ঢাকা ১১:২৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬, ১৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
গত ছয় মাসে দেশে গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা হয়নি : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নেপাল ও চীনের সীমান্তে ভয়াবহ বন্যায় নিখোঁজ প্রায় ৩ হাজার, প্রাণহানি ৬৩৩ ডাক্তার নার্সের অবহেলায় ফেনী সদর হাসপাতাল, সাপে কাটা নারীর মৃত্যু শোকে স্তব্ধ নরওয়ে, অষ্টম হাকনের নেতৃত্বে নতুন যুগের সূচনা ইইউর সদস্যপদ বিষয়ে আলোচনা পুনরায় শুরু করবে কি না, এ নিয়ে আইসল্যান্ডে গণভোট চট্টগ্রামে মিছিলের প্রস্তুতিকালে নিষিদ্ধ যুবলীগ-ছাত্রলীগের ১৪ নেতাকর্মী গ্রেপ্তার কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির অপচেষ্টা বিএনপি মোকাবিলা করবে : মীর হেলাল শমরিতা হাসপাতালে ১ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হচ্ছে ‘হিস্টোপ্যাথলজি অ্যান্ড সাইটোপ্যাথলজি ল্যাব’-এর কার্যক্রম রূপগঞ্জের শিল্পপতি রাসেল ভূঁইয়ার ২৬তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ রুবেল-সাব্বিরের নৈপুণ্যে সেমিফাইনালে বাংলাদেশ এইচপি একাদশ

ডাক্তার নার্সের অবহেলায় ফেনী সদর হাসপাতাল, সাপে কাটা নারীর মৃত্যু

  • আপডেট সময় : ১০:৫৪:০৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬
  • / 2
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

গত ২৮ আগস্ট শুক্রবার, তখন রাত আনুমানিক ২টা। বাইরে বৃষ্টির রিনিঝিনি শব্দ শুনে দরজা খোলেন নাসিমা আক্তার। খাবার জন্য বৃষ্টির পানি সংগ্রহ করবেন, এটাই ছিল ইচ্ছা।


কিন্তু তার সে ইচ্ছা পূরণ হলো না। দরজা খুলে বাইরে পা রাখতেই অন্ধকারে মৃত্যু ছোবল বসালো অচেনা এক বিষধর সাপ।
ঘরে নাসিমার মা, স্বামী আর পুত্রবধু তখনো গভীর ঘুমে ছিলেন। নাসিমা প্রথমে বিষয়টি গুরুত্ব দেননি। বিষক্রিয়া বাড়ার সাথে, সাথে ছটফট করতে থাকেন তিনি। আধাঘন্টার মধ্যে তাকে নিয়ে আসা হয় ফেনী সদর হাসপাতালে। ঘুম, ঘুম চোখে জেগে উঠলেন ডিউটি ডাক্তার চিরঞ্জিত সরকার। সাপে কাটার লক্ষণগুলো ভালো করে না দেখেই রোগিকে ভর্তি দিলেন ৬ তলায় মেডিসিন বিভাগে। তার স্বামী বার, বার এন্টিভেনম দেয়ার কথা বললেও ডাক্তার তাতে কর্ণপাত করেনি।

হাসপাতালের জরুরী বিভাগে নাসিমার চিকিৎসা চলাকালে ডাক্তারের সাথে শাহাদাত নামে এক কর্মচারী ছিলেন। তিনি বলেন, বিষধর সাপের কামড় নির্ণয় করতে রোগির রক্ত জমাট বেঁধেছে কি না তা পরীক্ষা করা হয়।

রক্ত জমাট না বাঁধায় ডাক্তারের পরামর্শে রোগিকে ৬ তলার মেডিসিন বিভাগে ভর্তি করা হয়। এসময় সেখানে কর্মরত ছিলেন সিনিয়র স্টাফ নার্স আলো রানী কর্মকার। তিনি জুনিয়র নার্সদের দিয়ে একটি স্যালাইন পুশ করিয়ে রোগিকে ৬ তলার ফ্লোরে শুইয়ে রাখেন। বিষক্রিয়ায় ছটফট করতে, করতেই আঘা ঘন্টার মধ্যে নাসিমার মৃত্যু হয়। নিহত নাসিমা ফেনী সদর উপজেলার বড় ধলিয়া গ্রামের আবদুল হামিদ মৌলভী বাড়ির আহমদ করিমের স্ত্রী।

বিষধর সাপ ও সাপের বিষ নিয়ে গবেষণা করেন এমন একজন জানান, গোখরা জাতীয় সাপের বিষে সাধারণত রোগির রক্ত জমাট বাঁধে না।

গোখরার বিষ মূলত নিউরোটক্সিন জাতীয়। যা সরাসরি মানুষের স্নায়ুতন্ত্র বা নার্ভাস সিস্টেমকে আক্রমণ করে।

গোখরা বা কোবরা সাপে কামড়ালে এই বিষ শরীরের মাংসপেশিকে অবশ বা প্যারালাইজড করে দেয়। সঠিক সময়ে চিকিৎসা না পেলে শ্বাসকষ্টের কারণে আক্রান্ত ব্যক্তির মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।

এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত ডাক্তার, চিরঞ্জিত, হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক মোবারক হোসেন দুলাল ও নার্স আলো রানীকে ফোনে পাওয়া যায়নি। জরুরী বিভাগের সিনিয়র স্টাফ ব্রাদার আবদুস সাত্তার জানান, রাত ৩টা ২৫ মিনিটে অচেনা সাপের কামড়ে এক মহিলাকে জরুরী বিভাগে আনা হয়। ডিউটি ডাক্তার তাকে ৬ তলায় মেডিসিন বিভাগে ভর্তি দিয়েছেন। যা রেজিস্ট্রারে উল্লেখ আছে।

নিহতের স্বামী আহমদ করিম জানান, তার স্ত্রীকে বিষধর সাপে কামড়ালেও সাপের এন্টিভেনম দেওয়া হয়নি। পরে বিষক্রিয়ায় শ্বাসকষ্টের কারণে তার মৃত্যু হয়।


শুক্রবার বাদ জুমা জানাযা শেষে নাসিমাকে স্থানীয় কবরস্থানে দাফন করা হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

ডাক্তার নার্সের অবহেলায় ফেনী সদর হাসপাতাল, সাপে কাটা নারীর মৃত্যু

আপডেট সময় : ১০:৫৪:০৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬

গত ২৮ আগস্ট শুক্রবার, তখন রাত আনুমানিক ২টা। বাইরে বৃষ্টির রিনিঝিনি শব্দ শুনে দরজা খোলেন নাসিমা আক্তার। খাবার জন্য বৃষ্টির পানি সংগ্রহ করবেন, এটাই ছিল ইচ্ছা।


কিন্তু তার সে ইচ্ছা পূরণ হলো না। দরজা খুলে বাইরে পা রাখতেই অন্ধকারে মৃত্যু ছোবল বসালো অচেনা এক বিষধর সাপ।
ঘরে নাসিমার মা, স্বামী আর পুত্রবধু তখনো গভীর ঘুমে ছিলেন। নাসিমা প্রথমে বিষয়টি গুরুত্ব দেননি। বিষক্রিয়া বাড়ার সাথে, সাথে ছটফট করতে থাকেন তিনি। আধাঘন্টার মধ্যে তাকে নিয়ে আসা হয় ফেনী সদর হাসপাতালে। ঘুম, ঘুম চোখে জেগে উঠলেন ডিউটি ডাক্তার চিরঞ্জিত সরকার। সাপে কাটার লক্ষণগুলো ভালো করে না দেখেই রোগিকে ভর্তি দিলেন ৬ তলায় মেডিসিন বিভাগে। তার স্বামী বার, বার এন্টিভেনম দেয়ার কথা বললেও ডাক্তার তাতে কর্ণপাত করেনি।

হাসপাতালের জরুরী বিভাগে নাসিমার চিকিৎসা চলাকালে ডাক্তারের সাথে শাহাদাত নামে এক কর্মচারী ছিলেন। তিনি বলেন, বিষধর সাপের কামড় নির্ণয় করতে রোগির রক্ত জমাট বেঁধেছে কি না তা পরীক্ষা করা হয়।

রক্ত জমাট না বাঁধায় ডাক্তারের পরামর্শে রোগিকে ৬ তলার মেডিসিন বিভাগে ভর্তি করা হয়। এসময় সেখানে কর্মরত ছিলেন সিনিয়র স্টাফ নার্স আলো রানী কর্মকার। তিনি জুনিয়র নার্সদের দিয়ে একটি স্যালাইন পুশ করিয়ে রোগিকে ৬ তলার ফ্লোরে শুইয়ে রাখেন। বিষক্রিয়ায় ছটফট করতে, করতেই আঘা ঘন্টার মধ্যে নাসিমার মৃত্যু হয়। নিহত নাসিমা ফেনী সদর উপজেলার বড় ধলিয়া গ্রামের আবদুল হামিদ মৌলভী বাড়ির আহমদ করিমের স্ত্রী।

বিষধর সাপ ও সাপের বিষ নিয়ে গবেষণা করেন এমন একজন জানান, গোখরা জাতীয় সাপের বিষে সাধারণত রোগির রক্ত জমাট বাঁধে না।

গোখরার বিষ মূলত নিউরোটক্সিন জাতীয়। যা সরাসরি মানুষের স্নায়ুতন্ত্র বা নার্ভাস সিস্টেমকে আক্রমণ করে।

গোখরা বা কোবরা সাপে কামড়ালে এই বিষ শরীরের মাংসপেশিকে অবশ বা প্যারালাইজড করে দেয়। সঠিক সময়ে চিকিৎসা না পেলে শ্বাসকষ্টের কারণে আক্রান্ত ব্যক্তির মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।

এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত ডাক্তার, চিরঞ্জিত, হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক মোবারক হোসেন দুলাল ও নার্স আলো রানীকে ফোনে পাওয়া যায়নি। জরুরী বিভাগের সিনিয়র স্টাফ ব্রাদার আবদুস সাত্তার জানান, রাত ৩টা ২৫ মিনিটে অচেনা সাপের কামড়ে এক মহিলাকে জরুরী বিভাগে আনা হয়। ডিউটি ডাক্তার তাকে ৬ তলায় মেডিসিন বিভাগে ভর্তি দিয়েছেন। যা রেজিস্ট্রারে উল্লেখ আছে।

নিহতের স্বামী আহমদ করিম জানান, তার স্ত্রীকে বিষধর সাপে কামড়ালেও সাপের এন্টিভেনম দেওয়া হয়নি। পরে বিষক্রিয়ায় শ্বাসকষ্টের কারণে তার মৃত্যু হয়।


শুক্রবার বাদ জুমা জানাযা শেষে নাসিমাকে স্থানীয় কবরস্থানে দাফন করা হয়।