ঢাকা ০৬:১৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬, ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বাঁ-হাতি বোলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ উইকেটের রেকর্ড স্টার্কের এশিয়ান গেমস ক্রিকেটে পদক লড়াইয়ে মুখোমুখি হতে পারে ভারত-পাকিস্তান কোকোর নামে বগুড়ায় জাতীয় প্যারা স্পোর্টস কমপ্লেক্স নির্মাণের ঘোষণা ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর কারাবন্দি ও পলাতক আসামিদের জন্য সাধারণ ক্ষমা আইন পাস করল লেবানন মার্কিন রণতরী আব্রাহাম লিংকনের পরিস্থিতি নিয়ে তদন্ত দাবি সিনেটরদের জাপানের দাবিকৃত কুরিল দ্বীপপুঞ্জ সফর পুতিনের সুদানের রাজধানী খার্তুমে টানা দ্বিতীয় দিন আধাসামরিক বাহিনীর ড্রোন হামলা সকলের মতামত নিয়েই সংবিধান সংশোধন করা হবে: চিফ হুইপ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দু’জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র দাখিল, ১৬ আগস্ট যাচাই-বাছাই: ইসি সচিব রাষ্ট্রপতি পদে দলের প্রার্থী হিসেবে মির্জা ফখরুলকে বেছে নিলেন প্রধানমন্ত্রী

বিশ্ববাজার মাতাচ্ছে সাতক্ষীরার সফটশেল কাঁকড়া

  • আপডেট সময় : ১২:৪১:২১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬
  • / 28
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বিডিসংবাদ অনলাইন ডেস্ক:

সুন্দরবন সংলগ্ন সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলায় চাষ হওয়া নরম খোসার (সফটশেল) কাঁকড়া আন্তর্জাতিক বাজারে বিপুল চাহিদা তৈরি করেছে।

বর্তমানে সফটশেল (নরম খোসার) কাঁকড়া সাতক্ষীরা জেলার মানুষের ভাগ্য বদলাতে শুরু করেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় এ অঞ্চলে কাঁকড়া উৎপাদনের জন্য প্রতি বছর গড়ে উঠছে নতুন নতুন খামার, যা জেলা তথা দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

সম্প্রতি সাতক্ষীরা জেলা সরেজমিনে পরিদর্শন করে ও রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর সূত্রে এই সব তথ্য পাওয়া গেছে।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর তথ্য মতে, ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরের জুলাই থেকে জুন মাসে কাঁকড়া রপ্তানি হয়েছে ১৩ দশমিক ৭৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।

গত ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরের একই সময়ে (জুলাই-জুন) এ রপ্তানি ছিলো ৯ দশমিক ২৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, এতে বিগত বছরে চেয়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৪৮ দশমিক ৭০ শতাংশ। কেবল চলতি বছরের জুন মাসে রপ্তানি হয়েছে ১ দশমিক ৫৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।

সংশ্লিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে, বাংলাদেশে বর্তমান বাণিজ্যিকভাবে চাষ যোগ্য কাঁকড়ার মধ্যে শিলা কাঁকড়া অন্যতম।
শিলা কাঁকড়া খোলস বদলের সময় প্রায় তিন ঘণ্টা খোলস বিহীন থাকে। তখন কাঁকড়ার ওপর শুধু একটি নরম আবরণ থাকে। ঠিক সেই সময় কাকড়াঁগুলো বিক্রির জন্য উপযুক্ত হয়।

আন্তর্জাতিক বাজারে সফটশেল (নরম খোসা) কাঁকড়ার উচ্চমূল্যে বিক্রি হয়, যার কারণে অনেক চাষি চিংড়ি ছেড়ে এখন কাঁকড়া চাষে ঝুঁকছেন। লাভ বেশি হওয়ায় চাষীরা এখন চিংড়ি চাষ ছেড়ে কাকড়াঁতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন বেশি।

বর্তমানে সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর ছাড়াও সদর উপজেলা ও কালিগঞ্জ উপজেলাসহ অন্যান্য স্থানেও সফটশেল কাঁকড়া চাষ হচ্ছে।

কাঁকড়া চাষে পুকুরের পানির উপরিস্তর ব্যবহৃত হয়। যাতে অব্যবহৃত থাকে পানির নিচের স্তর। পুকুরের পানির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করার জন্য কাঁকড়ার পাশাপাশি সাদা মাছ যেমন রুই, কাতলা ও তেলাপিয়াসহ নানা মাছ চাষ করে লাভবান হচ্ছেন অনেক চাষী।

।সফটশেল কাঁকড়া সাধারণত খাঁচা পদ্ধতিতে চাষ হয় যাতে পানির ওপরে খাঁচাগুলোতে কাঁকড়া চাষ করলে নিচের স্তরের পানিতে সাদা মাছের চাষ করা যায়।

সফটশেল কাঁকড়া দ্রুত প্রক্রিয়াজাত ও রান্না করা যায় বলে আন্তর্জাতিক বাজারে এর চাহিদা বেশি। বর্তমানে সফটশেল কাঁকড়া চীন, দক্ষিণ কোরিয়া, মালয়েশিয়া ও ভিয়েতনামসহ বিভিন্ন এশীয় দেশে রপ্তানি হচ্ছে।

কাঁকড়া শুধু সাতক্ষীরা জেলার মানুষের আয়েরই উৎস নয়, বরং কাঁকড়া চাষের মাধ্যমে এই অঞ্চলে মানুষের বেকারত্বও দূর করছে। পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও এই কাজ করে স্বাবলম্বী হচ্ছেন।

সরেজমিনে শ্যামনগর উপজেলার কয়েকটি কাঁকড়ার খামারে গিয়ে দেখা যায়, কাঁকড়ার খামারে কর্মব্যস্ত দিন কাটাচ্ছেন নারী ও পুরুষরা। কেউ ছোট ছোট করে কাটছেন কাঁকড়ার খাবার তেলাপিয়া মাছ এবং কেউ কেউ নিয়ম করে দেখছেন কাঁকড়ার খোলস পাল্টাচ্ছে কি-না।

খুলনা মৎস্য পরিদর্শন ও মাননিয়ন্ত্রণ দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সফটশেল কাঁকড়া রপ্তানিতে গত দুই অর্থবছরে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৬৪৪ দশমিক ৭৬৮ মেট্রিক টন সফটশেল কাঁকড়া রপ্তানি হয়েছিল, যার বাজার মূল্য ছিল ৮ দশমিক ০২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। পরবর্তী অর্থবছর অর্থাৎ ২০২৪-২৫ সালে রপ্তানির পরিমাণ বেড়ে দাঁড়ায় ১১৬৬ দশমিক ৮৮৮ মেট্রিক টনে। যার বাজার মূল্য ছিল ১৪ দশমিক ২০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এতে এক বছরের ব্যবধানে রপ্তানি আয় বেড়েছে ৬ দশমিক ১৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। তবে ২০২১-২২ অর্থবছরে সফটশেল কাঁকড়ার রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৮০২ দশমিক ৭১৩ মেট্রিক টন, যার বাজার মূল্য ছিল ১১ দশমিক ৬৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।

শ্যামনগরের দুগাবাঁটি এলাকার কাঁকড়া চাষী গৌতম সরকার বলেন, ‘আমাদের এখানে ঝড়-জলোচ্ছ্বাসে অনেক ক্ষয়ক্ষতি হয়ে থাকে। তাই আমাদের অর্থনৈতিক একটা ঝুঁকি সব সময় থাকে। চিংড়ি পোনার লবণাক্ততা সহ্য করার ক্ষমতা কম এবং পোনায় ভাইরাসের আক্রমণে এটি মারা যায়। তাই আমি এবার কাঁকড়া চাষ করেছি।’

তিনি আরো বলেন, এতে তুলনামূলক লাভ বেশি হয় ও কাঁকড়ার পাশাপাশি পুকুরে সাদা মাছ চাষ করছি, যাতে এটি থেকেও আর্থিকভাবে কিছুটা লাভবান হওয়া যায়।

একই এলাকার চাষি সৌরভ সরকার বলেন, ‘আমাদের এই অঞ্চলের সবাই সফটশেল কাঁকড়া চাষ করছেন। আমি এই মৌসুমে ৭০০ খাঁচা তৈরিতে খরচ হয়েছে ৩ লাখ টাকা। বাজার ভালো থাকলে ৫ থেকে ৬ লাখ টাকা বিক্রি করতে পারবো। বর্তমানে ‘এ’ গ্রেডের সফটশেল কাঁকড়া প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৭৫০ টাকা, ‘বি’ গ্রেডের ৬৫০ টাকা, আর ‘সি’ গ্রেডের ৫০০ টাকা দামে।’

সাতক্ষীরা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা জি এম সেলিম বাসস’কে বলেন, ‘সফটশেল কাঁকড়ার উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে আমরা বিভিন্ন কার্যক্রম হাতে নিয়েছি। চাষিদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে, যাতে তারা আধুনিক ও টেকসই পদ্ধতিতে কাঁকড়া চাষ করতে পারেন।’

তিনি আরো বলেন, তবে বর্তমানে সুন্দরবনে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা থাকায়, চাষিরা কাঁকড়ার পোনা সংগ্রহে কিছুটা সমস্যায় পড়ছেন। এই সংকট মোকাবেলায় সরকারিভাবে তাদের প্রয়োজনীয় সহায়তা ও সহযোগিতা প্রদান করা হচ্ছে।
বিডিসংবাদ/এএইচএস

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

বিশ্ববাজার মাতাচ্ছে সাতক্ষীরার সফটশেল কাঁকড়া

আপডেট সময় : ১২:৪১:২১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬

বিডিসংবাদ অনলাইন ডেস্ক:

সুন্দরবন সংলগ্ন সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলায় চাষ হওয়া নরম খোসার (সফটশেল) কাঁকড়া আন্তর্জাতিক বাজারে বিপুল চাহিদা তৈরি করেছে।

বর্তমানে সফটশেল (নরম খোসার) কাঁকড়া সাতক্ষীরা জেলার মানুষের ভাগ্য বদলাতে শুরু করেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় এ অঞ্চলে কাঁকড়া উৎপাদনের জন্য প্রতি বছর গড়ে উঠছে নতুন নতুন খামার, যা জেলা তথা দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

সম্প্রতি সাতক্ষীরা জেলা সরেজমিনে পরিদর্শন করে ও রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর সূত্রে এই সব তথ্য পাওয়া গেছে।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর তথ্য মতে, ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরের জুলাই থেকে জুন মাসে কাঁকড়া রপ্তানি হয়েছে ১৩ দশমিক ৭৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।

গত ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরের একই সময়ে (জুলাই-জুন) এ রপ্তানি ছিলো ৯ দশমিক ২৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, এতে বিগত বছরে চেয়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৪৮ দশমিক ৭০ শতাংশ। কেবল চলতি বছরের জুন মাসে রপ্তানি হয়েছে ১ দশমিক ৫৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।

সংশ্লিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে, বাংলাদেশে বর্তমান বাণিজ্যিকভাবে চাষ যোগ্য কাঁকড়ার মধ্যে শিলা কাঁকড়া অন্যতম।
শিলা কাঁকড়া খোলস বদলের সময় প্রায় তিন ঘণ্টা খোলস বিহীন থাকে। তখন কাঁকড়ার ওপর শুধু একটি নরম আবরণ থাকে। ঠিক সেই সময় কাকড়াঁগুলো বিক্রির জন্য উপযুক্ত হয়।

আন্তর্জাতিক বাজারে সফটশেল (নরম খোসা) কাঁকড়ার উচ্চমূল্যে বিক্রি হয়, যার কারণে অনেক চাষি চিংড়ি ছেড়ে এখন কাঁকড়া চাষে ঝুঁকছেন। লাভ বেশি হওয়ায় চাষীরা এখন চিংড়ি চাষ ছেড়ে কাকড়াঁতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন বেশি।

বর্তমানে সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর ছাড়াও সদর উপজেলা ও কালিগঞ্জ উপজেলাসহ অন্যান্য স্থানেও সফটশেল কাঁকড়া চাষ হচ্ছে।

কাঁকড়া চাষে পুকুরের পানির উপরিস্তর ব্যবহৃত হয়। যাতে অব্যবহৃত থাকে পানির নিচের স্তর। পুকুরের পানির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করার জন্য কাঁকড়ার পাশাপাশি সাদা মাছ যেমন রুই, কাতলা ও তেলাপিয়াসহ নানা মাছ চাষ করে লাভবান হচ্ছেন অনেক চাষী।

।সফটশেল কাঁকড়া সাধারণত খাঁচা পদ্ধতিতে চাষ হয় যাতে পানির ওপরে খাঁচাগুলোতে কাঁকড়া চাষ করলে নিচের স্তরের পানিতে সাদা মাছের চাষ করা যায়।

সফটশেল কাঁকড়া দ্রুত প্রক্রিয়াজাত ও রান্না করা যায় বলে আন্তর্জাতিক বাজারে এর চাহিদা বেশি। বর্তমানে সফটশেল কাঁকড়া চীন, দক্ষিণ কোরিয়া, মালয়েশিয়া ও ভিয়েতনামসহ বিভিন্ন এশীয় দেশে রপ্তানি হচ্ছে।

কাঁকড়া শুধু সাতক্ষীরা জেলার মানুষের আয়েরই উৎস নয়, বরং কাঁকড়া চাষের মাধ্যমে এই অঞ্চলে মানুষের বেকারত্বও দূর করছে। পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও এই কাজ করে স্বাবলম্বী হচ্ছেন।

সরেজমিনে শ্যামনগর উপজেলার কয়েকটি কাঁকড়ার খামারে গিয়ে দেখা যায়, কাঁকড়ার খামারে কর্মব্যস্ত দিন কাটাচ্ছেন নারী ও পুরুষরা। কেউ ছোট ছোট করে কাটছেন কাঁকড়ার খাবার তেলাপিয়া মাছ এবং কেউ কেউ নিয়ম করে দেখছেন কাঁকড়ার খোলস পাল্টাচ্ছে কি-না।

খুলনা মৎস্য পরিদর্শন ও মাননিয়ন্ত্রণ দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সফটশেল কাঁকড়া রপ্তানিতে গত দুই অর্থবছরে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৬৪৪ দশমিক ৭৬৮ মেট্রিক টন সফটশেল কাঁকড়া রপ্তানি হয়েছিল, যার বাজার মূল্য ছিল ৮ দশমিক ০২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। পরবর্তী অর্থবছর অর্থাৎ ২০২৪-২৫ সালে রপ্তানির পরিমাণ বেড়ে দাঁড়ায় ১১৬৬ দশমিক ৮৮৮ মেট্রিক টনে। যার বাজার মূল্য ছিল ১৪ দশমিক ২০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এতে এক বছরের ব্যবধানে রপ্তানি আয় বেড়েছে ৬ দশমিক ১৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। তবে ২০২১-২২ অর্থবছরে সফটশেল কাঁকড়ার রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৮০২ দশমিক ৭১৩ মেট্রিক টন, যার বাজার মূল্য ছিল ১১ দশমিক ৬৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।

শ্যামনগরের দুগাবাঁটি এলাকার কাঁকড়া চাষী গৌতম সরকার বলেন, ‘আমাদের এখানে ঝড়-জলোচ্ছ্বাসে অনেক ক্ষয়ক্ষতি হয়ে থাকে। তাই আমাদের অর্থনৈতিক একটা ঝুঁকি সব সময় থাকে। চিংড়ি পোনার লবণাক্ততা সহ্য করার ক্ষমতা কম এবং পোনায় ভাইরাসের আক্রমণে এটি মারা যায়। তাই আমি এবার কাঁকড়া চাষ করেছি।’

তিনি আরো বলেন, এতে তুলনামূলক লাভ বেশি হয় ও কাঁকড়ার পাশাপাশি পুকুরে সাদা মাছ চাষ করছি, যাতে এটি থেকেও আর্থিকভাবে কিছুটা লাভবান হওয়া যায়।

একই এলাকার চাষি সৌরভ সরকার বলেন, ‘আমাদের এই অঞ্চলের সবাই সফটশেল কাঁকড়া চাষ করছেন। আমি এই মৌসুমে ৭০০ খাঁচা তৈরিতে খরচ হয়েছে ৩ লাখ টাকা। বাজার ভালো থাকলে ৫ থেকে ৬ লাখ টাকা বিক্রি করতে পারবো। বর্তমানে ‘এ’ গ্রেডের সফটশেল কাঁকড়া প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৭৫০ টাকা, ‘বি’ গ্রেডের ৬৫০ টাকা, আর ‘সি’ গ্রেডের ৫০০ টাকা দামে।’

সাতক্ষীরা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা জি এম সেলিম বাসস’কে বলেন, ‘সফটশেল কাঁকড়ার উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে আমরা বিভিন্ন কার্যক্রম হাতে নিয়েছি। চাষিদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে, যাতে তারা আধুনিক ও টেকসই পদ্ধতিতে কাঁকড়া চাষ করতে পারেন।’

তিনি আরো বলেন, তবে বর্তমানে সুন্দরবনে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা থাকায়, চাষিরা কাঁকড়ার পোনা সংগ্রহে কিছুটা সমস্যায় পড়ছেন। এই সংকট মোকাবেলায় সরকারিভাবে তাদের প্রয়োজনীয় সহায়তা ও সহযোগিতা প্রদান করা হচ্ছে।
বিডিসংবাদ/এএইচএস