ঢাকা ০৫:০১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬, ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বাড়াতে বাংলাদেশ ও কসোভোর মধ্যে এফটিএ নিয়ে আলোচনা দেশনেত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন আগামীকাল : দলের পক্ষ থেকে কর্মসূচি ঘোষণা নিম্নচাপের প্রভাবে উপকূলে ঝড়ো হাওয়ার শঙ্কা, ৪ বন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত তানজিদ-মোমিনুলের সেঞ্চুরির জুটিতে লিডের দ্বারপ্রান্তে বাংলাদেশ গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঝড় ‘লালা’র আশঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াইয়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা ‘এক সংস্কৃতির’ আহ্বান প্রত্যাখ্যান অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর তীব্র গরমে দুর্বিষহ দিন কাটছে পাকিস্তানের খেজুর শ্রমিকদের বাঁ-হাতি বোলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ উইকেটের রেকর্ড স্টার্কের এশিয়ান গেমস ক্রিকেটে পদক লড়াইয়ে মুখোমুখি হতে পারে ভারত-পাকিস্তান কোকোর নামে বগুড়ায় জাতীয় প্যারা স্পোর্টস কমপ্লেক্স নির্মাণের ঘোষণা ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর

ডেঙ্গু রুখতে পশ্চিমবঙ্গ সীমান্তে বাংলাদেশীদের রক্ত পরীক্ষার প্রস্তাব

  • আপডেট সময় : ১১:৩৮:৩৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ জুলাই ২০২৩
  • / 163
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বিডিসংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ

বাংলাদেশ থেকে ডেঙ্গু জীবাণু নিয়ে কেউ সীমান্ত পেরিয়ে পশ্চিমবঙ্গে যাচ্ছে কি-না, তার ওপরে নজর রাখতে সীমান্তের অভিবাসন কেন্দ্রগুলোতে ডেঙ্গুর রক্ত পরীক্ষা করার প্রস্তাব দিয়েছে কলকাতা করপোরেশন।

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশ থেকে ডেঙ্গু আক্রান্ত কেউ পশ্চিমবঙ্গে যাচ্ছে কি-না, তা জানতে সীমান্তে রক্ত পরীক্ষার প্রস্তাবের কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।

বাংলাদেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি ভয়াবহ হওয়ার পরে এবার পশ্চিমবঙ্গেও ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে শুরু করেছে। গত ১২ দিনে পশ্চিমবঙ্গে অন্তত সাতজনের মৃত্যু হয়েছে, আক্রান্ত তিন হাজারেরও বেশি।

কলকাতার বাইরের জেলাগুলোতেও খুব দ্রুত ডেঙ্গু ছড়াচ্ছে বলে রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরের সূত্রগুলো জানিয়েছে।

কেন বাংলাদেশীদের রক্ত পরীক্ষা?
কলকাতার ডেপুটি মেয়র ও স্বাস্থ্য বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত মেয়র পারিষদ অতিন ঘোষ বলছেন, বাংলাদেশে ব্যাপক হারে ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়েছে। আবার নিয়মিত বহু মানুষ বাংলাদেশ থেকে কলকাতায় যাচ্ছে। তাদের মাধ্যমে যেন কলকাতায় ডেঙ্গু সংক্রমণ না ছড়ায়, তার জন্য সীমান্তে অভিবাসন কেন্দ্রে রক্ত পরীক্ষা করা উচিত।

অতিন ঘোষ এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘মানুষের শরীর ডেঙ্গু ভাইরাসের বাহক। কোনো মানুষ হয়ত ডেঙ্গু নিয়ে এখানে আসছেন। এমন একটি লোককে যদি এখানকার এডিস মশা কামড়ায়, তাতে এখানকার আরো বেশ কিছু মানুষের মধ্যে সংক্রমিত হবে। তাই আমরা চাচ্ছি, অভিবাসন পয়েন্টে যেন রক্ত পরীক্ষা হয়। রাজ্য সরকারকে আমরা চিঠি দিয়ে অনুরোধ করব যেন তারা এ বিষয়ে কেন্দ্রের সাথে কথা বলে।

স্থল আর বিমান বন্দর- দু’জায়গাতেই বাংলাদেশীদের রক্ত পরীক্ষার প্রস্তাব পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

তবে সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ ড. সায়ন চক্রবর্তি বলেন, এমন প্রস্তাবের কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।

তার কথায়, ‘এটা তো কোভিডের মতো নতুন কোনো ভাইরাস নয় যে সীমান্তে পরীক্ষা করে সংক্রমণ আটকানো যাবে। বাংলাদেশে যেমন ব্যাপকভাবে ডেঙ্গু হচ্ছে, তাতে এটা সেকেন্ডারি ডেঙ্গু বলেই মনে হচ্ছে। সেখান থেকে ভাইরাস নিয়ে যদি কেউ এদিকে আসে, তাতে যে সিভিয়ার ডেঙ্গু ছড়াবে পশ্চিমবঙ্গে, তার কোনো মানে নেই। এখানকার ভাইরাস থেকেও দ্বিতীয়বার কারো ডেঙ্গু হতে পারে। সেক্ষেত্রে সিভিয়ার হওয়ারই সম্ভাবনা থাকে।’

ডেঙ্গু রোগী আরো বাড়ার আশঙ্কা
সায়ন চক্রবর্তি কলকাতার যে হাসপাতালের সাথে যুক্ত, সেখানে এখন পর্যন্ত ‘সিভিয়ার’ ডেঙ্গু রোগী তেমন না গেলেও চিকিৎসকরা আশঙ্কা করছেন যে রোগীর সংখ্যা এবং ‘সিভিয়ার’ ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়বে অদূর ভবিষ্যতে।

তবে রাজ্যের সার্বিক ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের স্বাস্থ্য বিভাগের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়তে শুরু করেছে।

বুধবার স্বাস্থ্য দফতর ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে একটা বৈঠকও করেছে। ওই বৈঠকে বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে যেমন আলোচনা হয়েছে, তেমনই পরিকাঠামোতে কোথায় কমতি রয়েছে, তাও খতিয়ে দেখে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলা হয়েছে।

দফতরের সূত্রগুলো জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত কলকাতা শহর ছাড়া উত্তর ২৪ পরগণা, পশ্চিম বর্ধমান, দক্ষিণ দিনাজপুর, মালদহ, বাঁকুড়া আর নদীয়া জেলাগুলো থেকেই বেশি ডেঙ্গু আক্রান্তের খবর পাওয়া যাচ্ছে।

এগুলোর মধ্যে নদীয়া জেলাতেই সব থেকে বেশি ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে। ওই জেলায় এখন পর্যন্ত প্রায় ৭০০ জনের ডেঙ্গু হয়েছে।

কলকাতা শহরে এখন পর্যন্ত ১৯৭ জনের শরীরে ডেঙ্গু সংক্রম পাওয়া গেছে।

সংখ্যাটা এখন পর্যন্ত কম থাকলেও বর্ষার মৌসুমে আরো অনেক মানুষের শরীরে সংক্রমণ ধরা পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন চিকিৎসকরা।

মশা থেকে বাঁচতেই হবে
ডাক্তার সায়ন চক্রবর্তি বলেছেন, ‘প্রতিবছরই আমরা যেটা দেখি যে শুরুর দিকে সংখ্যাটা কম থাকলেও ধীরে ধীরে সংক্রমিতের সংখ্যা অনেক বেড়ে যায়। এবছরও তেমনই হবে বলে আশঙ্কা করছি আমরা। অন্য বছরে যা দেখি আমরা, বহু মানুষের একবার করে ডেঙ্গু তো হয়ই, দ্বিতীয়বার ডেঙ্গু হলেই কেসটা সিভিয়ার হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।’

এর থেকে বাঁচার একমাত্র উপায় মশা যেন না জন্মাতে পারে, আর জন্মালেও তা যেন না কামড়ায়।

সায়ন চক্রবর্তির কথায়, ‘মশারি টাঙানো একটা বড় সমাধান। আর তা না করতে পারলে মশা মারার যেসব তেল পাওয়া যায় অথবা আজকাল পোষাকে লাগানোর যে মলম পাওয়া যায়, সেগুলোও ব্যবহার করা যেতে পারে।’

চিকিৎসকরা বারবার বলছেন যে কয়েক দিনের জ্বর হলেই ডেঙ্গু-ম্যালেরিয়ার জন্য রক্ত পরীক্ষা করা দরকার। বেশি দিন জ্বর ফেলে রাখলে তা ‘সিভিয়ার’ হয়ে উঠতে পারে বলেও সতর্ক করছেন চিকিৎসকরা।

ডেঙ্গু প্রতিরোধ কর্মসূচিতে পৌর প্রশাসন
এর আগে, ২০১৯ সালে কলকাতা করপোরেশন প্রস্তাব দিয়েছিল যে ডেঙ্গু দমনে বাংলাদেশকে সহায়তা করতে প্রস্তুত তারা। কলকাতা পৌর প্রশাসন বলছে, তারা সারাবছর ডেঙ্গু প্রতিরোধ কর্মসূচি চালালেও বর্ষার আগে থেকেই তারা ডেঙ্গুরোধ কার্যক্রমে জোর দিচ্ছে।

কলকাতা করপোরেশনের অন্যতম বড় ওয়ার্ড, দক্ষিণ কলকাতার যোধপুর পার্ক অঞ্চলের ৯৩ নম্বর ওয়ার্ডটি।

সেখানকার পৌর-প্রতিনিধি মৌসুমি দাস জানিয়েছেন, বছরের অন্য সময়ে সপ্তাহে দু’দিন করে ডেঙ্গু মোকাবিলার কাজ হয়। কিন্তু বর্ষা মৌসুম শুরু হতে প্রতিদিনই তার এলাকায় এই কাজ করছেন তারা।

তিনি বলেন, ‘এটাকে আমাদের পরিভাষায় যৌথ কর্মসূচি বলি। যেখানে পৌরসভার সব সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মীরা, আমি নিজে- সবাই মিলে একটা এলাকা নির্দিষ্ট করে জমা পানি পরিষ্কার করি, আবর্জনা পরিষ্কার করি, মশা মারার তেল আর ব্লিচিং পাউডার ছড়াই। ওই এলাকায় সচেতনতা, প্রচারও চলতে থাকে।’

তবে যেসব বাড়ি তালাবন্ধ হয়ে পড়ে থাকে, সেখানে পানি জমেও ডেঙ্গু ছড়ানোর সম্ভাবনা তৈরি হয়। পুলিশের সহায়তা নিয়ে তালা ভেঙে ওই সব বাড়িতে ঢুকে জমে থাকা পানি পরিষ্কার করে আবার তালা বন্ধ করে দিচ্ছে পুলিশ।

একই সাথে বহুতল ভবনগুলোর ছাদে বা অন্য কোথাও পানি জমে থাকছে কি-না, তা দেখার জন্য ড্রোন ব্যবহার করা হয়।
সূত্র : বিবিসি

বিডিসংবাদ/এএইচএস

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

ডেঙ্গু রুখতে পশ্চিমবঙ্গ সীমান্তে বাংলাদেশীদের রক্ত পরীক্ষার প্রস্তাব

আপডেট সময় : ১১:৩৮:৩৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ জুলাই ২০২৩

বিডিসংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ

বাংলাদেশ থেকে ডেঙ্গু জীবাণু নিয়ে কেউ সীমান্ত পেরিয়ে পশ্চিমবঙ্গে যাচ্ছে কি-না, তার ওপরে নজর রাখতে সীমান্তের অভিবাসন কেন্দ্রগুলোতে ডেঙ্গুর রক্ত পরীক্ষা করার প্রস্তাব দিয়েছে কলকাতা করপোরেশন।

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশ থেকে ডেঙ্গু আক্রান্ত কেউ পশ্চিমবঙ্গে যাচ্ছে কি-না, তা জানতে সীমান্তে রক্ত পরীক্ষার প্রস্তাবের কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।

বাংলাদেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি ভয়াবহ হওয়ার পরে এবার পশ্চিমবঙ্গেও ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে শুরু করেছে। গত ১২ দিনে পশ্চিমবঙ্গে অন্তত সাতজনের মৃত্যু হয়েছে, আক্রান্ত তিন হাজারেরও বেশি।

কলকাতার বাইরের জেলাগুলোতেও খুব দ্রুত ডেঙ্গু ছড়াচ্ছে বলে রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরের সূত্রগুলো জানিয়েছে।

কেন বাংলাদেশীদের রক্ত পরীক্ষা?
কলকাতার ডেপুটি মেয়র ও স্বাস্থ্য বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত মেয়র পারিষদ অতিন ঘোষ বলছেন, বাংলাদেশে ব্যাপক হারে ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়েছে। আবার নিয়মিত বহু মানুষ বাংলাদেশ থেকে কলকাতায় যাচ্ছে। তাদের মাধ্যমে যেন কলকাতায় ডেঙ্গু সংক্রমণ না ছড়ায়, তার জন্য সীমান্তে অভিবাসন কেন্দ্রে রক্ত পরীক্ষা করা উচিত।

অতিন ঘোষ এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘মানুষের শরীর ডেঙ্গু ভাইরাসের বাহক। কোনো মানুষ হয়ত ডেঙ্গু নিয়ে এখানে আসছেন। এমন একটি লোককে যদি এখানকার এডিস মশা কামড়ায়, তাতে এখানকার আরো বেশ কিছু মানুষের মধ্যে সংক্রমিত হবে। তাই আমরা চাচ্ছি, অভিবাসন পয়েন্টে যেন রক্ত পরীক্ষা হয়। রাজ্য সরকারকে আমরা চিঠি দিয়ে অনুরোধ করব যেন তারা এ বিষয়ে কেন্দ্রের সাথে কথা বলে।

স্থল আর বিমান বন্দর- দু’জায়গাতেই বাংলাদেশীদের রক্ত পরীক্ষার প্রস্তাব পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

তবে সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ ড. সায়ন চক্রবর্তি বলেন, এমন প্রস্তাবের কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।

তার কথায়, ‘এটা তো কোভিডের মতো নতুন কোনো ভাইরাস নয় যে সীমান্তে পরীক্ষা করে সংক্রমণ আটকানো যাবে। বাংলাদেশে যেমন ব্যাপকভাবে ডেঙ্গু হচ্ছে, তাতে এটা সেকেন্ডারি ডেঙ্গু বলেই মনে হচ্ছে। সেখান থেকে ভাইরাস নিয়ে যদি কেউ এদিকে আসে, তাতে যে সিভিয়ার ডেঙ্গু ছড়াবে পশ্চিমবঙ্গে, তার কোনো মানে নেই। এখানকার ভাইরাস থেকেও দ্বিতীয়বার কারো ডেঙ্গু হতে পারে। সেক্ষেত্রে সিভিয়ার হওয়ারই সম্ভাবনা থাকে।’

ডেঙ্গু রোগী আরো বাড়ার আশঙ্কা
সায়ন চক্রবর্তি কলকাতার যে হাসপাতালের সাথে যুক্ত, সেখানে এখন পর্যন্ত ‘সিভিয়ার’ ডেঙ্গু রোগী তেমন না গেলেও চিকিৎসকরা আশঙ্কা করছেন যে রোগীর সংখ্যা এবং ‘সিভিয়ার’ ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়বে অদূর ভবিষ্যতে।

তবে রাজ্যের সার্বিক ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের স্বাস্থ্য বিভাগের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়তে শুরু করেছে।

বুধবার স্বাস্থ্য দফতর ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে একটা বৈঠকও করেছে। ওই বৈঠকে বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে যেমন আলোচনা হয়েছে, তেমনই পরিকাঠামোতে কোথায় কমতি রয়েছে, তাও খতিয়ে দেখে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলা হয়েছে।

দফতরের সূত্রগুলো জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত কলকাতা শহর ছাড়া উত্তর ২৪ পরগণা, পশ্চিম বর্ধমান, দক্ষিণ দিনাজপুর, মালদহ, বাঁকুড়া আর নদীয়া জেলাগুলো থেকেই বেশি ডেঙ্গু আক্রান্তের খবর পাওয়া যাচ্ছে।

এগুলোর মধ্যে নদীয়া জেলাতেই সব থেকে বেশি ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে। ওই জেলায় এখন পর্যন্ত প্রায় ৭০০ জনের ডেঙ্গু হয়েছে।

কলকাতা শহরে এখন পর্যন্ত ১৯৭ জনের শরীরে ডেঙ্গু সংক্রম পাওয়া গেছে।

সংখ্যাটা এখন পর্যন্ত কম থাকলেও বর্ষার মৌসুমে আরো অনেক মানুষের শরীরে সংক্রমণ ধরা পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন চিকিৎসকরা।

মশা থেকে বাঁচতেই হবে
ডাক্তার সায়ন চক্রবর্তি বলেছেন, ‘প্রতিবছরই আমরা যেটা দেখি যে শুরুর দিকে সংখ্যাটা কম থাকলেও ধীরে ধীরে সংক্রমিতের সংখ্যা অনেক বেড়ে যায়। এবছরও তেমনই হবে বলে আশঙ্কা করছি আমরা। অন্য বছরে যা দেখি আমরা, বহু মানুষের একবার করে ডেঙ্গু তো হয়ই, দ্বিতীয়বার ডেঙ্গু হলেই কেসটা সিভিয়ার হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।’

এর থেকে বাঁচার একমাত্র উপায় মশা যেন না জন্মাতে পারে, আর জন্মালেও তা যেন না কামড়ায়।

সায়ন চক্রবর্তির কথায়, ‘মশারি টাঙানো একটা বড় সমাধান। আর তা না করতে পারলে মশা মারার যেসব তেল পাওয়া যায় অথবা আজকাল পোষাকে লাগানোর যে মলম পাওয়া যায়, সেগুলোও ব্যবহার করা যেতে পারে।’

চিকিৎসকরা বারবার বলছেন যে কয়েক দিনের জ্বর হলেই ডেঙ্গু-ম্যালেরিয়ার জন্য রক্ত পরীক্ষা করা দরকার। বেশি দিন জ্বর ফেলে রাখলে তা ‘সিভিয়ার’ হয়ে উঠতে পারে বলেও সতর্ক করছেন চিকিৎসকরা।

ডেঙ্গু প্রতিরোধ কর্মসূচিতে পৌর প্রশাসন
এর আগে, ২০১৯ সালে কলকাতা করপোরেশন প্রস্তাব দিয়েছিল যে ডেঙ্গু দমনে বাংলাদেশকে সহায়তা করতে প্রস্তুত তারা। কলকাতা পৌর প্রশাসন বলছে, তারা সারাবছর ডেঙ্গু প্রতিরোধ কর্মসূচি চালালেও বর্ষার আগে থেকেই তারা ডেঙ্গুরোধ কার্যক্রমে জোর দিচ্ছে।

কলকাতা করপোরেশনের অন্যতম বড় ওয়ার্ড, দক্ষিণ কলকাতার যোধপুর পার্ক অঞ্চলের ৯৩ নম্বর ওয়ার্ডটি।

সেখানকার পৌর-প্রতিনিধি মৌসুমি দাস জানিয়েছেন, বছরের অন্য সময়ে সপ্তাহে দু’দিন করে ডেঙ্গু মোকাবিলার কাজ হয়। কিন্তু বর্ষা মৌসুম শুরু হতে প্রতিদিনই তার এলাকায় এই কাজ করছেন তারা।

তিনি বলেন, ‘এটাকে আমাদের পরিভাষায় যৌথ কর্মসূচি বলি। যেখানে পৌরসভার সব সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মীরা, আমি নিজে- সবাই মিলে একটা এলাকা নির্দিষ্ট করে জমা পানি পরিষ্কার করি, আবর্জনা পরিষ্কার করি, মশা মারার তেল আর ব্লিচিং পাউডার ছড়াই। ওই এলাকায় সচেতনতা, প্রচারও চলতে থাকে।’

তবে যেসব বাড়ি তালাবন্ধ হয়ে পড়ে থাকে, সেখানে পানি জমেও ডেঙ্গু ছড়ানোর সম্ভাবনা তৈরি হয়। পুলিশের সহায়তা নিয়ে তালা ভেঙে ওই সব বাড়িতে ঢুকে জমে থাকা পানি পরিষ্কার করে আবার তালা বন্ধ করে দিচ্ছে পুলিশ।

একই সাথে বহুতল ভবনগুলোর ছাদে বা অন্য কোথাও পানি জমে থাকছে কি-না, তা দেখার জন্য ড্রোন ব্যবহার করা হয়।
সূত্র : বিবিসি

বিডিসংবাদ/এএইচএস