ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে গৃহীত ‘নয়াদিল্লি ঘোষণা’: নিরাপত্তা পরিষদ সংস্কার ও সন্ত্রাসবাদের নিন্দা
- আপডেট সময় : ০৭:২৩:০৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 22
নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে সদস্য দেশগুলোর ঐকমত্যের ভিত্তিতে ‘নয়াদিল্লি ঘোষণা’ গৃহীত হয়েছে। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই ঘোষণাটি আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে ধরেন। জোটটি যুদ্ধ, সন্ত্রাসবাদ এবং একতরফা শুল্ক ব্যবস্থার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বৈশ্বিক বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে।
ঘোষণায় জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের (ইউএনএসসি) কাঠামোগত সংস্কারের জোরালো আহ্বান জানানো হয়েছে। ব্রিকস সদস্য দেশগুলো এশিয়া, আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের উন্নয়নশীল দেশগুলোর প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। বিশেষ করে নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য চীন ও রাশিয়া জাতিসংঘে ভারত ও ব্রাজিলের অধিকতর ভূমিকার আকাঙ্ক্ষাকে সমর্থন জানিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তার বক্তব্যে বলেন, পরিবর্তনশীল বিশ্বের বাস্তবতার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে পুরোনো আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কার অপরিহার্য। তিনি প্রতিনিধিত্ব, কার্যকর সাড়া দেওয়ার সক্ষমতা এবং নিয়ম প্রণয়নের ক্ষেত্রে আমূল পরিবর্তনের ওপর জোর দেন। এছাড়া ভবিষ্যৎ প্রযুক্তির বিকাশ ও পরিচালনার ক্ষেত্রে ‘গ্লোবাল সাউথ’ বা বৈশ্বিক দক্ষিণের দেশগুলোর সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।
বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে মার্কিন ডলারের পরিবর্তে স্থানীয় মুদ্রার ব্যবহার বাড়ানোর বিষয়েও ঘোষণায় গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বৈশ্বিক বাণিজ্যব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে জোটটি বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) সংস্কারের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। নির্বিচারে শুল্ক ও অশুল্ক ব্যবস্থা বৃদ্ধি এবং পরিবেশগত অজুহাতে সুরক্ষাবাদী নীতি গ্রহণের সমালোচনা করে সদস্য দেশগুলো ন্যায্য ও নিয়মভিত্তিক আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের পক্ষে কাজ করার অঙ্গীকার করেছে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক আগ্রাসনের প্রেক্ষাপটে নাবিকদের নিরাপত্তা ও বাণিজ্যিক নৌচলাচল নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছে ব্রিকস। এছাড়া ‘একতরফা যুদ্ধ কর্মকাণ্ডের’ নিন্দা জানিয়ে জোটটি সব ধরনের সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় নিজেদের দৃঢ় অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছে।
ঘোষণায় ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল জম্মু ও কাশ্মীরের পাহেলগামে সংঘটিত সন্ত্রাসী হামলার কঠোর নিন্দা জানানো হয়। ওই হামলায় ২৬ জন নিহত এবং অনেকে আহত হয়েছিলেন। ব্রিকস নেতারা স্পষ্ট করেছেন যে, সন্ত্রাসবাদকে কোনো ধর্ম, জাতি বা গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত করা উচিত নয়। সীমান্তপাড়ের সন্ত্রাসীদের চলাচল, অর্থায়ন এবং নিরাপদ আশ্রয়স্থল নির্মূলে সদস্য দেশগুলো যৌথভাবে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
ব্রিকস প্রতিষ্ঠার দুই দশক পূর্তির এই সম্মেলনে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংসহ সদস্য দেশগুলোর শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। মোদি জানান, নয়াদিল্লি ঘোষণা ব্রিকসের সম্মিলিত অঙ্গীকার বাস্তবায়নের একটি সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা। এখন এই সিদ্ধান্তগুলোকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার দায়িত্ব সদস্য দেশগুলোর ওপর বর্তায়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: নিরাপত্তা পরিষদেও দেশ দুটির আরও বেশি প্রতিনিধিত্বের পক্ষে অবস্থান জানিয়েছে তারা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এরই মধ্যে প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্যদের গণ্ডি পেরিয়ে জোটটি আরও বিস্তৃত হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ঘোষণায় বলা হয়েছে, বহুপাক্ষিক বাণিজ্যব্যবস্থা দীর্ঘদিন ধরে সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ডব্লিউটিওর নিয়মের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ বাণিজ্য-সীমাবদ্ধতামূলক পদক্ষেপ বৈশ্বিক বাণিজ্য কমিয়ে দিতে পারে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: একই সঙ্গে এতে সরবরাহব্যবস্থা ব্যাহত এবং আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে অনিশ্চয়তা বাড়তে পারে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: উদীয়মান বাজার ও উন্নয়নশীল অর্থনীতির দেশগুলোর (ইএমডিই) প্রয়োজন ও অগ্রাধিকারের প্রতি আরও কার্যকরভাবে সাড়া দিতে ডব্লিউটিওকে সক্ষম করে তোলার ওপরও জোর দেয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ঘোষণায় বলা হয়েছে, হামলার উদ্দেশ্য, স্থান, সময় কিংবা হামলাকারী যে-ই হোক না কেন, সব ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড অপরাধমূলক ও অগ্রহণযোগ্য। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তি ও তাদের সহযোগীদের জবাবদিহির আওতায় এনে সংশ্লিষ্ট জাতীয় ও আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী বিচারের মুখোমুখি করতে হবে।


























