ঢাকা ১১:২১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
দুই মাসের সর্বোচ্চ দরে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম চুক্তি না হলে রোববারই ইরানে হামলার ইঙ্গিত দিলেন ট্রাম্প চার দিনের সফরে জাপানের উদ্দেশ্যে ঢাকা ছাড়ছেন প্রধানমন্ত্রী দাম্মাম বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অগ্নিনির্বাপণে গিয়ে কর্মীর মৃত্যু সৌদিতে দুই বাংলাদেশির দণ্ড কার্যকর নিয়ে স্পষ্টীকরণ চাইল ঢাকা অ্যাস্টন ভিলার কাছে হেরে জয়ের রথ থামল ম্যানচেস্টার সিটির ইরানের পক্ষ থেকে মার্কিন কর্মকর্তা ও নাগরিকদের হত্যার ষড়যন্ত্রের তথ্য দিয়েছে গোয়েন্দা সংস্থা মধ্যপ্রাচ্য অস্থিরতায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় লাফ মুরগি ও ডিমের উৎপাদন খরচ ও খুচরা মূল্যে আকাশ-পাতাল ব্যবধান, দিশেহারা খামারিরা শীতকালীন ছুটি উপলক্ষে দুবাই বিমানবন্দরে বাড়ছে আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের সংখ্যা

গাজার সকল জিম্মিকে ফেরানোর অঙ্গীকার নেতানিয়াহুর

  • আপডেট সময় : ০৩:১০:৪৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ জুলাই ২০২৫
  • / 182
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বিডিসংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় হামাসের হাতে আটক সকল জিম্মিকে ফিরিয়ে আনার অঙ্গীকার করেছেন।

এদিকে, গাজার সিভিল ডিফেন্স এজেন্সি জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার ইসরাইলের চলমান অভিযানে ৭৩ জন নিহত হয়েছেন।

গাজা থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।

নেতানিয়াহু জিম্মিদের ফিরিয়ে আনতে তীব্র চাপের মুখে রয়েছেন। এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, ইসরাইল হামাসের সঙ্গে ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে, যা জিম্মিদের মুক্তির পথ খুলে দিতে পারে।

নির ওজ কিবুত্স এমন এক ইসরাইলি বসতি, যেখান থেকে ২০২৩ সালের হামাস হামলায় সবচেয়ে বেশি মানুষকে জিম্মি করে নিয়ে যাওয়া হয়, যা যুদ্ধের সূত্রপাত করে। ঐ বসতির উদ্দেশে নেতানিয়াহু বলেন, ‘আমার একটি গভীর প্রতিশ্রুতি আছে, সবার আগে আমি আমাদের সব অপহৃতকে ফিরিয়ে আনব, একজনকেও ফেলে রাখব না।’

নেতানিয়াহু আগামী সপ্তাহে ওয়াশিংটন ডিসিতে ট্রাম্পের সঙ্গে দেখা করবেন। ধারণা করা হচ্ছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট সেখানে যুদ্ধবিরতির জন্য চাপ দেবেন।

ট্রাম্পকে বৃহস্পতিবার জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে তিনি ফেব্রুয়ারিতে ঘোষণা করা ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডটি যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে নিতে চান কিনা। জবাবে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি গাজার মানুষদের নিরাপদ দেখতে চাই, এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।’

তিনি আরও বলেন, ‘তারা নরকের মধ্য দিয়ে গেছে।’

ইসরাইলের নেতারা হামাসকে নির্মূলের লক্ষ্যে অটল রয়েছেন, যদিও মঙ্গলবার হামাস জানিয়েছে যে তারা মধ্যস্থতাকারীদের কাছ থেকে যুদ্ধবিরতির নতুন প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করছে।

এদিকে, ইসরাইল সম্প্রতি গাজা উপত্যকায় তার সামরিক অভিযান বাড়িয়েছে। হামাসের বিরুদ্ধে তাদের এই যুদ্ধ ভয়াবহ মানবিক পরিস্থিতি তৈরি করেছে এবং ২০ লাখেরও বেশি বাসিন্দার প্রায় সকলকেই বাস্তুচ্যুত করেছে।

অনেকেই স্কুল ভবনে আশ্রয় নিয়েছেন, তবে ইসরাইলি হামলায় বারবার এসব স্কুলও আক্রান্ত হয়েছে। সামরিক বাহিনী প্রায়শই দাবি করে যে, তারা বেসামরিক নাগরিকদের মধ্যে লুকিয়ে থাকা হামাস যোদ্ধাদের লক্ষ্য করে হামলা চালায়।

গাজার সিভিল ডিফেন্সের মুখপাত্র মাহমুদ বাসাল জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার একটি স্কুলে ইসরাইলের হামলায় ১৫ জন মারা গেছেন, যেখানে যুদ্ধবিধ্বস্ত ফিলিস্তিনিরা আশ্রয় নিয়েছিল।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তিনি এএফপি’কে জানান, সামরিক হামলা ও গুলিতে গাজায় মোট ৭৩ জন নিহত হয়েছে। তাদের মধ্যে ৩৮ জন ছিল যারা মধ্য ও দক্ষিণ গাজার তিনটি স্থানে মানবিক সাহায্যের অপেক্ষায় ছিলেন। উত্তর জাবালিয়ায় ড্রোন হামলায় এক শিশু নিহত হয়েছে।

গাজায় গণমাধ্যমের প্রবেশাধিকারের সীমাবদ্ধতা এবং অনেক এলাকায় পৌঁছানোর অসুবিধার কারণে এএফপি সিভিল ডিফেন্স এজেন্সির দেওয়া হতাহতের সংখ্যা ও বিবরণ স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি।
বিডিসংবাদ/এএইচএস

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

গাজার সকল জিম্মিকে ফেরানোর অঙ্গীকার নেতানিয়াহুর

আপডেট সময় : ০৩:১০:৪৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ জুলাই ২০২৫

বিডিসংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় হামাসের হাতে আটক সকল জিম্মিকে ফিরিয়ে আনার অঙ্গীকার করেছেন।

এদিকে, গাজার সিভিল ডিফেন্স এজেন্সি জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার ইসরাইলের চলমান অভিযানে ৭৩ জন নিহত হয়েছেন।

গাজা থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।

নেতানিয়াহু জিম্মিদের ফিরিয়ে আনতে তীব্র চাপের মুখে রয়েছেন। এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, ইসরাইল হামাসের সঙ্গে ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে, যা জিম্মিদের মুক্তির পথ খুলে দিতে পারে।

নির ওজ কিবুত্স এমন এক ইসরাইলি বসতি, যেখান থেকে ২০২৩ সালের হামাস হামলায় সবচেয়ে বেশি মানুষকে জিম্মি করে নিয়ে যাওয়া হয়, যা যুদ্ধের সূত্রপাত করে। ঐ বসতির উদ্দেশে নেতানিয়াহু বলেন, ‘আমার একটি গভীর প্রতিশ্রুতি আছে, সবার আগে আমি আমাদের সব অপহৃতকে ফিরিয়ে আনব, একজনকেও ফেলে রাখব না।’

নেতানিয়াহু আগামী সপ্তাহে ওয়াশিংটন ডিসিতে ট্রাম্পের সঙ্গে দেখা করবেন। ধারণা করা হচ্ছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট সেখানে যুদ্ধবিরতির জন্য চাপ দেবেন।

ট্রাম্পকে বৃহস্পতিবার জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে তিনি ফেব্রুয়ারিতে ঘোষণা করা ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডটি যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে নিতে চান কিনা। জবাবে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি গাজার মানুষদের নিরাপদ দেখতে চাই, এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।’

তিনি আরও বলেন, ‘তারা নরকের মধ্য দিয়ে গেছে।’

ইসরাইলের নেতারা হামাসকে নির্মূলের লক্ষ্যে অটল রয়েছেন, যদিও মঙ্গলবার হামাস জানিয়েছে যে তারা মধ্যস্থতাকারীদের কাছ থেকে যুদ্ধবিরতির নতুন প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করছে।

এদিকে, ইসরাইল সম্প্রতি গাজা উপত্যকায় তার সামরিক অভিযান বাড়িয়েছে। হামাসের বিরুদ্ধে তাদের এই যুদ্ধ ভয়াবহ মানবিক পরিস্থিতি তৈরি করেছে এবং ২০ লাখেরও বেশি বাসিন্দার প্রায় সকলকেই বাস্তুচ্যুত করেছে।

অনেকেই স্কুল ভবনে আশ্রয় নিয়েছেন, তবে ইসরাইলি হামলায় বারবার এসব স্কুলও আক্রান্ত হয়েছে। সামরিক বাহিনী প্রায়শই দাবি করে যে, তারা বেসামরিক নাগরিকদের মধ্যে লুকিয়ে থাকা হামাস যোদ্ধাদের লক্ষ্য করে হামলা চালায়।

গাজার সিভিল ডিফেন্সের মুখপাত্র মাহমুদ বাসাল জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার একটি স্কুলে ইসরাইলের হামলায় ১৫ জন মারা গেছেন, যেখানে যুদ্ধবিধ্বস্ত ফিলিস্তিনিরা আশ্রয় নিয়েছিল।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তিনি এএফপি’কে জানান, সামরিক হামলা ও গুলিতে গাজায় মোট ৭৩ জন নিহত হয়েছে। তাদের মধ্যে ৩৮ জন ছিল যারা মধ্য ও দক্ষিণ গাজার তিনটি স্থানে মানবিক সাহায্যের অপেক্ষায় ছিলেন। উত্তর জাবালিয়ায় ড্রোন হামলায় এক শিশু নিহত হয়েছে।

গাজায় গণমাধ্যমের প্রবেশাধিকারের সীমাবদ্ধতা এবং অনেক এলাকায় পৌঁছানোর অসুবিধার কারণে এএফপি সিভিল ডিফেন্স এজেন্সির দেওয়া হতাহতের সংখ্যা ও বিবরণ স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি।
বিডিসংবাদ/এএইচএস