বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স ১০-এর সনদ অনুমোদন স্থগিত করেছে এফএএ
- আপডেট সময় : ০১:৫১:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬
- / 0
নতুন একটি সফটওয়্যারজনিত ত্রুটি শনাক্ত হওয়ার পর বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স ১০ মডেলের উড়োজাহাজের সনদ বা অনুমোদন প্রক্রিয়া স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ)। সংস্থাটির পরিচালক ব্রায়ান বেডফোর্ড ২৮ সেপ্টেম্বর এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, নতুন এই ত্রুটিটি পুরোপুরি যাচাই না করা পর্যন্ত উক্ত মডেলের প্রত্যয়ন কার্যক্রম স্থগিত থাকবে। তবে তিনি নিশ্চিত করেছেন যে, এর আগে থেকে অনুমোদিত ও প্রত্যয়িত অন্যান্য ম্যাক্স মডেলের উড়োজাহাজগুলো বর্তমানে পুরোপুরি নিরাপদ রয়েছে।
বেডফোর্ডের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সফটওয়্যারের ওই ত্রুটির ফলে উড়োজাহাজের অটোপাইলট ব্যবস্থা নির্দিষ্ট কিছু পরিস্থিতিতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে। যদিও ত্রুটি দেখা দেওয়ার পরও পরীক্ষামূলক ফ্লাইটে পাইলটরা উড়োজাহাজের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছেন, তবুও এই ঘটনাটিকে ২০১৮ ও ২০১৯ সালের ম্যাক্স সিরিজের স্বয়ংক্রিয় ফ্লাইট নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা সংক্রান্ত ভয়াবহ দুর্ঘটনার চেয়ে ভিন্ন বলে অভিহিত করেছেন তিনি। তবে পাইলটদের ওপর অতিরিক্ত কাজের চাপ সৃষ্টির কোনো সম্ভাবনা রয়েছে কি না, তা নিয়ে এফএএ বর্তমানে গভীর অনুসন্ধান চালাচ্ছে। ওই সময় দুটি ভয়াবহ দুর্ঘটনার পর বিশ্বজুড়ে এই মডেলের উড়োজাহাজের চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছিল। সংস্থাটি বলছে, সফটওয়্যার ত্রুটির পাশাপাশি পাইলটদের জন্য পরিস্থিতি মোকাবিলার পদ্ধতি যথেষ্ট কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণভাবে পর্যালোচনা করা হবে।
ত্রুটিপূর্ণ সফটওয়্যারটি সরবরাহ করেছে জিই এরোস্পেস, যারা মূলত বোয়িংয়ের জন্য ইঞ্জিনসহ বিভিন্ন প্রযুক্তি প্রস্তুত করে থাকে। এফএএ আশা করছে যে, জিই এরোস্পেস দ্রুতই সমস্যাটির প্রযুক্তিগত সমাধান নিয়ে আসতে পারবে। তবে সফটওয়্যারটি সংশোধনের জন্য নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা এখনো নির্ধারণ করা হয়নি। এর আগে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ককপিট কন্ট্রোল সফটওয়্যারের নতুন সংস্করণ হালনাগাদ করার পরই মূলত এই সমস্যার উদ্ভব হয়, বিশেষ করে ফ্লাইট বাতিলের পর পাইলট যখন পরিকল্পিত উড্ডয়নপথ পরিবর্তন করেন তখন এটি দেখা দেয়।
বর্তমান পরিস্থিতিতে এফএএ বোয়িং এবং সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। নিরাপত্তার স্বার্থে প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞ প্যানেল গঠনের পরিকল্পনাও রয়েছে সংস্থাটির। উড়োজাহাজ চলাচলের প্রতিটি ধাপে যাত্রী নিরাপত্তার ঝুঁকি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণে রাখা হচ্ছে এবং কোনো ধরনের ঝুঁকি শনাক্ত হওয়ামাত্রই কঠোর ও তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি। নিরাপত্তা ঝুঁকি ও সম্ভাব্য প্রতিকার নির্ধারণে একটি বিশেষজ্ঞ প্যানেলও গঠন করার পরিকল্পনা রয়েছে।














