ঢাকা ০৩:৪৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
রাশিয়া ও চীনের উত্থান: গত ২৫ বছরে আমূল বদলে যাওয়া বিশ্ব রাজনীতির সমীকরণ ১৮তম ব্রিকস সম্মেলন: বিশ্বনেতাদের বরণে প্রস্তুত দিল্লি, মোদির সঙ্গে পুতিন-পেজেশকিয়ানের বৈঠক আজ একতরফা আধিপত্য রুখতে ব্রিকসের ওপর জোর দিলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এআই কি মানবজাতির অস্তিত্বের জন্য হুমকি? বড় সতর্কবার্তা দিলেন গবেষকরা মক্কা চুক্তির পর ইয়েমেনে সৌদি জোটের ব্যাপক বিমান হামলার অভিযোগ শনিবার ভারতে শুরু হচ্ছে ব্রিকসের শীর্ষ সম্মেলন, পুতিনসহ যোগ দিচ্ছেন বিশ্বনেতারা মানুষের বর্জ্য থেকে তৈরি কংক্রিট: প্রচলিত সিমেন্টের চেয়েও বেশি শক্তিশালী ও টেকসই ৯/১১ হামলা ও ইসলামভীতি: যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও বিতর্কিত কিছু তথ্য রাজধানীর বাজারে তেলের সংকট কাটেনি, বেড়েছে আটা-ময়দা ও নিত্যপণ্যের দাম আইএমএফের ব্যয় সংকোচন নীতি নিয়ে অক্সফামের উদ্বেগ, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে প্রাসঙ্গিকতা

একতরফা আধিপত্য রুখতে ব্রিকসের ওপর জোর দিলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান

  • আপডেট সময় : ০২:৫৪:১৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 1
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

একতরফা আধিপত্যের বিরুদ্ধে কার্যকর ভূমিকা রাখা এবং সদস্য দেশগুলোর মধ্যে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সহযোগিতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে ব্রিকস অত্যন্ত সম্ভাবনাময় একটি জোট বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। শুক্রবার ভারতের উদ্দেশে তেহরান ছাড়ার প্রাক্কালে তিনি জানান, ব্রিকসের ১৮তম শীর্ষ সম্মেলন বহুপক্ষীয় ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার এক অনন্য সুযোগ তৈরি করেছে। এবারের সম্মেলনে অর্থনীতি, বাণিজ্য, শিল্প ও বিজ্ঞান খাতে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর পারস্পরিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

বিশ্ব রাজনীতিতে ব্রিকসের ক্রমবর্ধমান প্রভাবের কথা উল্লেখ করে ইরানের প্রেসিডেন্ট জানান, বর্তমানে এই জোটের সদস্যসংখ্যা ২১। এর মধ্যে ১১টি মূল সদস্য এবং নতুন ১০টি সদস্য দেশকে ‘ব্রিকস প্লাস’ হিসেবে গণ্য করা হয়। তিনি আরও জানান, ব্রিকসভুক্ত দেশগুলোর সম্মিলিত জনসংখ্যা বিশ্বের মোট জনসংখ্যার ৪৫ শতাংশের বেশি এবং বিশ্বের মোট ভূখণ্ডের প্রায় ৩৫ শতাংশ এলাকা এই দেশগুলোর আওতাভুক্ত। ফলে অর্থনীতি, শিল্প ও বিজ্ঞানের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে জোটটির ব্যাপক সক্ষমতা রয়েছে।

পেজেশকিয়ান বলেন, ব্রিকস প্রতিষ্ঠার মূল লক্ষ্যই হলো একতরফা আধিপত্য বা ‘ডমিনেশন সিস্টেম’-এর বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া। সদস্য দেশগুলো যেন নিজেদের স্বাধীনতা ও স্বাতন্ত্র্য বজায় রেখে অর্থনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে, সেই পরিবেশ নিশ্চিত করাই জোটটির অন্যতম উদ্দেশ্য। এবারের সম্মেলনের মূল প্রতিপাদ্য সংহতি, স্থায়িত্ব, প্রতিরোধ ও উদ্ভাবনকেন্দ্রিক, যা সদস্য দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ও আর্থিক সহযোগিতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।

জোটের আর্থিক সক্ষমতা প্রসঙ্গে তিনি জানান, সদস্য দেশগুলোর মধ্যে বিনিয়োগ ও যৌথ কার্যক্রম সহজতর করতে ব্রিকস ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এছাড়া অর্থনৈতিক লেনদেনে মার্কিন ডলারের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নিজস্ব মুদ্রাব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, বৃহৎ শক্তিগুলোর অতিরিক্ত চাপ ও একতরফা আধিপত্য মোকাবিলায় ব্রিকস একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করছে।

১৮তম শীর্ষ সম্মেলনকে বিভিন্ন প্রভাবশালী দেশের সঙ্গে আলোচনার উপযুক্ত ক্ষেত্র হিসেবে অভিহিত করে পেজেশকিয়ান বলেন, চীন, রাশিয়া, ব্রাজিল ও ভারতের মতো দেশগুলোর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমে তেহরান নিজেদের অবস্থান তুলে ধরার সুযোগ পাবে। ভারতের সঙ্গে ইরানের দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, দুই দেশ সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে আরও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা গড়ে তুলতে পারে।

বৈশ্বিক অর্থনীতির জটিল পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কয়েকটি শক্তিধর দেশ আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ওপর যে আধিপত্য বিস্তার করেছে, তা মোকাবিলায় নতুন কৌশল প্রয়োজন। ব্রিকস সদস্য দেশগুলোর মধ্যে উদ্ভাবন ও পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এই আধিপত্যের প্রবণতা কমাতে সহায়তা করবে। সবশেষে, ব্রিকসের এই শীর্ষ সম্মেলনে ইরানের অংশগ্রহণ দেশটির জন্য ইতিবাচক ও কাঙ্ক্ষিত ফলাফল বয়ে আনবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় বহুপক্ষীয়তার অবস্থান আরও শক্তিশালী করা সম্ভব হবে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এর মধ্যে ১১টি মূল সদস্য এবং নতুন ১০ সদস্যকে ‘ব্রিকস প্লাস’ হিসেবে অভিহিত করা হয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এ আলোচনা সম্মেলনের সাধারণ অধিবেশনের পাশাপাশি দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের মাধ্যমেও হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

একতরফা আধিপত্য রুখতে ব্রিকসের ওপর জোর দিলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান

আপডেট সময় : ০২:৫৪:১৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

একতরফা আধিপত্যের বিরুদ্ধে কার্যকর ভূমিকা রাখা এবং সদস্য দেশগুলোর মধ্যে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সহযোগিতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে ব্রিকস অত্যন্ত সম্ভাবনাময় একটি জোট বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। শুক্রবার ভারতের উদ্দেশে তেহরান ছাড়ার প্রাক্কালে তিনি জানান, ব্রিকসের ১৮তম শীর্ষ সম্মেলন বহুপক্ষীয় ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার এক অনন্য সুযোগ তৈরি করেছে। এবারের সম্মেলনে অর্থনীতি, বাণিজ্য, শিল্প ও বিজ্ঞান খাতে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর পারস্পরিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

বিশ্ব রাজনীতিতে ব্রিকসের ক্রমবর্ধমান প্রভাবের কথা উল্লেখ করে ইরানের প্রেসিডেন্ট জানান, বর্তমানে এই জোটের সদস্যসংখ্যা ২১। এর মধ্যে ১১টি মূল সদস্য এবং নতুন ১০টি সদস্য দেশকে ‘ব্রিকস প্লাস’ হিসেবে গণ্য করা হয়। তিনি আরও জানান, ব্রিকসভুক্ত দেশগুলোর সম্মিলিত জনসংখ্যা বিশ্বের মোট জনসংখ্যার ৪৫ শতাংশের বেশি এবং বিশ্বের মোট ভূখণ্ডের প্রায় ৩৫ শতাংশ এলাকা এই দেশগুলোর আওতাভুক্ত। ফলে অর্থনীতি, শিল্প ও বিজ্ঞানের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে জোটটির ব্যাপক সক্ষমতা রয়েছে।

পেজেশকিয়ান বলেন, ব্রিকস প্রতিষ্ঠার মূল লক্ষ্যই হলো একতরফা আধিপত্য বা ‘ডমিনেশন সিস্টেম’-এর বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া। সদস্য দেশগুলো যেন নিজেদের স্বাধীনতা ও স্বাতন্ত্র্য বজায় রেখে অর্থনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে, সেই পরিবেশ নিশ্চিত করাই জোটটির অন্যতম উদ্দেশ্য। এবারের সম্মেলনের মূল প্রতিপাদ্য সংহতি, স্থায়িত্ব, প্রতিরোধ ও উদ্ভাবনকেন্দ্রিক, যা সদস্য দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ও আর্থিক সহযোগিতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।

জোটের আর্থিক সক্ষমতা প্রসঙ্গে তিনি জানান, সদস্য দেশগুলোর মধ্যে বিনিয়োগ ও যৌথ কার্যক্রম সহজতর করতে ব্রিকস ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এছাড়া অর্থনৈতিক লেনদেনে মার্কিন ডলারের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নিজস্ব মুদ্রাব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, বৃহৎ শক্তিগুলোর অতিরিক্ত চাপ ও একতরফা আধিপত্য মোকাবিলায় ব্রিকস একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করছে।

১৮তম শীর্ষ সম্মেলনকে বিভিন্ন প্রভাবশালী দেশের সঙ্গে আলোচনার উপযুক্ত ক্ষেত্র হিসেবে অভিহিত করে পেজেশকিয়ান বলেন, চীন, রাশিয়া, ব্রাজিল ও ভারতের মতো দেশগুলোর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমে তেহরান নিজেদের অবস্থান তুলে ধরার সুযোগ পাবে। ভারতের সঙ্গে ইরানের দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, দুই দেশ সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে আরও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা গড়ে তুলতে পারে।

বৈশ্বিক অর্থনীতির জটিল পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কয়েকটি শক্তিধর দেশ আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ওপর যে আধিপত্য বিস্তার করেছে, তা মোকাবিলায় নতুন কৌশল প্রয়োজন। ব্রিকস সদস্য দেশগুলোর মধ্যে উদ্ভাবন ও পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এই আধিপত্যের প্রবণতা কমাতে সহায়তা করবে। সবশেষে, ব্রিকসের এই শীর্ষ সম্মেলনে ইরানের অংশগ্রহণ দেশটির জন্য ইতিবাচক ও কাঙ্ক্ষিত ফলাফল বয়ে আনবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় বহুপক্ষীয়তার অবস্থান আরও শক্তিশালী করা সম্ভব হবে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এর মধ্যে ১১টি মূল সদস্য এবং নতুন ১০ সদস্যকে ‘ব্রিকস প্লাস’ হিসেবে অভিহিত করা হয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এ আলোচনা সম্মেলনের সাধারণ অধিবেশনের পাশাপাশি দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের মাধ্যমেও হবে।