ঢাকা ১১:৩১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচন: আগাম ভোটে ডেমোক্র্যাটদের ভালো সাড়া মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচন: আগাম ভোটে ডেমোক্র্যাটদের ভালো সাড়া মিষ্টির শূন্য আসনে ৯০ দিনের মধ্যে উপনির্বাচন: ইসি বিএনপি জোটেরই থাকবে শূন্য হওয়া সংরক্ষিত নারী আসন: ইসি ক্যাশলেস লেনদেনে বাংলা কিউআর ব্যবহার হবে সম্পূর্ণ ফ্রি শুক্রবার ঢাকায় পৌঁছাচ্ছে রূপপুর প্রকল্পের বাড়তি ইউরেনিয়াম জ্বালানি মেট্রো রেলের দুই লাইন নির্মাণে ৪৬ হাজার কোটি টাকা স্বৈরাচার শুধু নিজেদের উন্নয়ন করেছে: যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করলেন ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি টঙ্গীর তুরাগ নদে নিখোঁজের ২৩ ঘণ্টা পর দুই শিশুর

রাশিয়া ও চীনের উত্থান: গত ২৫ বছরে আমূল বদলে যাওয়া বিশ্ব রাজনীতির সমীকরণ

  • আপডেট সময় : ০৩:৩৪:৫০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 16
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

২০০১ সালের ১১ই সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কের সেই সকালের পর গত ২৫ বছরে বিশ্বজুড়ে গোয়েন্দা কার্যক্রম ও সন্ত্রাসবিরোধী কৌশলের চিত্র আমূল বদলে গেছে। ৯/১১ পরবর্তী ‘সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধের’ সময় পশ্চিমা দেশগুলো যখন তালেবান, আইএসআইএস কিংবা ইরাকের জটিল পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যস্ত ছিল, তখন রাশিয়া ও চীন তাদের সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করে। হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের মতো প্রযুক্তি উদ্ভাবনের মাধ্যমে তারা নেটোর দীর্ঘদিনের সামরিক সুবিধাকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দিয়েছে।

মার্কিন সিক্রেট ইন্টেলিজেন্স সার্ভিসের সাবেক প্রধান স্যার অ্যালেক্স ইয়ঙ্গার (২০১৪-২০২০) মনে করেন, শতাব্দীর প্রথম দুই দশক সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রম ও বিদ্রোহ দমনে ব্যয় করার ফলে চীনকে একটি বড় সামরিক ও কৌশলগত চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখার সুযোগ পশ্চিমা বিশ্ব হারিয়েছে। একই সুর শোনা যায় জেনারেল শিরেফের কণ্ঠে, যিনি ২০১৬ সালে ‘ওয়ার উইথ রাশিয়া’ শিরোনামে একটি রাজনৈতিক থ্রিলার লিখেছিলেন। সেখানে তিনি ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসনের পূর্বাভাস দিয়েছিলেন। তার মতে, সঠিক গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের চেয়েও বড় বিষয় হলো সেটিকে কৌশলগত সুবিধার জন্য কাজে লাগানো।

নিরাপত্তা গোয়েন্দা প্রতিষ্ঠান সিবিলাইনের প্রধান বিশ্লেষক স্যাম অলসেনের মতে, সন্ত্রাসবিরোধী লড়াইয়ে মনোযোগ হারানোই একমাত্র ভুল ছিল না; পশ্চিমা বিশ্ব চীনের উত্থানের প্রকৃতিও বুঝতে ব্যর্থ হয়েছে। তারা ধারণা করেছিল, অর্থনৈতিক একীভবন শেষ পর্যন্ত রাজনৈতিক সমমুখিতা তৈরি করবে। বর্তমানে চীন এমআই৬-এর শীর্ষ গোয়েন্দা লক্ষ্যগুলোর একটি। অলসেনের ভাষ্যমতে, পশ্চিমা সংস্থাগুলো চীনের বিভিন্ন অংশ সম্পর্কে অবগত থাকলেও, সবগুলো মিলে যে সামগ্রিক চিত্র তৈরি হচ্ছে, তা অনুধাবনে তারা পিছিয়ে আছে। চীনের শক্তি এখন আর কেবল জাহাজ বা ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং তা সেমিকন্ডাক্টর, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, ব্যাটারি, বন্দর ও টেলিযোগাযোগের মতো শিল্প সক্ষমতায় বিস্তৃত।

বর্তমান বিশ্ব পরস্পরবিরোধী স্বার্থ ও বর্ণনায় পূর্ণ, যেখানে গোয়েন্দা ব্যর্থতা বা কৌশলগত ভুল হিসাব শুধু পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসন এবং ২০২৩ সালের ৭ই অক্টোবর হামাসের নেতৃত্বে গাজা থেকে চালানো হামলা—যাকে অনেকে ইসরাইলের ‘নিজস্ব ৯/১১’ বলে অভিহিত করেন—তা এর বড় উদাহরণ। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও কোয়ান্টাম কম্পিউটিংয়ের অগ্রগতির ফলে এই পরিবর্তন ভবিষ্যতে আরও দ্রুততর হবে।

দীর্ঘ দুই দশকের এই যাত্রায় বড় ধরনের কৌশলগত ও জাতীয় সিদ্ধান্তগুলো নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। প্রেসিডেন্ট বুশের ইরাক আক্রমণে ব্রিটেনের অংশগ্রহণ, আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন ‘অপারেশন এন্ডিউরিং ফ্রিডম’-এ যোগ দেওয়া এবং দুই দশক পর তড়িঘড়ি করে দেশটি তালেবানের হাতে ছেড়ে দেওয়ার মতো ঘটনাগুলো আজও বিশ্বজুড়ে সমালোচনার জন্ম দেয়। এসব প্রশ্নের উত্তর এবং কৌশলগত ব্যাখ্যার ব্যর্থতা আগামী দিনের ভূ-রাজনীতিকে নতুন করে সংজ্ঞায়িত করবে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ২০১৪ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সিক্রেট ইন্টেলিজেন্স সার্ভিসের প্রধান স্যার অ্যালেক্স ইয়ঙ্গার বলেন, ‘আমরা এই শতাব্দীর প্রথম ২০ বছর প্রায় সম্পূর্ণভাবে সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রম এবং বিদ্রোহ দমনে ব্যয় কর। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: চমৎকার গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করে কোনো লাভ নেই, যদি তা কৌশলগত সুবিধার জন্য কাজে লাগানো না যায়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বড় বিপদ হলো তারা পৃথক অংশগুলো দেখতে পায়, কিন্তু সবগুলো মিলে কী চিত্র তৈরি করছে তা সবসময় বুঝতে পারে না।

নিউজটি শেয়ার করুন

রাশিয়া ও চীনের উত্থান: গত ২৫ বছরে আমূল বদলে যাওয়া বিশ্ব রাজনীতির সমীকরণ

আপডেট সময় : ০৩:৩৪:৫০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

২০০১ সালের ১১ই সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কের সেই সকালের পর গত ২৫ বছরে বিশ্বজুড়ে গোয়েন্দা কার্যক্রম ও সন্ত্রাসবিরোধী কৌশলের চিত্র আমূল বদলে গেছে। ৯/১১ পরবর্তী ‘সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধের’ সময় পশ্চিমা দেশগুলো যখন তালেবান, আইএসআইএস কিংবা ইরাকের জটিল পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যস্ত ছিল, তখন রাশিয়া ও চীন তাদের সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করে। হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের মতো প্রযুক্তি উদ্ভাবনের মাধ্যমে তারা নেটোর দীর্ঘদিনের সামরিক সুবিধাকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দিয়েছে।

মার্কিন সিক্রেট ইন্টেলিজেন্স সার্ভিসের সাবেক প্রধান স্যার অ্যালেক্স ইয়ঙ্গার (২০১৪-২০২০) মনে করেন, শতাব্দীর প্রথম দুই দশক সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রম ও বিদ্রোহ দমনে ব্যয় করার ফলে চীনকে একটি বড় সামরিক ও কৌশলগত চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখার সুযোগ পশ্চিমা বিশ্ব হারিয়েছে। একই সুর শোনা যায় জেনারেল শিরেফের কণ্ঠে, যিনি ২০১৬ সালে ‘ওয়ার উইথ রাশিয়া’ শিরোনামে একটি রাজনৈতিক থ্রিলার লিখেছিলেন। সেখানে তিনি ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসনের পূর্বাভাস দিয়েছিলেন। তার মতে, সঠিক গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের চেয়েও বড় বিষয় হলো সেটিকে কৌশলগত সুবিধার জন্য কাজে লাগানো।

নিরাপত্তা গোয়েন্দা প্রতিষ্ঠান সিবিলাইনের প্রধান বিশ্লেষক স্যাম অলসেনের মতে, সন্ত্রাসবিরোধী লড়াইয়ে মনোযোগ হারানোই একমাত্র ভুল ছিল না; পশ্চিমা বিশ্ব চীনের উত্থানের প্রকৃতিও বুঝতে ব্যর্থ হয়েছে। তারা ধারণা করেছিল, অর্থনৈতিক একীভবন শেষ পর্যন্ত রাজনৈতিক সমমুখিতা তৈরি করবে। বর্তমানে চীন এমআই৬-এর শীর্ষ গোয়েন্দা লক্ষ্যগুলোর একটি। অলসেনের ভাষ্যমতে, পশ্চিমা সংস্থাগুলো চীনের বিভিন্ন অংশ সম্পর্কে অবগত থাকলেও, সবগুলো মিলে যে সামগ্রিক চিত্র তৈরি হচ্ছে, তা অনুধাবনে তারা পিছিয়ে আছে। চীনের শক্তি এখন আর কেবল জাহাজ বা ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং তা সেমিকন্ডাক্টর, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, ব্যাটারি, বন্দর ও টেলিযোগাযোগের মতো শিল্প সক্ষমতায় বিস্তৃত।

বর্তমান বিশ্ব পরস্পরবিরোধী স্বার্থ ও বর্ণনায় পূর্ণ, যেখানে গোয়েন্দা ব্যর্থতা বা কৌশলগত ভুল হিসাব শুধু পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসন এবং ২০২৩ সালের ৭ই অক্টোবর হামাসের নেতৃত্বে গাজা থেকে চালানো হামলা—যাকে অনেকে ইসরাইলের ‘নিজস্ব ৯/১১’ বলে অভিহিত করেন—তা এর বড় উদাহরণ। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও কোয়ান্টাম কম্পিউটিংয়ের অগ্রগতির ফলে এই পরিবর্তন ভবিষ্যতে আরও দ্রুততর হবে।

দীর্ঘ দুই দশকের এই যাত্রায় বড় ধরনের কৌশলগত ও জাতীয় সিদ্ধান্তগুলো নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। প্রেসিডেন্ট বুশের ইরাক আক্রমণে ব্রিটেনের অংশগ্রহণ, আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন ‘অপারেশন এন্ডিউরিং ফ্রিডম’-এ যোগ দেওয়া এবং দুই দশক পর তড়িঘড়ি করে দেশটি তালেবানের হাতে ছেড়ে দেওয়ার মতো ঘটনাগুলো আজও বিশ্বজুড়ে সমালোচনার জন্ম দেয়। এসব প্রশ্নের উত্তর এবং কৌশলগত ব্যাখ্যার ব্যর্থতা আগামী দিনের ভূ-রাজনীতিকে নতুন করে সংজ্ঞায়িত করবে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ২০১৪ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সিক্রেট ইন্টেলিজেন্স সার্ভিসের প্রধান স্যার অ্যালেক্স ইয়ঙ্গার বলেন, ‘আমরা এই শতাব্দীর প্রথম ২০ বছর প্রায় সম্পূর্ণভাবে সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রম এবং বিদ্রোহ দমনে ব্যয় কর। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: চমৎকার গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করে কোনো লাভ নেই, যদি তা কৌশলগত সুবিধার জন্য কাজে লাগানো না যায়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বড় বিপদ হলো তারা পৃথক অংশগুলো দেখতে পায়, কিন্তু সবগুলো মিলে কী চিত্র তৈরি করছে তা সবসময় বুঝতে পারে না।