিয়ে মহকুমা শাসকের কাছে একটা ডেপুটেশনও দিয়েছেন। ৮ তারিখ প্রায় শ’ দুয়েক নারী বিক্ষোভ করেন। তখনই বিএসএফ লাঠি চার্জ শুরু করে। প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ মিটার পর্যন্ত লাঠি চার্জ করে এগিয়ে গিয়েছিল বিএসএফ।

মানবাধিকার কর্মী মিজ নাগ সরকার জানান, ‘একজন নারী আমাদের জানিয়েছেন যে তার কোলে শিশু সন্তান ছিল। বিক্ষোভের মধ্যে শিশুটি পড়ে যায়, তাকে সরিয়ে দিয়ে ওই নারীকে মেরেছে বিএসএফ। নারীরা আমাদের তাদের চোট আঘাতও দেখিয়েছেন। কারো পায়ে, কারো কোমরে, কারো পিঠে আঘাত লেগেছে। কারো হাত-পা ভাঙেনি, কিন্তু একজনের মাথা ফেটেছে।’

গ্রামবাসীদের কাছে ওই দিনের লাঠি চার্জের ঘটনার ভিডিও তারা দেখেছেন বলে জানান এপিডিআর নেত্রী।

অভিযোগ নিয়ে যা বলছে বিএসএফ?
গ্রামবাসীদের অভিযোগ আর এপিডিআরের সরেজমিন তদন্তের প্রসঙ্গে বিবিসি বাংলা যোগাযোগ করেছিল বিএসএফের দক্ষিণবঙ্গ সীমান্ত অঞ্চলের সদর দফতরে।

বাহিনীর মুখপাত্র ও ডিআইজি এ কে আরিয়া জানিয়েছেন, ‘সেদিন ওখানে লাঠিচার্জের কোনো ঘটনা হয়নি। স্থানীয় পুলিশকেও আমরা খবর দিয়েছিলাম। গ্রামের মানুষ বিএসএফ প্রহরীদের দিকে পাথর ছুঁড়ছিলেন আর জেসিবি প্রভৃতি যেসব মাটি কাটার সরঞ্জাম সেখানে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, সেগুলির ক্ষতি করার চেষ্টা করছিলেন। বাহিনী গ্রামবাসীদের ওই প্রচেষ্টায় বাধা দিয়েছে মাত্র।

ডিআইজি আরিয়া জানায়, ‘নারী কনস্টেবল ছিলেন না বলে যে অভিযোগ আপনার কাছে করেছেন গ্রামবাসীরা, সেই প্রসঙ্গে বলি, সব জায়গায় তো নারী কনস্টেবল থাকেন না। তাদের খবর দিলে আসতে কিছুটা সময় তো লাগেই।’

কাঁটাতারের বেড়া দেয়া নিয়ে গ্রামবাসীরা যে অভিযোগ তুলেছেন, সেই ব্যাপারে বিএসএফ কর্মকর্তা বলেন যে ওখানে নতুন করে বেড়া দেয়া হচ্ছে না। নব্বইয়ের দশকের শেষ দিকে যে বেড়া ওখানে দেয়া হয়েছিল, সেখানেই নতুন করে কাঁটাতার লাগানো হচ্ছে।

ডিআইজি বলেন, ‘পুরেনো কাঁটাতারের বেড়া অনেক জায়গাতেই আবহাওয়া আর চোরাকারবারীরা কেটে দেয়ার ফলে নষ্ট হয়ে গেছে। সীমান্তের জিরো পয়েন্ট থেকে কোথাও ১৫০ মিটার কোথাও ১৮০ মিটার দূরে বেড়া দেয়া হচ্ছে। ওই জমি বিএসএফ অনেক আগেই অধিগ্রহণ করে রেখেছে।’

তিনি আরো অভিযোগ করেন যে নতুন করে যে বেড়া দেয়া হচ্ছে, সেই কাঁটাতার এমনভাবেই তৈরি যে ওগুলো পাচারকারীরা কাটতেও পারবে না আবার ওতে জং-ও ধরবে না।

তার কথায়, ‘এরকম বেড়া বসানো হলে পাচারকারীরা আর আন্তঃসীমান্ত অপরাধীরাই সমস্যায় পড়বে। তাই গ্রামবাসীদের তারাই পেছন থেকে মদদ দিয়ে এইসব প্রতিবাদ, বিক্ষোভ করাচ্ছে। গ্রামের অনেকেও সরাসরি বা পরোক্ষভাবে চোরাকারবারে জড়িত। তারা তো চাইবেই না যে এরকম আধুনিক বেড়া বসানো হোক।’

বিএসএফ প্রসঙ্গে অমিত শাহকে চ্যালেঞ্জ শীর্ষ তৃণমূল কংগ্রেস নেতার
এদিকে উত্তরবঙ্গ সীমান্ত অঞ্চলে ডিসেম্বর মাসে বিএসএফের গুলিতে এক ভারতীয় গ্রামবাসীর নিহত হওয়া নিয়ে শনিবার সরব হয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেস দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জী।

কোচবিহার জেলার মাথাভাঙ্গায় একটি রাজনৈতিক সভায় ব্যানার্জী বলেন, ‘প্রেমকুমার বর্মন, বয়স ২৩-২৪। বেঙ্গালুরুতে কাজ করত। চার বছর পর বাড়ি ফিরেছিল। গত ২৪ ডিসেম্বর সকালে মাঠে গিয়েছিল। সেখানে দু’হাত দূর থেকে বিএসএফ জওয়ানরা তাকে গুলি করে মেরেছে’।

অভিষেক ব্যানার্জী বলেন, ‘বিএসএফের উপদ্রবের কথা সকলেই জানেন। এটা বলছি কারণ, এই রাজবংশী, তরতাজা যুবককে যে ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যা করা হলো, তা নিয়ে রাজবংশীদের প্রতি দরদ দেখানো ভারতের প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং তার ডেপুটি, এখানকার বিজেপি সাংসদকে প্রশ্ন করতে চাই, প্রেমকুমার কি উগ্রবাদী ছিল?’

বিএসএফের গুলিতে নিহত বর্মনের ময়নাতদন্তের রিপোর্ট জনসভায় দেখান ব্যানার্জী। সেই রিপোর্ট উদ্ধৃত করে তিনি বলেন যে ১৮০টা গুলির টুকরো পাওয়া গেছে ওই যুবকের দেহে। যে ছররা বন্দুক ভারতশাসিত কাশ্মীরে চালানো হয়, সেই গুলি চালানো হয়েছিল প্রেমকুমার বর্মনের পায়ে।

সূত্র : বিবিসি

বিডিসংবাদ/এএইচএস