ঢাকায় ৮৭ দিন: ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর চোখে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের সমীকরণ
- আপডেট সময় : ১২:১৬:১৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 7
তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফরকে কেন্দ্র করে ঢাকা ও দিল্লির মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে যে কূটনৈতিক উত্তাপ ও শব্দের লড়াই দেখা গেছে, তা বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এই পরিস্থিতি দুই দেশের সম্পর্কে কিছুটা দূরত্ব তৈরি করলেও ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী ভিন্ন মত পোষণ করেছেন। একান্ত আলাপচারিতায় তিনি প্রশ্ন তোলেন, সম্পর্ক স্বাভাবিক নয়—এমন ধারণা কেন তৈরি হয়েছে? তিনি বরং প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের অপেক্ষায় থাকার কথা জানিয়ে বলেন, এই সফর যেন কেবল গতানুগতিক কূটনৈতিক আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ না থাকে, ভারত সেটাই চায়। দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রীকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানাতে তারা প্রস্তুত এবং এই সফর নিয়ে অহেতুক বিতর্ক এড়িয়ে চলাই শ্রেয়।
ঢাকায় দায়িত্ব পালনের ৮৭ দিন পার করা দীনেশ ত্রিবেদী বাংলাদেশের মানুষের আতিথেয়তায় মুগ্ধ। তিনি জানান, ভাষা, সংস্কৃতি ও জীবনযাত্রায় দুই দেশের মধ্যে বড় কোনো পার্থক্য দেখেন না। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ যাদের সঙ্গেই তার কথা হয়েছে, তাদের আচরণে তিনি অভিভূত। তার মতে, দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান সমস্যা বা ভুল বোঝাবুঝির সমাধান আলোচনার মাধ্যমেই সম্ভব এবং কেউ-ই আলোচনার পথ বন্ধ করতে চায় না। দীনেশ ত্রিবেদী ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এবং একজন অভিজ্ঞ রাজনীতিক। পশ্চিমবঙ্গ থেকে রাজ্যসভার সাবেক এই সদস্য রেলমন্ত্রী ও স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া তিনি একজন প্রশিক্ষিত পাইলটও। তাকে ঢাকায় পাঠানোর পেছনে মোদির বিশেষ কোনো কৌশল রয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
দুই দেশের সম্পর্কের টানাপড়েন নতুন নয়। তবে বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের ঢাকায় আসা এবং তারেক রহমানের শপথ অনুষ্ঠানে ভারতের স্পিকার ওম বিড়লা ও পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিশ্রির উপস্থিতি সম্পর্ক উন্নয়নের নতুন সংকেত দিয়েছিল। এরপরই মোদির বিশেষ বার্তা নিয়ে দীনেশ ত্রিবেদী ঢাকায় আসেন। তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে কয়েক দফা বৈঠক করেন। তবে ব্রিকস আউটরিচ সেশন ও দ্বিপক্ষীয় সফরের আমন্ত্রণপত্র নিয়ে কিছুটা ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হয়। ঢাকার আপত্তি ছিল দাওয়াতপত্রে তারেক রহমানের নাম উল্লেখ না থাকা নিয়ে, যদিও ভারত দাবি করেছে তারা দুবার আমন্ত্রণ জানিয়েছে। পরবর্তীতে দীনেশ ত্রিবেদী দিল্লি গিয়ে নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে একান্ত আলোচনায় মিলিত হন।
কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের বিষয়ে ভারত কোনো আগাম প্রতিশ্রুতি দিতে রাজি নয়। তবে ওসমান হাদির দুই হত্যাকারীকে ফেরত দেওয়ার বিষয়ে তারা ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে। শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক সংবাদ সম্মেলন নিয়ে বাংলাদেশ কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছিল এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার ভিত্তিতে সম্পর্ক বজায় রাখার ওপর জোর দিয়েছিল।
তারেক রহমানের দিল্লি সফর নিয়ে ভারতীয় গণমাধ্যমের খবরে বাংলাদেশে কিছুটা হতাশা তৈরি হয়েছিল। এ বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান জানান, সম্পর্ক স্বাভাবিক নয়—এমনটি তিনি মনে করেন না। তিনি আরও সুসম্পর্ক বজায় রাখার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। ওয়াকিবহাল মহল মনে করছে, দুই দেশই সম্পর্ক উষ্ণ করতে আগ্রহী হলেও কোথাও যেন একটি অদৃশ্য দেয়াল রয়ে গেছে, যা ভাঙা জরুরি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আমরা তো মুখিয়ে আছি প্রধানমন্ত্রীর সফর নিয়ে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কূটনীতির মারপ্যাঁচে কিছু সময় হারিয়ে গেল তার খোলামেলা বয়ান। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: চালচলন, আচার, আচরণেও মেলা মিল খুঁজে পাই। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তারপরও যাদের সঙ্গে কথা বলেছি— এতে আমি অভিভূত। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এই সময়ের মধ্যেই আমি নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আলাপ আলোচনার ভিত্তিতেই এসবের সুরাহা হতে পারে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ঢাকায় ৮৭ দিন অবস্থানের পর ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর এটাই পর্যবেক্ষণ। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বিবৃতি, পাল্টা বিবৃতিতে পরিস্থিতি ছিল সরগরম।
























