ঢাকা ০৩:০৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬, ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
নিম্নচাপের প্রভাবে উপকূলে ঝড়ো হাওয়ার শঙ্কা, ৪ বন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত তানজিদ-মোমিনুলের সেঞ্চুরির জুটিতে লিডের দ্বারপ্রান্তে বাংলাদেশ গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঝড় ‘লালা’র আশঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াইয়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা ‘এক সংস্কৃতির’ আহ্বান প্রত্যাখ্যান অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর তীব্র গরমে দুর্বিষহ দিন কাটছে পাকিস্তানের খেজুর শ্রমিকদের বাঁ-হাতি বোলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ উইকেটের রেকর্ড স্টার্কের এশিয়ান গেমস ক্রিকেটে পদক লড়াইয়ে মুখোমুখি হতে পারে ভারত-পাকিস্তান কোকোর নামে বগুড়ায় জাতীয় প্যারা স্পোর্টস কমপ্লেক্স নির্মাণের ঘোষণা ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর কারাবন্দি ও পলাতক আসামিদের জন্য সাধারণ ক্ষমা আইন পাস করল লেবানন মার্কিন রণতরী আব্রাহাম লিংকনের পরিস্থিতি নিয়ে তদন্ত দাবি সিনেটরদের

বিএনপিই ভারতের দালালি করে: প্রধানমন্ত্রী

  • আপডেট সময় : ১১:৪৩:৩৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ মার্চ ২০১৭
  • / 304
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বিএনপি দ্বিচারিতার রাজনীতি করে বলে অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, বিএনপিই ভারতের দালালি করে কিন্তু উল্টো অভিযোগ আনে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে। স্থল ও সমুদ্রসীমা চুক্তি এবং গঙ্গার পানি বন্টন চুক্তি বঙ্গবন্ধু করে গেলেও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া কেউই তা নিয়ে আলোচনা বা অন্য কোনো পদক্ষেপ নেননি।

শনিবার রাজধানীর খামারবাড়ির কৃষিবিদ ইন্সটিটিউটে যুব মহিলা লীগের সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, বিএনপি আমলে অনুষ্ঠিত সব নির্বাচনেই তারা হয় কারচুপি করেছে, নয়তো ভোট চুরি কিংবা ব্যালট বাক্স ছিনতাই বা ভোটকেন্দ্র দখল অথবা সন্ত্রাস করে ভোট ছিনিয়ে নিয়েছে। তাদের মুখে সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে কথা বলা মানায় না।

শেখ হাসিনা বলেন, স্থলসীমা নিয়ে জাতির পিতা ইন্দিরা গান্ধীর সঙ্গে সীমান্ত চুক্তি করে রেখে যান। আইন পাশ করে রেখে যান। সংসদে সেই আইন পাশ হয়। কই বিএনপি, জিয়াউর রহমান, এরশাদ, খালেদা জিয়া যারাই ক্ষমতায় ছিলো কেউ তো কখনো একবারের জন্যও সীমানার দাবিও করেনি। সীমানা নির্দিষ্ট করার পদক্ষেপও নেয়নি। দালালি এমনভাবে ছিল যে, ওরা সে কথা উচ্চারণই করেনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সমুদ্রসীমা আইনও জাতির পিতা করে রেখে যান। জিয়া, খালেদা, এরশাদ সরকার ভারত ও মিয়ানমারের সঙ্গে আমাদের সমুদ্রসীমা কোন আলোচনা, কোন মামলা বা কোন পদক্ষেপ নিয়েছে? নেয়নি। কেন নেয়নি? যদি এতই দেশপ্রেমিক হবে দেশের এই সমস্যার কথা তোলেনি কেন?’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘অথচ আজকে শুনি খুব ভারত বিরোধী কথা! যারা ভারতের কাছে কিছুই আদায় করতে পারেনি এখন আবার খুব ভারতের বিরুদ্ধে কথা বলে। এসব বহু খেলা তারা খেলেছে। তাদের কোনো দেশপ্রেম নেই। ক্ষমতাটা তাদের কাছে ভোগের বস্তু’।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘২০০১ সালের নির্বাচনের আগে যখন আমেরিকান কোম্পানি আমাদের গ্যাস বিক্রি করতে চাইল ভারতের কাছে। ভারতের কাছে গ্যাস বিক্রির মুচলেকা দিয়েছিল খালেদা জিয়া। দিয়েই তো ক্ষমতায় এসেছিলো। আমি তো দেইনি। আমি চেয়েছিলাম আমার দেশের আগে দেশের মানুষের কাজে লাগবে, ৫০ বছরের রিজার্ভ থাকবে। তারপরে আমরা ভেবে দেখব বিক্রি করব কি করব না’।

আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘যাদের বিরুদ্ধে এত কথা বলে, এখানে সেই ‘র’ (ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা) এর প্রতিনিধি সে তো হাওয়া ভবনে বসেই থাকতো। আমেরিকার অ্যাম্বাসির লোক হাওয়া ভবনে বসেই থাকতো।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘(খালেদা জিয়া) ভারতবিরোধী কথা বললেন, তার আগে উনি গঙ্গা পানি আদায়ের জন্য ফারাক্কা পর্যন্ত লং মার্চও করেছিলেন। আন্দোলন করেছিলেন কিন্তু ভারত গিয়ে গঙ্গার পানির কথা ভুলেই গেলেন। ‘দালালিটা করে কে? আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর পরই আমরা কিন্তু গঙ্গার পানি ন্যায্য হিস্যা আদায় করেছি।

অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতীয় সঙ্গীতের সঙ্গে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি শান্তির প্রতীক পায়রা অবমুক্ত করেন।

সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক ফজিলাতুন্নেসা ইন্দিরা, যুব মহিলা লীগ সভাপতি নাজমা আক্তার, সাধারণ সম্পাদক অপু উকিল প্রমুখ।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

বিএনপিই ভারতের দালালি করে: প্রধানমন্ত্রী

আপডেট সময় : ১১:৪৩:৩৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ মার্চ ২০১৭

বিএনপি দ্বিচারিতার রাজনীতি করে বলে অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, বিএনপিই ভারতের দালালি করে কিন্তু উল্টো অভিযোগ আনে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে। স্থল ও সমুদ্রসীমা চুক্তি এবং গঙ্গার পানি বন্টন চুক্তি বঙ্গবন্ধু করে গেলেও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া কেউই তা নিয়ে আলোচনা বা অন্য কোনো পদক্ষেপ নেননি।

শনিবার রাজধানীর খামারবাড়ির কৃষিবিদ ইন্সটিটিউটে যুব মহিলা লীগের সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, বিএনপি আমলে অনুষ্ঠিত সব নির্বাচনেই তারা হয় কারচুপি করেছে, নয়তো ভোট চুরি কিংবা ব্যালট বাক্স ছিনতাই বা ভোটকেন্দ্র দখল অথবা সন্ত্রাস করে ভোট ছিনিয়ে নিয়েছে। তাদের মুখে সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে কথা বলা মানায় না।

শেখ হাসিনা বলেন, স্থলসীমা নিয়ে জাতির পিতা ইন্দিরা গান্ধীর সঙ্গে সীমান্ত চুক্তি করে রেখে যান। আইন পাশ করে রেখে যান। সংসদে সেই আইন পাশ হয়। কই বিএনপি, জিয়াউর রহমান, এরশাদ, খালেদা জিয়া যারাই ক্ষমতায় ছিলো কেউ তো কখনো একবারের জন্যও সীমানার দাবিও করেনি। সীমানা নির্দিষ্ট করার পদক্ষেপও নেয়নি। দালালি এমনভাবে ছিল যে, ওরা সে কথা উচ্চারণই করেনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সমুদ্রসীমা আইনও জাতির পিতা করে রেখে যান। জিয়া, খালেদা, এরশাদ সরকার ভারত ও মিয়ানমারের সঙ্গে আমাদের সমুদ্রসীমা কোন আলোচনা, কোন মামলা বা কোন পদক্ষেপ নিয়েছে? নেয়নি। কেন নেয়নি? যদি এতই দেশপ্রেমিক হবে দেশের এই সমস্যার কথা তোলেনি কেন?’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘অথচ আজকে শুনি খুব ভারত বিরোধী কথা! যারা ভারতের কাছে কিছুই আদায় করতে পারেনি এখন আবার খুব ভারতের বিরুদ্ধে কথা বলে। এসব বহু খেলা তারা খেলেছে। তাদের কোনো দেশপ্রেম নেই। ক্ষমতাটা তাদের কাছে ভোগের বস্তু’।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘২০০১ সালের নির্বাচনের আগে যখন আমেরিকান কোম্পানি আমাদের গ্যাস বিক্রি করতে চাইল ভারতের কাছে। ভারতের কাছে গ্যাস বিক্রির মুচলেকা দিয়েছিল খালেদা জিয়া। দিয়েই তো ক্ষমতায় এসেছিলো। আমি তো দেইনি। আমি চেয়েছিলাম আমার দেশের আগে দেশের মানুষের কাজে লাগবে, ৫০ বছরের রিজার্ভ থাকবে। তারপরে আমরা ভেবে দেখব বিক্রি করব কি করব না’।

আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘যাদের বিরুদ্ধে এত কথা বলে, এখানে সেই ‘র’ (ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা) এর প্রতিনিধি সে তো হাওয়া ভবনে বসেই থাকতো। আমেরিকার অ্যাম্বাসির লোক হাওয়া ভবনে বসেই থাকতো।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘(খালেদা জিয়া) ভারতবিরোধী কথা বললেন, তার আগে উনি গঙ্গা পানি আদায়ের জন্য ফারাক্কা পর্যন্ত লং মার্চও করেছিলেন। আন্দোলন করেছিলেন কিন্তু ভারত গিয়ে গঙ্গার পানির কথা ভুলেই গেলেন। ‘দালালিটা করে কে? আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর পরই আমরা কিন্তু গঙ্গার পানি ন্যায্য হিস্যা আদায় করেছি।

অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতীয় সঙ্গীতের সঙ্গে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি শান্তির প্রতীক পায়রা অবমুক্ত করেন।

সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক ফজিলাতুন্নেসা ইন্দিরা, যুব মহিলা লীগ সভাপতি নাজমা আক্তার, সাধারণ সম্পাদক অপু উকিল প্রমুখ।