বড়পুকুরিয়ায় ৬০০ মেগাওয়াটের নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
- আপডেট সময় : ১২:১০:৩৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 4
বড়পুকুরিয়ার দেশীয় কয়লা ব্যবহার করে ৬০০ মেগাওয়াটের একটি নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে ৬৮ বিধির আলোচনায় অংশ নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ এই তথ্য জানান। ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই আলোচনায় তিনি দেশের বর্তমান জ্বালানি পরিস্থিতির প্রেক্ষাপট ও সরকারের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অভিযোগ করেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকার তাদের অনুগত ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষায় বিদেশনির্ভর জ্বালানি নীতি গ্রহণ করেছিল। দীর্ঘ সময় ধরে কোনো প্রকার দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান না করায় দেশ আজ তীব্র জ্বালানি সংকটের মুখে পড়েছে। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই বিশ্বজুড়ে গালফ ওয়ারের মতো সংকটের কারণে জ্বালানির বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়। তবুও কৃষকদের সেচ সুবিধা নিশ্চিত করতে গত ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়নি। পরবর্তীতে সীমান্ত দিয়ে পাচার রোধ এবং আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতি সামাল দিতে দাম পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে।
জ্বালানি ঘাটতি মেটাতে সরকারের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার কথা জানিয়ে সালাউদ্দিন আহমদ বলেন, মাতারবাড়িতে চীন সরকারের সঙ্গে ‘জি টু জি’ চুক্তির আওতায় ১৮ মাসের মধ্যে তৃতীয় এফএসআরইউ বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া ভূমিনির্ভর এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণ এবং শত কিলোমিটার দীর্ঘ পাইপলাইন স্থাপনের জন্য আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বানের প্রক্রিয়া চলছে।
কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের বিষয়ে তিনি জানান, বড়পুকুরিয়ার নতুন প্রকল্পের পাশাপাশি চলমান কেন্দ্রগুলোর সংস্কার কাজ চলছে। বৈশ্বিক আর্থিক সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও পায়রা দ্বিতীয় পর্যায়ের ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াটের কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কাজ দ্রুত শুরু করতে আলোচনা চলছে। প্রয়োজনে নিজস্ব জিওবি তহবিল থেকে গ্রিড লাইন নির্মাণের প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।
জ্বালানির উৎস বহুমুখীকরণের অংশ হিসেবে দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও এলপিজি ব্যবহারের ওপর জোর দিচ্ছে সরকার। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নিয়েই অফশোর ও অনশোর কূপ খনন শুরু করেছে। ভোলায় গ্যাস উত্তোলনের উদ্যোগের পাশাপাশি সেখানে সার কারখানা ও বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া মাতারবাড়িতে একটি বিশাল এলপিজি টার্মিনাল ও স্টোরেজ অবকাঠামো নির্মাণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিরোধী দলের সমালোচনার জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ভঙ্গুর জ্বালানি ব্যবস্থা রাতারাতি পরিবর্তন করা কঠিন হলেও প্রধানমন্ত্রী মাত্র ছয় মাসের মধ্যে দৃশ্যমান পরিবর্তনের মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন। গ্যাসের ওপর একক নির্ভরতা কমিয়ে কয়লা, বাতাস ও সৌরবিদ্যুতের সমন্বয়ে একটি টেকসই জ্বালানি খাত গড়ে তোলাই সরকারের মূল লক্ষ্য। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পরই এই ভঙ্গুর অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি নানা উদ্যোগ নিয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: জাতীয় সংসদে দেওয়া বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্টভাবে তুলে ধরেন যে, দেশে বর্তমানে যে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট দৃশ্যমান, তা পূর্ববর্তী সরকারের রেখে যাওয়া অর্থনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক অব্যবস্থাপনারই ফল। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সরকার নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য সামগ্রীর ওপর বাড়তি কোনো কর না চাপিয়ে সাধারণ মানুষের ওপর আর্থিক চাপ কমানোর নিরন্তর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তিনি উল্লেখ করেন, সমুদ্রে ফ্লোটিং স্টোরেজ অ্যান্ড রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিট বা এফএসআরইউ স্থাপন করা সময়সাপেক্ষ বিষয় হলেও বর্তমান সরকার দ্রুত পদক্ষেপে বিশ্বাসী। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বৈশ্বিক আর্থিক সীমাবদ্ধতা ও আন্তর্জাতিক অর্থায়ন বন্ধের বিধিনিষেধ সত্ত্বেও ২০২১ সালের আগের চুক্তির আওতায় পায়রা দ্বিতীয় পর্যায়ের ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াটের কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কাজ দ্রুত শুরু করার বিষয়ে তাদের সাথে সরকারের ফলপ্রসূ আলোচনা চলছে।


























