ঢাকা ০৬:২২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬, ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বাঁ-হাতি বোলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ উইকেটের রেকর্ড স্টার্কের এশিয়ান গেমস ক্রিকেটে পদক লড়াইয়ে মুখোমুখি হতে পারে ভারত-পাকিস্তান কোকোর নামে বগুড়ায় জাতীয় প্যারা স্পোর্টস কমপ্লেক্স নির্মাণের ঘোষণা ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর কারাবন্দি ও পলাতক আসামিদের জন্য সাধারণ ক্ষমা আইন পাস করল লেবানন মার্কিন রণতরী আব্রাহাম লিংকনের পরিস্থিতি নিয়ে তদন্ত দাবি সিনেটরদের জাপানের দাবিকৃত কুরিল দ্বীপপুঞ্জ সফর পুতিনের সুদানের রাজধানী খার্তুমে টানা দ্বিতীয় দিন আধাসামরিক বাহিনীর ড্রোন হামলা সকলের মতামত নিয়েই সংবিধান সংশোধন করা হবে: চিফ হুইপ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দু’জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র দাখিল, ১৬ আগস্ট যাচাই-বাছাই: ইসি সচিব রাষ্ট্রপতি পদে দলের প্রার্থী হিসেবে মির্জা ফখরুলকে বেছে নিলেন প্রধানমন্ত্রী

নিয়মিত নিচ্ছেন শমরিতা হাসপাতালে চিকিৎসা

বিশ্বযুদ্ধ ও দেশভাগ দেখা ১০৪ বছরের সৈয়দ আবদুর রউফ আজও দিব্বি সুস্থ ও প্রাণবন্ত!

  • আপডেট সময় : ১০:৩৫:২৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬
  • / 174
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বয়স যে কেবলই একটি সংখ্যা, তা যেন নিজ জীবনে প্রমাণ করে চলেছেন ১০৪ বছর বয়সী প্রবীণ ব্যক্তিত্ব সৈয়দ আবদুর রউফ। এই অকল্পনীয় বয়সেও তিনি দিব্বি সুস্থ, প্রাণবন্ত ও হাসিখুশি। শতবর্ষ পেরিয়ে আসা এই মানুষটির জীবনের পরতে পরতে লুকিয়ে আছে ইতিহাসের নানা সাক্ষী তিনি নিজের চোখে দেখেছেন বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহতা, দেখেছেন ১৯৪৭ সালের দেশভাগ।

কলকাতায় জন্মগ্রহণ করা পেশায় সফল ব্যবসায়ী সৈয়দ আবদুর রউফ দেশভাগের পর পাড়ি জমান বাংলাদেশে। তিল তিল পরিশ্রমে ঢাকার পান্থপথের ইন্দিরা রোডে গড়ে তোলেন নিজের স্থায়ী বাসস্থান। শুধু ব্যবসা বা নিজের বাসস্থানই নয়, শিক্ষা ও সমাজসেবায় তাঁর পরিবারের রয়েছে অনন্য অবদান। তিনি তিন ভাই ও দুই বোনসহ মোট পাঁচ ভাই-বোনের যৌথ ও সুদৃঢ় পারিবারিক ঐতিহ্যে বড় হয়েছেন।ব্যক্তিগত জীবনে তাঁর সন্তানদের সাফল্যও গর্ব করার মতো। তিনি ৫ মেয়ে ও ৩ ছেলেসহ মোট ৮ ছেলে-মেয়ের জনক। তিনি এবং তার পরিবারের উদ্যোগে ধনিয়া বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ ও এ. কে. হাই স্কুলের মতো ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে, যা সমাজে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিচ্ছে।

সৈয়দ আবদুর রউফের এই দীর্ঘ ও সুস্থ জীবনের পেছনে নিয়মতপরায়ণতার পাশাপাশি রয়েছে সঠিক ও সময়োপযোগী চিকিৎসাসেবা। বিগত ২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে তিনি ও তাঁর পরিবার রাজধানীর পান্থপথের ঐতিহ্যবাহী শমরিতা হাসপাতাল লিমিটেডের ওপর পূর্ণ আস্থা রেখে চিকিৎসা সেবা নিয়ে আসছেন। প্রয়াত স্ত্রী থেকে শুরু করে তাঁর সন্তান ও নাতি-নাতনিরা পরিবারের সকলেরই যেকোনো স্বাস্থ্যগত প্রয়োজনে প্রথম ও শেষ ভরসাস্থল শমরিতা হাসপাতাল।

বর্তমানে তিনি হাসপাতালের বিশিষ্ট হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ (কার্ডিওলজিস্ট) ডা. মো. আবরার কায়সারের নিয়মিত তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ডা. আবরার কায়সারের আন্তরিকতা ও নিবিড় পরিচর্যায় ১০৪ বছর বয়সেও তাঁর শারীরিক সুস্থতা ও মনোবল সত্যিই অনুপ্রেরণাদায়ক।

সম্প্রতি এই শতায়ু প্রবীণ রোগীকে সম্মান জানাতে এবং তাঁর শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিতে হাসপাতালে তাঁর কেবিনে ছুটে যান শমরিতা হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ডা. এ বি এম হারুন। এ সময় হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন। ডা. এ বি এম হারুন সৈয়দ আবদুর রউফের অদম্য জীবনীশক্তি ও আত্ম মনোবলকে কুর্নিশ জানান এবং তাঁর দীর্ঘ ও সুস্থ জীবন কামনা করে বিশেষ দোয়া করেন।

হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও চিকিৎসকদের এমন উষ্ণ ভালোবাসা এবং নিরবচ্ছিন্ন সেবায় অত্যন্ত আবেগাপ্লুত ও মুগ্ধ হন সৈয়দ আবদুর রউফ। তিনি শমরিতা হাসপাতালের এমডি ডা. এ বি এম হারুন এবং তাঁর চিকিৎসক ডা. মো. আবরার কায়সারসহ পুরো হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, “দীর্ঘ ২০ বছর ধরে শমরিতার চিকিৎসকরা আমাদের পরিবারকে শুধু চিকিৎসা সেবাই দেননি, বরং আপনজনের মতো পরম মমতায় পাশে থেকেছেন।”

শমরিতা হাসপাতাল পরিবারের পক্ষ থেকেও এই শতায়ু অনুপ্রেরণাদায়ী রোগীর আরও বহু বছরের সুস্থতা, আনন্দময় জীবন ও দীর্ঘায়ু কামনা করা হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

নিয়মিত নিচ্ছেন শমরিতা হাসপাতালে চিকিৎসা

বিশ্বযুদ্ধ ও দেশভাগ দেখা ১০৪ বছরের সৈয়দ আবদুর রউফ আজও দিব্বি সুস্থ ও প্রাণবন্ত!

আপডেট সময় : ১০:৩৫:২৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬

বয়স যে কেবলই একটি সংখ্যা, তা যেন নিজ জীবনে প্রমাণ করে চলেছেন ১০৪ বছর বয়সী প্রবীণ ব্যক্তিত্ব সৈয়দ আবদুর রউফ। এই অকল্পনীয় বয়সেও তিনি দিব্বি সুস্থ, প্রাণবন্ত ও হাসিখুশি। শতবর্ষ পেরিয়ে আসা এই মানুষটির জীবনের পরতে পরতে লুকিয়ে আছে ইতিহাসের নানা সাক্ষী তিনি নিজের চোখে দেখেছেন বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহতা, দেখেছেন ১৯৪৭ সালের দেশভাগ।

কলকাতায় জন্মগ্রহণ করা পেশায় সফল ব্যবসায়ী সৈয়দ আবদুর রউফ দেশভাগের পর পাড়ি জমান বাংলাদেশে। তিল তিল পরিশ্রমে ঢাকার পান্থপথের ইন্দিরা রোডে গড়ে তোলেন নিজের স্থায়ী বাসস্থান। শুধু ব্যবসা বা নিজের বাসস্থানই নয়, শিক্ষা ও সমাজসেবায় তাঁর পরিবারের রয়েছে অনন্য অবদান। তিনি তিন ভাই ও দুই বোনসহ মোট পাঁচ ভাই-বোনের যৌথ ও সুদৃঢ় পারিবারিক ঐতিহ্যে বড় হয়েছেন।ব্যক্তিগত জীবনে তাঁর সন্তানদের সাফল্যও গর্ব করার মতো। তিনি ৫ মেয়ে ও ৩ ছেলেসহ মোট ৮ ছেলে-মেয়ের জনক। তিনি এবং তার পরিবারের উদ্যোগে ধনিয়া বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ ও এ. কে. হাই স্কুলের মতো ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে, যা সমাজে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিচ্ছে।

সৈয়দ আবদুর রউফের এই দীর্ঘ ও সুস্থ জীবনের পেছনে নিয়মতপরায়ণতার পাশাপাশি রয়েছে সঠিক ও সময়োপযোগী চিকিৎসাসেবা। বিগত ২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে তিনি ও তাঁর পরিবার রাজধানীর পান্থপথের ঐতিহ্যবাহী শমরিতা হাসপাতাল লিমিটেডের ওপর পূর্ণ আস্থা রেখে চিকিৎসা সেবা নিয়ে আসছেন। প্রয়াত স্ত্রী থেকে শুরু করে তাঁর সন্তান ও নাতি-নাতনিরা পরিবারের সকলেরই যেকোনো স্বাস্থ্যগত প্রয়োজনে প্রথম ও শেষ ভরসাস্থল শমরিতা হাসপাতাল।

বর্তমানে তিনি হাসপাতালের বিশিষ্ট হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ (কার্ডিওলজিস্ট) ডা. মো. আবরার কায়সারের নিয়মিত তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ডা. আবরার কায়সারের আন্তরিকতা ও নিবিড় পরিচর্যায় ১০৪ বছর বয়সেও তাঁর শারীরিক সুস্থতা ও মনোবল সত্যিই অনুপ্রেরণাদায়ক।

সম্প্রতি এই শতায়ু প্রবীণ রোগীকে সম্মান জানাতে এবং তাঁর শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিতে হাসপাতালে তাঁর কেবিনে ছুটে যান শমরিতা হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ডা. এ বি এম হারুন। এ সময় হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন। ডা. এ বি এম হারুন সৈয়দ আবদুর রউফের অদম্য জীবনীশক্তি ও আত্ম মনোবলকে কুর্নিশ জানান এবং তাঁর দীর্ঘ ও সুস্থ জীবন কামনা করে বিশেষ দোয়া করেন।

হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও চিকিৎসকদের এমন উষ্ণ ভালোবাসা এবং নিরবচ্ছিন্ন সেবায় অত্যন্ত আবেগাপ্লুত ও মুগ্ধ হন সৈয়দ আবদুর রউফ। তিনি শমরিতা হাসপাতালের এমডি ডা. এ বি এম হারুন এবং তাঁর চিকিৎসক ডা. মো. আবরার কায়সারসহ পুরো হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, “দীর্ঘ ২০ বছর ধরে শমরিতার চিকিৎসকরা আমাদের পরিবারকে শুধু চিকিৎসা সেবাই দেননি, বরং আপনজনের মতো পরম মমতায় পাশে থেকেছেন।”

শমরিতা হাসপাতাল পরিবারের পক্ষ থেকেও এই শতায়ু অনুপ্রেরণাদায়ী রোগীর আরও বহু বছরের সুস্থতা, আনন্দময় জীবন ও দীর্ঘায়ু কামনা করা হয়েছে।