সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করলেন ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি
- আপডেট সময় : ০৬:৩০:০৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬
- / 1
জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি পদত্যাগ করেছেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে তিনি স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে আনুষ্ঠানিকভাবে নিজের পদত্যাগপত্র জমা দেন। সংসদ সচিবালয় থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। সচিবালয়ের লেজিসলেটিভ সাপোর্ট উইংয়ের আইন প্রণয়ন শাখা-২ থেকে প্রকাশিত এই বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সংসদ সদস্যের পদত্যাগের ফলে জাতীয় সংসদের ৩২৩ নম্বর (মহিলা আসন-২৩) আসনটি বাংলাদেশের সংবিধানের ৬৭(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ১ অক্টোবর থেকে শূন্য ঘোষণা করা হয়েছে।
জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত এই প্রজ্ঞাপনের অনুলিপি প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণের জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও নির্বাচন কমিশন সচিবালয়সহ সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। সংসদের কার্যপ্রণালী বিধির ১৭৭ বিধি অনুযায়ী, কোনো সংসদ সদস্যের পদত্যাগ কার্যকর হওয়ার জন্য স্পিকারের কাছে ব্যক্তিগতভাবে স্বাক্ষরযুক্ত লিখিত আবেদন জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক। এই আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই ফেরদৌসী আহমেদ তার পদত্যাগপত্র জমা দেন। তিনি তার আবেদনে উল্লেখ করেন, সম্পূর্ণ সজ্ঞানে ও স্বেচ্ছায় সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য পদ থেকে তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং স্পিকারের কাছে তা গ্রহণের অনুরোধ জানিয়েছেন। পদত্যাগপত্রে এর বাইরে কোনো অতিরিক্ত তথ্য তিনি উল্লেখ করেননি। সংসদের কার্যপ্রণালী বিধির ১৭৭ বিধি অনুযায়ী, কোনও সংসদ সদস্য পদত্যাগ করতে চাইলে স্পিকারকে উদ্দেশ করে নিজ স্বাক্ষরে লিখিতভাবে তা জানাতে হয়। অতএব, বিনীত প্রর্থনা এই যে আমার পদত্যাগপত্রটি গ্রহণ করে পদত্যাগ কার্যকর করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে আপনার সদয় মর্জি হয়।
উল্লেখ্য, গত ২৪ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে রাজধানীর মিরপুরে অবস্থিত রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার বা মা ও শিশুস্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভাঙচুর, হামলা ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এই বিতর্কিত ঘটনার পর থেকেই মিষ্টির পদত্যাগের বিষয়টি আলোচনায় উঠে আসে এবং বিভিন্ন মহলে সমালোচনার ঝড় ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, এই ভাঙচুরের ঘটনায় সরকারি দলের স্থানীয় নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ততা ছিল। এর আগে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন ফেরদৌসী আহমেদ। গত বুধবার রাতে সেই কমিটি বিলুপ্ত করা হয়। কমিটি বিলুপ্তির পরপরই তার সংসদ সদস্য পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার ঘটনাটি রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। তার আসন শূন্য ঘোষণা হওয়ায় এখন নিয়ম অনুযায়ী ওই পদে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া শুরু হবে।
















