ইরানের পক্ষ থেকে মার্কিন কর্মকর্তা ও নাগরিকদের হত্যার ষড়যন্ত্রের তথ্য দিয়েছে গোয়েন্দা সংস্থা
- আপডেট সময় : ১১:২৪:৩০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬
- / 0
মার্কিন কর্মকর্তা ও দেশটির নাগরিকদের প্রাণনাশের লক্ষ্যে ইরান নতুন করে ষড়যন্ত্র শুরু করেছে বলে গোয়েন্দা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্সের পরিচালক জে ক্লেটন সম্প্রতি মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে একটি মেমো পাঠিয়েছেন। গত ২৩ অক্টোবর পাঠানো এই বার্তায় তিনি ইরানের ক্রমবর্ধমান হুমকির বিষয়ে বিভিন্ন গোয়েন্দা তথ্য তুলে ধরেছেন। এতে পরিষ্কার করা হয়েছে যে, ইরান অত্যন্ত কৌশলে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের কয়েকটি দেশে মার্কিন কর্মীদের ওপর হামলার তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে, যা বর্তমানে ‘উচ্চ পর্যায়ে’ পৌঁছেছে। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সংগৃহীত তথ্যে দেখা যাচ্ছে, মার্কিন কর্মীদের লক্ষ্যবস্তু করার জন্য ইরান তাদের প্রচেষ্টাকে অনেক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। এই মেমোর অনুলিপি যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার (সিআইএ) পরিচালক জন র্যাটক্লিফের কাছেও পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি সর্বপ্রথম প্রকাশ্যে আনে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস।
নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এরই মধ্যে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। রয়টার্সকে দেওয়া তথ্যে জানা গেছে, বুধবার সৌদি আরবে অবস্থিত মার্কিন কূটনৈতিক মিশনগুলো থেকে জরুরি নয় এমন দায়িত্বে থাকা সরকারি কর্মী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের নিরাপদে সরে যাওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। শুধু সৌদি আরব নয়, মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য কয়েকটি দেশে থাকা মার্কিন মিশন থেকেও পরিবারের সদস্যদের সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়েছে। এর আগে গত শনিবার পারস্য উপসাগর ও মধ্যপ্রাচ্যের এক ডজনেরও বেশি দেশের জন্য ভ্রমণ সতর্কতা হালনাগাদ করেছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। এই তালিকায় সৌদি আরব, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইরাক ও ইসরাইলের মতো দেশগুলো রয়েছে।
এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করে একজন মার্কিন কর্মকর্তা জানান, দূতাবাসগুলোর জনবল এবং নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে নিয়মিত পর্যালোচনার ভিত্তিতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, মূলত ইরান সমর্থিত হুতি বাহিনীর ক্রমবর্ধমান হামলার হুমকি এবং মার্কিন কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে ইরানিদের সন্ত্রাসী হামলার ষড়যন্ত্রের অকাট্য গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ওই অঞ্চলের বেশ কয়েকটি মিশনে জনবল সমন্বয়ের এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হচ্ছে। এর ফলে ওই মিশনগুলোতে ‘রেস্ট্রিকটেড অপারেশনস স্ট্যাটাস’ বা সীমিত কার্যক্রমের নিয়ম মেনে চলা হচ্ছে। এদিকে ইরান যুদ্ধ আট মাস পেরিয়ে নবম মাসে পদার্পণ করছে। আগামী ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠেয় যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে চলমান এই যুদ্ধ পরিস্থিতি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জনসমর্থনের ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করেছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে নিয়মিত হামলার ঘটনা আঞ্চলিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও জটিল ও নাজুক করে তুলেছে।
























