ঢাকা ০৬:৫০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাজউকের ছত্রচ্ছায়ায় অবৈধ নির্মাণ, রসুলবাগ হাউজিং কোম্পানির বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ

  • আপডেট সময় : ১২:৪২:২৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২২ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / 170
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রাজউকের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় ঢাকা শহরের বিভিন্ন হাউজিং কোম্পানি অনিয়মতান্ত্রিকভাবে বিল্ডিং নির্মাণ করছে। এমনকি অন্যের জমি জবরদখল করে রাজউকের নিয়মনীতি তোয়াক্কা না করে এবং বিল্ডিং কোড অনুসরণ না করে ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে ওঠা হাউজিং কোম্পানিগুলো বিল্ডিং নির্মাণ করে ফ্ল্যাট বিক্রি করছে এবং এভাবে রাতারাতি বিপুল টাকার মালিক বনে যাচ্ছে। এ অবৈধ নির্মাণ কাজের ফলে ঢাকা শহর ভূমিকম্পের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে এবং বিশেষজ্ঞদের কাছে বড় চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এছাড়া জমির প্রকৃত মালিকদের সাথে প্রতারণা করে এমনকি জোরপূর্বক দখল করে বিল্ডিং নির্মাণ করে উচ্চ মূল্যে ফ্ল্যাট বিক্রির মাধ্যমে জমির প্রকৃত মালিকদের সর্বশান্ত করা হচ্ছে এবং ফ্ল্যাট ক্রেতারাও প্রতারিত হচ্ছে। এসব ব্যাপারে থানায় অভিযোগ দায়ের করলে তদন্তকারী অফিসাররা এ অভিযোগকে পুঁজি করে বাড়তি আয়ের সুযোগ নিচ্ছে। রাজউকে অভিযোগ দায়ের করলে একইভাবে অথরাইজড অফিসারসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অবৈধ সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করছে। অভিযোগকারীরা টেবিল থেকে টেবিলে ঘুরে কোনো সুরাহা না পেয়ে একসময় হতাশ হয়ে পড়ছে।

অনুরূপভাবে বেলায়েত হোসেন নামের একজন ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং খিলগাঁও এলাকায় ৪.৫০ শতাংশ জমির সাব-কবলা মূলে মালিক। তাঁর ক্রয়কৃত জমির উপর ‘রসুলবাগ হাউজিং কোম্পানি’ (নন্দীপাড়া, রসুলবাগ, খিলগাঁও, ঢাকা) অনৈতিকভাবে ও জোরপূর্বক দখল করে অবৈধ নির্মাণ কাজ করছে।

এ বিষয়ে তিনি খিলগাঁও থানায় একটি জিডি করেন (নং–২২৬৭, তারিখ–২৪/০১/২০২৫)। একই সাথে ১৮/০২/২০২৫ তারিখে রাজউকের চেয়ারম্যান বরাবর অভিযোগ দায়ের করা হয় এবং কোনো সুরাহা না পেয়ে ২৪/০৭/২০২৫ তারিখে পুনরায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। কিন্তু আজ অবধি রাজউক কোনো পদক্ষেপ নেয়নি বলে সূত্র জানায়।

দায়েরকৃত অভিযোগে জানা যায়—
জনাব মো. বেলায়েত হোসেন, পিতা: আলহাজ্ব সিদ্দিকুর রহমান, সাং: রামানন্দপুর, পো: ফাজিলেরঘাট, থানা: দাগনভুইয়া, জেলা: ফেনী; বর্তমান ঠিকানা: ৩০/১২-৩, জহুরী মহল্লা, থানা: মোহাম্মদপুর, ঢাকা।

খিলগাঁও থানা, মৌজা–নন্দীপাড়া,
সি এস–৯৫৬, এস এ–১৩০৮, আর এস–১০৬৮,
মাঠ জরিপে ২২১৯ নং খতিয়ানভুক্ত,
সি এস ও এস এ–১০১৩, আর এস–১৬৫৭ নং,
ঢাকা সিটি জরিপে ১০১৪৩ নং দাগে মোট ৪৯.৫০ শতাংশ জমির মধ্যে ৪.৫০ শতাংশ জমির মালিক তিনি এবং দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখল করে আসছেন।

উক্ত জায়গায় সীমানা বেষ্টনী দিয়ে সাইনবোর্ড স্থাপন করা হয়। উক্ত জমির পিটিশন মামলা নং ১০৪/১৭, ধারা ফৌঃ কা বি ১৪৫–এর বিপরীতে খিলগাঁও থানার এসআই আমিনুল ইসলামের তদন্ত প্রতিবেদনে প্রমাণিত হয় যে উক্ত জমির প্রকৃত মালিক বেলায়েত হোসেন এবং নামজারি ও খাজনাসহ সব কাগজপত্র তাঁর অনুকূলে রয়েছে।

তারপরও রাজউক উক্ত রসুলবাগ হাউজিং কোম্পানিকে কাজ বন্ধ করার নির্দেশ না দিয়ে বরং কাজ চালিয়ে যাওয়ার জন্য উৎসাহ দিয়ে যাচ্ছে। বিনিময়ে অনৈতিক সুবিধা গ্রহণ করা হচ্ছে বলে বিশেষ সূত্রে জানা যায়।

উল্লেখ্য, বেলায়েত হোসেন রূপালী ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর। বর্তমানে তিনি অসুস্থ ও চিকিৎসাধীন। তাঁর ভাগিনা মণির আহমেদ পাওয়ার অব অ্যাটর্নির মাধ্যমে কোর্টে একটি উচ্ছেদ মামলা দায়ের করেছেন—মামলা নং ২৫/২০২৫, তারিখ ২১/১০/২০২৫।

রাজউক কর্তৃপক্ষ চাইলে উক্ত হাউজিং কোম্পানির কাজ বন্ধ করে দিয়ে ১০১৪৩ নং দাগের ৪৯.৫০ শতাংশ জমির ভেতরে থাকা ৪.৫০ শতাংশ জমি আলাদা করে অবশিষ্ট জমিতে নির্মাণ কাজের নির্দেশ দিতে পারে, কারণ উক্ত ৪.৫০ শতাংশ জমিটি প্রথম রেজিস্ট্রিকৃত।

সুরাহা না হলে ভবিষ্যতে রসুলবাগ হাউজিং কোম্পানির সাথে ৩৬ জন শেয়ার মালিকের দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হবে এবং কোম্পানির শেয়ার ক্রেতা ৩৬ জন নিশ্চিতভাবে বিপদে পড়বে ও শেষ পর্যন্ত মালিকানা হারাবে।

রাজউকের নকশা অনুমোদন ছাড়া এভাবে প্রতারণার আশ্রয়ে বিল্ডিং নির্মাণে রাজউকের সুনাম ক্ষুণ্ন হচ্ছে, আইনশৃঙ্খলার ব্যত্যয় ঘটছে এবং একইসাথে প্লট ক্রেতারাও প্রতারিত হচ্ছে। নির্মাণাধীন ভবনের জমির প্রকৃত মালিক যাচাই করা রাজউকের নৈতিক দায়িত্ব। অনুমোদনহীন ও জোরপূর্বক দখলকৃত জমির উপর নির্মাণ কাজ সম্পূর্ণ আইনবহির্ভূত। তাই রসুলবাগ হাউজিং কোম্পানির অবৈধ নির্মাণ কাজে রাজউকের হস্তক্ষেপ জরুরি।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

রাজউকের ছত্রচ্ছায়ায় অবৈধ নির্মাণ, রসুলবাগ হাউজিং কোম্পানির বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ

আপডেট সময় : ১২:৪২:২৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২২ ডিসেম্বর ২০২৫

রাজউকের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় ঢাকা শহরের বিভিন্ন হাউজিং কোম্পানি অনিয়মতান্ত্রিকভাবে বিল্ডিং নির্মাণ করছে। এমনকি অন্যের জমি জবরদখল করে রাজউকের নিয়মনীতি তোয়াক্কা না করে এবং বিল্ডিং কোড অনুসরণ না করে ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে ওঠা হাউজিং কোম্পানিগুলো বিল্ডিং নির্মাণ করে ফ্ল্যাট বিক্রি করছে এবং এভাবে রাতারাতি বিপুল টাকার মালিক বনে যাচ্ছে। এ অবৈধ নির্মাণ কাজের ফলে ঢাকা শহর ভূমিকম্পের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে এবং বিশেষজ্ঞদের কাছে বড় চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এছাড়া জমির প্রকৃত মালিকদের সাথে প্রতারণা করে এমনকি জোরপূর্বক দখল করে বিল্ডিং নির্মাণ করে উচ্চ মূল্যে ফ্ল্যাট বিক্রির মাধ্যমে জমির প্রকৃত মালিকদের সর্বশান্ত করা হচ্ছে এবং ফ্ল্যাট ক্রেতারাও প্রতারিত হচ্ছে। এসব ব্যাপারে থানায় অভিযোগ দায়ের করলে তদন্তকারী অফিসাররা এ অভিযোগকে পুঁজি করে বাড়তি আয়ের সুযোগ নিচ্ছে। রাজউকে অভিযোগ দায়ের করলে একইভাবে অথরাইজড অফিসারসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অবৈধ সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করছে। অভিযোগকারীরা টেবিল থেকে টেবিলে ঘুরে কোনো সুরাহা না পেয়ে একসময় হতাশ হয়ে পড়ছে।

অনুরূপভাবে বেলায়েত হোসেন নামের একজন ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং খিলগাঁও এলাকায় ৪.৫০ শতাংশ জমির সাব-কবলা মূলে মালিক। তাঁর ক্রয়কৃত জমির উপর ‘রসুলবাগ হাউজিং কোম্পানি’ (নন্দীপাড়া, রসুলবাগ, খিলগাঁও, ঢাকা) অনৈতিকভাবে ও জোরপূর্বক দখল করে অবৈধ নির্মাণ কাজ করছে।

এ বিষয়ে তিনি খিলগাঁও থানায় একটি জিডি করেন (নং–২২৬৭, তারিখ–২৪/০১/২০২৫)। একই সাথে ১৮/০২/২০২৫ তারিখে রাজউকের চেয়ারম্যান বরাবর অভিযোগ দায়ের করা হয় এবং কোনো সুরাহা না পেয়ে ২৪/০৭/২০২৫ তারিখে পুনরায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। কিন্তু আজ অবধি রাজউক কোনো পদক্ষেপ নেয়নি বলে সূত্র জানায়।

দায়েরকৃত অভিযোগে জানা যায়—
জনাব মো. বেলায়েত হোসেন, পিতা: আলহাজ্ব সিদ্দিকুর রহমান, সাং: রামানন্দপুর, পো: ফাজিলেরঘাট, থানা: দাগনভুইয়া, জেলা: ফেনী; বর্তমান ঠিকানা: ৩০/১২-৩, জহুরী মহল্লা, থানা: মোহাম্মদপুর, ঢাকা।

খিলগাঁও থানা, মৌজা–নন্দীপাড়া,
সি এস–৯৫৬, এস এ–১৩০৮, আর এস–১০৬৮,
মাঠ জরিপে ২২১৯ নং খতিয়ানভুক্ত,
সি এস ও এস এ–১০১৩, আর এস–১৬৫৭ নং,
ঢাকা সিটি জরিপে ১০১৪৩ নং দাগে মোট ৪৯.৫০ শতাংশ জমির মধ্যে ৪.৫০ শতাংশ জমির মালিক তিনি এবং দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখল করে আসছেন।

উক্ত জায়গায় সীমানা বেষ্টনী দিয়ে সাইনবোর্ড স্থাপন করা হয়। উক্ত জমির পিটিশন মামলা নং ১০৪/১৭, ধারা ফৌঃ কা বি ১৪৫–এর বিপরীতে খিলগাঁও থানার এসআই আমিনুল ইসলামের তদন্ত প্রতিবেদনে প্রমাণিত হয় যে উক্ত জমির প্রকৃত মালিক বেলায়েত হোসেন এবং নামজারি ও খাজনাসহ সব কাগজপত্র তাঁর অনুকূলে রয়েছে।

তারপরও রাজউক উক্ত রসুলবাগ হাউজিং কোম্পানিকে কাজ বন্ধ করার নির্দেশ না দিয়ে বরং কাজ চালিয়ে যাওয়ার জন্য উৎসাহ দিয়ে যাচ্ছে। বিনিময়ে অনৈতিক সুবিধা গ্রহণ করা হচ্ছে বলে বিশেষ সূত্রে জানা যায়।

উল্লেখ্য, বেলায়েত হোসেন রূপালী ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর। বর্তমানে তিনি অসুস্থ ও চিকিৎসাধীন। তাঁর ভাগিনা মণির আহমেদ পাওয়ার অব অ্যাটর্নির মাধ্যমে কোর্টে একটি উচ্ছেদ মামলা দায়ের করেছেন—মামলা নং ২৫/২০২৫, তারিখ ২১/১০/২০২৫।

রাজউক কর্তৃপক্ষ চাইলে উক্ত হাউজিং কোম্পানির কাজ বন্ধ করে দিয়ে ১০১৪৩ নং দাগের ৪৯.৫০ শতাংশ জমির ভেতরে থাকা ৪.৫০ শতাংশ জমি আলাদা করে অবশিষ্ট জমিতে নির্মাণ কাজের নির্দেশ দিতে পারে, কারণ উক্ত ৪.৫০ শতাংশ জমিটি প্রথম রেজিস্ট্রিকৃত।

সুরাহা না হলে ভবিষ্যতে রসুলবাগ হাউজিং কোম্পানির সাথে ৩৬ জন শেয়ার মালিকের দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হবে এবং কোম্পানির শেয়ার ক্রেতা ৩৬ জন নিশ্চিতভাবে বিপদে পড়বে ও শেষ পর্যন্ত মালিকানা হারাবে।

রাজউকের নকশা অনুমোদন ছাড়া এভাবে প্রতারণার আশ্রয়ে বিল্ডিং নির্মাণে রাজউকের সুনাম ক্ষুণ্ন হচ্ছে, আইনশৃঙ্খলার ব্যত্যয় ঘটছে এবং একইসাথে প্লট ক্রেতারাও প্রতারিত হচ্ছে। নির্মাণাধীন ভবনের জমির প্রকৃত মালিক যাচাই করা রাজউকের নৈতিক দায়িত্ব। অনুমোদনহীন ও জোরপূর্বক দখলকৃত জমির উপর নির্মাণ কাজ সম্পূর্ণ আইনবহির্ভূত। তাই রসুলবাগ হাউজিং কোম্পানির অবৈধ নির্মাণ কাজে রাজউকের হস্তক্ষেপ জরুরি।