ঢাকা ০৪:৩৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

বার্ড ফ্লু আশঙ্কায় সাব-অ্যান্টার্কটিক গবেষণাকেন্দ্র থেকে কর্মীদের সরিয়ে নেবে অস্ট্রেলিয়া

  • আপডেট সময় : ০১:১৫:১১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬
  • / 19
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বিডিসংবাদ অনলাইন ডেস্ক:

অত্যন্ত সংক্রামক এইচ৫এন১ বার্ড ফ্লুর সম্ভাব্য প্রাদুর্ভাবের কারণে সৃষ্ট ‘মনোসামাজিক’ ঝুঁকির কথা বিবেচনা করে একটি দুর্গম দ্বীপের গবেষণাকেন্দ্র থেকে কর্মীদের সরিয়ে নেওয়ার কথা জানিয়েছে অস্ট্রেলিয়া।

সিডনি থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

তাসমানিয়া ও অ্যান্টার্কটিকার মাঝামাঝি অবস্থিত ম্যাককুয়ারি দ্বীপে অস্ট্রেলিয়ার একটি গবেষণাকেন্দ্র রয়েছে। দ্বীপটিতে হাজার হাজার এলিফ্যান্ট সিলেরও আবাস।

স্তন্যপায়ী প্রাণীগুলো এইচ৫এন১ বার্ড ফ্লুতে অত্যন্ত নাজুক পরিস্থিতিতে রয়েছে। দ্বীপটিতে এখন পর্যন্ত এ রোগের কোনো সংক্রমণ শনাক্ত হয়নি। তবে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর পর্যন্ত প্রজনন মৌসুমে সেখানে অনেক এলিফ্যান্ট সিল মারা যেতে পারে।

ক্যানবেরার জলবায়ু পরিবর্তন, জ্বালানি, পরিবেশ ও পানি বিষয়ক দপ্তরের উপসচিব শন সুলিভান বলেন, ‘মানুষের জন্য এইচ৫ বার্ড ফ্লুর ঝুঁকি কম বলে বিবেচনা করা হলেও, সম্ভাব্য বিপুলসংখ্যক আক্রান্ত প্রাণীর কাছাকাছি বসবাসের মনোসামাজিক ঝুঁকি আমরা উপেক্ষা করতে পারি না।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের অভিযাত্রী দলের সদস্যরা ইতোমধ্যে বিশ্বের সবচেয়ে দুর্গম ও কঠিন পরিবেশগুলোর একটিতে বসবাস ও কাজ করছেন।’

তিনি বলেন, ‘তাদের সুস্থতা এবং আমাদের গবেষণাকেন্দ্রগুলোর নিরাপদ কার্যক্রমে প্রভাব ফেলতে পারে— এমন অতিরিক্ত ঝুঁকি যতটা সম্ভব কমিয়ে আনা গুরুত্বপূর্ণ।’

পরিবেশ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ম্যাককুয়ারি দ্বীপের ২৪ জন কারিগরি কর্মী, বিজ্ঞানী ও সহায়ক কর্মীকে সেপ্টেম্বর অথবা অক্টোবরের শুরুতে আরএসভি নুইনা আইসব্রেকারে করে সরিয়ে নেওয়া হবে।

জুনে কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, আরেকটি দুর্গম অস্ট্রেলীয় ভূখণ্ড হার্ড ও ম্যাকডোনাল্ড দ্বীপপুঞ্জে বার্ড ফ্লুতে হাজার হাজার এলিফ্যান্ট সিলের বাচ্চা মারা গেছে।

এইচ৫ ভাইরাসের কারণে বিশ্বজুড়ে পোলট্রি ও বন্য পাখির মধ্যে মারাত্মক রোগ ও মৃত্যু ঘটেছে। বহু বছর ধরে অস্ট্রেলিয়াই ছিল এইচ৫ ভাইরাসমুক্ত একমাত্র মহাদেশীয় ভূখণ্ড।

শুক্রবার পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ায় এইচ৫ বার্ড ফ্লুর ৩৪১টি নিশ্চিত বা সম্ভাব্য পজিটিভ সংক্রমণের কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তবে পোলট্রি বা দেশের কৃষি উৎপাদন খাতে এখন পর্যন্ত কোনো সংক্রমণ শনাক্ত হয়নি।
বিডিসংবাদ/এএইচএস

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

বার্ড ফ্লু আশঙ্কায় সাব-অ্যান্টার্কটিক গবেষণাকেন্দ্র থেকে কর্মীদের সরিয়ে নেবে অস্ট্রেলিয়া

আপডেট সময় : ০১:১৫:১১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬

বিডিসংবাদ অনলাইন ডেস্ক:

অত্যন্ত সংক্রামক এইচ৫এন১ বার্ড ফ্লুর সম্ভাব্য প্রাদুর্ভাবের কারণে সৃষ্ট ‘মনোসামাজিক’ ঝুঁকির কথা বিবেচনা করে একটি দুর্গম দ্বীপের গবেষণাকেন্দ্র থেকে কর্মীদের সরিয়ে নেওয়ার কথা জানিয়েছে অস্ট্রেলিয়া।

সিডনি থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

তাসমানিয়া ও অ্যান্টার্কটিকার মাঝামাঝি অবস্থিত ম্যাককুয়ারি দ্বীপে অস্ট্রেলিয়ার একটি গবেষণাকেন্দ্র রয়েছে। দ্বীপটিতে হাজার হাজার এলিফ্যান্ট সিলেরও আবাস।

স্তন্যপায়ী প্রাণীগুলো এইচ৫এন১ বার্ড ফ্লুতে অত্যন্ত নাজুক পরিস্থিতিতে রয়েছে। দ্বীপটিতে এখন পর্যন্ত এ রোগের কোনো সংক্রমণ শনাক্ত হয়নি। তবে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর পর্যন্ত প্রজনন মৌসুমে সেখানে অনেক এলিফ্যান্ট সিল মারা যেতে পারে।

ক্যানবেরার জলবায়ু পরিবর্তন, জ্বালানি, পরিবেশ ও পানি বিষয়ক দপ্তরের উপসচিব শন সুলিভান বলেন, ‘মানুষের জন্য এইচ৫ বার্ড ফ্লুর ঝুঁকি কম বলে বিবেচনা করা হলেও, সম্ভাব্য বিপুলসংখ্যক আক্রান্ত প্রাণীর কাছাকাছি বসবাসের মনোসামাজিক ঝুঁকি আমরা উপেক্ষা করতে পারি না।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের অভিযাত্রী দলের সদস্যরা ইতোমধ্যে বিশ্বের সবচেয়ে দুর্গম ও কঠিন পরিবেশগুলোর একটিতে বসবাস ও কাজ করছেন।’

তিনি বলেন, ‘তাদের সুস্থতা এবং আমাদের গবেষণাকেন্দ্রগুলোর নিরাপদ কার্যক্রমে প্রভাব ফেলতে পারে— এমন অতিরিক্ত ঝুঁকি যতটা সম্ভব কমিয়ে আনা গুরুত্বপূর্ণ।’

পরিবেশ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ম্যাককুয়ারি দ্বীপের ২৪ জন কারিগরি কর্মী, বিজ্ঞানী ও সহায়ক কর্মীকে সেপ্টেম্বর অথবা অক্টোবরের শুরুতে আরএসভি নুইনা আইসব্রেকারে করে সরিয়ে নেওয়া হবে।

জুনে কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, আরেকটি দুর্গম অস্ট্রেলীয় ভূখণ্ড হার্ড ও ম্যাকডোনাল্ড দ্বীপপুঞ্জে বার্ড ফ্লুতে হাজার হাজার এলিফ্যান্ট সিলের বাচ্চা মারা গেছে।

এইচ৫ ভাইরাসের কারণে বিশ্বজুড়ে পোলট্রি ও বন্য পাখির মধ্যে মারাত্মক রোগ ও মৃত্যু ঘটেছে। বহু বছর ধরে অস্ট্রেলিয়াই ছিল এইচ৫ ভাইরাসমুক্ত একমাত্র মহাদেশীয় ভূখণ্ড।

শুক্রবার পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ায় এইচ৫ বার্ড ফ্লুর ৩৪১টি নিশ্চিত বা সম্ভাব্য পজিটিভ সংক্রমণের কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তবে পোলট্রি বা দেশের কৃষি উৎপাদন খাতে এখন পর্যন্ত কোনো সংক্রমণ শনাক্ত হয়নি।
বিডিসংবাদ/এএইচএস