ঢাকা ০৭:৪৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬, ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
মুরাদনগরে দুই দিনব্যাপী ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পের উদ্বোধন দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বাড়াতে বাংলাদেশ ও কসোভোর মধ্যে এফটিএ নিয়ে আলোচনা দেশনেত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন আগামীকাল : দলের পক্ষ থেকে কর্মসূচি ঘোষণা নিম্নচাপের প্রভাবে উপকূলে ঝড়ো হাওয়ার শঙ্কা, ৪ বন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত তানজিদ-মোমিনুলের সেঞ্চুরির জুটিতে লিডের দ্বারপ্রান্তে বাংলাদেশ গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঝড় ‘লালা’র আশঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াইয়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা ‘এক সংস্কৃতির’ আহ্বান প্রত্যাখ্যান অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর তীব্র গরমে দুর্বিষহ দিন কাটছে পাকিস্তানের খেজুর শ্রমিকদের বাঁ-হাতি বোলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ উইকেটের রেকর্ড স্টার্কের এশিয়ান গেমস ক্রিকেটে পদক লড়াইয়ে মুখোমুখি হতে পারে ভারত-পাকিস্তান

বিনা বিচারে ১৭ বছর কারাভোগের পর খালাস

  • আপডেট সময় : ০৫:৪৬:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ মে ২০১৭
  • / 190
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

এক হত্যা মামলায় অজ্ঞাত পরিচয়ে আসামি হিসেবে গ্রেফতারের পর বিচারিক কার্যক্রম শেষ না করে দীর্ঘ ১৭ বছর কারাভোগের শেষে সূত্রাপুরের মো. শিপনকে খালাস দিয়েছেন বিচারিক (নিম্ন) আদালত।

গত ৩ এপ্রিল ঢাকার পরিবেশ আপিল আদালতের বিশেষ দায়রা জজ বিচারক মশিউর রহমান চৌধুরীর এ রায় দেন।

ওই রায়ের একটি অনুলিপি নিয়ে বৃহস্পতিবার (১১ মে) সুপ্রিম কোর্টে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন আইনজীবী। রায়ে আদালত বলেছেন,আসামিদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সন্দেহতীতভাবে প্রমাণিত না হওয়ায় তাদের খালাস দেয়া হয়েছে। বিচার শেষে খালাস পেলেও শিপনের জীবন থেকে চলে গেছে ১৭টি বছর।

এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইড কমিটির প্যানেল আইনজীবী কুমার দেবুল দে সাংবাদিকদের বলেন, বিচারে বিলম্ব হওয়ায় দীর্ঘদিন আটক থাকায় এখন শিপনের পক্ষে আমরা ক্ষতিপূরণ মামলা করব। শিপনের সঙ্গে যোগাযোগ করে এ আবেদন করা হবে।

১৯৯৪ সালে পুরান ঢাকার সূত্রাপুরে দুইপক্ষের মধ্যে মারামারিতে একজন নিহত হন। এ ঘটনায় স্থানীয় মো. জাবেদ বাদী হয়ে সূত্রাপুর থানায় ওই বছরের ২৫ অক্টোবর একটি মামলা করেন।

ওই মামলায় দুই নম্বর আসামি মো. শিপন। কিন্তু এফআইআরে তার বাবার নাম ছিলো অজ্ঞাত।

পরে অভিযোগপত্রে (চার্জশিট) তার বাবার নাম দেয়া হয় মো. রফিক। ঠিকানা লেখা হয়- ৫৯, গোয়ালঘটা লেন, সূত্রাপুর। পরবর্তীতে ২০০০ সালে গ্রেফতার হন শিপন। এরপর ওই বছরের ৭ নভেম্বর থেকে কাশিমপুর কারাগার পার্ট-২ তে বন্দি ছিলেন তিনি।

গত বছরে একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে বিনাবিচারে শিপনের বন্দি থাকা নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রচারিত হয়। সেই প্রতিবেদন আদালতের নজরে আনেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী কুমার দেবুল দে। এরপর তা আমলে নিয়ে ২০১৬ সালের ৩০ অক্টোবর শিপনকে আদালতে হাজির করতে কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন আদালত।

ওই বছরের ৮ নভেম্বর তাকে আদালতে হাজির করা হলে হাইকোর্টের বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহীম ও বিচারপতি জে বি এম হাসানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ তাকে জামিন দেন। একই সঙ্গে ৬০ দিনের মধ্যে এ মামলার বিচার শেষ করার নির্দেশ দেয়া হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

বিনা বিচারে ১৭ বছর কারাভোগের পর খালাস

আপডেট সময় : ০৫:৪৬:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ মে ২০১৭

এক হত্যা মামলায় অজ্ঞাত পরিচয়ে আসামি হিসেবে গ্রেফতারের পর বিচারিক কার্যক্রম শেষ না করে দীর্ঘ ১৭ বছর কারাভোগের শেষে সূত্রাপুরের মো. শিপনকে খালাস দিয়েছেন বিচারিক (নিম্ন) আদালত।

গত ৩ এপ্রিল ঢাকার পরিবেশ আপিল আদালতের বিশেষ দায়রা জজ বিচারক মশিউর রহমান চৌধুরীর এ রায় দেন।

ওই রায়ের একটি অনুলিপি নিয়ে বৃহস্পতিবার (১১ মে) সুপ্রিম কোর্টে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন আইনজীবী। রায়ে আদালত বলেছেন,আসামিদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সন্দেহতীতভাবে প্রমাণিত না হওয়ায় তাদের খালাস দেয়া হয়েছে। বিচার শেষে খালাস পেলেও শিপনের জীবন থেকে চলে গেছে ১৭টি বছর।

এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইড কমিটির প্যানেল আইনজীবী কুমার দেবুল দে সাংবাদিকদের বলেন, বিচারে বিলম্ব হওয়ায় দীর্ঘদিন আটক থাকায় এখন শিপনের পক্ষে আমরা ক্ষতিপূরণ মামলা করব। শিপনের সঙ্গে যোগাযোগ করে এ আবেদন করা হবে।

১৯৯৪ সালে পুরান ঢাকার সূত্রাপুরে দুইপক্ষের মধ্যে মারামারিতে একজন নিহত হন। এ ঘটনায় স্থানীয় মো. জাবেদ বাদী হয়ে সূত্রাপুর থানায় ওই বছরের ২৫ অক্টোবর একটি মামলা করেন।

ওই মামলায় দুই নম্বর আসামি মো. শিপন। কিন্তু এফআইআরে তার বাবার নাম ছিলো অজ্ঞাত।

পরে অভিযোগপত্রে (চার্জশিট) তার বাবার নাম দেয়া হয় মো. রফিক। ঠিকানা লেখা হয়- ৫৯, গোয়ালঘটা লেন, সূত্রাপুর। পরবর্তীতে ২০০০ সালে গ্রেফতার হন শিপন। এরপর ওই বছরের ৭ নভেম্বর থেকে কাশিমপুর কারাগার পার্ট-২ তে বন্দি ছিলেন তিনি।

গত বছরে একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে বিনাবিচারে শিপনের বন্দি থাকা নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রচারিত হয়। সেই প্রতিবেদন আদালতের নজরে আনেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী কুমার দেবুল দে। এরপর তা আমলে নিয়ে ২০১৬ সালের ৩০ অক্টোবর শিপনকে আদালতে হাজির করতে কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন আদালত।

ওই বছরের ৮ নভেম্বর তাকে আদালতে হাজির করা হলে হাইকোর্টের বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহীম ও বিচারপতি জে বি এম হাসানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ তাকে জামিন দেন। একই সঙ্গে ৬০ দিনের মধ্যে এ মামলার বিচার শেষ করার নির্দেশ দেয়া হয়।