ঢাকা ০৬:২১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬, ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বাঁ-হাতি বোলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ উইকেটের রেকর্ড স্টার্কের এশিয়ান গেমস ক্রিকেটে পদক লড়াইয়ে মুখোমুখি হতে পারে ভারত-পাকিস্তান কোকোর নামে বগুড়ায় জাতীয় প্যারা স্পোর্টস কমপ্লেক্স নির্মাণের ঘোষণা ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর কারাবন্দি ও পলাতক আসামিদের জন্য সাধারণ ক্ষমা আইন পাস করল লেবানন মার্কিন রণতরী আব্রাহাম লিংকনের পরিস্থিতি নিয়ে তদন্ত দাবি সিনেটরদের জাপানের দাবিকৃত কুরিল দ্বীপপুঞ্জ সফর পুতিনের সুদানের রাজধানী খার্তুমে টানা দ্বিতীয় দিন আধাসামরিক বাহিনীর ড্রোন হামলা সকলের মতামত নিয়েই সংবিধান সংশোধন করা হবে: চিফ হুইপ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দু’জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র দাখিল, ১৬ আগস্ট যাচাই-বাছাই: ইসি সচিব রাষ্ট্রপতি পদে দলের প্রার্থী হিসেবে মির্জা ফখরুলকে বেছে নিলেন প্রধানমন্ত্রী

৫ই আগস্ট স্বৈরাচারের পতন, গণমানুষের জাগরণ: একটি ঐতিহাসিক বিজয়

  • আপডেট সময় : ০৭:৩৬:৪৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ জুলাই ২০২৫
  • / 773
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ক্ষমতার চেয়ারে রাজত্ব করেছেন শেখ হাসিনা। ২০২৪ জানুয়ারিতে চতুর্থবারের মতো ক্ষমতায় বসেন তিনি। যদিও সেই নির্বাচনে অংশ নেয়নি প্রধান বিরোধী দল বিএনপিসহ অন্যন্য দল । পরে নিজেদের দলের প্রার্থীদেরই ডামি প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য করে দেশ গড়ার শপথ নেন শেখ হাসিনা। যদিও এ দফায় মাত্র ৭ মাসেই পদত্যাগ করে দেশ ছাড়তে হয়েছে তাকে।

সাম্প্রতিক বছরগুলিতে স্বৈরাচারী মনোভাব হয়ে উঠেছিল তার। নিজের শাসনের বিরোধিতাকে দমন করেছেন কঠোর হাতে। রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত গ্রেফতার, গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা এবং অন্যান্য অপব্যবহার সবই তার শাসনে বেড়ে গিয়েছিল। কোট সংস্কারের দাবিতে নামা সাধারণ শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিক ট্যাগ দেওয়া ও তাদের স্বাধীনতার অপশক্তি ‘রাজাকার’ হিসেবে সম্বোধন করে ব্যাপক ক্ষোভের মুখে পড়েন তিনি।

এর বাইরে সবশেষ তিনটি নির্বাচনে বিরোধী দলকে দমন করা ও এককভাবে ক্ষমতায় টিকে থাকতে চেয়েছিলেন তিনি। যেই লক্ষ্যে ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নিজের স্বপক্ষে কাজে লাগাতে চেয়েছিলেন শেখ হাসিনা। তবে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারছিলেন না বাজার পরিস্থিতি। জনগণের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যেতে শুরু করেছিল নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিষ।

অন্যদিকে শেখ হাসিনা সরকারের মন্ত্রী এমপিরা ব্যাপক দুর্নীতিতে জড়িত পড়েছিলেন। অনেকেই দেশের টাকা মেরে বিদেশে বাড়ি গাড়ি করেছেন। দেশের টাকা লুট করে ব্যাংকগুলোকে খালি করে দিয়েছেন অনেকেই। আর এই সব কিছুর ক্ষোভ শেষ পর্যন্ত দাবানলে রূপ নেয় জুলাই মাসের শেষ দিকে। এসময় ছাত্রদের দমনে আওয়ামী লীগ ও নিজের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দেন তিনি। যাতে সংঘাতে জড়িয়ে নিহত হয় প্রায় দুই হাজারেও বেশি মানুষ। ছয় হজার আহত পঙ্গু ও অন্ধ হয় । গনহত্যা করেও দমন করতে পারছিলনা আন্দোলন, এরপরও পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলেও গণ আন্দোলনের মুখে বাধ্য হয়ে ক্ষমতা ছাড়তে হয় স্বৈরাচার শেখ হাসিনাকে। এতো ব্যাপক প্রাণহানি সত্ত্বেও হাসিনা সরকার এই গণহত্যার দায় অস্বীকার করে এবং সহিংসতার জন্য বি এন পি ,জামাত সহ অন্যান্য কারণকে দায়ী করে। ২০২৪ সালের জুলাই মাসের ঘটনাবলি তখন থেকে ব্যাপকভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয় এবং বাংলাদেশের আর্থসামাজিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এর প্রভাব সম্পর্কে বিভিন্ন মতামত রয়েছে।

অসহযোগ আন্দোলন হলো ২০২৪-এ বাংলাদেশে কোটা সংস্কার আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে সৃষ্টি হওয়া বাংলাদেশের সরকার বিরোধী একটি আন্দোলন। এই আন্দোলনে আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের পদত্যাগ দাবি করা হয়। ৩ আগস্ট ২০২৪ সালে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কারীরা পদত্যাগের এক দফা দাবি ঘোষণা করেন,এজন্য একে এক দফা আন্দোলন নামেও ডাকা হয়ে থাকে। আন্দোলনে স্বতঃস্ফূর্তভাবে আপামর জনতা অংশগ্রহণ করা ও ব্যাপক গণহত্যার মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন নিশ্চিত হওয়ায় একে বাংলাদেশের দ্বিতীয় স্বাধীনতা বলেও অভিহিত করা হয়।

আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে শেখ হাসিনা ৫ আগস্ট পদত্যাগ করে ভারতে পালিয়ে যান, সেনাপ্রধান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের ঘোষণা দেন। পরবর্তীতে ৮ আগস্ট ২০২৪ সালে মোহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে ১৭ সদস্যদের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার শপথ গ্ৰহণ করে।

তবে সম্প্রতি বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন তিনি। বিতর্কিত তিনটি নির্বাচনের পর বেসামরিক চাকরিতে কোটা বাতিলের দাবি নিয়ে অস্থিরতা শুরু হয়েছিল শেষ কিছুদিন ধরে। পরে যা সরকারবিরোধী আন্দোলনে পরিণত হয়েছিল। দীর্ঘদিন ধরে গুরুতর অপব্যবহার ও নির্যাতনের অভিযোগে অভিযুক্ত ছিল। যার কারণে ২০২১ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নকে নিষেধাজ্ঞা দেয়। এর বাইরে শেখ হাসিনার দলীয় নেতাকর্মীরা বিভিন্ন অঞ্চলে দমন পীড়ন করছিল। যা সব মিলিয়ে জনগণের মধ্যে ব্যাপক আক্রোশ জমা হচ্ছিল। সেই আক্রোশের কারণেই তীব্র আন্দোলন শুরু হয়। যা গণঅভ্যুত্থান স্বৈরাচার শেখ হাসিনার পতন হয়।


বিরল এক দিনের সাক্ষী হলো বাংলাদেশ। তুমুল লাল বিপ্লবে উড়ে গেল ১৫ বছরের বেশি জোর করে ক্ষমতা দখলকারী স্বৈরাচার শেখ হাসিনার সরকার। পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন স্বৈরাচার শেখ হাসিনা।
এক মাস পাঁচদিন স্থায়ী লাল বিপ্লবীদের কোটা বিরোধী আন্দোলনে শুধু স্বৈরাচার সরকারের পতনই হয়নি, দেশ ছেড়ে পালাতে হয়েছে সরকার প্রধানকে। সোমবার, আগস্ট ৫,২০২৪, দুপুরের পর হঠাৎ দৃশ্যপট পাল্টে যেতে থাকে। সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দেবেন এই খবর প্রকাশের পর ছাত্র-জনতা রাজপথে নেমে আসতে থাকেন। বিজয় উৎসব শুরু হয় চারদিকে। বেলা আড়াইটার পর জানা যায় প্রধানমন্ত্রীর পদ ছেড়ে শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন। এরপর আন্দোলনে জয়ী মানুষের বাঁধভাঙা স্রোত ছড়িয়ে পড়ে সড়কে।


অলি-গলি, পাড়া- মহল্লায়, গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে। রাজধানীর রাজপথ হয়ে ওঠে আন্দোলন বিজয়ী ছাত্র-জনতার বিজয়ের ক্যানভাস। কোটি মানুষের স্রোতের অংশ প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, জাতীয় সংসদ ভবনে ঢুকে পড়ে। এ সময় তারা এসব ভবনে নানাভাবে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। গণ-অভ্যুত্থানের মুখে গত বছর ৫ আগস্ট ক্ষমতা ছেড়ে দিয়ে ভারতে আশ্রয় নেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর মধ্য দিয়ে অনিয়ম, দুর্নীতি ও মানবাধিকার লঙ্ঘনে জর্জরিত আওয়ামী লীগের দেড় দশকের বেশি সময়ের শাসনের অবসান ঘটেছে। কিন্তু ততক্ষণে হাজারের বেশি মানুষের প্রাণহানি হয়েছে। নারী-শিশুসহ হাজার হাজার মানুষ আহত হয়েছে। কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে রূপান্তরিত শেখ হাসিনার পদত্যাগের এক দফা দাবি আদায়ে সেদিন সারা দেশ থেকে ঢাকায় আসার কর্মসূচি ঘোষণা করেছিল আন্দোলনের সামনে থাকা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগ করে বিক্ষোভকারীদের ঢাকার কেন্দ্রস্থলে প্রবেশে বাধা দিতে পুলিশের পাশাপাশি সেনাবাহিনী ও বিজিবি মোতায়েন করার বিষয়ে বৈঠকে ঐক্যমত্য হয়েছিল। সেনাবাহিনী ও বিজিবি সাঁজোয়া যান ও সেনা মোতায়েন করে ঢাকার প্রবেশের পথগুলো অবরুদ্ধ করবে, বিক্ষোভকারীদের প্রবেশে বাধা দেবে। অন্যদিকে পুলিশ ‘উচ্ছৃঙ্খল জনতাকে নিয়ন্ত্রণ’ করবে।


শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে পালিয়ে যাওয়ার পর বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া দেশের জনসাধারণকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। এর দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানও দেশের সর্বস্তরের জনগণকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তাকে শেষ পর্যন্ত পদত্যাগ করে দেশ ছাড়তে বাধ্য করেছে। শেষ বেলায় স্বৈরাচার হিসেবে দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন।


নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

৫ই আগস্ট স্বৈরাচারের পতন, গণমানুষের জাগরণ: একটি ঐতিহাসিক বিজয়

আপডেট সময় : ০৭:৩৬:৪৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ জুলাই ২০২৫

বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ক্ষমতার চেয়ারে রাজত্ব করেছেন শেখ হাসিনা। ২০২৪ জানুয়ারিতে চতুর্থবারের মতো ক্ষমতায় বসেন তিনি। যদিও সেই নির্বাচনে অংশ নেয়নি প্রধান বিরোধী দল বিএনপিসহ অন্যন্য দল । পরে নিজেদের দলের প্রার্থীদেরই ডামি প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য করে দেশ গড়ার শপথ নেন শেখ হাসিনা। যদিও এ দফায় মাত্র ৭ মাসেই পদত্যাগ করে দেশ ছাড়তে হয়েছে তাকে।

সাম্প্রতিক বছরগুলিতে স্বৈরাচারী মনোভাব হয়ে উঠেছিল তার। নিজের শাসনের বিরোধিতাকে দমন করেছেন কঠোর হাতে। রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত গ্রেফতার, গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা এবং অন্যান্য অপব্যবহার সবই তার শাসনে বেড়ে গিয়েছিল। কোট সংস্কারের দাবিতে নামা সাধারণ শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিক ট্যাগ দেওয়া ও তাদের স্বাধীনতার অপশক্তি ‘রাজাকার’ হিসেবে সম্বোধন করে ব্যাপক ক্ষোভের মুখে পড়েন তিনি।

এর বাইরে সবশেষ তিনটি নির্বাচনে বিরোধী দলকে দমন করা ও এককভাবে ক্ষমতায় টিকে থাকতে চেয়েছিলেন তিনি। যেই লক্ষ্যে ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নিজের স্বপক্ষে কাজে লাগাতে চেয়েছিলেন শেখ হাসিনা। তবে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারছিলেন না বাজার পরিস্থিতি। জনগণের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যেতে শুরু করেছিল নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিষ।

অন্যদিকে শেখ হাসিনা সরকারের মন্ত্রী এমপিরা ব্যাপক দুর্নীতিতে জড়িত পড়েছিলেন। অনেকেই দেশের টাকা মেরে বিদেশে বাড়ি গাড়ি করেছেন। দেশের টাকা লুট করে ব্যাংকগুলোকে খালি করে দিয়েছেন অনেকেই। আর এই সব কিছুর ক্ষোভ শেষ পর্যন্ত দাবানলে রূপ নেয় জুলাই মাসের শেষ দিকে। এসময় ছাত্রদের দমনে আওয়ামী লীগ ও নিজের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দেন তিনি। যাতে সংঘাতে জড়িয়ে নিহত হয় প্রায় দুই হাজারেও বেশি মানুষ। ছয় হজার আহত পঙ্গু ও অন্ধ হয় । গনহত্যা করেও দমন করতে পারছিলনা আন্দোলন, এরপরও পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলেও গণ আন্দোলনের মুখে বাধ্য হয়ে ক্ষমতা ছাড়তে হয় স্বৈরাচার শেখ হাসিনাকে। এতো ব্যাপক প্রাণহানি সত্ত্বেও হাসিনা সরকার এই গণহত্যার দায় অস্বীকার করে এবং সহিংসতার জন্য বি এন পি ,জামাত সহ অন্যান্য কারণকে দায়ী করে। ২০২৪ সালের জুলাই মাসের ঘটনাবলি তখন থেকে ব্যাপকভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয় এবং বাংলাদেশের আর্থসামাজিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এর প্রভাব সম্পর্কে বিভিন্ন মতামত রয়েছে।

অসহযোগ আন্দোলন হলো ২০২৪-এ বাংলাদেশে কোটা সংস্কার আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে সৃষ্টি হওয়া বাংলাদেশের সরকার বিরোধী একটি আন্দোলন। এই আন্দোলনে আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের পদত্যাগ দাবি করা হয়। ৩ আগস্ট ২০২৪ সালে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কারীরা পদত্যাগের এক দফা দাবি ঘোষণা করেন,এজন্য একে এক দফা আন্দোলন নামেও ডাকা হয়ে থাকে। আন্দোলনে স্বতঃস্ফূর্তভাবে আপামর জনতা অংশগ্রহণ করা ও ব্যাপক গণহত্যার মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন নিশ্চিত হওয়ায় একে বাংলাদেশের দ্বিতীয় স্বাধীনতা বলেও অভিহিত করা হয়।

আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে শেখ হাসিনা ৫ আগস্ট পদত্যাগ করে ভারতে পালিয়ে যান, সেনাপ্রধান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের ঘোষণা দেন। পরবর্তীতে ৮ আগস্ট ২০২৪ সালে মোহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে ১৭ সদস্যদের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার শপথ গ্ৰহণ করে।

তবে সম্প্রতি বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন তিনি। বিতর্কিত তিনটি নির্বাচনের পর বেসামরিক চাকরিতে কোটা বাতিলের দাবি নিয়ে অস্থিরতা শুরু হয়েছিল শেষ কিছুদিন ধরে। পরে যা সরকারবিরোধী আন্দোলনে পরিণত হয়েছিল। দীর্ঘদিন ধরে গুরুতর অপব্যবহার ও নির্যাতনের অভিযোগে অভিযুক্ত ছিল। যার কারণে ২০২১ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নকে নিষেধাজ্ঞা দেয়। এর বাইরে শেখ হাসিনার দলীয় নেতাকর্মীরা বিভিন্ন অঞ্চলে দমন পীড়ন করছিল। যা সব মিলিয়ে জনগণের মধ্যে ব্যাপক আক্রোশ জমা হচ্ছিল। সেই আক্রোশের কারণেই তীব্র আন্দোলন শুরু হয়। যা গণঅভ্যুত্থান স্বৈরাচার শেখ হাসিনার পতন হয়।


বিরল এক দিনের সাক্ষী হলো বাংলাদেশ। তুমুল লাল বিপ্লবে উড়ে গেল ১৫ বছরের বেশি জোর করে ক্ষমতা দখলকারী স্বৈরাচার শেখ হাসিনার সরকার। পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন স্বৈরাচার শেখ হাসিনা।
এক মাস পাঁচদিন স্থায়ী লাল বিপ্লবীদের কোটা বিরোধী আন্দোলনে শুধু স্বৈরাচার সরকারের পতনই হয়নি, দেশ ছেড়ে পালাতে হয়েছে সরকার প্রধানকে। সোমবার, আগস্ট ৫,২০২৪, দুপুরের পর হঠাৎ দৃশ্যপট পাল্টে যেতে থাকে। সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দেবেন এই খবর প্রকাশের পর ছাত্র-জনতা রাজপথে নেমে আসতে থাকেন। বিজয় উৎসব শুরু হয় চারদিকে। বেলা আড়াইটার পর জানা যায় প্রধানমন্ত্রীর পদ ছেড়ে শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন। এরপর আন্দোলনে জয়ী মানুষের বাঁধভাঙা স্রোত ছড়িয়ে পড়ে সড়কে।


অলি-গলি, পাড়া- মহল্লায়, গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে। রাজধানীর রাজপথ হয়ে ওঠে আন্দোলন বিজয়ী ছাত্র-জনতার বিজয়ের ক্যানভাস। কোটি মানুষের স্রোতের অংশ প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, জাতীয় সংসদ ভবনে ঢুকে পড়ে। এ সময় তারা এসব ভবনে নানাভাবে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। গণ-অভ্যুত্থানের মুখে গত বছর ৫ আগস্ট ক্ষমতা ছেড়ে দিয়ে ভারতে আশ্রয় নেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর মধ্য দিয়ে অনিয়ম, দুর্নীতি ও মানবাধিকার লঙ্ঘনে জর্জরিত আওয়ামী লীগের দেড় দশকের বেশি সময়ের শাসনের অবসান ঘটেছে। কিন্তু ততক্ষণে হাজারের বেশি মানুষের প্রাণহানি হয়েছে। নারী-শিশুসহ হাজার হাজার মানুষ আহত হয়েছে। কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে রূপান্তরিত শেখ হাসিনার পদত্যাগের এক দফা দাবি আদায়ে সেদিন সারা দেশ থেকে ঢাকায় আসার কর্মসূচি ঘোষণা করেছিল আন্দোলনের সামনে থাকা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগ করে বিক্ষোভকারীদের ঢাকার কেন্দ্রস্থলে প্রবেশে বাধা দিতে পুলিশের পাশাপাশি সেনাবাহিনী ও বিজিবি মোতায়েন করার বিষয়ে বৈঠকে ঐক্যমত্য হয়েছিল। সেনাবাহিনী ও বিজিবি সাঁজোয়া যান ও সেনা মোতায়েন করে ঢাকার প্রবেশের পথগুলো অবরুদ্ধ করবে, বিক্ষোভকারীদের প্রবেশে বাধা দেবে। অন্যদিকে পুলিশ ‘উচ্ছৃঙ্খল জনতাকে নিয়ন্ত্রণ’ করবে।


শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে পালিয়ে যাওয়ার পর বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া দেশের জনসাধারণকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। এর দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানও দেশের সর্বস্তরের জনগণকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তাকে শেষ পর্যন্ত পদত্যাগ করে দেশ ছাড়তে বাধ্য করেছে। শেষ বেলায় স্বৈরাচার হিসেবে দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন।